তাকওয়া-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, সবচেয়ে সম্মানার্হ ব্যক্তিকে কে? তিনি বললেন, সকলের চেয়ে যে বেশি আল্লাহ্ভীরু। সাহাবীগণ বললেন, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি না। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর নবী ইউসুফ আ. যাঁর পিতা আল্লার নবী, তাঁর পিতা আল্লাহর নবী এবং তাঁর পিতা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আ.। সাহাবীগণ বললেন, আমরা আপনাকে এটাও জিজ্ঞেস করছি না। তখন রাসূল সা. বললেন, তাহলে তোমরা আরবের বিভিন্ন বংশের কথা জিজ্ঞেস করছ? (জেনে রাখো) জাহিলিয়াতের যুগে তাদের মধ্যে যারা ভালো ছিল তারা ইসলামের যুগেও ভালো, যদি তারা দীন-শরীয়তের জ্ঞান লাভ করে। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
২। হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুনিয়া অবশ্যই মিষ্ট ও আকর্ষণীয়। আল্লাহ তোমাদেরকে দুনিয়ায় তাঁর প্রতিনিধি করেছেন, যাতে তিনি দেখে নেন তোমরা কেমন কাজ কর। কাজেই তোমরা দুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক হও এবং নারীদের (ফিতনা) থেকেও সতর্ক থাক। কারণ বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা নারীদের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছিল। [সহীহ মুসলিম]
৩। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও  স্বয়ংসম্পূর্ণতা চাই। [সহীহ মুসলিম]
৪। হযরত আদী ইবনে হাতিম তাঈ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন ব্যাপারে শপথ করার পর অধিকতর আল্লাহভীতির (তাকওয়ার) কোন কাজ দেখলো, এ অবস্থায় তাকে তাকওয়ার কাজটি করতে হবে। [সহীহ মুসলিম]
৫। আবু উমামা সুদাই ইবনে আজলান বাহিলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদায় হজের ভাষণে বলতে শুনেছি, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় কর, রমযানের রোজা রাখ, নিজেদের মালের যাকাত দাও এবং নিজেদের আমীরের আনুগত্য কর, তাহলে তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে। [ইমাম তিরমিযি কিতাবুস সালাতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।]
৬। হযরত ওয়াসিলা বিন আসকা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তাকওয়া (খোদাভীরুতা) হলো এখানে। এই কথা বলে তিনি তাঁর হৃৎপি-ের দিকে ইশারা করেন। [জামিউস সহীহ]
৭। হাদীসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, সবাই আমার প্রতি তাকওয়া পোষণ করুক, কারণ আমিই তার উপযুক্ত। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি তাকওয়া (ভীতি) পোষণ করবে, অবশ্যই আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। [মুসনাদে আহমাদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে নাসায়ী]
৮। হযরত আবু যর গিফারী ও হযরত মুআজ ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, তোমরা যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো। একটি মন্দ কাজ করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে একটি ভালো কাজ করো। ভালো কাজটি মন্দ কাজটিকে মিটিয়ে দেবে। মানুষের সঙ্গে সদাচার করো, ভালো ব্যবহার করো। [সুনানে তিরমিযী। তিনি হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।]
তাকওয়া শব্দের ব্যাখ্যা : আরবী ভাষায় তাক্ওয়া শব্দের আভিধানিক অর্থ ভয় করা, বেঁচে চলা, সতর্কতা অবলম্বন করা, বিরত থাকা ইত্যাদি। এসব অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কুরআন ও হাদীসে তাকওয়া শব্দটি মূলত একটি বিশেষ ও ব্যাপক অর্থে ব্যবহত হয়েছে। আল্লাহর উপর সবসময় দৃঢ় ঈমান রেখে জীবনের সর্বস্তরে কাজ করতে থাকলে মানুষ ভাল ও মন্দের মধ্যে সঠিক পার্থক্য করার যোগ্যতা ও প্রবণতা লাভ করে। আর এতে ভাল কাজের প্রতি উৎসাহ এবং মন্দ কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়। মনের এরূপ অবস্থা অনুযায়ী পবিত্র ভূমিকা পালন করাকেই ইসলামের পরিভাষায় তাকওয়া বলা হয়। এ সম্পর্কে বহু আয়াত ও হাদীস রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight