তাকওয়া সম্পর্কিত নির্বাচিত আয়াত

১। এই সেই কিতাব; এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য তা পথনির্দেশ, যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা থেতে ব্যয় করে, এবং তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তাতে যারা ঈমান আনে ও আখেরাতে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী, তারাই তাদের প্রতিপালক-নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। [সুরা বাকারা : আয়াত ২]
২। আমি তা তোমাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য দৃষ্টান্ত ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশস্বরূপ করেছি। [সুরা বাকারা : আয়াত ৬৬]
৩। হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। নিশ্চয় আল্লাহ সকল কিছু জানেন, সমস্ত খবর রাখেন। [সুরা হুজুরাত : আয়াত ১৩]
৪। হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও। [সুরা তাওবা : আয়াত ১১৯]
৫। পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, সমস্ত কিতাব এবং নবীগণের ওপর ঈমান আনলে এবং আল্লাহপ্রেমে আত্মীয়স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থীদেরকে এবং দাসমুক্তির জন্য অর্থ দান করলে, সালাত কায়েম করলে ও যাকাত প্রদান করলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূর্ণ করলে, অর্থ-সঙ্কটে, দুঃখ-কেশে ও যুদ্ধ-সঙ্কটে ধৈর্য ধারণ করলে। এরাই তারা যারা সত্যপরায়ণ এবং এরাই মুত্তাকী। [সুরা বাকারা : আয়াত ১৭৭]
৬। তোমরা ধাবমান হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি আসমান ও জমিনের মতো, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল;  আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন; এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ব্যতীত কে পাপ কক্ষা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে জেনে-শুনে তারই পুনরাবৃত্তি করে না। এরাই তারা, যাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম! [সুরা আলে ইমরান : আয়াত ১৩৩-১৩৬]
৭। আমি তো মুসা ও হারুনকে দিয়েছিলাম  ‘ফুরকান’, জ্যোতি ও উপদেশ মুত্তাকীদের জন্য, যারা না দেখেও তাদের প্রতিপালকে ভয় করে এবং তারা কিয়ামত সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত। [সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৪৮-৪৯]
৮। সেদিন নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে প্র¯্রবণবিশিষ্ট জান্নাতে, উপভোগ করবে যা তাদের প্রতিপালক তাদেরকে দেবেন; কারণ পার্থিব জীবনে তারা ছিলো সৎকর্মপরায়ণ, তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করতো নিদ্রায়, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং তাদের ধন-সম্পর্দে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদেরহ হক। [সুরা যারিয়াত : আয়াত ১৫-১৯]
৯। নিশ্চয় আকাশম-লী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনায় মাস বারোটি, তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না এবং তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সবাত্মকভাবে যুদ্ধ করবে যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে থাকে। এবং জেনে রেখো, আল্লাহ তো মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন। [সুরা তাওবা : আয়াত ৩৬]
১০। হে মুমিনগণ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে; কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে, সুবিচার করবে, এটা তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করবে, তোমরা যা করো নিশ্চয় আল্লাহ তার সম্যক খবর রাখেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার আছে। [সুরা মায়িদা : আয়াত ৮-৯]
১১। হে মুমিনগণ, তোমরা সুদ খেয়ো না ক্রমবর্ধমান এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। [সুরা আলে ইমরান : আয়াত ১৩০]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight