তাঁরাও যখন দীনের দাঈ! মীজানুর রহমান হানাফী

সুস্থ সুশীল জ্ঞানী সমাজের কাউকে যখন দেখি দীন-ধর্ম বিমুখ। ধর্ম বিদ্বেষী কর্মকান্ডে তৎপর। অবাক হই,আশ্চর্যের সীমা হারিয়ে যায়। তাদের বিচ্ছিন্নতায় ব্যথিত হই। কী সেই হেতু? যার জন্যে তারা দীন-ঈমানের মতো মহা দৌলত থেকে বঞ্চিত। অথচ যারা মনের ভাব প্রকাশ করতে জানে না; মুখে বলতে পারে না হৃদয়ে জমে থাকা আবেগ-অনুভূতি। তারাও এসেছেন বিশ^ ইজতেমার বিশাল জমায়েতে। উদ্দেশ্য রিযায়ে মাওলা, আল্লাহকে পাওয়া। মাওলাকে একটু চেনা। তার হুকুম মানা। তার প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শে নিজেদেরকে উজ্জীবিত করা।
যে কথা বলছিলাম, তা হচ্ছে, বাকপ্রতিবন্ধী ভাইদের একটি জামাতও সেখানে উপস্থিত ছিল। পাহাড়া-র জামাতে জোড়ার সুবাদে তাদের সামান্য সংশ্রব ও কসরত চোখে পড়ে। কিছু দেখার, বোঝার এবং উপলব্ধিরও সুযোগ হয়। নিশ্চয়ই এতেও আছে বিবেকবানদের জন্য শিক্ষা ও কিছু উপদেশ। যদি কেউ তা গ্রহণ করতে চায়। ঈশারা ঈঙ্গিত ও বিশেষ ভঙ্গিই যাদের একমাত্র মনের ভাব আদান-প্রদানের মাধ্যম। চমৎকার বয়ান উপমা তাঁদের ভাষায় যা মনে করিয়ে দেয় আল্লাহর অসীম কুদরতের কথা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দিয়েছেন ভাষা ও উপস্থাপনা শক্তি। দান করেছেন মহা নেয়ামত বাকশক্তি। যেমনটি এরশাদ কুরআনের ভাষায়, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনি  আল্লাহই তাকে শিখিয়েছেন প্রকাশভঙ্গি। [সূরা আর রহমান: আয়াত ৩-৪]
খুব সহজেই ব্যক্ত করছি হাজারো তামান্না আশা ও আকাঙ্খা। কখনো কী ভেবেছি এ নেয়ামতটির কথা? এমন অসংখ্য নেয়ামতে ডুবে আছি আমরা প্রতিনিয়ত। যার শুকরিয়া আদায় করে শেষ করা কোনো কালেই সম্ভব নয়!
তাই আসুন, আমরা আমাদের রব, আমাদের পালনকর্তা  আল্লাহকে চিনি। তার আনুগত্যে তার রাসূলের আদর্শে সপে দিই আমাদের জীবন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দীন-ঈমান ও আমলের সাথে জিন্দেগী যাপন করার তাওফীক দিন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight