ঝাড়-ফুকেঁর শরীয়ত সম্মত বিধান (১) : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা করে না, তার ঈমান নেই। মহান আল্লাহ বলেন, আর তোমরা আল্লাহর উপরই ভরসা কর- যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।’ [আল-মায়েদাহ:২৩] তিনি অন্যত্র বলেন, ‘যারা মুমিন, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তখন তাদের অন্তরসমূহ ভীত হয়ে পড়ে। আর যখন তাদের সামনে তার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সেই আয়াতসমূহ তাদের ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে।’ [আল-আনফাল:৩]
এতে বুঝা গেল, আল্লাহর উপর ভরসা ঈমানের অন্যতম একটি শর্ত। আর আল্লাহর উপর ভরসার অর্থ হচ্ছে, বান্দা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবে যে, সবকিছুই আল্লাহর হাতে। তিনি যা চান, তা হয়। পক্ষান্তরে যা তিনি চান না, তা হয় না। উপকার ও ক্ষতি সাধন সবকিছুই তাঁর হাতে। তিনি যাকে যা খুশী দেন আর যাকে যা খুশী দেন না। নেই কোনো ক্ষমতা এবং নেই কোনো শক্তি তিনি ব্যতীত।
পৃথিবীতে আল্লাহর প্রচলিত নিয়ম-নীতির প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবে যে, বিপদ-মুসিবত আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি অবধারিত নীতি। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- তোমাদের পরীক্ষা করবো কিছু ভয়-ভীতি ও ক্ষুধা অভাব দিয়ে। আরো পরীক্ষা করবো সম্পদ, জান ও ফলের ঘাটতি করে। এ সকল ক্ষেত্রে যারা ধৈর্য ধারণ করে আপনি তাদের সুসংবাদ প্রদান করুন। [সুরা বাকারা:১৫৫]
যারা মনে করে নেক লোকদের কোন বিপদ নেই, তাদের ধারণা ভূল, বিপদ-মুসিবত হচ্ছে ঈমানের পরিচয়। নবী সা. কে প্রশ্ন করা হলো- কোন মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্থ হয়? তিনি বললেন” নবীগণ, তারপর নেককারগণ, তারপর তাদের নিকটবর্তীগণ। ধর্মের দৃঢ়তা অনুযায়ি মানুষকে বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তার ধর্র্মীয় দিক যদি হালকা হয় তবে তার বিপদও হালকা ধরনের হয়। [আহমদ]
যে কোন বিপদে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, ‘হে বৎস! আমি তোমাকে কয়েকটি বাণী শিক্ষা দেব: (সেগুলি হচ্ছে) আল্লাহর আদেশ-নিষেধের হেফাযত করবে, তাহলে তিনি তোমাকে হেফাযত করবেন। আল্লাহর আদেশ- নিষেধের হেফাযত করবে, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সামনে পাবে। আর যখন কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও এবং যখন সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। জেনে রেখো,  দুনিয়ার সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য যতটুকু লিখে রেখেছেন, তার বাইরে কিঞ্চিৎ পরিমাণ উপকারও তারা করতে পারবে না। পক্ষান্তরে তারা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি তোমার ক্ষতি করতে চায়, তাহলে আল্লাহ যতটুকু তোমার তাকদীরে লিখে রেখেছেন, তার বাইরে কিঞ্চিৎ পরিমাণ ক্ষতিও তারা করতে পারবে না। কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কালি শুকিয়ে গেছে (অর্থাৎ তাক্বদীর লেখা শেষ হয়ে গেছে।)’ [মুসনাদে আহমাদ, ১/২৯৩]

বিপদাপদের রহস্য
বিপদাপদ হচ্ছে বান্দার প্রতি আল্লাহ তায়ালার ভালবাসার অন্যতম আলামত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- ‘‘আল্লাহ যখন কোন জাতীকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে বিপদে আক্রান্ত করেন।” [আহমদ, তিমিযি] এ ছাড়া বিপদাপদ হলো বান্দার প্রতি আল্লাহর কল্যাণের একটি অন্যতম পরিচয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ যখন তার বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন দুনিয়াতে তড়িৎ তার শাস্তির ব্যবস্থা করেন। আর যখন আল্লাহ বান্দার অকল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন গোনাহ করার পরও তাকে শাস্তি থেকে বিরত রাখেন। অতঃপর সেই শাস্তি কিয়ামত দিবসে পূর্ণরূপ দান করবেন। [তিরমিযি]  বিপদ-মুসিবত সামান্য হলেও তা গোনাহ মাফ হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। নবী সা. ইরশাদ করেন কোন মুসলমান যদি কাঁটা দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয় বা তার চাইতে বেশি কোন বিপদে পড়ে, তবে আল্লাহ তায়ালা তা দ্বারা পাপকে মোচন করেন যেমন গাছ থেকে পাতা জড়ে পরে। [বুখারিও মুসলিম]
এ জন্য বিপদগ্রস্থ মুসলিম যদি নেককার হয়, তবে তার বিপদ পূর্বকৃত পাপের কাফ্ফারা স্বরূপ হয়ে যায়। অথবা তা দ্বারা তার মর্যাদা  উন্নীত করা হয়। তবে সে যদি গোনাহগার হয় তবে বিপদাপদ তার পাপের কাফ্ফারা স্বরপ হয় এবং পাপের ভয়াবহতার কথা তাকে স্মরণ করানোর জন্য হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, জলে ও স্থলে যে সকল বিপদ-বিপর্যয় প্রকাশিত হয় তা মানুষের কর্মদোষের জন্যই হয়। যাতে করে তার মাধ্যমে তাদের কর্মের কিছুটা শাস্তি প্রদান করা হয়। যাতে করে তারা সৎ পথে ফিরে আসে। [সুরা রূম:৪১]
অতএব, সকল বিপদ আপদ, বালা মুসিবত এবং রোগ ব্যাধিতে আল্লাহর উপর ভরসা বান্দার কাঙ্খিত বস্তু হাছিলের এবং অনাকাঙ্খিত বস্তু প্রতিহতের অন্যতম কারণ ও মাধ্যম। বান্দার পূর্ণ ভরসা ও নির্ভরতা হতে হবে একমাত্র আল্লাহর উপর, অন্য কিছুর উপর নয়। কিন্তু আল্লাহর উপর বান্দার ভরসা যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন তার অন্তর বিভিন্ন কারণ ও মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং ঐ কারণসমূহের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ থেকে সে গাফেল হয়ে যায়। কখনও কখনও আল্লাহ সম্পর্কে তার গাফলতি বৃদ্ধি পেয়ে শরীয়ত অনোনুমোদিত কারণের উপর সে নির্ভর করতে শুরু করে।

বিপদ-মুসিবতের প্রকারভেদ
কল্যাণের বিপদ। যেমন- ধন-সম্পদের প্রবৃদ্বি। অকল্যাণের বিপদ। যেমন- ভয়-ভীতি, ক্ষুদা-দারিদ্রতা, জান-মালের ক্ষতি ইত্যাদি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা ইরশাদ করেন- আমি তাদেরকে কল্যাণ ও অকল্যাণের ফিতনায় পরীক্ষা করে থাকি। [সুরা আম্বিয়া:৩৫] আরো মারাত্মক বিপদ হচ্ছে অসুস্থতা ও মৃত্য। যার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে হিংসা-বিদ্বেষ করে বদনযর ও যাদুতে আক্রান্ত করা। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- আল্লাহর নির্ধারণ ও ফয়সালার পর আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মানুষ মারা যায় বদনযরের কারণে।

ঝাড়-ফুঁক ও বদ-নযর থেকে বাঁচার উপায়
বাচাঁর সতর্কতা চিকিৎসার চাইতে উত্তম। অতএব সতর্কতার প্রতি সচেতন থাকা জরুরী। যে সমস্ত বিষয় আমাদেরকে বদনযর ও যাদু থেকে বাচাঁতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ঈমান ও তাওহীদের দ্বারা নিজেকে শক্তিশালী করা। সুদৃঢ়ভাবে এ কথা বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীর যাবতীয় কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে। সেই সাথে বেশী বেশী সৎ কাজে লিপ্ত থাকা।
* আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা ও তার প্রতি ভরসা করা। কোন সমস্যা দেখা দিলেই তা যেন অসুখ বা বদনযর ধারণা না করে। কেননা দারণা ও খেয়ালই একটি অসুস্থতা।
* কোন লোক যদি সমাজে পরিচিত হয় যে, তার বদনযর আছে বা যাদুকর তবে তার থেকে দূরে থাকা উচিৎ। তার ভয়ে নয়, বরং উপায় উপকরণ অবলম্বন করার কারনে তার থেকে দূরে থাকবে।
* সর্বদা আল্লাহর যিকির করা এবং আশ্চর্য ও আনন্দের কিছু দেখলে তার বরকতের জন্য দোয়া করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোন মানুষ যদি নিজের মধ্যে বা নিজ সম্পদের মধ্যে বা মুসলিম ভায়ের মধ্যে আনন্দময় কিছু দেখে তার জন্য যেন বরকতের দোয়া করে। দোয়া করার নিয়ম হচ্ছে বলবে- ‘বরাকাল্লাহু লাকা’ ‘তাবারাকাল্লাহু’ বলবে না।
* যাদু ইত্যাদি থেকে বাচাঁর শক্তিশালী একটি মাধ্যম হচ্ছে, প্রতিদিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মদিনার (আজওয়া) নামক সাতটি খেজুর খাওয়া।
*আল্লাহ তায়ালার স্মরণাপন্ন হওয়া, তার উপর ভরসা করা, তার প্রতি সুধারণা পোষণ করা এবং যাদু ও বদনযর থেকে তার কাছে আশ্রয় চাওয়া। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় যিকির সমূহ যথারিতি পাঠ করা। আল্লাহর হুকুমে এই যিকিরগুলোর বিশেষ প্রভাব আছে। আর তার কারণ দুটি: (১) এগুলোর মধ্যে যা বলা হয়েছে তা সত্য ও সঠিক একথার প্রতি ঈমান রাখা (২) এবং আল্লাহর হুকুমে এগুলো উপকারি উহা নিজের কানে উচ্চারণ করে নিজের কানে শোনে এবং অন্তর উপস্থিত রেখে পাঠ করা। কেননা এগুলো দোয়া। আর উদাস অন্তরে দোয়া কবুল হয়না। যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বণিত হয়েছে।
যিকির আযকার পাঠ করার সময় সকালের যিকির সমূহ ফজরের পর পাঠ করবে। কিন্তু সন্ধ্যার যিকির সমূহ আছরের পর পাঠ করতেই হবে। কেহ যদি উক্ত যিকির সমূহ যথাসময়ে পাঠ করতে ভূলে যায় বা অলসতা করে, তবে যখনি স্মরণ হবে তা পাঠ করবে।
বদনযর প্রভৃতিতে আক্রান্ত হওয়ার আলামত শরীয়ত সম্মত ঝাড়-ফুঁক ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই। শারীরিক ও মানসিক সব ধরনের রোগের চিকিৎসা রয়েছে পবিত্র কুরআনে। বদনযরে আক্রান্ত হওয়ার পর মানুষ হয়তো শারীরিক রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারে, কিন্তু তারপরও সাধারনতঃ বিভিন্ন ধরনের উপসর্গও দেখা যেতে পারে। যেমন বিভিন্ন সময় মাথা ব্যথা অনুভব করবে। মুখমন্ডলের রং পরিবর্তন হয়ে হলুদ হয়ে যাবে। বেশি বেশি ঘাম নির্গত হবে। বেশি বেশি পেশাব করবে। খানা-পিনার আগ্রহ কমে যাবে। শরীরের বিভিন্ন পার্শ্বে ঠান্ডা বা গরম বা কখনো গরম আবার ঠান্ডা অনুভব করবে। হার্টের উঠা-নামা বা বুক দড়ফড় করবে। পিঠের নিম্নাংশে বা দু’স্কন্ধে বিভিন্ন সময় ব্যথা অনুভব করবে। অন্তরে দুঃচিন্তা বা সংকীর্ণতা অনুভব হবে। রাতে অনিদ্রা হবে। অস্বাভাবিক ক্রোধ বা ভয়ের কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। বেশি বেশি ঢেকুর বা উদগিরণ হবে। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলবে। একাকিত্বকে পছন্দ করবে। অলস ও শ্রম বিমূখ হবে। নিদ্রার প্রতি আগ্রহ হবে। স্বাস্থ্যগত অন্যান্য সমস্যা দেখা দিবে যা ডাক্তারি কোন কারণ নেই। রোগের দূর্বলতা ও কাঠিন্যতা অনুযায়ী এই আলামতগুলো বা কিছুটা দেখা যেতে পারে। আবশ্যক হচ্ছে মুসলিম ব্যক্তি শক্তিশালী ঈমান ও সুদৃঢ় হৃদয়ের অধিকারি হবে। কোন ওয়াসওয়াসা যেন তার মধ্যে অনুপ্রবেশের সুযোগ না পায়। কোন উপসর্গ অনুভব করলেই আমি রোগে আক্রান্ত এরূপ ধারণা যেন মনে স্থান না পায়। কেননা ‘ধারণা’ রোগের চিকিৎসা বড়ই কঠিন। অবশ্য কারো কারো মধ্যে উক্ত উপসর্গগুলো থেকে কিছু দেখা যেতে পারে অথচ তারা সুস্থ। আবার কখনো কোন উপসর্গ দেখা যায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে, কখনো ঈমানের দূর্বলতার কারণে। যেমন অন্তরে সংকীর্ণতা অনূভব, দুশ্চিন্তা, অলসতা, ইত্যাদি। তখন আল্লাহর সাথে সম্পর্কের বিষয়কে উন্নত করা উচিত। রোগ যদি বদনযরের কারনে হয়, তবে আল্লাহর হুকুমে নিম্ম লিখিত যে কোন একটি মাধ্যমে যে কোন একটার চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।
১.যার বদনযর লেগেছে তাকে যদি জানা যায়, তবে তাকে গোসল করিয়ে (গোসলকৃত) পানি নিবে এবং তার ছোঁয়া কোন জিনিস সংগ্রহ করবে। অতঃপর সেই পানি দ্বারা বদনযরের আক্রান্ত ব্যক্তিকে গোসল করাবে এবং তাকে পান করাবে।
২.যার বদনযর লেগেছে তাকে জানা না গেলে: শরীয়ত সম্মত ঝাড়-ফুকঁ দোয়া শিঙ্গা লাগানো বা অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের চেষ্টা করতে হবে। তবে ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর থাকবে।
কিন্তু যাদুতে আক্রান্ত হলে নিম্ম লিখিত যে কোন একটির মাধ্যমে চিকিৎসা হতে পারে-
(১) কোথায় যাদু করা হয়েছে তা জানা থাকলে: সেই যাদুকৃত বস্তুটি বের করে আনতে হবে। তারপর সেখানে গিরা ইত্যাদি থাকলে সূরা নাস ও সুরা ফালাক পড়ে খুলতে হবে। তারপর ঐ বস্তুকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ফেলতে হবে।
(২)শরীয়ত সম্মত ঝাড়-ফুঁক কুরআনের আয়াত বিশেষ করে সুরা নাস ও ফালাক এবং সুরা বাকারা, দোয়া ইত্যাদি দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করবে।
(৩) নুশরা দ্বারা যাদু প্রতিহত করা। উহা দুই ভাগে বিভক্ত (ক) হারাম: উহা হচ্ছে  যাদু দ্বারা যাদুকে প্রতিহত করা এবং যাদু থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য যাদুকরের কাছে যাওয়া। (খ) জায়েয: এর পদ্বতী হচ্ছে সাতটি বরই পাতা নিয়ে তা পিশে ফেলবে তারপর হাতে তিনবার করে সুরা কাফেরূন, ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে ফুঁ দিবে। তারপর উহা পানিতে মিশিয়ে তা পান করবে। আল্লাহ চাহে তো উপকার হবে।
(৩) যাদু বের করা: যদি পেটের মধ্যে যাদুর ক্রিয়া অনুভব হয় তবে ঔষধ ইত্যাদি দিয়ে তা পায়খানার মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
ঝাড়-ফুঁক: এর জন্য কিছু শর্ত আছে- (১) ঝাড়-ফুঁক হতে হবে কুরআনের আয়াত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমানিত দোয়ার মাধ্যমে। (২) উহা আরবী ভাষায় হতে হবে, দোয়া আরবী ছাড়া অন্য ভাষাও হতে পারে। (৩) এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ঝাড়-ফুঁেকর কোন প্রভাব নেই। আরোগ্য শুধু আল্লাহই দিতে পারেন। ঝাড়-ফুঁকের প্রভাব বেশী পেতে চাইলে কুরআন পাঠ করবে আরোগ্যের নিয়তে। কেননা কুরআন আরোগ্যের আর হেদায়েতের জন্য নাযিল হয়েছে। তবে নিজেকে হত্যা করার নিয়তে কুরআন পড়বে না।
যিনি ঝাড়-ফুঁক করবেন তার জন্য কতিপয় শর্ত
(১) তিনি মুসলমান হবেন, নেককার ও পরহেযগার হবেন। যত বেশী খোদাভীরু হবেন ততই ঝাড়-ফুঁকে কাজ বেশী হবে। (২) ঝাড়-ফুঁকের সময় একনিষ্ঠ হৃদয় নিয়ে আল্লাহর দিকে নিজেকে দাবিত করবেন। যাতে করে তার মুখ যা বলবে অন্তরে তা ধাবিত করে। উত্তম হচ্ছে মানুষ নিজে নিজেকে ঝাড়-ফুঁক করবে। কেননা সাধারনত অন্যের অন্তর ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া নিজের বিপদ ও প্রয়োজন সে নিজে যেমন অনুভব করে অন্যে তা করে না। বিপদগ্রস্তরা আল্লাহর দারস্ত হলে তাদের ডাকে সাড়া দেয়ার অঙ্গিকার তিনি তাদেরকে দিয়েছেন।
যাকে ফুঁক দেওয়া হবে তার জন্য কিছু শর্ত
(১) সে মুমেন ও নেককার হওয়া মোস্তাহাব। ঈমান অনুযায়ী প্রভাব হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- আমি কুরআন নাযিল করেছি তাতে মুমেনদের জন্য রয়েছে আরোগ্য ও রহমত। আর জালেমদের ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছু বৃদ্বি করবে না। [সুরা বানী ইসরাঈল:৮২]
(২) সত্যিকারভাবে আল্লাহর স্মরণাপন্য হবে যে, তিনি তাকে আরোগ্য দান করবেন।
(৩) আরোগ্য পেতে দেরী হচ্ছে কেন? এরূপ অভিযোগ করবেনা। কেননা ঝাড়-ফুঁক এক ধরনের দোয়া। দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করলে হয়তো দোয়া কবুলই হবেনা। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন” তোমাদের একজনের দোয়া কবুল করা হবে, যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করবে আর এ কথা না বলবে যে, এত দোয়া করলাম কিন্তু কবুল হল না। [বুখারি ও মুসলিম]
ঝাড়-ফুঁকের কয়েকটি নিয়ম
(১) ঝাড়-ফুঁকের সাথে হালকা থুথু বের করবে। (২) থুথুসহ ফুঁক দেওয়া ছাড়াই ঝাড়-ফুঁকের দোয়া পড়া। (৩) আঙ্গুলে সামান্য থুথু নিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে তা দ্বারা ব্যথার স্থানে মাসেহ করা।
(৪) ঝাড়-ফুঁকের দোয়া পড়ে ব্যথার স্থানে হাত ফেরানো।

3 মন্তব্য রয়েছেঃ ঝাড়-ফুকেঁর শরীয়ত সম্মত বিধান (১) : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

  1. masiur rahman says:

    জ্ঞানগর্ভ ও সমৃদ্ধশীল একটি লেখা। সকলের কাছে তা প্রচার করা আবশ্যক। এতসুন্দর লেখা উপহার দেওয়ার জন্য লেখিকাকে ধন্যবাদ জানাই।

  2. জামিল আহমদ says:

    কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী কিভাবে ঝাড়ফুল করা যায় তা এই লেখা পড়ে জানতে পারলাম। ধন্যবাদ লেখিকা আপুকে। আগে মনে করতাম যে কেউ ঝাড় ফুক করতে পারবে। খুব ভাল লাগল। আরো আরো সুন্দর সুন্দর লেখা দিয়ে আমাদের কৃতজ্ঞ করবেন।

  3. Rahatul Jannat says:

    খুব ভাল একটি আরটিকেল। অনেক উপকৃত হলাম। জাযাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight