জ্ঞান সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে ঈর্ষা করা যায় না। প্রথমত এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা অর্থ সম্পদ দান করেছেন এবং তা সৎকার্যে ব্যায় করার জন্য তাকে (মনোবল) ক্ষমতা দান করেছেন। দ্বিতীয়ত, এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা প্রচুর জ্ঞান দান করেছেন। সে তার দ্বারা সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে এবং লোকদেরকে শিক্ষা দেয়। [বুখারী ও  মুসলিম]
২।  হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার পক্ষ হতে  (দীনের কথা) লোকদের নিকট পৌঁছাতে থাক, যদিও তা একটি মাত্র বাক্য হয়। আর বনী ইসরাঈল হতে শোনা কথা বর্ণনা করতে পার, তাতে কোন দোষ নেই। (অর্থাৎ, তাদের ভাল কথা শোনাতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার উপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে প্রস্তুত করে নেয়।) [বুখারী]
৩। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব একটি ক্ষুদ্র কষ্ট দূর করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার একটি বিরাট কষ্ট দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত লোকের একটি অভাব (সাহায্যের দ্বারা) সহজ করে দেয়, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার যাবতীয় অভাব সহজ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ ত্রুটি ঢেকে রাখবেন। আর বান্দা যে পর্যন্ত তার ভাইয়ের সাহায্য করতে থাকে, সে পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাও তার সাহায্য করেন। আর যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের জন্য কোনো পথে চলতে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার জান্নাত লাভের পথ সুগম করে দেন এবং যখনই কোন একটি সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোন একটি ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব অধ্যয়ন করে এবং তার মর্ম উদঘাটনে পরস্পর আলোচনা করে, তখন তাদের উপর স্বস্তি ও প্রশান্তি অবতীর্ণ হতে থাকে। রহমত তাদেরকে বেষ্টন করে রাখে, ফেরেশতাগণ রহমতের চাদর দিয়ে তাদেরকে ঘিরে রাখেন এবং আল্লাহ তাআলা সে সমস্ত লোকদের প্রসঙ্গে তার দরবারে উপস্থিত ফেরেশতাদের নিকট আলোচনা করেন। আর যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশ মর্যদা তাকে এগিয়ে দিতে পারে না। [মুসলিম]
৪। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুন এবং হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রা. হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার পক্ষ হতে হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে মনে করে যে, তা মিথ্যা; তবে সে মিথ্যাবাদীদের অন্যতম ব্যক্তি। [মুসলিম]
৫। হযরত মু‘আবিয়া রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ কামনা করেন, তিনি তাকে দীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দান করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন নিশ্চয়ই আমি জ্ঞান বণ্টনকারী, আর আল্লাহ তা দান করেন। [বুখারী, মুসলিম]
৬। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সোনারুপার খনিরাজির ন্যায় মানবজাতিও (নানা গোত্রের) খনিরাজি যারা জাহেলী যুগে উত্তম ছিলেন, তারা ইসলামি যুগেও উত্তম, যখন তারা দীনের জ্ঞান লাভ করেন। [মুসলিম]
৭। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, (শেষ জামানয়) আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের অন্তর হতে ইলম টেনে বের করে উঠিয়ে নেবেন না; বরং আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন দুনিয়ায় আর কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না; তখন লোকজন মূর্খ লোকদেরকে  নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকট বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা ইলম ব্যতীতই ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। [বুখারী- মুসলিম]
৮। হযরত আবু উমামা বাহেলী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দু’ ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তাদের একজন ইবাদত গুজার আর অন্যজন আলিম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবাদত গুজারের উপর আলিমের শ্রেষ্ঠত্ব, এমনই যেমন আমার শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার ফেরেশতাগণ, আকাশ এবং জমিনের বাসিন্দাগণ এমনকি গর্তের পিপিলিকাসমূহ এবং মৎসসমূহ পর্যন্ত মানুষকে কল্যাণের কথা শিক্ষাদানকারীর জন্য দোয়া করতে থাকে। [তিরমিযি]
৯। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন। আমার ইন্তেকালের পর লোকেরা তোমাদের অনুসারী হবে। বিভিন্ন দিক হতে লোকেরা তোমাদের নিকট দ্বীনী জ্ঞান লাভ করার জন্য আগমন করবে। অতএব যখন তারা তোমাদের নিকট আসবে তখন তোমরা তাদেরকে সদুপদেশ (দীনের শিক্ষা) দেবে। [তিরমিযি]
১০। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জ্ঞানের কথা জ্ঞানী লোকের হারানো সম্পদ। কাজেই সে যেখানে বা যার নিকট এই জ্ঞান পাবে, সে তার অধিক উত্তরাধিকারী। [তিরমিযি ও ইবনে মাযাহ]
১১।  হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আলিমদের সাথে বিতর্কে জয়লাভের জন্য অথবা মুর্খদের সাথে বাক-বিত-া করার জন্য কিংবা সাধারণ মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য ইলম অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। [তিরমিযী]
১২। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এমন ইলম অর্জন করে, যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়; কিন্তু সে ব্যক্তি দুনিয়ার কোন সামগ্রী লাভের উদ্দেশ্যে তা শিক্ষা করে তবে সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন জান্নাতের গন্ধও পাবে না। [আহমদ, আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight