জেনে নিই

জেনে নিই
হজ্জ ও উমরার ফজিলত
১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যে হজ্জ গোনাহ এবং খারাবী থেকে পবিত্র হয়, জান্নাতই হল তার পুরস্কার। [বুখারী ও মুসলিম]
২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : এক উমরার পর আরেক উমরা করলে দুই উমরার মধ্যবর্তী সব গোনাহ মোচন হয়ে যায়। [প্রাগুক্ত]
৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্জ করে এবং হজ্জের প্রাক্কালে অশ্লীল কথা, কাজ ও পাপ থেকে বিরত থাকে, সে মায়ের পেট থেকে জন্ম গ্রহনের দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে। [প্রাগুক্ত]
৪. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : একাধারে হজ্জ ও উমরা করতে থাক। এটা পাপ ও দরিদ্রতাকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেমন আগুন লোহার ময়লা দূর করে দেয়। [তিরমিযি, নাসায়ী]

কাদের উপর হজ্জ ফরজ
১. যার নিকট মক্কা শরীফ থেকে হজ্জ করে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের আবশ্যকীয় খরচ বাদে মক্কা শরীফ যাতায়াতের মোটামুটি খরচ পরিমাণ অর্থ থাকে তার উপর হজ্জ ফরজ। ব্যবসায়িক পণ্য এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমির মূল্য এ অর্থের হিসেবে গণ্য করতে হবে।
২. মেয়ে লোকের জন্য নিজ স্বামী বা নিজের কোন বিশ্বস্ত দ্বীনদার মাহরাম পুুরুষ ব্যতীত হজ্জে যাওয়া দুরস্ত নয়। শুধু এমন কোন মহিলা থাকা যথেষ্ট নয়, যার সাথে তার মাহরাম পুরুষ রয়েছে।
৩. অন্ধের উপর হজ্জ ফরজ নয় যত ধনই থাকুক না কেন?
৪. নাবালেগের উপর হজ্জ ফরজ হয় না। নাবালেগ অবস্থায় হজ্জ করলেও বালেগ হওয়ার পর সম্বল হলে পুনরায় হজ্জ করতে হবে।
হজ্জ ফরজ হওয়ার পর না করা বা বিলম্ব করা
১. হজ্জ ফরজ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সেই বৎসরই হজ্জ করা ওয়াজিব, বিনা ওজরে দেরি করা পাপ। ছেলে মেয়ের বিবাহ শাদী দেয়ার জন্যে বা বাড়ি তৈরী করার জন্যে বিলম্ব করা কোন গ্রহণযোগ্য ওজর নয়। শেষ বয়সে হজ্জ করব; এমন ধারণাও ভুল। বরং বয়স থাকতে হজ্জ করতে গেলেই হজ্জের ক্রিয়াদি ভালভাবে আদায় করা সহজ হয়।
২. হজ্জ ফরজ হওয়ার পর আলস্য করে বিলম্ব করলে এবং পরে গরীব বা শক্তিহীন হয়ে গেলেও ঐ ফরজ তার জিম্মায় থেকে যাবে- মাফ হবে না, যে কোন উপায়ে তাকে হজ্জ করতে হবে বা মৃত্যুর পূর্বে বদলী হজ্জের ওছিয়ত করে যেতে হবে।
৩. মাতা-পিতার হজ্জের পূর্বে সন্তান হজ্জ করতে পারে না- এই ধারণা ভুল। অতএব এ ধারণার বশবর্তী হয়ে হজ্জে বিলম্ব করা গ্রহণযোগ্য ওজর নয়।
৪. হজ্জ ফরজ হওয়া সত্বেও যে হজ্জ না করে মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য ভীষণ আজাবের সংবাদ দেয়া হয়েছে। এরূপ লোক সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে : সে ইয়াহুদি হয়ে মরুক বা নাসারা হয়ে মরুক।

হজ্জের সফরের আদবসমূহ
১. নিয়ত খালেছ করে নিবেন অর্থাৎ আল্লাহকে রাজি খুশি করার নিয়ত রাখবেন। নাম শোহ্রত, দেশ ভ্রমন, আবহাওয়া পরিবর্তন, হাজি উপাধি অর্জন ইত্যাদি নিয়ত রাখবেন না।
২. খাঁটি অন্তরে তওবা করতে হবে অর্থাৎ কৃত গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, এখনই গোনাহ বর্জন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে গোনাহ না করার পাকাপোক্ত নিয়ত করতে হবে। কারও টাকা-পয়সা বা সম্পদের হক নষ্ট করে থাকলে তার ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিতে হবে। পাওনাদার জীবিত না থাকলে তাদের উত্তরাধিকারীদের থেকে তার নিষ্পত্তি করে নিতে হবে। সেরূপ কারও সন্ধান না পেলে পাওনাদারের সওয়াবের নিয়তে পাওনা পরিমাণ অর্থ তার পক্ষ থেকে দান করে দিতে হবে। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।
৩. মাতা-পিতা জীবিত থাকলে এবং তাদের খেদমতে থাকার পয়োজন থাকলে তাদের এজাজত ব্যতীত নফল হজ্জে গমন করা মাকরূহ। খেদমতের প্রয়োজন থাকলে ফরজ হজ্জে এজাজত ব্যতীত যাওয়া মাকরূহ নয়, যদি পথ ঘাট নিরাপদ থাকে। মাতা-পিতার উচিত এজাজত দিয়ে দেওয়া।
৪. সফর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সময়ের জন্য পরিবার পরিজন ও অধিনস্থদের প্রয়োজনীয় খরচাদির ব্যবস্থা করে যেতে হবে।
৫. কোন ঋণ নগদ আদায় করার থাকলে পাওনাদারের অনুমতি গ্রহণ করবেন। তার অনুমতি ব্যতিত হজ্জে গমনকরা মাকরূহ। তবে যদি কাউকে ঋণ আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ করে যাওয়া যায় এবং পাওনাদারগণ তাতে সম্মত থাকে, তাহলে অনুমতি ব্যতিতও যাওয়া মাকরূহ হবে না। আর ঋণ যদি নগদ আদায় কারার না হয় বরং মেয়াদী থাকে এবং মেয়াদের পূর্বেই হজ্জ থেকে ফিরে আসার হয়, তাহলে সেই পাওনাদারের অনুমতি গ্রহণ ব্যতিতও হজ্জে গমনে কোন অসুবিধা নেই। তবে পাওনা দাওনা সম্পর্কিত একটি তালিকা তৈরী করে রেখে যাবেন।
৬. নিজের কাছে কারও থেকে ধার করা জিনিস বা কারও আমানত থাকলে তা মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে যাওয়া চাই।
৭. সফরে গমনের পূর্বে কোন বিচক্ষণ অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে সফরের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে পরামর্শ করে নিন।
৮. উত্তম সফরসঙ্গী নির্বাচন করুন। পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আলেম হলে উত্তম হয়, যার কাছে প্রয়োজনে হজ্জের মাসায়েল ইত্যাদি জেনে নেয়া যাবে। আলেম না পেলে অন্ততঃ একজন অভিজ্ঞ দ্বীনদার হাজিকে সফরসঙ্গী বানানোর চেষ্টা করবেন।
৯. হজ্জের মাসায়েল শিক্ষা করে নিবেন। হজ্জের মাসায়েল শিক্ষা করাও ফরজ। দু’আ কালামের ফজিলত আছে, তবে দু’আ কালামের উপর জোর দিতে গিয়ে জরুরী মাসায়েল থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন হওয়া উচিত নয়। হজ্জ ও উমরা সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য মাসায়েলের কিতাবও সাথে রাখা চাই। যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে কিতাব দেখে নেয়া যায়। অনেকে তাওয়াফ, সায়ী ইত্যাদির দু’আ মুখস্থ করতে পারেন না বলে হতাশ হন। হতাশ হওয়ার কিছু নেই, একান্ত মুখস্থ করতে না পারলে এসব দু’আ ব্যতীতও হজ্জ হয়ে যাবে। তবে এসব দু’আ সুন্নাত বা মুস্তাহাব, তাই সম্ভব হলে হিম্মত করে আমল করার চেষ্টা করুন।
১০. হজ্জ উমরার সফর একটি বরকতময় সফর। এ সফরে সফরের যাবতীয় সুন্নাত আদব ইত্যাদি আমল করা চাই।

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ জেনে নিই

  1. সুমি আহমেদ says:

    অনেক কিছু জানতে পারলাম…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight