জীবন সায়াহ্নে খলীফা ও আমীরগণের উক্তি

Karbala

     হযরত আমীরে মোয়াবিয়া রা. এর জীবন সয়াহ্নে
হযরত আমীরে মোয়াবিয়া রা. -এর মৃত্যু নিকটবর্তী হলে তিনি বলেন- আমাকে বসিয়ে দাও। লোকেরা তাকে বসিয়ে দিল। তিনি তাসবীহ ও যিকির শুরু করে দিলেন। তারপর কেঁদে কেঁদে বললেন: হে মোয়াবিয়া! বার্ধক্য ও ভগ্নদশায় বুঝি আল্লাহ তা আলার যিকিরের কথা মনে পড়ছে? এর সময় তো তখন ছিল, যখন যৌবনের শাখা সজীব ছিল। এ কথা বলে তিনি প্রচুর কাঁদলেন। উচ্চস্বরে ক্রন্দন করতে করতে তিনি বললেন- ইলাহী! এই কঠোর প্রাণ বৃদ্ধের প্রতি রহম কর। এর ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমা কর। নিজের সহনশীলতার মাধ্যমে এই ব্যক্তিকে নিজের দিকে টেনে নাও, যে তোমাকে ছাড়া কারও কাছে আশা করেনা এবং কারো উপর ভরসা করেনা।
বর্ণিত আছে, আমীরে মোয়াবিয়া রা. এর সর্বশেষ খুৎবা ছিল: লোক সকল! মানুষ যে ফসল বপন করে, তাই কাটে। আমি তোমাদের শাসক ছিলাম। আমার পরে যে শাসক আসবে, সে আমার চেয়ে খারাপই হবে; যেমন আমার পূর্ববর্তী শাসক আমার চেয়ে ভাল ছিল। হে ইয়াযিদ! আমার মৃত্যু হয়ে গেলে কোন বুদ্ধিমান ও সুধী ব্যক্তি দ্বারা আমার গোসল দেবে। বুদ্ধিমান ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। তাকে বলবে যেন উত্তমরুপে গোসল দেয় এবং আল্লাহু আকবার সজোরে বলে। এরপর ধনভান্ডারে দেখবে রাসূল সা. এর কিছু বস্ত্র এবং তার কেশ ও নখের কিছু অংশ একটি রোমালে বাধা আছে। ক্ষুদ্রাংশগুলো নিয়ে আমার নাকে মুখে ও চোখে স্থাপন করবে। আর বস্ত্রকে কাফনের ভেতরে আমার উপরে রেখে দেবে। কাফন পরিয়ে কবরে রেখে দেওয়ার পর তোমরা মোয়াবিয়া ও আরহামুর রাহিমিন কে একাকী ছেড়ে দিয়ো।
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর বলেন, অন্তিম মুহূর্তে আমীর মুয়াবিয়া বলতে লাগলেন; চমৎকার হতো যদি আমি কোরায়শের অভুক্ত একজন ব্যক্তি হতাম এবং খেলাফতের কোন কিছুর অধিকারী না হতাম।

হযরত আব্দুল আযীয রহ. এর জীবন সায়াহ্নে
বর্ণিত আছে- হযরত ওমর ইবনে আবদুল আযীযের মৃত্যু নিকটবর্তী হলে তিনি কাঁদলেন। এক ব্যক্তি আরয করল- আমীরুল মুমিনীন! কান্নার কারণ কি? আপনার জন্য সুসংবাদ, আল্লাহ তা আলা আপনাকে দিয়ে অনেক সুন্নত পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি কেঁদে কেঁদেই বল্লেন- আমাকে কি হাশরের ময়দানে দাঁড় করানো হবে না? জনগনের অধিকার সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হবে না?
বর্ণিত আছে- অন্তিম সময়ে তিনি বল্লেন- আমাকে বসিয়ে দাও। বসিয়ে দেয়ার পর তিনি বললেন; ইলাহী! তুমি আদেশ  করেছ, আমি তা পালনে ত্রুটি করেছি, তুমি নিষেধ করেছ আমি তা মান্য করিনি। এ কথাগুলো তিন বার উচ্চারণ করার পর বললেন, কিন্তু ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ অর্থাৎ তাওহীদে আমি কোন ত্রুটি করিনি। অতপর তিনি মাথা তুলে তীক্ষèদৃষ্টিতে তাকালেন। এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে বললেন- আমি কিছু লোককে উপস্থিত দেখছি। তারা না মানুষ না জিন। এর পরই তার ওফাত হয়ে গেল।

হযরত মুয়ায রা. এর জীবন সায়াহ্নে
হযরত মুয়ায রা. এর ওফাত নিকটবর্তী হলে তিনি বললেন- ইলাহী, আমি তোমাকে ভয় করি এবং তোমার কাছে আশা করি; ইলাহী তুমি জান আমি খাল খনন ও বৃক্ষ রোপণের জন্য দুনিয়া ও দুনিয়াতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকাকে পছন্দ করতাম না। বরং গ্রীষ্মের দুপুরে পিপাসার্ত থাকা, কালের বিপদাপদ সহ্য করা এবং যিকিরের মজলিসে নতজানু হয়ে বসার জন্য পছন্দ করতাম। তীব্র মৃত্যু যন্ত্রণার মধ্যে যখনই তার জ্ঞান ফিরে আসতো, তিনি চোখ খোলে বলতেন, ইলাহী; তুমি যত ইচ্ছা আমার গলা চেপে ধর। তোমার ইজ্জতের কসম, আমার অন্তর তোমাকেই মহব্বত করে।
মৃত্যুর দোয়ারে হযরত সালামান ফারসী রা.
মৃত্যুর পূর্বে হযরত সালমান ফারসী রা. কাদঁতে থাকেন। কেউ এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন- আমি দুনিয়ার মহব্বতে অস্থির হয়ে কাঁদছি না; বরং আমরা রাসূল সা. এর কাছে অঙ্গিকার করেছিলাম যে, দুনিয়াতে আমাদের পাথেয় ততটুকুই হওয়া উচিত, যতটুকু মুসাফিরের হয়। রাসূল সা. এর যখন ওফাত হল, তখন তিনি যা কিছু ছেড়ে যান, তার মূল্য দশ দেরহামের চেয়ে কিছু বেশি। অর্থাৎ; চার টাকার কাছাকাছি ছিল।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ও ফুযায়ল রহ.
– বর্ণিত আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক রহ. মৃত্যুর সময় চোখ খোলে হেসে উঠেন এবং বলেন- এরই জন্যে আমলকারীদের আমল করা উচিত।
– হযরত ফুযায়ল রহ. ওফাতের সময় অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এর পর চক্ষু খুলে বললেন- আফসোস, এত দীর্ঘ সফর, আর এত অল্প পাথেয়।

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ জীবন সায়াহ্নে খলীফা ও আমীরগণের উক্তি

  1. MD. JAKIR HUSAIN says:

    JEZAKALLAH FOR A NICE ARTICLE

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight