জীবন জিজ্ঞাসা

Sowal Jowab

চেয়ারে বসে নামাজ আদায় প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ রফিক মাহমুদ, বরিশাল।১১৩.

প্রশ্ন : আমি একটি মসজিদের ইমাম। আমার মসজিদে এমন কয়েকজন মুসল্লি আছেন যারা স্বাভাবিকভাবে রুকু-সেজদা করতে সক্ষম নন। এ কারণে তারা মসজিদের এক কোণে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেন। আমার জিজ্ঞাসার বিষয় হলো এই মা’জুর লোকগুলো তাদের চেয়ারকে কাতার বরাবর রাখবে নাকি চেয়ারকে পিছিয়ে দিয়ে পাগুলো অন্য মুসল্লিদের সাথে মিলিয়ে কাতার বরাবর রাখবে। একেক মসজিদে একেক রকম পদ্ধতি দেখা যায়। সঠিক নিয়মটি জানিয়ে বাধিত করবেন।
জবাব : সেজদা নামাজের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন। যে সকল লোক ওজরের কারণে স্বাভাবিকভাবে সেজদা করতে সক্ষম নন, তারা কিয়াম করতে সক্ষম হলেও তাদের উপর কিয়াম ফরজ থাকে না। এ ধরণের লোকেরা যদি চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেন, তাহলে তাদের জন্য কাতারে চেয়ার রাখার উত্তম পদ্ধতি হলো এই যে, তারা চেয়ার এমনভাবে রাখবেন যেন চেয়ারের পেছনের পায়া কাতারে দাঁড়ানো অন্যান্য মুসল্লিদের গোড়ালি বরাবর হয়। এতে করে চেয়ারে নামাজ আদায়কারীদের কাঁধ বসা অবস্থায় অন্যান্য মুসল্লিদের কাঁধ বরাবর হবে। কিন্তু যদি এসব লোক তাদের উপর কিয়াম ফরজ না থাকা সত্ত্বেও কিয়াম করেই নামাজ পড়েন, আর রুকু, সেজদা, বৈঠক ইত্যাদি চেয়ারে বসে করেন; অথবা কিয়াম ও রুকু স্বাভাবিক নিয়মে করেন কেবল সেজদা ও বৈঠক চেয়ারে বসে করেন তাহলে তারা চেয়ারকে কিছুটা পিছিয়ে দেবেন যেন কিয়াম অবস্থায় এ মা’জুর ব্যক্তিদের কাঁধ অন্যান্য মুসল্লিদের কাঁধ বরাবর হয়ে যায়। উভয় পদ্ধতি জায়েজ হলেও প্রথম পদ্ধতিই উত্তম। কেননা দ্বিতীয় পদ্ধতি অবলম্বনে পেছনের কাতারে দাঁড়ানো ব্যক্তির সমস্যা হয়, কিংবা সে জায়গাটুকু ফাঁকা থাকে। হ্যাঁ, যদি কোনো সমস্যা না হয়, যেমনপেছনে কোনো লোক নেই অথবা থাকলেও তারাও চেয়ার ওয়ালা তাহলে দ্বিতীয় পদ্ধতি অবলম্বনে আপত্তির কিছু নেই। [মিশকাতুল মাসাবিহ : ১/৯৮; আলফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ১/১৩৬; আলহিদায়া : ১/৭৬]

মাইকে নামাজ পড়ানো প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা। 
১১৪. প্রশ্ন : ক. আমাদের মহল্লার মসজিদে মাগরিব, ইশা ও ফজরের নামাজ মাইক দ্বারা পড়ানো হয়। অথচ আমাদের মসজিদটি ছোট, ইমাম সাহেব মাইক ব্যবহার না করলেও মুক্তাদিরা শুনতে পাবেন। এমতাবস্থায় মাইক ব্যবহার করে নামাজ পড়ানো কতটুকু শরিয়ত সম্মত দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
খ. জনৈক মাওলানা সাহেব বলেছেন, মাইক ব্যবহার করে নামাজ পড়ালে নামাজ শুদ্ধ হয় না। এমনকি যে ইমাম সাহেব মাইক ব্যবহার করে নামাজ পড়ান, তিনি মাইক ছাড়া নামাজ পড়ালেও তার পেছনে ইকতিদা সহিহ নয়। কথাটা কতটুকু সঠিক জানতে ইচ্ছুক।
জবাব : ক. বর্ণিত অবস্থায় মাইক ব্যবহার করা ফিকহ ও ফাতওয়া মতে মোটেও ঠিক হবে না। প্রয়োজন ছাড়া মাইক ব্যবহার করা শরিয়তে অপছন্দনীয়। মুসল্লির সংখ্যা কম হলে খালি মুখেও আওয়াজকে অতি উচ্চ করতে নিষেধ করা হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে, ইমাম সাহেব মুসল্লি অনুপাতে আওয়াজকে বড় করবেন। [আদ্দুররুল মুখতার : ১/৫৩২; জদীদ ফিকহী মাসায়েল : ১৩৫; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ২/১২৮]
খ. নামাজে মাইকের ব্যবহার শুরু হওয়ার প্রথম দিকে এ মাসআলাটি ওলামায়ে কেরামের মাঝে বিতর্কিত ছিল। মাইকের স্বরূপ প্রচ্ছন্ন থাকার কারনেই ছিল সে বিতর্ক। পরবর্তীকালে যথাযথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে যখন জানা গেল যে, মাইকের আওয়াজ হুবহু ব্যক্তির আওয়াজ, কোনো প্রতিধ্বনি নয়, তখন প্রয়োজনের ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহার জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে ফিকহবিশারদ ওলামায়ে কেরাম একমতহয়েছেন। সুতরাং ‘মাইকে নামাজ পড়ালে তা শুদ্ধ হবে না, যে ইমাম মাইকে নামাজ পড়ান তার পেছনে মাইক ছাড়া অবস্থাতেও ইকতেদা সহিহ হবে না’- এধরণের মন্তব্য করা দুরস্ত হবে না। [জদীদ ফিকহী মাসায়েল : ১৩৫; মাসাইলে ইমামত : ১৫২]

জাহাজে কর্মরতদের কসর প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ তালিব হুসাইন, নারায়ণগঞ্জ। 
১১৫.প্রশ্ন : আমি একটি জাহাজে চাকরি করি। জাহাজটি কখনো চট্টগ্রামে দুয়েক দিন অবস্থান করে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে, আবার সেখানে দুয়েকদিন অবস্থান করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। আমরা কোনো এক স্থানে পনের দিনের বেশি অবস্থান করি না। মাঝে-মধ্যে ছুটি কাটানো ছাড়া এভাবেই জাহাজে ও বন্দরে আমাদের দিন কাটতে থাকে। জানতে ইচ্ছুক, মাসের পর মাস সফর রত অবস্থায় আমরা কসর করতে থাকবো নাকি পুরো নামাজ পড়বো।
জবাব : আপনারা যেহেতু কোথাও পনের দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন অবস্থানের নিয়ত করেন না তাই আপনারা কসর করতে থাকবেন। [আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ১/১৩৯; আপকে মাসায়েল অওর উনকা হল : ৪/৮০]

নামাযের পর সম্মিলিতভাবে ওজিফা পাঠ প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ হারিস, চট্টগ্রাম।
১১৬. প্রশ্ন : কোনো কোনো মসজিদে দেখা যায়, প্রত্যহ ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব পূর্ব দিকে ফিরে মুক্তাদিদের নিয়ে বসেন। এবং সকলে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন ওজিফা পাঠ করেন। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, উক্ত নিয়মে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাযের পর আমলটি করা সম্পর্কে কুরআন-হাদিস কী বলে? এ সম্পর্কে উলামা ফুকাহাদের বক্তব্য কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
জবাব : প্রশ্নে বর্ণিত পন্থায় ওজিফা আদায় শরিয়ত সমর্থিত নয়। ফরজ নামাজের পর বিভিন্ন জিকির-আজকারের উল্লেখ হাদিসের কিতাব সমূহে রয়েছে। ফজিলত বর্ণনা করে সেগুলোর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু একাকীভাবে, সম্মিলিতভাবে নয়। বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফয়জুল বারীতে হযরত আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. বলেন-“জিকির-আজকার ও দুআর ব্যাপারে প্রত্যেকে নিজেই নিজের ইমাম। এ ক্ষেত্রে জামাত প্রমাণিত নয়, যেমনটি এযুগে দেখা যায়।” যে আমল সম্মিলিতভাবে প্রমাণিত নয়, তা সম্মিলিতভাবে করলে তা বিদআতে পরিণত হয়। হযরত শাহ ইসহাক মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. ‘মিয়াতু মাসায়েল’-এ অনেকগুলো রেওয়ায়াত উল্লেখ করার পর লিখেন- কোনো আমল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিঈন রা. থেকে প্রমাণিত না হওয়া এ কথার প্রমাণ বহন করে যে,  আমলটি বিদআত ও মাকরূহ। আর কোনো বিদআত বারংবার করতে থাকলে তা মাকরূহে তাহরিমী ও কবিরা গোনাহে পরিণত হয়ে যায়।
উপরোক্ত কথাগুলোর যথার্থতা নি¤েœাক্ত ঘটনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
একদিন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. মসজিদে গিয়ে দেখেন, লোকজন গ্রুপ-গ্রুপ হয়ে বসে নামাজের জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের হাতে রয়েছে কংকর, প্রত্যেক গ্রুপে এমন একজন করে লোক রয়েছেন যিনি সকলকে বলছেন, সবাই ১০০বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়–ন, সবাই ১০০বার তা পড়ছেন। আবার বলছেন, ১০০বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়–ন। সবাই ১০০বার তা পড়ছেন। আবার বলছেন, ১০০বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়–ন, সকলে পড়ছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ র. তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা কি করছ? জাবাবে তারা বললেন, আমরা গুণে-গুণে তাকবির, তাহলিল ও তাসবিহ পাঠ করছি। তিনি বললেন, এসব না করে বসে বসে গুনাহ গুণতে থাকো, আমি দৃঢ়ভাবে বলছি এতে তোমাদের অর্জিত সাওয়াব নষ্ট হবে না। আফসোস, হে নবীজির উম্মতেরা এত শীগ্গীর তোমরা ধ্বংস হতে যাচ্ছ। অথচ এত-এত সাহাবায়ে কিরাম এখনো জীবিত। নবীজির রেখে যাওয়া কাপড়গুলো এখনো পুরাতন হয়নি। বরতনগুলো ভেঙ্গে যায়নি। হয়তো তোমরা নবীজির তরিকার চেয়ে অধিক হিদায়তপূর্ণ তরিকার সন্ধান লাভ করেছ ; নয়তো বিদআত ও গোমরাহির দরজা খুলেছ।
মেশকাত শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মেরকাত ও সুপ্রসিদ্ধ ফাতওয়ার কিতাব দুররে মুখতারের ভাষ্য হলো-অনেক বৈধ আমল এমন আছে, যেগুলোর জন্য ধরা-বাধা নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। এই আমলের জন্য বিশেষ কোনো নিয়মকে আবশ্যক করে নিলে তা মাকরূহে পরিণত হয়।
মোটকথা, প্রশ্নে বর্ণিত নিয়মে ওজিফা আদায় যেহেতু কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে সালেহীনের আমল দ্বার প্রমাণিত নয়, তাই এটাকে এভাবে আবশ্যক করে নিলে বিদআত ও মাকরূহে তাহরিমী হবে। [ফয়জুল বারী : ২/৩১৭; সুনানে দারমী : ১/৬০; মিরকাত : ৩/৩১; আদ্দুররুল মুখতার : ২/১২০; আলই’তিসাম : ১/৩৪]

তালাক প্রদান প্রসঙ্গ
অহিদ মিয়া, কুমিল্লা। 
১১৭. প্রশ্ন : রাত প্রায় তিনটার সময় কোনো এক বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাগের সহিত আমি তাকে দুই তালাক বলে ফেলেছি। ঐ সময় সেখানে আমরা দু’জন ব্যতীত আর কেহ ছিল না। এ ঘটনার জন্য আমরা উভয়ে সীমাহীন অনুতপ্ত। জানতে ইচ্ছুক, শরিয়ত মতে আমাদের ঘর-সংসার করার কোনো সুযোগ আছে কিনা।
জবাব : এভাবে কথায়-কথায় মেজাজ খারাপ করে, ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে তালাক দিয়ে বসা অন্যায় ও গোনাহের কাজ। তালাক দিতে হয় স্থির মস্তিকে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে-চিন্তে একান্ত প্রয়োজন অনুভব করলে। তবে আপনার দেয়া তালাক দু’টি আপনার স্ত্রীর উপর পতিত হয়ে গেছে। তালাক দু’টি রজঈ’ অর্থাৎ প্রত্যাবর্তনযোগ্য। সুতরাং তালাক প্রদানের পর যদি ‘ইদ্দত’ শেষ না হয়ে থাকে, তাহলে আপনার স্ত্রীকে আপনি মৌখিকভাবে ফিরিয়ে নেবেন। মিলন-চুম্বন ইত্যকার স্ত্রী সুলভ আচরণ দ্বারাও ফিরিয়ে নেওয়া যায়, তবে তা মাকরূহ। আর যদি ইদ্দত শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে যথারীতি বিবাহকে নবায়ন করে নিতে হবে। ইদ্দত হচ্ছে ঋতুমতি মহিলার জন্য তিন ঋতু, আর ঋতুহীন মহিলার জন্য তিন মাস।  [সুরা বাকারা : ২২৯-২৩০; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ১/৪৭০; আলহিদায়া : ২/৩৯৯; আপকে মাসায়েল অওর উনকা হল : ৬/৪৪৫]

কারো স্ত্রী পরপুরুষের হাত ধরে বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ কারামত আলী, কুমিল্লা। 
১১৮. প্রশ্ন : গত কিছু দিন পূর্বে আমার স্ত্রী পাশের গ্রামের এক ছেলের হাত ধরে গোপনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এবং রাত্রী যাপনের জন্য তারা একটি হোটেলে উঠে। রাত্রের শেষভাগে পুলিশের হাতে আটক হয়। পুলিশ তাদেরকে আদালতে পাঠায়, আদালত জেলে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে তাদেরকে জামিনে আনা হয়েছে। এ স্ত্রীর গর্ভে আমার তিনটি সন্তান হয়েছে। এরা সবাই এখনো ছোট। স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলে আমার সন্তানদের চরম ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি জানতে ইচ্ছুক, তালাক না দিয়ে এ স্ত্রীকে নিয়ে ঘর-সংসার করা আমার জন্য জায়েজ হবে কিনা। যদি জায়েজ হয় তাহলে সমাজের লোকেরা এ বিষয় নিয়ে কানাঘোষা করা ঠিক হবে কিনা।
জবাব : শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ঘটনা অতিশয় অনাকাংক্সিক্ষত, ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক হলেও এ ক্ষেত্রে স্ত্রীকে তালাক দেয়া জরুরি নয়। এ স্ত্রীকে তালাক প্রদান করার এখতিয়ার যেমন আপনার আছে তেমনি তালাক প্রদান না করে তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করার অবকাশও আপনার জন্য রয়েছে। আর এ বিষয়টাকে নিয়ে সমাজের লোকদের কানাঘোষা ঠিক হবে না। সমাজের লোকদের জন্য যা কর্তব্য তা হচ্ছে এ ধরণের ঘটনা যেন কখনো না ঘটতে পারে সে জন্য সম্ভাব্য সকল সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না।
প্রতিজন পুরুষের উপর জরুরি হলো নিজের অধিনস্থ নারীদের ব্যাপারে সর্বদা সর্তক দৃষ্টি রাখা। তাদের কাছে নির্জনে পর পুরুষের আনাগোনার যেন কোনো সুযোগ না থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পুরুষ এ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করার দরুন যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়, তাহলে এর জন্য পুরুষই বিশেষভাবে দায়ী ও অপরাধী। হ্যাঁ, পুরুষ আপন দায়িত্ব পালনে পূর্ণ যতœবান থাকা সত্ত্বেও যদি নারী নিজের সতিত্ব ও চরিত্রের ব্যাপারে উদাসীন হওয়ার কারণে এ ধরণের কোনো অঘটন ঘটে যায়, তাহলে এ ক্ষেত্রে কেবল নারীই খিয়ানতকারিনী ও অপরাধিনী। এ আলোচনার প্রেক্ষিতে আপনারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মধ্যে যে যতটুকু অপরাধী বিবেচিত হবেন, এর জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করবেন, এবং ভবিষ্যতে এসব থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকার সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবেন। আল্লাহপাক ক্ষমাশীল। [ সুরা নিসা : ৩৪; ইবনে মাযাহ : ১৩৩; রদ্দুল মুহতার : ৩/৭২, ৩/৫২৭;আপকে মাসায়েল অওর উনকা হল : ৬/৩৪৯]

আল্লাহর নামে গরু ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ শমসের ইসলাম, গোপালগঞ্জ। 
১১৯. প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে, কিছু লোক আল্লাহর নামে গরু বা গরুর বাছুর ছেড়ে দেয়। মুক্তমনে সেটি খায় এবং ঘোরে বেড়ায়। অনেকের ক্ষেতের ফসল খেয়ে সাবার করে। পরবর্তী সময়ে মোটাতাজা হলে সকলে মিলে একটা মূল্য নির্ধারণ করে এটিকে জবাই করে সকলে গোস্ত বন্টন করে নিয়ে যায়। বিক্রয় লব্ধ পয়সা কোনো মসজিদে বা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা হয়। এ প্রচলনটি শরিয়ত সম্মত কিনা জানিয়ে বাধিত করবেন।
জবাব : প্রশ্নে বর্ণিত প্রচলনটি সম্পূর্ণরূপে হারাম, কারণ এতে একাধিক হারাম বিষয় একত্রিত হয়েছে। এক. এভাবে গরু-মহিষ ছেড়ে দেওয়া ইসলাম পূর্ব জাহেলী যুগে মুশরিকদের নিয়ম ছিল। কুরআনের ভাষায় যাকে ‘সায়িবা’ বলা হয়েছে। আমাদের দেশের নবসৃষ্ট প্রথাটা যেহেতু ঐ মুশরিকদের প্রতীকী ইবাদতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে মিলে যাচ্ছে কাজেই তা সন্দেহাতীতভাবে হারাম হবে।
দুই. আল্লাহপাক মানুষের উপর একজনের সম্পদ অন্যজনে অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করাকে হারাম করেছেন। কারণ তা জুলুম ও অবিচার। হাদিস শরিফে এসেছে যে জুলুম তিনি মানুষের উপর হারাম করেছেন তা তিনি নিজের উপরও হারাম করেছেন। উল্লিখিত প্রচলনটাতে আল্লাহর উপর এ জঘন্য অপবাদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, তিনি নিজের রাস্তার গরু দিয়ে মানুষের ফসালাদি নষ্ট করা জায়েজ রেখেছেন, অথচ মানুষের জন্য তা হারাম করেছেন। নাউযুবিল্লাহ্। সুতরাং ভবিষ্যতে এ জঘন্যতম গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং অতীতের জন্য খাঁটি মনে তাওবা করা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য জরুরি।
[সুরাতুল মায়িদাহ : ১০৩; সুনানে আবু দাউদ : ২/৫৫৯; রিয়াজুস সালেহীন : ৬৫]

কুরবানীর জন্তুতে মান্নতের নিয়তে শরীক হওয়া প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ফেনী।
১২০. প্রশ্ন : কারো একটি মান্নত ছিল। যখন কুরবানীর সময় এলো সে অন্যদের সাথে কুরবানীর জন্তুতে মান্নতের নিয়তে শরীক হয়ে গেলো। প্রশ্ন হলো যারা কুরবানীর নিয়ত করলো তাদের কুরবানী সহিহ হবে কিনা। দ্বিতীয়ত আমরা জানি মান্নতের গোস্ত সদকা করা ওয়াজিব। এখানে কুরবানীর নিয়তকারীদের গোস্ত মান্নতের নিয়তকারীর গোস্তের সাথে মিশ্রিত। এ কারণে সকলের গোস্ত সদকা করতে হবে কিনা। দলীলসহ জানাবেন।
জবাব : কুরবানীর জন্তুতে অংশগ্রহণকারী সকলের নিয়ত মৌলিকভাবে এক ও অভিন্ন হতে হয়। অর্থাৎ সকলের মূল নিয়ত হতে হয় ‘কুরবত’ তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। মান্নতকে শরিয়ত কুরবত বলে গণ্য করেছে। তাই মান্নতের নিয়তে কুরবানীর জন্তুতে শরিক হওয়া যাবে। মূল নিয়ত এক হয়ে গোস্তের হুকুমে বিভিন্নতা সমস্যার কিছু নয়। কেননা গোস্তের বিষয়টি হলো গৌণ। সুতরাং কুরবানীর জন্তুতে মান্নতের নিয়তে শরীক হওয়া যাবে। কুরবানী করার পর সকলে যথারীতি গোস্ত বণ্টন করে নেবেন। মান্নতের নিয়তকারী তার অংশের গোস্ত সদকা করে দেবেন। বাকীদের অংশ সদকা করতে হবে না। [রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৮, ৩/৭৩৫; বাদায়েউস সানায়ে’ : ৫/৩০৪; আলমুহিতুল বুরহানী : ৫/৬৭৫]

একাধিক বার জানাযার নামাজ পড়া প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ মুসলেম, চট্টগ্রাম।
১২১. প্রশ্ন : আমরা জানি জানাজার নামাজ মাইয়্যিতের জন্য দু’আ। আর যে কোনো দু’আ বারবার করা যায়। এ হিসেবে জানাজার নামাজও একাধিক বার পড়া জায়েজ হওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও একই মায়্যিতের জানাজার নামাজ একাধিক বার পড়ার ব্যবস্থা করা জায়েজ নেই কেন? দলীলসহ জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
জবাব : জানাজার নামাজ মায়্যিতের জন্য দু’আ বটে, তবে অন্য সব দু’আ থেকে ব্যতিক্রম। সাধারণ দু’আর জন্য এত সব শর্ত নেই, যত শর্ত জানাজার নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য রয়েছে। সুতরাং একে সব দিক থেকে দু’আ বিবেচনা করে বারবার পড়া জায়েজ বলা যাবে না। হ্যাঁ, প্রথম বার যদি মায়্যিতের ওলী ব্যাতীত অন্য লোকেরা পড়ে থাকেন, তাহলে ওলী দ্বিতীয় বার পড়তে পারবেন। এবং এই দ্বিতীয় জানাযায় ঐসব লোক শরিক হতে পারবে যারা প্রথম নামাযে শরিক হয়নি। [আদ্দুররুল মুখতার : ২/২২৩; আল হিন্দিয়া : ১/১৬৪; আপকে মাসায়েল অওর উনকা হল : ৪/৩৪৫; আলহিদায়া : ১/১৮০; ]

ঈদগাহ স্থানান্তর করা প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, কিশোরঞ্জ। 
১২২. প্রশ্ন : আমাদের গ্রামের ঈদগাহটি বহু পূর্ব থেকেই ওয়াকফকৃত। এর চার পাশের সকল জায়গা মালিকানা। বর্তমানে লোকজন বেড়ে যাওয়ায় ঈদগাহে সকলের সংকুলান হয় না। চার পাশের জমি ওয়ালারা কোনোভাবেই তাদের জমি দিতে রাজি নয়। এমতাবস্থায় ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যে বর্তমান ঈদগাহের জায়গাটুকু বিক্রি করে কোনো প্রসস্থ জায়গায় ঈদগাহকে স্থানান্তর করতে, যেন সকলে একসঙ্গে সুন্দরভাবে নামাজে শরিক হতে পারে। এভাবে ঈদগাহ স্থানান্তর করা জায়েজ হবে কিনা দলীলসহ জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
জবাব : প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় ওয়াকফকৃত ঈদগাহ বিক্রয় করা জায়েজ হবে না। মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হলে এটি বিক্রয় না করে অন্যত্র আরেকটি ঈদগাহ তৈরী করে নিতে পারেন। [আদ্দুররুল মুখতার : ৪/৩৮৪; রদ্দুল মুহতার : ৪/৩৮৪]



2 মন্তব্য রয়েছেঃ জীবন জিজ্ঞাসা

  1. Masud sarker says:

    আমার বাড়ি মসজিদ থেকে ২০০ গজ দূরে। মসজিদের সাথে মাদ্রাসাো আছে। সেহরীতে ছেলেরা ডেকে দেয়। তারা বিভিন্ন গজল ও কেরাত পরে। মাইকের শব্দে আমার খুব অসুবিধা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সেহরীরতে কি মাইকে এভাবে ডেকে দেয়া ও গজল বলা কি উচিত?? অন্নের সমস্যা করে।

    • আল জান্নাত says:

      এমনভাবে মাইকে ডাকা উচিত নয় যা অন্যের ইবাদত বা মনোযোগে ভিগ্ন ঘটায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight