জীবন জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন : করয দেয়া টাকার উপর যাকাত আসবে কি না?
আরিফ বিল্লাহ, মাদারগঞ্জ।
উত্তর : করয দেয়া টাকা উসুল হওয়ার পর উক্ত টাকার যাকাত দিতে হবে এবং বিগত বছরসমূহে উক্ত টাকার যাকাত না দিয়ে থাকলে সেই যাকাতও দিতে হবে। তবে কেউ যদি করযের টাকার উসুল হওয়ার পূর্বে প্রতি বছর উক্ত টাকার যাকাত দিয়ে দেয়, তাহলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। [প্রমাণ : আদদুররুল মুখতার : ২/২৬৬,  ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ৬/৪৫,৭৭]
প্রশ্ন : বিভিন্ন সময় দেখা যায় কতক পীরের মুরিদগণ তাদের পীর সাহেবকে ‘কিবলা’  সন্বোধন করে থাকেন। এটা কি বৈধ?                                                  আনোয়ার, পীরগাছা।
উত্তর : উস্তাদ বা পীর সাহেবের উপাধী কিংবা সন্বোধন ‘কিবলা’ শব্দটি না বলাই উচিত। প্রকৃত অর্থের প্রতি লক্ষ্য না করে নিছক সম্মানার্থে এই শব্দটি বলা যেতে পারে। কিন্তু প্রকৃত অর্থ বুঝানোই যদি এই শব্দ ব্যবহারের উদ্দেশ্য হয় তাহলে জায়িয হবে না। [প্রমাণ : ফাতাওয়ায়ে রাশিদিয়া : ৪৬৩, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৪/২৭৪]
প্রশ্ন : কাজ করা অবস্থায় বা চলাফেরা অবস্থায় জিকির করা বৈধ কি না?                             মারুফ আল কাদির, মুক্তাগাছা।
উত্তর : কাজ করা অবস্থায় বা চলাফেরা অবস্থায় সব ধরনের জিকির করা যায়। [প্রমাণ : মিশকাত শরীফ : ১/৪৯]
প্রশ্ন : কোন ব্যক্তি যদি রাসূলুল্লাহ সা. সম্পর্কে কটূক্তি বা অবমাননামূলক কথা বলে, তবে তার জন্য শরীয়তের বিধান কি?                                             শিব্বির আহমদ, ঢাকা।
উত্তর : রাসূল সা. সম্পর্কে যদি কোন লোক কটূক্তি বা অবমাননাকর কোন কথা বলে তাহলে তার ঈমান চলে যাবে এবং বিবাহিত হলে তার বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে। তাকে নতুনভাবে কালিমা পড়ে তাওবা পড়তে হবে এবং বিবাহ পড়াতে হবে। গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে জনসম্মুখে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারে। [প্রমান ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ১২/৩৬২,  ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৪/৫৩,  দুররে মুখতার : ৪/২৩১]
প্রশ্ন : ইশার নামাযের সর্বশেষ সময়সীমা রাত কয়টা পর্যন্ত? রাত ১.৩০ মিনিটে ইশার নামাযের জামা’আত করলে তা শুদ্ধ হবে কি?                                            নূর মুহাম্মদ, নেত্রকোনা।
উত্তর : সূর্যাস্তের পর পশ্চিমাকাশে সাদা আভা দূর হবার পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত ইশার ওয়াক্ত থাকে। তবে রাত্রের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ইশা পড়ে নেয়া মুস্তাহাব এবং এটিই ইশার নামাযের মুস্তাহাব ওয়াক্ত। অর্ধেক রাত্র পর্যন্ত শরঈ উযর ব্যতীত ইশার নামায বিলম্বিত করে পড়লে তা মাকরূহ হবে। ১.৩০ মিনিট যেহেতু রাত্র দ্বিপ্রহরের পরের সময়। অতএব, বিনা উযরে সে সময় ইশার নামায একাকী পড় বা জামা’আতের সাথে পড়া মাকরূহ। [ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/২০৭]
প্রশ্ন : আমাদের মহল্লার জনৈক ব্যক্তি বলল, নামাযের মধ্যে অযু ভেঙ্গে গেলে কারো সাথে কথা না বলে পুনরায় অযু করে যে কয় রাকা’আত বাকী ছিল তা পড়ে নিলেই চলবে। নামায পুনরায় শুরু থেকেই পড়তে হবে না। এটা কি সঠিক?
মাসউদুল কাদির,  শেরপুর।
উত্তর : কোন ব্যক্তির নামাযে অযু ভেঙ্গে গেলে সে কোন কথাবার্তা না বলে অযু করে এসে পূর্বের নামাযের সাথে যোগ করে বাকী নামায আদায় করবে, এটা জায়িয। তবে যোগ না করে পুনরায় তাকবীরে তাহরীমা বলে নতুন করে নামায পড়াই উত্তম। অতএব, জনৈক ব্যক্তির কথা ঠিক আছে। তবে নামায শুরু থেকে পড়া উত্তম কথাটিও তার বলে দেয়া ভাল ছিলো।  [প্রমান : নাসবুর রা’য়া ফি তাখরিজিল আহাদিসিল হিদায়া : ২/৫৩-৬৮, তালখিসুল হাবির ফি  তাখরিজিল আহাদিসুর রাফিঈল কাবির : ১/৪৩১ হা. ২]
প্রশ্ন : সকল নামাযে রুকু-সেজদা, বৈঠক-তাশাহ্হুদ আছে কিন্তু জানাযার নামাযে নেই কেন?
রাকিবুল হাসান, চট্টগ্রাম।
উত্তর : জানাযার নামায মূলত মৃত্যু ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামানার জন্য দু’আ বিশেষ। আর সে দু’আ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এ পদ্ধতিতেই শিক্ষা দান করেছেন। অর্থা’ উক্ত দু’আর মধ্যে অতিরিক্ত দু’আ বা মুনাজাতের বিধান নেই। মূল কথা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভাবেই মুর্দার জন্য দু’আ শিখিয়েছেন। এটাই আসল। এর পর আমাদের জন্য অন্য কোন কারন খোঁজার  দরকার নেই। [প্রমান : আল বাহরুর রায়িক : ২/১৮৩, ফাতাওয়া আলমগীরী : ১/১৬৪, বাদায়িউস সানায়ি : ১/৩১৪]
প্রশ্ন : আমাদের এলাকার একজন পীরভক্ত লোক বলেন যে নবীজী নাকি সর্বত্র হাযির নাযির। এটা কতটুকু ঠিক?
মাহমুদুল হাসান কবীর, লালমনিরহাট।
উত্তর : সর্বত্র হাযির নাযির থাকা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার ছিফাত। কোন নবী বা ওলী সব জায়গার হাযির নাযির হতে পারেন না। আল্লাহ তা’আলার ছিফাতের সঙ্গে বান্দাকে মিলানো কুফর ও শিরক। এ ধরনের বিশ্বাস দ্বারা ঈমান চলে যায়। হাদিসে উল্লেখ আছে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তোমরা আমার উপর দরূদ শরীফ পড়লে ফিরিস্তাদের মাধ্যমে তোমাদের নাম ও গোত্রসহ তা আমার নিকট পৌঁছানো হয়। [নাসাঈ শরীফ : ১/১৪৩]
নবী আ. -এর সর্বত্র হাযির নাযির থাকা কুরআন হাদিসের কোথাও নেই।  এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা। [প্রমাণ : মিশকাত শরীফ : ১/৮৬২, জাওয়হিরুল ফিকহ : ১/২১৭, দারিমী শরীফ : ৪১৬, আহসানুল ফাতাওয়া : ১/৩৪৭]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight