জীবন জিজ্ঞাসা

ধোকার মাধ্যমে ব্যবসা করা প্রসঙ্গে
রেজাউল করিম (ওরফে) বাবু ভাই, আড়াই হাজার, নারায়নগঞ্জ।
প্রশ্ন : কোন ফ্যাক্টরী নতুন ধরনের বাটখারা তৈরী করে। যা ঐ বাটখারার আসল ওজনের চেয়ে কিছু কম হয়ে থাকে। যদি কোন দোকানদার ঐ বাটখারাগুলো এই বলে বিক্রি করে যে, এর মধ্যে কিছু কম আছে। এইভাবে ঐ দোকানদারের জন্য ঐ কম ওজনের বাটখারা বিক্রি করা জায়িয হবে কি-না? আশাকরি জানাবেন।
উত্তর : বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে হারাম। কারণ, যদিও দোকানদার সাহেব বলে বিক্রি করেন যে, এটাতে কম আছে। কিন্তু এর দ্বারা ক্রেতাদের ধোকা দেবার ব্যাপারে সহযোগীতা করা হচ্ছে। অথচ রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধোকা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, “যে ব্যক্তি ধোকা দেয়, সে আমার তরীকার উপর নেই।” [দ্র.মুসলিম শরীফ : ২ : ২# তিরমিযী শরীফ : ২ : ২৪৫]

কি ধরনের আচরণে সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য সাব্যস্ত হয়?
মুহাম্মদ জাকির হোসেন, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
প্রশ্ন : সন্তান তার পিতা-মাতার কোন ধরনের আদেশ অমান্য করলে এবং তাঁদের সাথে কি ধরনের আচার-আচরণ করলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান বলে সাব্যস্ত হয়?
উত্তর : পিতা-মাতার প্রতি সম্মান ও আনুগত্য প্রদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম, যা বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। কেননা, এ ব্যাপারে কুরআনের অসংখ্য আয়াত ও হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমের অনেক আয়াতে নিজের হক আদায়ের নির্দেশের সাথে পিতা-মাতার হক আদায় করতে বলেছেন এবং নিজের কৃতজ্ঞতার নির্দেশের সাথে সাথে মাতা-পিতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সকল মুফাসসিরীনে কিরাম ও ফুকাহায়ে ইজাম এর উপর একমত পোষণ করেছেন যে, সকল বৈধ কাজের মধ্যে পিতা-মাতার আদেশ সাধ্যমত পালন করা ওয়াজিব। আর তাদের আদেশ পালন না করা চরম অবাধ্যতা হিসেবে স্বীকৃত। তাই কেউ পিতা-মাতার কোন বৈধ আদেশ নিজের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী না মানলে সেই ব্যক্তি পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান বলে বিবেচিত হবে। আর যদি তারা কোন দ্বীনী কাজের আদেশ করে, তখন তা অমান্য করলে আরো অধিকতর অবাধ্য সন্তান বলে গণ্য হবে। যেমন, কোন লোক তার ছেলেকে নির্দেশ করল যে, তুমি ইলমে দ্বীন শিক্ষা কর, তখন উক্ত ছেলে ইলমে দ্বীন শিক্ষা করল না, তাহলে তা পিতা-মাতার অবাধ্যতার অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ হাদীসে ইরশাদ হয়েছে যে, এক সাহাবী যুদ্ধে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তার পিতা-মাতা তাকে যুদ্ধে যাওয়া থেকে বারণ করেছিলেন, এ সমস্যা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবগত করালে তিনি উক্ত সাহাবী রা. কে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রদান না করে বললেন যে, তোমার পিতা-মাতার খিদমতের জিহাদে শরীক হও। উল্লেখ্য, তখন নফীরে’আম বা সকলের উপর জিহাদে যাওয়া জরুরী ছিল না। [মা’আরিফুল কুরআন, ৫/৪৬৪]
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, বৈধ কাজে, এমনকি নিজের চাহিদার বিপরীত হলেও পিতা-মাতার আদেশ পালন করা কর্তব্য। [মুসলিম শরীফ : ২ : ৩১৩, তাকমিলায়ে ফাতহুল মলহিম : ৫ : ৩২৮]

নাচ-গানের অনুষ্ঠানে তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
আতাউর রহমান, সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ।
প্রশ্ন : যে অনুষ্ঠানে নাচ-গান হবে সে অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত জায়িয আছে কি?
উত্তর : যে কোন অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় বরকত হাসিলের জন্য। গান-বাদ্যের মতো হারাম কাজে বরকত হাসিল তো দূরের কথা, সেই নিয়্যত করাও কুফুরী কাজ।
সুতরাং, এ ধরনের অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত করলে কুরআনের সাথে উপহাস হওয়ার কারণে এতে ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। [মিশকাত শরীফ : ২ : ৪৩৬, সূরা মায়িদা : ২]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight