জীবন জিজ্ঞাসা

যাকাত তরককারীর পরিণতি প্রসঙ্গে
আবদুল মুমিন, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন : যাকাত আদায় না করলে কি হবে?
উত্তর : যারা যাকাত আদায় করে না, তাদের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। যেমন, সূরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর যারা স্বর্ণ-রূপা, (ধন-সম্পদ) জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না (অর্থাৎ যাকাত দেয় না) তাদের কঠোর আযাবের সংবাদ শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তাদের সম্পদ উত্তপ্ত করা হবে এবং এর দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। সেদিন বলা হবে, ‘এগুলো (সেই সম্পদ) যা তোমরা (যাকাত না দিয়ে) নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং, এখন (যাকাত না দিয়ে) মাল জমা করে রাখার স্বাদ গ্রহণ কর।’ [সূরা তাওবা : আয়াত ৩৪-৩৫]
এমনিভাবে অনেক হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। যেমন, হযরত আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত আছে, ‘যারা মালে যাকাত দেয় না তাদের সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কেয়ামতের দিন তাদের ধন-সম্পদ বিষাক্ত সাপের আকৃতি ধারণ করবে, যার থেকে সেসব সম্পদের মালিক পলায়ন করতে থাকবে। আর সেই সাপ তাকে খুঁজতে থাকবে। (পরিশেষে তাকে ধরে ফেলবে)। এমনি এক পর্যায়ে তার হাতের আঙ্গুলসমূহ গিলে ফেলবে। [মিশকাত শরীফ : হাদীস নং ১/১৫৭]
হযরত ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, এক হাদীসে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তার মালে যাকাত আদায় করে না, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার গলায় (সেই মালকে সাপ বানিয়ে ঝুলিয়ে দিবেন)।’ [মিশকাত শরীফ : হাদীস নং ১৫৭; তিরমিযী শরীফ : নাসায়ী শরীফ : ও ইবনে মাজা শরীফ]
এতদভিন্ন যাকাত না দেয়ার আরো অনেক শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া যেহেতু যাকাত মালকে পবিত্র করে দেয়, তাই কেউ যদি পূর্ণ হিসাব করে যাকাত আদায় না করে, তাহলে সেই মাল তার আসল মালকে ধ্বংস করে দেয়। [মিশকাত শরীফ : ১৫৭ পৃ.]
এ পরিণতি কখনো মালিকের জীবদ্দশায়ই ঘটে থাকে। আবার কখনো তার উত্তরসুরীদের জীবনে ঘটে।

দুই সিজদার মাঝে দুআ পড়া প্রসঙ্গে
রুজিনা আক্তার রুজি, কলমাকান্দা, নেত্রকোনা।
প্রশ্ন : ফরয নামাযে দুই সিজদার মাঝখানে যে দুআটি পড়া হয় “আল্লাহুম্মা ইগফিরলি ওয়ার হামনী ওয়াহদীনি ওয়ার জুকনী ওয়া আফিনী” তা পড়া কিরূপ? না পড়লে কোন ক্ষতি আছে কি না? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর : প্রশ্নে বর্ণিত দুআটি হাদীসের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দুআটি দুই সিজদার মাঝে পড়তেন। দুই সিজদার মাঝে উক্ত দুআটি পড়া মুস্তাহাব। পড়লে সওয়াব হবে। না পড়লে কোন ক্ষতি নেই। উল্লেখ্য, উক্ত দুআটি শুধু ফরয নামাযেই নয়, বরং প্রত্যেক নামাযেরই দুই সিজদার মাঝে পড়া মুস্তাহাব। [তিরমিযী শরীফ : হাদীস নং ১/৩৬, ইবনে মাজা শরীফ : হাদীস নং ১/৬৪; ই‘লাউল সুনান : হাদীস নং ৩৩]

গোসল ফরয অবস্থায় মসজিদে ঢুকা ও আযান দেওয়া প্রসঙ্গে
আতাউর রহমান, নাজিরপুর, কলমাকান্দা।
প্রশ্ন : ফজরের জামা’আত শুরুর ১৫/২০ মিনিট পূর্বে মুয়াজ্জিন ঘুম থেকে উঠেছে। তার গোসলের প্রয়োজন মসজিদে ঢুকে মাইকে আজান দিতে হবে। সে কি প্রথমে আজান দিয়ে তারপর গোসল করলে সঠিক হবে?
উত্তর : গোসল ফরয হলে ঘুম থেকে উঠার পর গোসল করেই মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। গোসল ফরয এমন ব্যক্তির জন্য মসজিদে প্রবেশ বৈধ নয়। যে কোন দরকারই হোক না কেন। মুয়াজ্জিনের জন্য এ ধরনের অসাবধনতার অবকাশ নেই। ফিকির থাকলে এমনটি হয় না। তারপরেও হলে তাড়াতাড়ি গোসল সেরে তারপরে আজান দিবে। অথবা ইমাম বা খাদেমকে আজান দিতে বলবে। বিনা গোসলে আজান দেয়া মাকরূহ। যদি বিনা গোসলে আজান দিয়ে দেয় তাহলে পুনরায় আজান দিতে হবে। [মুসলিম শরীফ : হাদীস নং ১/১৪৩]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight