জীবন জিজ্ঞাসা

যাকাত তরককারীর পরিণতি প্রসঙ্গে
প্রশ্ন : যাকাত আদায় না করলে কি হবে?
মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ, কচুয়া, চাঁদপুর।

উত্তর : যারা যাকাত আদায় করে না, তাদের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। যেমন, সূরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “আর যারা স্বর্ণ-রূপা (ধন-সম্পদ) জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না (অর্থাৎ, যাকাত দেয় না) তাদেরকে কঠোর আজাবের সংবাদ শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তাদের সম্পদ উত্তপ্ত করা হবে এবং এর দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। সেদিন বলা হবে, ‘এগুলো (সেই সম্পদ) যা তোমরা (যাকাত না দিয়ে) নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং এখন (যাকাত না দিয়ে) মাল জমা করে রাখার স্বাদ গ্রহণ কর’। [সূরা তাওবা : আয়াত ৩৪-৩৫]
এমনিভাবে অনেক হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। যেমন, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত আছে, “যারা মালের যাকাত দেয় না তাদের সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কিয়ামতের দিন তাদের ধন-সম্পদ বিষাক্ত সাপের আকৃতি ধারণ করবে, যার থেকে সেসব সম্পদের মালিক পলায়ন করতে থাকবে। আর সেই সাপ তাকে খুঁজতে থাকবে। (পরিশেষে তাকে ধরে ফেলবে)। এমনি এক পর্যায়ে তার হাতের আঙ্গুলসমূহ গিলে ফেলবে। [মিশকাত শরীফ : ১/১৫৭]
হযরত ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার গলায় সেই মালকে সাপ বানিয়ে ঝুলিয়ে দিবেন।” [মিশকাত শরীফ : ১৫৭; তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ ও ইবনে মাজা শরীফ]
এতদভিন্ন যাকাত না দেয়ার আরো অনেক শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া যেহেতু যাকাত মালকে পবিত্র করে দেয়, তাই কেউ যদি পূর্ণ হিসাব করে যাকাত আদায় না করে, তাহলে যাকাতের সেই মাল তার আসল মালকে ধ্বংস করে দেয়। [মিশকাত শরীফ : ১৫৭]
এ পরিণতি কখনো মালিকের জীবদ্দশায়ই ঘটে থাকে। আবার কখনো তার উত্তরসুরীদের জীবনে ঘটে।

বিবাহ সহীহ হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে
মুহাম্মদ রাকিব, মানিকগঞ্জ সদর।

প্রশ্ন : জনৈক প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বলল, আমি তোমাকে বিবাহ করলাম। প্রেমিকাও সাথে সাথে বলল, আমি এতে সম্মত আছি। উল্লেখ্য যে, সেখানে কোন সাক্ষী ছিল না। উক্ত প্রেমিক-প্রেমিকার বিবাহ বৈধ হয়েছে কি ?
উত্তর : প্রশ্নে উল্লেখিত বর্ণনা মুতাবিক প্রেমিক-প্রেমিকার বিবাহ সঠিক হয়নি। কেননা, শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ বন্ধন শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষীর উপস্থিতি হচ্ছে অন্যতম শর্ত। সাক্ষীর উপস্থিতি ব্যতীত বিবাহ শুদ্ধ হয় না। তাই তারা যদি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়, তাহলে দু’জন সাক্ষীর সামনে মহরের পরিমাণ উল্লেখ পূর্বক নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। আর ছেলে-মেয়েরা নিজে নিজে বিবাহে আবদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রেম-প্রীতির ভিত্তিতে যে বিবাহ-শাদী হচ্ছে তা বৃটিশ শিক্ষার বিষফল, শরীয়ত বিবাহ পূর্ব প্রেম-ভালোবাসার কোন স্বীকৃতি দেয় না। বরং তাকে যিনা ও হারাম গণ্য করে। [তিরমিযী শরীফ : ১/ ২১০]

পর্দা কার জন্য প্রসঙ্গে
রোজিনা আক্তার, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।

প্রশ্ন : শরীয়তের দৃষ্টিতে পর্দা কি পুরুষ-মহিলা সকলের উপর ফরয ? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
উত্তর : হ্যাঁ, পর্দা সকলের উপর ফরয। অর্থাৎ, পুরুষরা যেমন বেগানা মহিলাদেরকে দেখবে না, তেমনিভাবে মহিলারাও বেগানা পুরুষদেরকে দেখবে না। তবে পার্থক্য এতটুকু যে, মেয়েদের বাইরে বের হতে হলে, বোরকা ইত্যাদি পরে সম্পূর্ণ শরীর ভালভাবে ঢেকে বাহির হওয়া জরুরী, কিন্তু পুরুষদের জন্য শরীয়ত এ ধরনের কোন নির্দেশ দেয়নি।

দেয়ালে চিত্র অঙ্কন করা প্রসঙ্গে
সালমান সাব্বীর, ঢাকা উত্তরা।

প্রশ্ন : বিবাহ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানে আমাদের দেশে ঘরের মাঝখানে, দেয়ালে বিভিন্ন চিত্র অঙ্কন করা হয়ে থাকে। যাকে আলপনা বলা হয়, এটা জায়িয?
উত্তর : ছবি দু’ধরনের। (১) প্রাণবিহীন। (২) প্রাণীর ছবি। প্রাণীর ছবি ঘরে আঁকা বা লটকানো সর্বাবস্থায়ই নাজায়িয ও হারাম। প্রাণবিহীন জিনিসের ছবি তোলা, আঁকা ও ঘরে রাখা বা ব্যবহার করা জায়িয আছে। যেমন, গাছপালা, ফুল-ফল ও পাহাড়-পর্বত ইত্যাদির ছবি। দেয়ালে প্রাণবিহীন বস্তুর সিনারী আঁকা যায়। তবে তা নামাযের স্থানের সম্মুখপানে না হওয়া বাঞ্ছনীয়। [শামী : ১/৬৪৭]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight