জীবন-জিজ্ঞাসা

মুহাররম মাসে বিবাহ-শাদী করা প্রসঙ্গে।
আল মামুন, নয়াগ্রাম, জৈন্তাপুর, সিলেট।
প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি বলেন, মুহাররম মাসে বিবাহ শাদী করা ঠিক নয়। কারণ, এ মাসে নবীজী সা. এর দৌহিত্র হযরত হুসাইন রা. নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেছেন। তার একথাটি সঠিক কিনা?
উত্তর : মুহাররম মাসে বিবাহের ব্যাপারে ওই ব্যক্তির কথা সঠিক নয়, তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। আল্লাহ তাআলার নিকট বছরের সব মাস ও সব সময়ই সমান। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে কোন সময় ভালো-খারাপ বা শুভ-অশুভ হয় না।
তাই মুহাররম মাসে নবীজীর দৌহিত্রের শাহাদাতের কারণে এ মাস অশুভ হবে না। তাই এ মাসে বিবাহ-শাদী করাতে কোন অসুবিধা নেই। [বুখারী শরীফ, মুসলিম, মিশকাত শরীফ, ৩৯১ পৃ.]
মুক্তাদীর জন্য তাশাহহুদ পড়া জরুরী প্রসঙ্গে।
ওবায়দুল্লাহ, মুন্সিরহাট, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা।
প্রশ্ন : আমরা জানি ইমামের কিরাআত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট। সে মতে আমার জিজ্ঞাসা হল ইমামের কিরাআত যদি মুক্তাদির জন্য যথেষ্ট হয় তাহলে ইমামের তাশাশহুদ মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট হবে না কেন?
উত্তর : হাদীসে এতটুকুই পাওয়া গেছে যে, ইমামের কিরাআত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট। যেমন হাদীস শরীফে আছে, যে ব্যক্তির ইমাম থাকে, তার ইমামের কিরাআতই তার জন্য কিরাআত।[মুসলিম শরীফ]
এমনিভাবে এ ব্যাপারে আরো অনেক হাদীস আছে। কিন্তু তাশাহহুদের ব্যাপারে এরকম কোন হাদীসে নেই বিধায় তাশাহহুদে মুক্তাদীকে ভিন্নভাবেই পড়তে হবে। এমনিভাবে কিরাআত ব্যতীত অন্যান্য সকল দু’আ-তাসবীহ মুক্তাদীদের পড়তে হবে। [শামী, ১: ৪৭০ পৃ:]
কাপড় বা শরীরে প্র¯্রাব লাগা প্রসঙ্গে।
রবিউল ইসলাম, মির্জাখীল, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন : আমার ছোট বাচ্চা যখন-তখন প্র¯্রাব করে দেয়। ফলে আমার কাপড়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ভিজে নাপাক হয়ে যায়। যার দরুন প্রতিবার গোসল করে শরীর পাক করা সম্ভব হয় না। তাই সময়মত নামাজ আদায় করতে পারি না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, প্র¯্রাব লাগা কাপড় পরিবর্তন করে ও ভিজা কাপড় দ্বারা শরীর মুছে দিলে বা পানি দ্বারা ধৌত করে নামায পড়লে নামাজ আদায় হবে কি-না?
উত্তর : বাচ্চাদের প্র¯্রাব লাগা কাপড় পরিবর্তন করে এবং শরীরের যে অংশে প্র¯্রাব লেগেছে, সে অংশ পানি দ্বারা ধৌত করে অথবা ভিজা অঙ্গটি পবিত্র ভিজা কাপড় দ্বারা তিনবার মুছে নামায পড়লে নামায আদায় হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য যে, নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ, এসব সাধারণ অজুহাতে নামায কাযা করা জায়িয হবে না। [সূরা নিসা:১০৩, নাসবুর রায়াহ, ১: ১২৮ পৃ. আদ দুররুল মুখতার, ১: ৩০৯ পৃ. হিদায়া, ১: ৭৪ পৃ. ফাতাওয়া দারুল উলুম, ১: ২৮৩- ২৯১ পৃ. ফাতাওয়া আলমগীরী, ১: ৪৩-৪৪ পৃ.]
বে-নামাযীর জুমআর নামায প্রসঙ্গে।
তানভীর রহমান, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, কক্সবাজার।
প্রশ্ন : যদি কোন ব্যক্তি জুমআর নামায ব্যতীত অন্য কোন নামায না পড়ে, তাহলে তার জুমআর নামায সহীহ হবে কি?
উত্তর : হ্যাঁ, এমন ব্যক্তির জুমআর নামায আদায় হয়ে যাবে। তবে অন্যান্য ফরয নামাজ সমূহ না পড়ায় মারাত্মক গুনাহ হবে। [ হিদায়া, ১: ১৩৮ পৃ.]
একটি কুসংস্কারের অপনোদন প্রসঙ্গে।
গিয়াস উদ্দিন খান, আমানতগঞ্জ, সদর, বরিশাল।
প্রশ্ন : আমাদের দেশে প্রচলিত একটি কথা আছে, কোন অনুপস্থিত ব্যক্তির নাম বলার সাথে সাথে যদি সে এসে উপস্থিত হয়, তাহলে আমরা বলে থাকি“আপনি অনেকদিন বাঁচবেন। করণ, আমরা এইমাত্র আপনার নাম বলতেছিলাম। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর কোন বাস্তবতা আছে কি না?
উত্তর: আসলে এগুলো লোকসমাজের কল্পকথা। এমনিভাবে অনেক আজব কথা প্রচলিত আছে। কুরআন –হাদীসের সাথে যার কোন সম্পর্ক নেই, শরীয়তে এর কোন বাস্তবতাও নেই। বিশেষতঃ অজ্ঞ মেয়েরা এসব কুধারণা বানানোতে পটু।
অনৈসলামিক তরীকায় নাম রাখা প্রসঙ্গে।
উমায়ের বিন সালেহ, জে এন শাহা রোড, আমলিগোলা, লালবাগ, ঢাকা।
প্রশ্ন: ইসলামী নাম ছাড়া অন্য নাম যেমন, নয়ন, স্বপন, বাদল, নুপুর ও বাপ্পু ইত্যাদি রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন? যদি রেখেই ফেলে এবং সেই নামের উপর পরিচিতি লাভ করে, তাহলে তার জন্য করণীয় কি?
উত্তর: হাদীস শরীফে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেছেন, তোমাদের সন্তান হলে, সর্বপ্রথম তোমরা এ সন্তানের সুন্দর একটা নাম রাখ। [আবু দাউদ শরীফ, ৩৯২]
এর দ্বারা ইসলামী নাম রাখার প্রতি গুরুত্ব বুঝা গেল। আর এটাই সুন্নত তরীকা। কয়েক বৎসর পূর্ব থেকে বিশেষ করে আমাদের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে হিন্দুয়ানী প্রথা হিন্দি ও সাংস্কৃতির প্রভাব আস্তে আস্তে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশী মুসলমানদের উপর চাপতে শুরু করে। অপর দিকে ধর্মীয় এলেম শিক্ষা করা, যা সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল, বাঙালীরা তা শুধু পরিহার নয়, বরং ওগুলোকে রীতিমত হেয় মনে করে এবং আল্লাহর দুশমনের বিদ্যাকে খুবই উঁচু নযরে দেখতে থাকে। তখনই এসব ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন রীতি-নীতি তাদের থেকে বিদায় নিতে থাকে। আর তাদের মধ্যে বিজাতীয় অন্ধ অনুকরণের পরিণতিতে বিজাতীর নগ্ন সভ্যতা, তাদের কৃষ্টি-কালচার ও ভাবধারা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে এবং পরিণতিতে ইসলামী নামের স্থলে এসব উদ্ভট, উৎকট, ও বিশ্রী-কুশ্রী হিন্দুয়ানী নাম মুসলিম সমাজে প্রচলিত হয়ে পড়ে। এ প্রথার পরিবর্তন মুসলিম মিল্লাতের একান্ত জরুরী। কারণ এসব প্রথা এভাবে চলতে থাকলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সুন্নত সমূহ বিদায় নিতে থাকবে, হিন্দুয়ানী বা বিজাতীয় প্রথা প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে মুসলিম মিল্লাত নীতিবিহীন এক কাংগাল জাতিতে পরিণত হয়ে পৃথিবীর মধ্যে লাঞ্ছিত ও পদদলিত হতে থাকবে।
অতএব, যদি কোন মুসলমান না জানার কারণে এ ধরণের নাম স্বীয় সন্তানের জন্য রাখে এবং ঐ নামেই সে পরিচিতি লাভ করে, তবুও ঐ নাম পরিবর্তন করে ইসলামী নাম রাখতে হবে। যেমন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক সাহাবায়ে কেরামগণের নাম এরূপভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। [ মিরকাত, ১: ৬৯, বুখারী, ২: ৯১৪]
খাতনা উপলক্ষে সাতদিনা পালন প্রসঙ্গে।
আবু বকর, রিকাবী বাজার, মুন্সিগঞ্জ।
প্রশ্নœ: দেশের অনেক জায়গায় এই নিয়ম প্রচলিত আছে যে, বাচ্চাদেরকে খাতনা করানোর পরে সপ্তম  দিনে আত্মীয়-স্বজনদেরকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হয় এবং ঘরবাড়ী প্রয়োজন অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা হয় এবং মেহমানদের থেকে কাপড়-চোপড়, টাকা-পয়সা হাদিয়া হিসাবে পাওয়া যায়। যদি এরকম না করে তবে তাকে তিরস্কার করা হয়, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা জায়েয কি-না?
উত্তর : এ ধরনের প্রথার অনুসরণ কাবীরা গুনাহের মধ্যে শামিল। এর মধ্যে অনেক গুনাহের সমাবেশ ঘটেছে।
(ক) দাওয়াতের জন্য সপ্তম দিন নির্ধারণ করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, শরীয়তে এরূপ নির্ধারণের কোন দলীল প্রমাণ নেই।
(খ) খাতনা করার সময় মানুষদেরকে দাওয়াত দেয়া বা মুসলমানীতে খাওয়ানো বিদ’আতের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, শরীয়তে এর কোন প্রমাণ নেই। তবে খাতনার পরে যখন ঘা শুকিয়ে যায়, তখন বাচ্চাকে গোসল দিবে। তারপর ইচ্ছা হলে, নিজের আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে নিজের শক্তি সামর্থ মুতাবিক শরীয়তের গ-ির মধ্যে থেকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার জন্য দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে পারবে। [ইমদাদুল মুফতীন২:২০১]
(গ) প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাল-নীল বাতি জ্বালানো, ঘর-বাড়ী আলোক সজ্জা করা ইত্যাদি শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়িয নয়। কারণ এটা অপচয় এবং একেবারেই অনর্থক বেহুদা কাজ। আল্লাহ তাআলা অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না। [সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭, শামী, ২: ২৪০ পৃ.]
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া প্রসঙ্গে।
সাইফুল ইসলাম, শহীদ হারুন সড়ক, জামালপুর সদর।
প্রশ্ন : কিয়ামত বলে একটি দিন আছে তা অবশ্যই হবে। হাদীস ও অন্যান্য কিতাবসমূহে পাওয়া যায় ১০ই মুহাররম এবং শুক্রবার কিয়ামত সংঘটিত হবে। তাহলে আমাদের তুলনায় অন্যান্য দেশের সময়ের সংগে অনেক পার্থক্য রয়েছে এবং আরবদেশের ১ দিন আগে এই পবিত্র দিন (১০ই মুহাররম) পালন করা হয়। ফলে আরবদেশে কি আগে কিয়ামত সংঘটিত হবে। দয়া করে সঠিক উত্তর দিলে খুব খুশী হব।
উত্তর : আল্লাহ পাক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর ক্ষমতার বাইরে কোন কিছু নেই। তিনি ইচ্ছা করলে সারা বিশ্বে একই দিন ১০ ই মুহাররম কায়েম করে কিয়ামত সংঘটিত করতে পারেন। এতে কোন সন্দেহ নেই। হাদীস বর্ণিত আছে, দাজ্জাল দুনিয়ায় ৪০ দিন অবস্থান করবে। তার প্রথম দিন হবে ১ বছরের সমতুল্য। ২য় দিন হবে ১ মাসে সমতুল্য। ৩য় দিন হবে ১ সপ্তাহের সমতুল্য। বাকী দিনগুলো সাধারণ দিনের মত হবে। সুতরাং হতে পারে আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিনকে অনেক বড় করবেন, সারা বিশ্বে একই দিনে ১০ ই মুহারর হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে অসম্ভব নয়।
তাছাড়া এটা এমন কোন বিষয় নয় যেটা জানা শরীয়ত আমাদের উপর ওয়াজিব বা ফরজ করেছে। বরং আমাদের তো সর্বদা এই চিন্তা থাকা দরকার। আমি কিয়ামতের জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছি। হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ কিয়ামত কবে হবে?
রাসূল সা. তার উত্তরে বললেন,(তুমি কিয়ামতে কথা জিজ্ঞাসা করছ) তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কিয়ামতের জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছ? উত্তরে লোকটি বলল, আমি কোন প্রস্তুতি নিতে পারি নাই। তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। মোদ্দাকথা, আমাদের এধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং সেই বিচারের দিনের জন্য সর্বক্ষণ ফিকির রাখা এবং সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া কর্তব্য। [মিশকাত, ২: ৪৭৩, ৪২৬]
বিনিময়ের মাধ্যমে অন্যের দ্বারা সাওয়াব রিসানী প্রসঙ্গে।
রায়হান আহমেদ বাবু, মাওনা চৌরাস্তা, গাজীপুর, শ্রীপুর।
প্রশ্ন : আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে, মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজন মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত কামনার্থে উলামায়ে কিরামদের দ্বারা কুরআন খতম বা বিখিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে দু’আ করায়ে থাকে এবং তাদের জন্য খাবার-দাবারের আয়োজন ও টাকা-পয়সার লেনদেন করে। শরীয়তে দৃষ্টিতে এর হুকুম কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর : কোন মানুষের ইন্তেকালের পর তার সাওয়াব রিসানীর উদ্দেশ্যে কুরআন শরীফ পড়িয়ে টাকা দেয়া-নেয়া, খানা খাওয়া সবই নাজায়েয। আর যেহেতু টাকা বা কোনরূপ বিনিময় নিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করলে স্বয়ং তিলাওয়াতকারীই উক্ত তিলাওয়াতের কোন সওয়াব পায় না। তাহলে তিনি মৃত ব্যক্তির রূহে কি পৌঁছাবেন? কেননা মৃতের রূহে সাওয়াব পৌঁছাতে হলে প্রথমত: তিলাওয়াতকারীর সাওয়াব পেতে হবে। তারপর তিনি সে সাওয়াব মৃতকে বখশিশ দিবেন। কিন্তু তিনি বিনিময় গ্রহণ করার কারণে (যা শরীয়তে হারাম) সাওয়াব থেকে মাহরুম হচ্ছেন, তাই অন্যের জন্য সাওয়াব রিসানীর প্রশ্নই উঠে না। তাই ঈসালে সাওয়াবের জন্য খতম পড়ার বিনিময়ে টাকা পয়সার লেনদেন ও দাওয়াত খাওয়া সবই নাজায়েয। সুতরাং খতম নিজেরা পড়বে এবং এমন লোক দ্বারা পড়াবে, যাদের সাথে আগে থেকে মুহাব্বত আছে। যাতে করে তারা বিনিময় ছাড়া কুরআন শরীফ পড়ে দেন। [ফাতাওয়ায়ে শামী, ৫: ৩৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩: ৩৮৫]

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ জীবন-জিজ্ঞাসা

  1. shahanara begum says:

    আলহামদুলিল্লাহ। অনেক কিছু জানতে পারলাম। বিশেষ করে আমাদের গ্রামদেশে কেউ মারা গেলে বিশাল আয়োজন করে খাওয়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। না করলে নানা রকম কু-মন্তব্য করা হয়। দু:খের বিষয় অনেক মসজিদের ইমাম সাহেবরাই এর দূতিয়ালী করে থাকেন। অথচ এসব নাজায়েজ কাজগুলি দুর করতে ইমাম সাহেবদের ভূমিকাই যথেষ্ট।বরং বলা য়ায় বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার অনেক ইমাম সাহেবদের কারেনেই প্রান্তিক মানুষদের মন-মগজ থেকে নাজায়েজ ও বিদায়াতের কাজ গুলো উৎপাটিত হচ্ছে না। নিজেদের স্বার্থের কারনে তারা এসব ব্যাপারে জোরালো কোন ভূমিকা রাখেন না। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই মসজিদ-মাদ্রাসা রয়েছে। কিন্তু অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই। প্রতিটি মসজিদের ইমাম বা পরিচালকদেরকে যদি ইসলামের সঠিক নিয়ম-নীতি প্রচার ও বাস্তবায়নের জন্য ভূমিকা রাখার আওতায় আনা যেত, সমাজের অস্থিরতা অবশ্যই হয়তো কমে যেত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight