জীবন জিজ্ঞাসা : উত্তর দিচ্ছেন- মুফতি মানসুর আহমাদ

Sowal Jowab

অন্যের নামে কুরবানি প্রসঙ্গ।
মুহা. আফজাল হুসাইন, কুমিল্লা।
প্রশ্ন : আমার এক ছেলে বিদেশে থাকে। প্রতি বছর কুরবানি করার সময় গরুর এক সপ্তমাংশ তার নিয়তে করে থাকি। কোনো কোনো বছর তাকে জানানো হয়, আবার কোনো কোনো বছর জানানো হয় না। কারণ, আমি মনে করি, তার তো এ ব্যাপারে ধারণা আছেই। ইদানীং একজন আমাকে বলেছেন, বিষয়টা এমন অস্পষ্ট থাকলে নাকি কুরবানির সমস্যা হবে। এ ব্যপারে দলিলসহ সঠিক সমাধান জানতে চাই।
উত্তর : আপনার ছেলের নামে যাদি আপনি কুরবানি করেন, তাহলে কুরবানির আগেই স্পষ্ট করে তাকে জানিয়ে দেবেন। ফিকহ-ফাতাওয়ার কিতাবে এ মাসআলা পরিষ্কার করে উল্লেখ আছে যে, এক জন আরেক জনের পক্ষ থেকে কুরবানি করতে পারবে। তবে যার পক্ষ থেকে কুরবানি করা হচ্ছে, তার আদেশ বা অনুমতিক্রমে হতে হবে। আদেশ বা অনুমতি ছাড়া কারো নামে একাংশের কুরবানি করা হয়, তাহলে অন্য অন্য শরিকদের কুরবানিও সহিহ হবে না। [রদ্দুল মুহতার : ৬/৩১৫; আলফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ৫/৩০৬; আপকা মাসায়েল অওর উনকা হল : ৫/৪১০]

আকিকার গোশ্ত খাওয়া প্রসঙ্গ। 
মুহা. সাদিকুর রাহমান, বসুন্ধরা, ঢাকা।
প্রশ্ন : আকিকার গোস্ত খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের এলাকায় একটা বেশ প্রসিদ্ধ প্রথা আছে যে, আকিকার গোস্ত ধনী-গরীব, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবাই খেতে পারলেও যে সন্তানের আকিকা করা হচ্ছে তার মা-বাবা খেতে পারবে না। কথাটা ইসলামী শরিয়ত মতে কতটুকু সঠিক? আর যদি তা সঠিকই হয়ে থাকে তাহলে এর পেছনে হেতু কি?
উত্তর : আমাদের সমাজে অনেক ভুল মাসআলা প্রচলিত আছে। অনেক অজ্ঞ ও অসতর্ক লোক না জেনে, যাচাই-বাছাই না করে শরিয়তের মাসআলা বলে বেড়ায়। ইসলামী দৃষ্টিতে এটা একটা বড় অন্যায়। সব মুসলমানের জন্যই মাসআলা বলার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ সতর্কতা অলবম্বন করাজরুরি। যাক, আমাদের সমাজে প্রচলিত ভুল মাসআলার মধ্যে এটাও একটা যে, আকিকার গোস্ত সন্তানের মা-বাবা খেতে পারবে না। মা-বাবা অবশ্যই খেতে পারবে।কুরবানির গোস্তের যে বিধান, আকিকার গোস্তেরও সে বিধান। অর্থাৎ, মুস্তাহাব হচ্ছে, তিন ভাগ করে একভাগ গরীবদেরকে দেবে, একভাগ আত্মীয়দেরকে দেবে, আরেকভাগ নিজেরা খাবে। [আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু; কিফায়াতুল মুফতি : ৮/২৪১; আপকে মাসায়েল অওর উনকা হল : ৫/৪৯০]

শর্ত সাপেক্ষে তালাক প্রসঙ্গ।
মুহা. আব্দুস সবুর, কুমিল্লা।
প্রশ্ন : কোনো এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক জন কোনো একটি বিষয়কে অস্বীকার করছিলো, কিন্তু অন্যরা তা বিশ্বাস করছিলো না। অবশেষে সবাই তাকে বাধ্য করলো যেন সে এভাবে বলে আমি যদি কাজটি করে থাকি তাহলে আমার বউ তালাক। উল্লেখ্য যে সে এখনো বিয়ে করেনি। জানতে চাই পরবর্তীকালে সে বিয়ে করলে সে বউ এই কথার কারণে তালাক হয়ে যাবে কিনা?
উত্তর : বিয়ের আগে তালাক প্রদান করা অর্থহীন। হ্যাঁ, যদি বিয়ের শর্ত জুড়ে দিয়ে তালাক প্রদান করে, তাহলে সেটি কার্যকর হবে। যেমন সে বললো, আমি যদি বিয়ে করি, অথবা বললো আমি যদি অমুককে বিয়ে করি তাহলে সে তালাক। এভাবে ‘যদি’ সহকারে বললে বিয়ের সাথে সাথে তালাক পতিত হয়ে যাবে। [আদ্দুররুল মুখতার : ৩/৩৪৪; আলবাহরুররায়েক :৪/৫; আলফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ১/৪২০; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ১৩/১০৭]

আকিকার তারিখ প্রসঙ্গ।
মুহা. আব্দুল আহাদ, ময়মনসিংহ।
প্রশ্ন : আমরা জানি, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সপ্তম দিনে আকিকা করা সুন্নত। কোনো ওজরবশত সপ্তম দিনের আগে বা পরে করারও সুযোগ আছে কিনা?
উত্তর : সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার সপ্তম দিনে আকিকা করা মুস্তাহাব। দারে কুতনীর এর এক রেওয়ায়াত মোতাবেক চৌদ্দ দিনেকরলেও মুস্তাহাব আদায় হবে। ইমাম তিরমিযি রহ. উল্লেখ করেছেন, কারো এ দু’দিনে করার সুযোগ না হয়, তাহলে তিনি একুশের দিনে করতে পারেন। এতেও মুস্তাহাবের সাওয়াব পেয়ে যাবেন। এই তিন ব্যতীত সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর যে কোনো দিন করলে আকিকা আদায় হয়ে যাবে, তবেমুস্তাহাবের সাওয়াব পাওয়া যাবে না। [জামে তিরমিযি : ১/২৭৮; ফাতহুল বারী : ৯/৫৯৪; আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ৫/৪৯১]

নামাজ প্রসঙ্গ।
আহমদ জামিল, ঢাকা।
প্রশ্ন : ক. মুক্তাদি যদি তন্দ্রা বা অন্য কোনো কারণে আত্তাহিয়্যাতু পড়তে না পারে তাহলে করণীয় কি?   খ. আমার পড়ার গতি অত্যন্ত ধীর, তাড়াতাড়ি পড়তে পারি না। কোনো ইমাম সাহেব একটু দ্রুততার সাথে সব কিছু পড়েন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমি দরুদ শরিফ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। এমতাবস্থায় আমি ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করারল। আমার জানার বিষয় হলো, আমার নামাজের কোনো ক্ষতি হবে কিনা?
উত্তর : ক. তন্দ্রা বা অন্য কোনো কারণে ভুলবশত মুক্তাদি আত্তাহিয়্যাতু পড়তে না পারলে কিছুই করতে হবে না। নামাজ হয়ে যাবে। মুক্তাদির ভুলের জন্য সাহু সেজদা নেই।
উত্তর  : খ. ইমামের এতো তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। কিন্তু কোনো ইমাম এমন তাড়াহুড়া করলে মুক্তাদি চেষ্টা করবে  আত্তাহিয়্যাতু পূর্ণ করে নিতে। অতপর ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে নেবেন। দরুদ শরিফ পড়া সুন্নাত। ছুটে গেলেও নামাজ হয়ে যাবে।

বিবাহ প্রসঙ্গ।
মুহা. শামীম হাসান, বরিশাল।
প্রশ্ন : এক ব্যক্তির স্ত্রী তার অজান্তে অন্য এক পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। দ্বিতীয় স্বামীর সাথে তার দৈহিক সম্পর্কও স্থাপিত হয়েছে। কিছু দিন গত হওয়ার পর প্রথম স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন ঘটানাটা জানতে পেরেছে। এ পরিস্থিতিতে সে দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রথম স্বামীর ঘরে ফিরে এসেছে এবং সংসার করতে শুরু করেছে। এখন জানার বিষয় হলো তাদের পুনরায় বিবাহ করতে হবে কিনা এবং শরিয়ত মতে কী করলে তারা দু’জন সংসার করতে পারবে?
উত্তর : যেহেতু প্রথম স্বামীর তালাক দেওয়া ছাড়াই মহিলা অন্য একজন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে, তাই দ্বিতীয় বিবাহ শুদ্ধ হয়নি। সুতরাং দ্বিতীয় বিবাহের দ্বারা যাকে স্বামী ধরে নিয়েছেন তিনি স্বামী হননি, পরপুরুষই ছিলেন। তার সাথে দৈহিক মিলন জেনা বা ব্যভিচার হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং দু’জনের স্বামী-স্ত্রী সুলভ সকল আচরণ হারাম ও কবীরা গোনাহ হয়েছে। এ গুনাহের জন্য আল্লাহর দরবারে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি মনে  তাওবা করতে হবে। আল্লাহপাক মাফ করেছেন বলে নিজের অন্তর স্বাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর দরবারে কাঁদতে থাকতে হবে। অন্যথায় দুনিয়া ও আখেরাতে এর জন্য কঠিন পরিণাম ভোগ করতে হবে। প্রথম স্বামী এ যাবত তালাক না দিয়ে থাকলে পূর্বের বিবাহই বহাল আছে। বিবাহকে নবায়নের প্রয়োজন নেই। [আলফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ১/২৮০; আলবাদায়েউস সানায়ে’ : ৩/৪৫১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ১১/৭১]

অবৈধ সম্পর্কে ভুল বুঝতে পারা প্রসঙ্গ।
মুহ. গিয়াস উদ্দিন, বারিধারা, ঢাকা-১২০৬
প্রশ্ন: জনৈক ব্যক্তির কোন এক জনের সঙ্গে গভীর প্রেম-ভালবাসা থাকার কারণে তাদের দুজনের মধ্যে অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে। এখন তারা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং তা স্বীকার করছে। তারা কি তাওবা করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যথারীতি সংসার করতে পারবে?
উত্তর: পিছনের কৃতকর্মের জন্য উভয়ে খাঁটি মনে তাওবা করবে। এবং শরিয়তের বিধি মোতাবেক পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা যথারীতি সংসার করতে পারবে।
খায়রুল হাসান, গুলশান কলেজ।
প্রশ্ন : জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, ধর্মান্ধ, চরমপন্থা এই শব্দগুলি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়? বা কাকে বলে? জানাবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলাম ধর্মের লোকজনকে কেন সন্ত্রাসী বলা হয়?
উত্তর: এ প্রশ্নের জবাব এ সীমিত পরিশরে লিখে দেওয়া সম্ভব নয়। সুযোগ করে সাক্ষাতে জেনে নেবেন।

মেহেদি ব্যবহার প্রসঙ্গ।
আমাতুল্লাহ শিফা
প্রশ্ন : ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের মেহেদি ব্যবহারের গুরুত্ব কতটুকু? অনেকেই মেয়েদের পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি করে থাকেন। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেহেদি ব্যবহার করতেন। এখন আমরা যদি এই মেহেদি পায়ে ব্যবহার করি, তাহলে তা বেয়াদবি হওয়ারই কথা। বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদেরকে মেহেদি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছেন। সুতরাং মহিলাদের জন্য মেহেদী ব্যবহার করা মুস্তাহাব।
মেয়েরা পায়েও মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে। যারা মনে করেন, রাসুলুল্লাহ সা.  মেহেদি ব্যবহার করেছেন, তাই আমরা সেটি পায়ে ব্যবহার করা বেয়াদবি হবে, তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। নবীজি সা. মাথা মোবারকে তেল ব্যবহার করতেন, তাই বলে আমাদের শরীরে বা পায়ে তেল ব্যবহার নিষিদ্ধ? নবীজি সা. যে মেহেদী ব্যবহার করতেন, তা তো আমরা ব্যবহার করছি না। নবীজি সা.এর দেহ মোবারক স্পর্শ করা মেহেদীর কোনো অংশও যদি আমরা সংরক্ষিত অবস্থায় পেতাম, তাহলে সেটা পায়ে কেন, মাথায় ব্যবহারের স্পর্ধাও দেখাতাম না। [সুনানে আবু দাউদ : ২/৫৭৪; আলফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ৫/৩৫৯; কিতাবুল ফাতাওয়া : ৬/৮১; তুহফাতুল আহওয়াযী : ৫/৩৫৬]

পাকা চুলে খেজাব ব্যবহার প্রসঙ্গ
মুহা. নাজমুল হাসান, নেত্রকোনা।
প্রশ্ন : ক. পাকা চুলে খেজাব ব্যবহার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কি? আমাদের সমাজে দীনদার মহলে দুই ধরণের লোকই দেখা যায়। অনেক বৃদ্ধ লোকের চুল-দাড়ি ধবধবে সাদা, তারা খেজাব ব্যবহার করেন না। আবার অনেককে দেখা যায় তারা খেজাব ব্যবহার করেন। কোন শ্রেণীর আমলটি কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত।
খ. আমি একজন যুবক মানুষ। বয়স পঁয়ত্রিশ কি ছয়ত্রিশ হবে। রোগের কারণে আমার মাথার সব চুল পেকে গেছে। আমার স্ত্রী এ বয়সে মাথার চুল সাদা থাকা মেনে নিতে নারাজ। তাই দাম্পত্য জীবনের জটিলতা এড়ানোর জন্য কিছুটা নিরুপায় হয়ে কালো কলপ ব্যবহার করে আসছি। অনেকেই বলছেন কালো কলপ নাকি হারাম। এ কলপ ব্যবহার করে নাকি নামাজ হবে না। কুরআন-সুন্নাহর হাওয়ালাসহ মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর : ক. হাদিস শরিফে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাকা চুলে খেজাব ব্যবহারের ব্যপারে উৎসাহিত করেছেন, তবে তা আবশ্যক ঘোষণা করেননি। ইহুদি-খ্রিষ্টানেরা বৃদ্ধকালে চুল-দাড়িকে সাদা রাখায় অভ্যস্থ। ইসলামী শরিয়ত মুসলমানকে সাদা চুলে খেজাব ব্যবহার করে এর রং পরিবর্তনের প্রতি তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যাতে অন্যান্য বিষয়ের মতো  চুলের অবস্থার ক্ষেত্রেও বিজাতীয় অনুকরণ না থাকে। হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা সাদা চুলকে খেজাব দ্বারা বিবর্ণ কর। ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না। [সুনানে নাসায়ি : ৫০৭৩, মুসনাদে আহমাদ : ৭৫৪৫, শুয়াবুল ঈমান-বায়হাকি : ৬৩৯৬]
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ইহুদি-খ্রিষ্টান খেজাব ব্যবহার করে না, তোমরা তাদের বিরুদ্ধাচরণ কর। [সহিহ বুখারি : ৩২৭৫, সহিহ মুসলিম : ৫৬৩২, সুনানে আবু দাউদ : ৪২০৫]
তবে কালো খেজাব ব্যবহার করা যাবে না। বার্ধক্য লোকানোর জন্য কালো খেজাব ব্যবহার করা মাকরূহে তাহরিমী। হ্যাঁ, কোনো খেজাব যদি সম্পূর্ণ কালো না হয়, বরং তা মিশ্র রঙের হয় তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েজ আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘কাতাম’-এর খেজাব ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছেন। কাতামের খেজাব লাল ও কালোর মাঝামাঝি রঙের হয়। কেমিক্যালযুক্ত যে মেহেদির রঙ সম্পূর্ণ কালো সেটা নামে মেহেদি হলে ব্যবহার করা জায়েজ হবে না।
হযরত আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কালো কলপ ব্যবহার করবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার চেহারা কলো করে দিবেন। [তুহফাতুল আহওয়াযী : ৫/৩৫৫] অন্য হাদিসে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালো খেজাব ব্যবহারকারী সম্পর্কে বলেছেন, জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। [সুনানে আবু দাউদ : ৪২১২]
খ. বার্ধক্য লোকানোর জন্য কালো কলপ ব্যবহার করা মাকরূহে তাহরীমী। আপনি যেহেতু একজন যুবক মানুষ তাই আপনার দাম্পত্য জীবনের জটিলতা এড়ানোর জন্য আপনি কালো কলপ ব্যবহার করতে পারবেন। এবং কলপ ব্যবহার করে নামাজ পড়তে সমস্যার কিছু নেই। [সহিহ মুসলিম : ২/১৯৯, সুনানে আবু দাউদ : ২/২২৬, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪২২, ফাতাওয়া রহীমিয়া : ৬/২৯০, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ২৭/৫০১]

4 মন্তব্য রয়েছেঃ জীবন জিজ্ঞাসা : উত্তর দিচ্ছেন- মুফতি মানসুর আহমাদ

  1. রফিক says:

    বাজারে প্রচলিত খেজবগুলি তো চুলের উপর প্রলেপ সৃষ্টি করে। তাহলে সেগুলো ব্যবহার করা কি যায়েব হবে? যেহেতু প্রলেচ পড়ে তাহলে কি অযু, গোসল এবং নামায হবে?

    • আল জান্নাত says:

      বর্তমান বাজারে যে খেজাবগুলি পাওয়া যায় তার দ্বারা খেজাব দিলে অযু গোসলের কোন সমস্সা নাই।

  2. আবু হাশেম says:

    আমার বাবার ইচ্ছা আমার ১ ছেলে ও আমার ভাইয়ের ১ ছেলের আকিকা একটি গরু দ্বরা করবে। কিন্তা আমার স্ত্রী টিভিতে শুনেছে গরু দ্বারা আকিকা হবে না। ছাগল দিয়েই করতে হবে। এ ব্যাপারে সনদসহ বিস্তারিত জানতে চাই।

    • Sunnim Salehin says:

      টিভিতে যা দেখেছে আপনার স্ত্রী তা সত্যি নয়… আকিকার উদ্দেশ্য হল সন্তানের উপর থেকে বালা মসিবত সরে যাওয়ার জন্যে ৭, ১৪, অথবা ২১ দিন বয়সের মাথায় বাবা মায়ের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলার রাজি এবং খুশির জন্যে একটি প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত করে দেয়া। এখন প্রশ্ন হল আকিকা করা হবে কিভাবে? এর নিয়ম কি?

      শরিয়তের নিয়ম বা মাসআলা হল, ছেলে সন্তান হলে দুইটি আর মেয়ে সন্তান হলে একটি গরু অথবা খাসি দিয়ে আকিকা করতে হবে। অন্যথায় আকিকা হবে না।
      আর কোরবানীতে দিতে চাইলে, একটা কোরবানীর নাম বাকি ছেলে হলে দুই ভাগ আর মেয়ে হলে এক ভাগে আকিকার নিয়ত করে দিলে কোরবানীর সাথে সাথে আকিকাও আদায় হয়ে যাবে যেহেতু, কোরবানীর হুকুম ও আকিকার হুকুম একই।

      আপনি বলেছেন, আপনার বাবার ইচ্ছা হল এক গরু দিয়ে দুই ছেলের ঘরের দুই ছেলে অর্থাৎ, দুই নাতীর আকিকা করতে চান। না, এভাবে আকিকা হবে না। আকিকা দিতে হলে দুই নাতির নামে চারটি গরু অথবা চারটি ছাগল দিয়েই আকিকা দিতে হবে। আর যদি কোরবানীতে দিতে চান তবে, একটি নাম কোরবানীর জন্যে দিয়ে বাকি চারটি নাম আকিকাতে দিলে আকিকা হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight