জীবনজিজ্ঞাসা

 
ফজরের পর নিষিদ্ধ সময়ের পরিমাণ প্রসঙ্গে
আলহাজ্ব আঃ রহিম মিয়া, চকবাজার, মোমেনশাহী।
প্রশ্ন : ফজরের পরে বেলা ওঠা আরম্ভ হওয়ার পরে কতক্ষণ বা কত মিনিট নামায পড়া নিষেধ? প্রচলিত ক্যালেন্ডারে যে ২৩ মিনিট বিলম্ব করার কথা লেখা থাকে তার ভিত্তি কি? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
উত্তর : ফজরের পরে সূর্য ওঠা আরম্ভ হওয়ার পর থেকে এক তীর পরিমাণ (যার পরিমাণ নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী ৯ মিনিট) নামায পড়া নিষেধ। তবে প্রচলিত ক্যালেন্ডারে সতর্কতার জন্য কিছু বেশি বিলম্বের কথা বলা হয়েছে। হযরত মাওলানা আবরারুল হক সাহেব হারদুয়ী হুজুর রহ. ১৫ মিনিট বিলম্বের কথা বলে থাকেন। আমলের জন্য এটাই উত্তম। [আহসানুল ফাতাওযা ২:১৪১# ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ২:২৩৮# শামী ১:৩৬৬-৭১ পৃঃ]
 
বিধর্মীদের সাথে মুসলমানদের বন্ধুত্ব রাখা এবং উলামায়ে কিরামকে গালি দেয়া প্রসঙ্গে
আবদুল্লাহ মুহাম্মদ সামাদ, রাণীর বাজার, কুমিল্লা কোতয়ালী, কুমিল্লা।
প্রশ্ন : যারা মুসলিমদেরকে নিজেদের বন্ধু বলে মনে করে, বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার পরও যাদের মনে কোনরূপ ব্যথার প্রতিক্রিয়া আসে না, কুরআন সংশোধনের দাবীর পরে তাদের মনে কোন আপত্তি হয় না, আলেম-উলামাগণকে হেয় প্রতিপন্ন করতে, মৌলবাদী ও ফতোয়াবাজ বলতে দ্বিধা করে না এবং দেশে শান্তি-শৃংখলা বজায় থাকার পরও যারা সর্বদা সাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি বিনষ্টের মিথ্যা ধূয়া তুলে আলেম সমাজে ও দ্বীনদার মুসলামনদের বিরুদ্ধে মিছিল করছে, তারা কেমন মুসলমান? তারা তো নামায-রোযা ইত্যাদিও পালন করে। তাদের সম্পর্কে কি হুকুম?
উত্তর : পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং বহু হাদীসে অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কুরআনের আয়াত এবং হাদীস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকের মনে হয়ত প্রশ্ন আসতে পারে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বিধর্মীদের সাথে ভাল ব্যবহার করতেন এবং সকলের সাথে ভাল ব্যবহার করার জন্য অন্যদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে বিধর্মীদের সাথে শত্রুতা পোষণের কি অর্থ? তাদের সেই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, এ হাদীস তো ঠিক, কিন্তু এটা সকল বিধর্মীদের ব্যাপারে নয়। বরং শুধু তাদের ব্যাপারেই যারা মুসলমানদের সাথে ধর্মের ব্যাপারে যুদ্ধরত নয় এবং মাতৃভূমি থেকে মুসলমানদের বহিস্কার করার কখনও চিন্তা ভাবনাও করে না কোনভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নয়। শুধুমাত্র তাদের সাথে মানবতার দাবীতে সহানুভূতি দেখানো এবং বিপদে-আপদে সমবেদনা প্রকাশের নির্দেশ রয়েছে। বর্তমান বিধর্মীদের যে অবস্থা, তারা মুসলমানদের ধর্মীয় ব্যাপারে আঘাত হানা তো সাধারণ ব্যাপার, উপরন্তু তারা মুসলমানদের রক্ত দিয়ে হোলি খেলার মত মেতে উঠেছে। তাদের বর্বরতা থেকে অবুঝ নিষ্পাপ এবং নিরীহ মহিলারা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। তারা ভূপৃষ্ঠে মুসলমানদের অস্তিত্বই সহ্য করতে পারছে না। এদের সাথে বন্ধুপ্রতীম কোন সম্পর্ক রাখার ইসলামী শরীয়ত কোন রূপেই অনুমতি নেই।
মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া, কুরআনের সংশোধন চাওয়া এবং উলামায়ে দীনকে হেয় করার জন্য ফতোয়াবাজ ও মৌলবাদী প্রভৃতি বলা এসবরে প্রত্যেকটাই মুরতাদ বা ইসলামত্যাগী গণ্য হবে। ইসলাম ও মুসলমানিত্বে তাদের কোন অংশ নেই। কেননা অন্যায় দেখলে মুমিনের মনে ব্যাথা লাগতেই হবে। যদি কোন অন্যায় হতে দেখে, তখন মুমিনের কর্তব্য হচ্ছে, (ক) হাতের ক্ষমতা খাটানো গেলে সে ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রতিরোধ করে আল্লাহর নাফরমানী বন্ধ করা। (খ) যেখানে হাতের ক্ষমতা চলে না সেখানে মুখের নসীহত বা ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিবাদ দ্বারা ঐ নাফরমানী বন্ধ করা। (গ) উক্ত ব্যবস্থার অপারগতায় (যেমন জান চলে যাওয়ার ভয় থাকে) উক্ত নাফরমানীর কারণে মনে ব্যথা রাখা এবং তা বন্ধ করার জন্য দিলে দিলে ফিকির করতে থাকা, দুআ করা, পরামর্শ করা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রোগ্রাম তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে উক্ত নাফরমানী বন্ধ করা যেতে পারে। আর আন্তরিকভাব উক্ত কাজটাকে ঘৃণা করতে থাকা। এটা হচ্ছে ঈমানী দায়িত্ব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, তৃতীয় কাজটি ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরের অর্থাৎ এতটুকু বোধ যদি কারো মধ্যে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে তার ঈমানের দাবী মিথ্যা ও প্রহসনমূলক। তার দীনদারী শুধু লোক দেখানো। [সূরা আলে ইমরান, ২৮# সূরা মুমতাহিনা, ১# মিশকাত, ৪৩৬#]
 
পীর সাহেবকে সিজদা করা প্রসঙ্গে
নবী হোসেন, কিশোরগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জ।
প্রশ্ন : আমার ভাই মাইজ ভান্ডার পীর সাহেবের মুরীদ। তিনি পীর সাহেবকে সিজদা করেন। এ ব্যাপারে তার সাথে আমার প্রায়ই তর্ক হয়। আমি বলি একমাত্র আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কাউকে সিজদা করা জাযিয নেই। কিন্তু তার কথা হচ্ছে, পীর সাহেব হচ্ছেন নায়েবে রাসূল। আর রাসূলের সম্পর্ক হচ্ছে সরাসরি আল্লাহর সাথে। সুতরাং আমরা নায়েবে রাসূলকে সামনে রেখে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকেই সিজদা করে থাকি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এর্রপ নিয়ত করে পীর সাহেবকে সিজদা করার দ্বারা কি সেই সিজদা আল্লাহর জন্য হবে?
উত্তর : আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা হারাম। তা যে নিয়তেই করা হোক না কেন। সেটা হারাম হিসেবেই গণ্য হবে। কারণ, সিজদার দুটি দিক রয়েছে। যথা, সিজদায়ে তা’যীমী অর্থাৎ সম্মানসূচক সিজদা ও ইবাদতের নিয়তে সিজদা। আর উভয় প্রকার সিজদা হারাম। ইবাদতের নিয়তে অন্যকে সিজদা করা শুধুমাত্র হারামই নয়, বরং তা কুফরী।
প্রশ্নের ধারা অনুযায়ী যদি কাউকে মাধ্যম মেনে আল্লাহকে সিজদা করা জায়িয হত, তাহলে এর জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার ছিল রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর। অথচ কুরআন-হাদীসের কোথাও এতদসংক্রান্ত কোন বর্ণনা নেই। শুধু তাই নয়, বরং এ ব্যাপারে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছেন। সুতরাং আপনার ভাই যে যুক্তি পেশ করেছেন, সেটা ঠিক নয়। এর দ্বারা হারাম ও কুফরী কাজ হালাল হবে না। [মিশকাত শরীফ, ২৮২# ফাতাওয়ায়ে শামী, ৬.৩৮৩# ইখতিলাফে উম্মত আওর সিরাতে মস্তাকীম, ৬৬]
 
মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম, মীলাদ, চল্লিশা ইত্যাদির আয়োজন প্রসঙ্গে
আবু বকর সিদ্দিক, সাতাইশ, টঙ্গী।
প্রশ্ন : কোন লোক ইন্তিকাল করলে চতুর্থ দিনে টাকার বিনিয়ে কুরআন খতম, মীলাদ পড়ানো এবং চল্লিশ দিন পরে (চেহলাম উপলক্ষে) আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার শরয়ী ভিত্তি কি? এতে কি মৃত ব্যক্তির উপকার হয়?
উত্তর: কোন মানুষ ইন্তেকাল করার পর যে কোন দিনে তাঁর সাওয়াব রিসানীর উদ্দেশ্যে কুরআন শরীফ পড়ে টাকা নেওয়া বা বিনিময় গ্রহন করা নাজায়িয। আর সে ক্ষেত্রে যেহেতু কুরআন তেলাওয়াতকারীই উক্ত তিলাওয়াত করার দ্বারা কোন সওয়াব পায় না, সুতরাং মুর্দা ব্যক্তির রূহে তিনি কি পৌঁছাবে? মুর্দার রূহে সাওয়াব পৌঁছাতে হলে, প্রথমত তিলাওয়াতকারীর সাওয়াব পেতে হবে। তারপর তিনি সেই সাওয়াবটা অন্যের রূহে বখশিয়ে দিবেন। কিন্তু তিনি বিনিময় গ্রহণ করার কারণে (যা শরীয়তে হারাম) যখন নিজেই সাওয়াব থেকে মাহরুম হচ্ছেন, তখন অন্যের জন্য সাওয়াব রিসানীর তো প্রশ্নই উঠে না। কাজেই এ ধরনের তিলাওয়াত দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার হবে বলে কোন আশা করা যায় না। [ফাতাওয়ায়ে শামী, ৫: ৩৯]
দিন তারিখ জরুরী মনে না করে এবং বিনিময় গ্রহণ ছাড়া শুধুমাত্র ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কেউ কুরআন শরীফ পড়ে কোন মুর্দারের জন্য সাওয়াব রিসানী করলে তাতে অবশ্য মুর্দারের উপকার হয়। তবে মায়্যিতের আত্মীয়-স্বজন নিজেরাই কুরআন শরীফ পড়ে বখশিয়ে দিবে এটাই উত্তম। এমনকি দিন তারিখ জরুরী মনে না করে যে কোন একদিন স্বেচ্ছায় বালিগ ওয়ারিশগণ তাদের স্ব-স্ব মাল থেকে গরীব-মিসকীন ও গরীব আত্মীয়-স্বজনদেরকে খাওয়ালে, তাতেও মুর্দার উপকার হয়। বরং মায়্যিতের মাগফিরাতের জন্য মাঝে মাঝে গরীবদের এ ধরনের খাওয়ানো বা দান করা ভাল। তবে দিন-তারিখ ঠিক করে যেমন, তিন দিনা, সাত দিনা, ত্রিশা, ও চল্লিশা ইত্যাদি প্রথা পালন করে গরীব-মিসকীনদেরকে খাওয়ানো না-জায়িয ও বিদআত। কারণ, শরীয়ত কর্তৃক যা নির্ধারিত নাই তা নির্ধারণ করার অধিকার কারো নাই। সুতরাং তা থেকে বিরত থাকা জরুরী। ঈসালে সাওয়াবের নামে ধুমধামের সহিত ধনীদেরকে যিয়াফত খাওয়ানো বাঞ্ছনীয় নয়। [খাইরুল ফাতাওয়া, ১০৮-২৪৪# ইমদাদুল আহকাম, ১: ১১৪, ১১১# ফাতাওয়ায়ে রশীদিয়া, ১৩১, ১৬০, ৫১২# ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, ২: ৩৩৩#]
 
কাযা নামাযের ফিদয়া দেওয়ার নিয়ম প্রসঙ্গে
আল আমীন বিন আমীর, সাভার, ঢাকা।
প্রশ্ন : এখন থেকে চল্লিশ বৎসর পূর্বে এক ব্যক্তির অসুস্থতার কারণে প্রায় ২/৩ মাস পর্যন্ত নামায-রোজা আদায় করতে পারেনি। এখন ঐ নামায-রোজা আদায় করার মত শক্তিও তার নেই। ঐ রোজা ও নামাযের জন্য তার কি করতে হবে? যদি ফিদয়া দিতে হয়, তা কিভাবে দিবে? চল্লিশ বৎসর পূর্বে যে রকম মাল-জিনিসের মূল্য ছিল এখন অনেক বেড়েছে, এ অবস্থায় এখন তা কিভাবে আদায় করবে?
উত্তর : এমতাবস্থায় তার প্রতি শরীয়তের বিধান হল, যদি সে দাঁড়িয়ে বা বসে অথবা ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে সক্ষম হয়, তাহলে বিগত দিনের কাযা নামাজ আদায় করে নিবে। এমতাবস্থায় শুধু ফিদয়া আদায় করে দায়িত্ব মুক্ত হতে পারবে না। তবে যদি উল্লেখিত কোন অবস্থায়ই মৃত্যু পর্যন্ত আর নামাজ আদায়ে সক্ষম না হয়, তাহলে ফিদয়া আদায় করবে। তেমনিভাবে রোযার হুকুম।
নামাজের ফিদয়ার নিয়ম হচ্ছে, প্রতি ছয় ওয়াক্ত নামাজের হিসাবে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের ফিদয়া পৌনে দুই সের গম বা তার বর্তমান বাজার মূল্য আদায় করে দেয়া। আর একটি রোযার ফিদয়া এক ওয়াক্ত নামাজের ফিদয়ার সমপরিমাণ। টাকায় পরিশোধ করতে চাইলে বর্তমান মূল্য দ্বারা পরিশোধ করবে। [আলমগীরী, ১: ২০৭# হিদায়া, ১: ২২২]
বীমাকৃত টাকার লভ্যাংশের বিধান প্রসঙ্গে
হারিছ মিয়া, বিয়ানী বাজার, সিলেট।
প্রশ্ন : আমার বড় ভাই কোন এক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে বীমা করেন। প্রথম অবস্থায় ২৫২০/- টাকা জমা দেয়ার পর কিছু দিন পূর্বে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। কোম্পানীর বিধি মোতাবিক বর্তমানে উক্ত টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮,০০০/- টাকা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বীমাকৃত টাকার অতিরিক্ত টাকাগুলো সুদ হিসাবে গণ্য হবে কি না? এবং উল্লেখিত টাকা মৃত ব্যক্তির ইয়াতীম সন্তানদের লালন-পালনের জন্য খরচ করা বৈধ হবে কি না? বিস্তারিত জানালে খুশী হব।
উত্তর : হ্যাঁ, বীমাকৃত টাকার অতিরিক্ত টাকাগুলো সম্পূর্ণ সুদ হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং বীমাকৃত মূল টাকার অতিরিক্ত টাকাগুলো গ্রহণ করে ইয়াতীমদের লালন-পালনের জন্য খরচ করা বৈধ হবে না। বরং সাওয়াবের নিয়্যত ব্যতীত সেগুলো গরীব-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, বীমাকৃত মূল টাকা অবশ্য উত্তরাধিকারীদের মাঝে তাদের অংশ অনুযায়ী বন্টন করা হবে এতে দোষের কিছু নেই। [ফাতাওয়া শামী, ৪: ১৭০# ফাতাওয়া রহীমিয়া, ৬: ১৩৩]
 
 
 

2 মন্তব্য রয়েছেঃ জীবনজিজ্ঞাসা

  1. erfan says:

    কার্টুন দেখা কি জায়েজ। কি কার্টুন দেখা জায়েজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight