জান্নাত-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি আমার পুণ্যবান বান্দাদের জন্য এমন সব জিনিস প্রস্তুত রেখেছি, যা কখনো কোনো চক্ষু দেখেনি, কোনো কান কখনো শুনেনি এবং কোনো অন্তঃকরণ যা কখনো কল্পনাও করেনি। [তিনি বলেন] এর সত্যতা প্রমাণে তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি তেলাওয়াত করতে পার। [অর্থাৎ] এতদ্ভিন্ন তাদের জন্য চক্ষু শীতলকারী আনন্দদায়ক যে সমস্ত সমগ্রী গোপন রাখা হয়েছে, কোনো প্রাণীরই তার খবর নেই। [বুখারী ও মুসলিম]
২। হযরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বেহেশতে একটি চাবুক রাখা পরিমাণ জায়গা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, তা হতে উত্তম। [বুখারী ও মুসলিম]
৩। হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর পথে এক সকাল এবং এক সন্ধ্যা ব্যয় করা দুনিয়া ও তার সমস্ত সম্পদ হতে উত্তম। যদি জান্নাতবাসিনী কোনো নারী [হুর] পৃথিবীর পানে উঁকি দেয়, তবে সমগ্র জগতটা [তার রূপের ছটায়] আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানসমূহ সুগন্ধিতে মোহিত করে ফেলবে। এমনকি তাদের [হুরদের] মাথার ওড়নাও গোটা দুনিয়া এবং সম্পদরাশি হতে উত্তম। [বুখারী]
৪। হযরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বেহেশতে এমন একটি বিরাট বৃক্ষ আছে [যার নাম তুবা] যদি কোনো সওয়ারি তার ছায়ায় একশত বৎসরও পরিভ্রমণ করে, তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। বেহেশতে তোমাদের কারো একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গাও এর চেয়ে উত্তম, যার উপর সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায় [অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবী হতে] [বুখারী ও মুসলিম]
৫। হযরত আবু মূসা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বেহেশতে মুমিনদের জন্য মুক্তা দ্বারা প্রস্তুত একটি তাঁবু থাকবে, যার মধ্যস্থল হবে ফাঁকা। তার প্রশস্ততা, অন্য রেওয়ায়েতে তার দৈর্ঘ্য ষাট মাইল। তার প্রত্যেক কোণে থাকবে তার পরিবার। এক কোণের লোক অপর কোণের লোককে দেখতে পাবে না। ঈমানদারগণ তাদের নিকট যাতায়াত করবে। দুটি বেহেশত হবে রূপার, তার ভিতরের পাত্র ও অন্যান্য সামগ্রী হবে রূপার, এবং অপর দুটি বেহেশত হবে সোনার। যার পাত্র ও ভিতরের সব জিনিস হবে সোনার। আর আদন বেহেশত বেহেশতবাসী এবং তাদের পরওয়ারদিগারের দর্শন লাভের মাঝখানে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের আভা ছাড়া আর কোনো আড়াল থাকবে না। [বুখারী ও মুসলিম]
৬। হযরত উবাদাহ ইবনে সামেত রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বেহেশতের স্তর হবে একশটি, প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝখানের ব্যবধান হবে আসমান ও জমীনের দূরত্বের পরিমাণ। জান্নাতুল ফেরদাউসের স্তর হবে সর্বোপরি। তা হতেই প্রবাহিত হয় ঝরনাধারা এবং তার উপরেই রয়েছে মহান পরওয়ারদিগারের আরশ। সুতরাং তোমরা যখনই আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রার্থনা করবে, তখন ফেরদাউস জান্নাতই চাবে। [তিরমিযী]
৭। হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বেহেশতে একটি বাজার আছে। বেহেশতবাসীগণ সপ্তাহের প্রত্যেক জুমার দিন তথায় একত্রিত হবে। তখন উত্তর হাওয়া প্রবাহিত হবে এবং তা তাদের মুখম-লে ও কাপড়চোপড়ে সুগন্ধি নিক্ষেপ করবে, ফলে তাদের রূপ-সৌন্দর্য আরো অধিক বৃদ্ধি পাবে। অতঃপর যখন তারা বর্ধিত সুগন্ধি ও সৌন্দর্য অবস্থায় নিজেদের বিবিদের কাছে যাবে, তখন বিবিগণ তাদেরকে বলবে, আল্লাহর কসম! তোমরা তো আমাদের অবর্তমানে সুগন্ধি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে ফেলেছ। তার উত্তরে তারা বলবে, আল্লাহর কসম! আমাদের অবর্তমানে তোমাদের রূপ-সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। [মুসলিম]
৮। হযরত আবু সাঈদ ও হযরত আবু হোরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বেহেশবাসী বেহেশতে প্রবেশ করার পর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবেন তোমরা হামেশা সুস্থ থাকবে, আর কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। তোমরা সর্বদা জীবিত থাকবে, আর কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমরা সর্বদা যুবক থাকবে, আর কখনো বৃদ্ধ হবে না এবং সর্বদা আরাম-আয়েশে থাকবে, আর কখনো হতাশা ও দুশ্চিন্তা তোমাদেরকে পাবে না। [মুসলিম]
৯। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীগণ তাদের উর্ধ্বের বালাখানার বাসিন্দাদেরকে এমনিভাবে দেখতে পাবে, যেমনিভাবে আকাশের পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিগন্তে তোমরা একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতে পাও। তাদের মধ্যে মর্যাদার পার্থক্যের কারণে এরূপ হবে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা তো হবে আম্বিয়ায়ে কেরামদেরই স্থান, অন্যেরা তো সেখানে পৌঁছতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, বরং সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! যে সমস্ত লোকেরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং রাসূলগণের সত্যতা স্বীকার করবে, তারাও সেখানে পৌঁছতে সক্ষম হবে। [বুখারী ও মুসলিম]
১০। হযরত উতবা ইবনে গাযওয়ান রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের সম্মুখে [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস] বর্ণনা করা হয় যে, যদি জাহান্নামের উপরের কিনারা হতে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হয়, তা সত্তর বৎসরেও দোজখের গভীর তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। আল্লাহর কসম! দোজখের এই গভীরতা [কাফের, মুশরিক, জিন, ও মানব দ্বারা] পরিপূর্ণ করা হবে এবং তাও বর্ণনা করা হয় যে, বেহেশতের দরজার উভয় কপাটের মধ্যবর্তী জায়গা চল্লিশ বৎসরের দূরত্ব হবে। নিশ্চয়ই একদিন এমন আসবে যে, [তার অধিবাসী দ্বারা] তাও ভরপুর হয়ে যাবে। [মুসলিম]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight