জান্নাতীদের জান্নাতের নেয়ামত : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

al-jannatbd.com, আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

একজন নিম্নমানের জান্নাতীর ৭ টি মহল হবে
নবী কারীম সা. বলেন, জান্নাতীদের মধ্যে সর্বনিম্নের জান্নাতীদের মর্যাদা এমন ব্যক্তি হবে যার মহল হবে সাতটি। একটি মহল হবে রৌপ্যের, একটি মোতির, একটি  যবরযদের, একটি  ইয়াকুতের, আরেকটি মহল এমন হবে যা কোন চক্ষু অনুভব করতে পারবে না। আরেকটি মহল হবে আরশের রঙের। প্রতিটি মহলে আবার অলংকারাদী/ পোষাক পরিচ্ছদ এবং হুরে-ঈন থাকবে। যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ পাক ব্যতীত আর কেউই জানেনা।
একজন নিম্নমানের জান্নাতী ৮০ হাজার খাদেম ৭২ জন স্ত্রী এবং বিশাল মহলের মালিক হবেন
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন নবী কারীম সা. এরশাদ করেন, জান্নাতীদের মধ্যে নিম্নমানের জান্নাতী এমন ব্যক্তি যার ৮০,০০০ (আশি হাজার) খাদেম এবং ৭২ (বাহাত্তর জন) খুবই উত্তম স্ত্রী হবে। এই জান্নাতীর জন্য মোতি, ইয়াকুত ও যবরযদ নির্মিত মিনার তৈরি করা হবে। এই মিনারের দৈর্ঘ্য হবে সিরিয়ার দামেশকের নিকট অবস্থিত জাযিরা থেকে ইয়ামানের রাজধানী ছানআ পর্যন্ত।

স্বল্প আমলের সন্তান এবং স্ত্রী তার অধিক আমলওয়ালা পিতা এবং স্বামীর মর্যাদায় জান্নাতে যাবে
এই মর্মে আল্লাহ তা আলা এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান আনয়ন করেছে এবং তার সন্তানও ঈমান আনয়ন করেছে আমি তার সন্তান কে তার সাথে অন্তর্ভুক্ত করে দেব। আর আমি তাদের আমলের মধ্য থেকে কোন জিনিসের কম করবনা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আমলের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে। [তুর-২১]
সন্তানের দোয়ায় মর্যাদায় উন্নতি
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন নবী কারীম সা. এরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা আলা নেককার লোকদেরকে জান্নাতে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। সে তখন শাফায়াতে জান্নাত অর্জনকারীর বর্ণনা
আল্লাহ তায়ালা তার দয়া করুণার বলে কোন কোন জাহান্নামীকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আবার কেউ যাবে হুজুর সা. এর শাফায়াতের কারণে। কাউকে দেয়া হবে আউলিয়ায়ে কেরামের শাফায়াতের কারণে আবার কেউ কেউ যাবে আলেমদের শাফায়াতের কারণে। আবার জান্নাতীর মর্যাদাকে আম্বিয়া কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরাম এবং আলেম গনের শাফায়াতেও উন্নীত করা হবে।

মুমিনদের মর্যাদার পার্থক্য
আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, তারাই মুমিন যাদের সম্মুখে আল্লাহ তায়ালার যিকির করা হলে তাদের অন্তর ভর্কে যায়। আল্লাহ পাকের আয়াত তাদের সম্মুখে পাঠ করা হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। তারা তাদের রবের উপরই নির্ভর করে। যারা নামায আদায় করে। আমি তাদেরকে যা কিছু দান করেছি তা থেকে তারা খরচ করে। তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের প্রভুর নিকট রয়েছে তাদের মর্যাদা। আর তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। [আনফাল, ২-৪] হযরত যাহ্হাক রহ. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এক জান্নাতী অপর জান্নাতীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবেন। যে জান্নাতীকে তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হবে, তিনি নিম্নমানের জান্নাতীর মর্যাদা প্রাপ্ত জান্নাতীকে দেখতে পাবেন না। কারণ তাতে তার আঘাত লাগবে।

শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মুমিনের বাসস্থান
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, নবী কারীম সা. এরশাদ করেন জান্নাতবাসীরা তাদের উপরে বালাখানায় বসবাসকারী লোকদিগকে এমন ভাবে দেখতে পাবে যেমনিভাবে মানুষ পূর্ব ও পশ্চিমাকাশে অস্তমিত আলোকিত তারকারাজী দেখতে পায়। সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সা. ইহা কি আম্বিয়ায়ে কেরামের বাসস্থান হবে! সেখানে তারা ব্যতীত আর অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না? নবী কারীম সা. উত্তরে বলেন, সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং তার রাসূল কে সত্য বলে স্বীকৃতি দান করেছে সেই ঐ সমস্ত বালাখানায় বসবাস করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight