জান্নাতিদের আনন্দ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

বিশালকায় উঠের উপর আরোহীগন

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি পরহেযগার লোকদিগকে অতিথিরূপে দয়াময়ের মেহমান বানাব। [মারইয়াম: ৮৫] এই আয়াতের   তাফসীরে হযরত নোমান ইবনে সাদ বর্ণনা করেন যে, তোমাদের জানা উচিৎ আল্লাহর কছম, এ সমস্ত সম্মানিত লোকদেরকে মেহমানরূপে পদব্রজে চলতে দেয়া হবে না বরং তাদের কাছে এমন উট পেশ করা হবে যার তুলনা কোন কালেও কোন মাখলুকাত দেখেনি। এ সমস্ত উটের গদি হবে স্বর্ণের আর লাগাম হবে যবরজদের। জান্নাতিরা এগুলোর উপর সওয়ার হয়ে জান্নাতের দরজার পাশে এসে খটখটাবে। হযরত আলী রা. বলেন যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেছেন তাদেরকে দলে দলে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যখন জান্নাতের দরজা সমূহের কোন এক দরজার সামনে এসে হাজির হবেন তখন সেখানে তারা একটি বৃক্ষ দেখতে পাবেন। এই বৃক্ষের শিকড় থেকে দুটি র্ঝণা প্রবাহমান। জান্নাতিরা ঝর্ণাদ্বয়ের কোন একটির দিকে তীব্রগতিতে যেতে থাকবেন যেন সেখানে যেতে তাদেরকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তারা সে ঝর্ণার কিছু পান করলে তাদের পেটে যে অসুবিধা বা অসুস্থতা আছে তা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। অতঃপর তারা দ্বিতীয় ঝর্ণার দিকে গমন করবেন এবং সেটিতে গোসল করলে তাদের উপর নিয়ামতের সুস্পষ্ট ছাপ পরিলক্ষিত হবে। এরপর থেকে তাদের শরীরে আর কোন পরিবর্তন হবে না আর না তাদের মাতার চুল গুলো অপরিচ্ছন্ন দেখাবে। বরং এমন মনে হবে যে, যেন তারা মাথার তৈল ব্যবহার করে সিঁিথ করে রেখেছেন। অতঃপর তারা জান্নাতের রক্ষীদের নিকট পৌঁছে যাবেন। তখন তারা বলবেন আস্সালামু আলাইকুম। তোমরা স্বাদের মধ্যে ডুবে থাক, আর জান্নাতে চিরদিনের জন্য প্রবেশ কর। তারপর তাদেরকে ছোট ছোট ছেলেরা অভ্যর্থনা জানাবে। তারা তাদের চর্তুদিকে এমনভাবে চক্কর দিতে থাকবে যেমন দুুনিয়ার শিশুরা আনন্দে তাদের বন্ধুদের চারিদিকে ঘুরতে থাকে। বেশ সময় ধরে তারা তাদের সাথে এ রকম বিনোদনে অতিবাহিত করবে। তারপর তারা বলবে আল্লাহ পাক আপনাদের জন্য যা কিছু তৈরী করেছেন এ জন্য খুশি হয়ে যান। তারপর এ সমস্ত বালকদের মধ্যে থেকে কোন একবালক সে জান্নাতির হুরে-ইন বিবিদের মধ্য থেকে কোন এক বিবির পাশে গিয়ে বলবে অমুকতো এসে গেছে। অতঃপর দুনিয়াতে তাকে যে নামে ডাকা হতো সে নাম ধরে ডাকা হবে। তখন সে বলবে তুমি তাকে দেখেছো? তখন সে বলবে হ্যাঁ গো হ্যাঁ, আমি তাকে দেখেছি। সে আমার পশ্চাতে আসছে। সুতরাং এ সমস্ত হুরদের কোন একজন আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে। এমনকি দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত চলে আসবে। জান্নাতি লোকটি যখন একটি মহল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তখন এর নির্মাণশৈলীর উপর দৃষ্টি পড়তেই দেখা যাবে একটি মোতি নির্মিত প্রশস্ত মাঠ। এই মাঠে সবুজ হলুদ ও লাল রঙের একটি মহল দেখতে পাবে। মহলের ছাদের দিকে দৃষ্টি ফেলতেই বিদ্যুতের ন্যায় আলোকিত হয়ে যাবে। তাকে দেখে সহ্য করার ক্ষমতা যদি আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদের মধ্যে না দিতেন তাহলে সে বিদ্যুতের ঝলকানিতে তার নয়ন অন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হত। তারপর বেহেশতি মাথা ঘুরিয়ে তার স্ত্রীগণকে দেখতে পাবেন এবং অতি মূল্যবান বিছানা-পত্র দেখতে পাবেন। স্থানে স্থানে স্তরে স্তরে সাজানো রেশমের গালিচা সমূহ দেখতে পাবে। অতঃপর এ সমস্ত নিয়ামত দেখে হেলান দিয়ে জান্নাতি বলতে থাকবেন, আল্লাহ পাকের শুকর তিনি আমাকে এ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমাকে সঠিক পথের সন্ধান না দিলে আমি কখনোই এ পর্যন্ত পৌঁছতে পারতাম না।’’ তারপর একজন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবে তুমি এখানে অনন্তকাল জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যুবরন করবেনা। তুমি অনন্তকাল যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ব হবে না। তুমি চিরকাল সুস্থ থাকবে কখনো অসুস্থ হবে না।

জান্নাতে মৃত্যু থাকলে আনন্দে মৃত্যুবরন করত: হযরত হুমাইদ ইবনে হেলাল বলেন, মানুষ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন তার আকৃতি জান্নাতি লোকের ন্যায় করে দেখা হবে, তাদেরকে পোশাক পড়ানো হবে, তাদের অলংকার পরিধান করানো হবে। অতঃপর তাকে তার স্ত্রী ও সেবকদের দেখানো হবে, তখন সে আনন্দে এমন ভাবে মাতওয়ারা হবে যে, যদি মৃত্যু আসত তাহলে সে খুশিতে মারা যেত। কিন্তু তখন তাকে বলা হবে যে, তুমি মাত্র আনন্দের প্রাথমিক স্তর দেখতেছ। এ রকম চিরকালই থাকবে বরং আরো বৃদ্বি পাবে।

জান্নাতিকে সত্তর হাজার খাদেম স্বাগত জানাবে: হযরত আবু আব্দুর রহমান জায়লী রা. বলেন মানুষ যখন প্রথম প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন সত্তর হাজার খাদেম তাকে স্বাগত জানাবে। তাদের আকৃতি এমন হবে যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তার দানা। বর্ণনাকারী আরো বলেন যে, জান্নাতিকে স্বাগত জানানোর জন্য দুটি কাতার করা হবে এ সমস্ত মুক্তা সাদৃশ্য বালক দ্বারা। কাতারের শেষ প্রান্ত দেখা যাবে না। জান্নাতি এদের মাঝখান দিয়ে গমন কালে গেলমানরা তার পেছনে পেছনে যেতে থাকবে। চলমান…।

 

2 মন্তব্য রয়েছেঃ জান্নাতিদের আনন্দ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

  1. জয়নুল আবেদীন says:

    অনেক জ্ঞানগর্ভ একটি লেখা। ধন্যবাদ সম্পাদিকা আপাকে। আল্লাহ আপনার ইলম আরো বাড়িয়ে দিন। আপনার নেক হায়াত কামনা করছি। এই খেদমত চালিয়ে যান। আল্লাহ তাওফিক দোয়া করি।

  2. ভাল লেখা। জান্নাতিদের আর কি কি আনন্দ হবে জানালে কৃতজ্ঞ হবো। আমরাও কি সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারব ? না খাছ খাছ লোকগন করবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight