জান্নাতবাসীদের মর্যাদা : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

হাফেজে কুরআনের মর্যাদা
হযরত আবু সাঈস খুদরী (রাঃ) বলেন নবী করিম (সঃ) বলেন- হাফেজে কুরআন যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন তাকে বলা হবে যে, পড়ে যাও এবং উপরে উঠতে থাক। তখন সে পড়তে থাকবে এবং প্রতি আয়াত পড়ে একধাপ উপরে ওঠতে থাকবে। অতঃপর পবিত্র কুরআনের শেষ পর্যন্ত পড়ে সর্বোচ্চ স্থানে উঠে যাবে।

মুজাহিদগণের মর্যাদা
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন নবী করিম (সাঃ) এরশাদ ফরমান- জান্নাতের শত শত ধাপ রয়েছে। এ সমস্ত ধাপের মাঝখানের ব্যবধান আসমান ও যমীনের ব্যবধান পরিমাণ তার চেয়েও বেশী। আমি বল্লাম হে আল্লার নবী (সাঃ) এ সমস্ত ধাপ কাদের জন্য? হুজুর (সাঃ) এরশাদ ফরমান যারা আল্লার রাস্তায় জিহাদ করে তাদের জন্য।
নোটঃ- উল্লিখিত হাদিসটির আসল উদ্দেশ্য হলো মুজাহিদ যে ব্যক্তি ইসলামের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য দুনিয়াতে যত পন্থায় মেহনত করেছে সে পরিমাণই সে ধাপের মালিক হবে।

জান্নাতুল ফেরদাউস আরশের কতটুকু নিকটে অবস্থিত
হযরত আবু উমামা (রা) বলেন নবী করিম (সাঃ) এরশাদ ফরমানÑ তোমরা আল্লাহ তায়ালার নিকট জান্নাতুল ফেরদৌস চাও। কেননা ইহা জান্নাতের শ্রেষ্ঠতম অংশ। এই জান্নাতে বসবাসকারী আরশের চরচর আওয়াজ শুনতে পাবে।

জান্নাতের সংখ্যার আলোচনা
আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে আল্লাহ পাকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়াকে ভয় করবে সে দুটি জান্নাত পাবে। (আর রাহমান-৪৬)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, দুটি দুটি জান্নাতের নীচে আরও দুটি জান্নাত আছে (আর রাহমান-৬২)
উল্লিখিত আয়াত দ্বার বুঝা যায় জান্নাত চারটি। উক্ত আয়াতের সমর্থনে আল্লামা ইবনে কায়্যিম (রঃ) নি¤েœর হাদিসখানা পেশ করেছেন।
হযরত আবু মুসা আশয়ারী (রাঃ) বলেন নবী করিম (সঃ) ফরমান- জান্নাতুল ফেরদৌস চারটি। দুটি জান্নাত এমন যে , এগুলোর থালা বাসন অলংকারাদি যা কিছু আছে সবই স্বর্ণের। আর দুটির যাবতীয় আসবাবপত্র রৌপ্যের। জান্নাতী ও আল্লাহ পাকের মাঝখানে মাত্র একটি গর্বের চাদর থাকবে। (মুসনাদে আহমদ)

জান্নাতুল ফেরদৌসের শান শওকত
হযরত আমর ইবনে সালামা (রা) বলেন নবী করিম (সঃ) এরশাদ ফরমান- আল্লাহ তায়ালা জান্নাতুল ফেরদৌস স্বহস্তে খাটি সোনার ইট এবং অত্যন্ত সুগন্ধিময় মিশকের ইট দ্বার নির্মাণ করেছেন। এতে শ্রেষ্ঠ জাতের ফলফলাদির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। অতঃপর আমার আল্লাহ আরশের উপর সমাসীন হয়ে তার দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেছেন। আল্লাহ পাক বলেন আমার বড়ত্বের কছম ইহাতে মদ পানকারী এবং ব্যভিচারী কখনো প্রবেশ করবেনা। (সিফাতুল জান্নাত)

বিভিন্ন জান্নাতের নাম ও বৈশিষ্ট্য
(১) জান্নাতঃ এই নামেই ইহা প্রসিদ্ধ। এই ঘরটি এবং সমস্ত নেয়ামত উপভোগের বস্তু সব কিছুই নয়ন শীতলকারী। আরবীতে বাগানকে জান্নাত বলা হয়। আর বাগানের বৃক্ষরাজী সাধারণত ঘন ঘন হয়ে থাকে। বাগানে প্রবেশকারী এর ভিতরে আড়াল হয়ে যায়।
(২) দারুচ্ছালামঃ দারুচ্ছালাম নামে আল্লাহ পাক একটি জান্নাত তৈরি করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান-মুমিনদের জন্য তাদের প্রভুর নিকট রয়েছে দারুসসালাম।(আনয়াম১২৭)
এই জান্নাত সমস্ত অপছন্দনীয় কাজ থেকে মুক্ত থাকবে। এই জান্নাতের অধিবাসীরা পরস্পরের মধ্যে হদিয়া পেশ করবে। সালাম এর সম্মুখ দিয়ে যাবার সময় ফেরেশতারা বলবে আস সালামু আলাইকুম।
৩. দারুল খুলদ্ঃ এ জান্নাতের নাম এ জন্য রাখা হয়েছে যেহেতু জান্নাতীরা চিরদিন এখানে থাকবে। এখান আর কোন দিনই বের হবেন না।
৪. দারুল মাকমঃ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান- জান্নাতীরা বলবে আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য শোকর যিনি আমদের থেকে চিন্তা দূরীভূত করেছেন। নিঃসন্দেহে আমাদের পরওয়ারদিগার অত্যন্ত মেহেরবান যিনি আমাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে সবসময় বসবাসের জায়গা করে দিলেন। এখানে নেই কোন কষ্ট, নেই কোন নিরর্থক আলোচনা।(ফাতির ৩৪-৩৫)
৫. জান্নাতুল মাওয়াঃ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান- অর্থাৎ, এর পাশেই রয়েছে জান্নাতুল মাওয়া। আরবীতে মাওয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে ঠিকানা। অর্থাৎ বসবাসের জায়গা। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন ইহা সেই জান্নাত যেখানে হযরত জিব্রাইল (আঃ) ও হযরত মিকাইল (আঃ) এসে থেমে যান। হযরত মুকাতিল বলেন এ জান্নাতে শহীদদের আত্মা বসবাস করে। এগুলোর মধ্যে শহীদদের আত্মা ঘোরাফেরা করে।
৬. জান্নাতে আদনঃ ইহা সমস্ত জান্নাতের একত্রিত নাম। সকল জান্নাতই জান্নাতে আদন।
৭. দারুল হায়ওয়ানঃ আল্লাহ পাক এরশাদ ফরমান- অর্থাৎ- দারুল হায়ওয়ান জান্নাতে মানুষ অনন্ত কাল থাকবে। সেখানে কোন মৃত্যু নেই । দুনিয়ার যিন্দেগী ধ্বংসশীল কিন্তু আখেরাতের যিন্দেগী ধ্বংস হবার নয়।
৮. জান্নাতুল ফেরদৌসঃ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান- অর্থাৎঃ যারা ঈমান এনেেেছ এবং সৎ কাজ করেছে তাদের মেহমানদারীর জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস দান করা হবে। (কাহাফ ১০৭) ফেরদৌস ইহা একটি শ্রেষ্ঠ ও উত্তম জান্নাত হিসাবে পরিগণিত। হযরত লাইস (রঃ) বলেন আঙ্গুরের বাগানবিশিষ্ট জান্নাতকে জান্নাতুল ফেরদৌস বলা হয়। হযরত যাহহাক বলেন ইহা এমন এক জান্নাত যা বৃক্ষরাজী দ¦ারা পরিপূর্ণ অর্থাৎ খুব ঘন বৃক্ষ। জান্নাতুল ফেরদৌস মূলত সকল জান্নাতের শ্রেষ্ঠতম জান্নাত এবং উচু মানসম্পন্ন।
৯.জান্নাতুন নাঈমঃ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুন নাঈম।  (লোকমান-৮ )
১০. আল- মাকামূল আমীনঃ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান- অথাৎÑ আল্লাহভীরু লোকেরা মাক্বামে আমীনে (নিরাপদ স্থানে) বসবাস করবেন।(দুখান-৫১)
১১. মাকয়াদে ছিদকিনঃ আল্লাহ পাক এরশাদ করেন- খোদাভীরু ও পরহেযগার লোকেরা বাগবাগিচা ও নহরে বসবাস করবে ইহা এক সীমাহীন স্থান। (ক্বামার-৫৪-৫৫)

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ জান্নাতবাসীদের মর্যাদা : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

  1. আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে যথাযথ আমল করে জান্নাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। লেখাটি আরো দলিলভিত্তিক হলে বেশ সুন্দর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight