চুল-দাঁড়িতে খেযাবের বিধান : মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

প্রসঙ্গ : যুগ-যমানা, চাল-চলন, আহার-বিহার ও স্থান-পাত্রের পরিবর্তন-বিবর্তনে চারিদিকে পরিবেশে সবকিছুতেই কেমন যেন পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। গত দু’দশক পূর্বেও সার্বিক অবস্থা-পরিস্থিতি যেমনটি দেখা যায়নি, বর্তমানে তা-ই যেন অধিকহারে ঘটছে। উদাহরণত ফল-ফসল, খাদ্যÑখাবারে ফরমালিন ইত্যাদি ব্যবহার এবং তার একটা কু-প্রভাব মানবদেহে , শরীর-স্বাস্থ্যে বিস্তৃতি। একইভাবে অল্প বয়সে চুল পড়তে শুরু করা বা সাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি, যা ইতোপূর্বে অনেকটা ব্যতিক্রম ব্যাপার ছিল, এখন তা অহরহ দেখা যাচ্ছে। যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে খেযাব ইত্যাদি ব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে আমলদার সাধারণ মুসলমানের পাশাপাশি মুত্তাকী আলেম/ইমামগণের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ বিষয়টি সম্পর্কে অনেকগুলো সহীহ হাদীসে নেতিবাচক বর্ণনা বিদ্যমান ; যদিও ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো হাদীসে তার বৈধতার কথাও দেখা যায়। তাই মানসিক তাগাদা থেকে কিছুটা লেখার এই প্রয়াস।
উল্লেখ্য, বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের এ উপমহাদেশের পরিচিত ও প্রচলিত বিজ্ঞ, স্বনামধন্য মুফতিয়ানে কিরাম যেমন মুফতী মুহাম্মদ শফী রর. মুফতী মাহমূদ হাসান গাঙ্গোহী রহ. ও মুফতী রশীদ আহমদ লুধীয়ানী রহ. প্রমুখ যাঁদের ফাতাওয়া সংক্রান্ত গ্রন্থাদি এ অঞ্চলে অধিক পঠিত হয়, অনুস্মৃত হয়ে থাকে। এঁদের ব্যাখ্যা-বক্তব্যের সূত্র ধরে এবং এঁদের অভিমত দ্বারা আমার এ লেখাকে সম্বৃদ্ধ করেছি।
প্রশ্ন-১ : প্রশ্ন উঠে, চুলে বা দাঁড়িতে কালো খেযাব ব্যবহার জায়েয কিনা। যদি বলি, “না জায়েয”। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে, তাহলে ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. এর বিরোধিতা করেন কেন? কারণ, তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, “আমি অবশ্যই আমার স্ত্রীর জন্য সাজগোজ (খেযাব দ্বারা) করাকে পছন্দ করি” এ থেকে তো সুস্পষ্টভাবে কালো খেযাব ব্যবহারের বৈধতা বরং উৎসাহ এমনকি তা একটা উত্তম কাজ বলে মনে হচ্ছে! আর যদি বলি, “তা জায়েয”। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে, তাহলে ইমাম আবু হানিফা রহ. ও অন্যান্য ফকীহগণ তা হারাম বা ‘মাকরূহ তাহরীমী’ বলেন কেন? আবার গাজী/মুজাহিদ এর জন্য জায়েয বলেন এবং অন্যদের জন্য নিষেধ করেন কেন?
খেযাব বিষয়ে বিভিন্ন অবস্থা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিবেচনায় শরীয়তের বিধানে কিছু ব্যাখ্যা বিদ্যমান। যার সার-সংক্ষেপ হচ্ছে, কালো রঙ ব্যতীত অন্যান্য রঙের খেযাব ব্যবহার মুজতাহিদ ইমামগণের মতে, জায়েয এমনকি মুস্তাহাবও বটে। লাল রঙ্গের খেযাব যা শুধু মেহেদী দ্বারা রঙিন বা কিছুটা কালো রঙ্গের কাছাকাছি হয়ে থাকে, সেটিকে ‘কাতাম’ (এমন উদ্ভিদ যার দ্বারা চুলে কলপ দেওয়া হয়) বলে। অর্থাৎ যা গাঢ়, মিশমিশে কালো নয়। এটিকে আমরা ব্রাউনÑ‘ধুসর’ বা ‘বাদামী’ রঙ্গের কাছাকাছি ‘ হালকা কালো রঙ’ বলতে পারি। সেটিও সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত। অধিকাংশ (জুমহুর) মুহাদ্দিসীন এর মতে এমন খেযাব মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবহার করেছেন মর্মে প্রমাণ রয়েছে। সাহাবীগণের মধ্যে একমাত্র হযরত আনাস রা. এবং গবেষক ইমামগণের মধ্যে ইমাম মালেক রহ. যদিও এমন আমলী প্রমাণকে আমলে নেননি। কিন্তু তারপরও তাঁরা সেটিকে না জায়েযও বলেন না।
ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রহ. আবার উক্ত দু’জনের তা আমলে না নেওয়া বিষয়টির যথেষ্ট ও পরিপূর্ণ জবাব দিয়েছেন। যার অন্যতম বাক্য হচ্ছে,
“হযরত আনাস রা. ব্যতীত অন্যান্যগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেযাব ব্যবহার করেছেন মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। যিনি সাক্ষ্য দেননি তিনি যাঁরা সাক্ষ্য প্রদান করেছেন তাঁদের সমতুল্য নয়। মোটকথা, ইমাম আহমদ রহ. এবং তাঁর সঙ্গে একদল হাদীস বিশারদ প্রমাণ করেছেন যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেযাব ব্যবহার করেছেন। অবশ্য ইমাম মালেক রহ. তা আমলে নেননি। [যাদুল মা‘আদ : খ. ২, পৃ. ১২৭]

একইভাবে সহীহ বুখারীতে উসমান ইবন আব্দুল্লাহ্ ইবন মুয়াহহাব সূত্রে বর্ণিত, “আমরা উম্মে সালামা রা. এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল মুবারক বের করে দেখালেন। দেখা গেল, তা মেহেদী ও কাতাম দ্বারা খেযাবকৃত (রঙ্গিন) ছিল। [যাদুল মা‘আদ : খ. ২ পৃ-১২৭]
সহীহ হাদীসে আরও বিদ্যমান :
“সর্বোত্তম খেযাব যা দ্বারা তোমরা কেশের শুভ্রতাকে পরিবর্তন করতে পার, তা হচ্ছে মেহেদী ও ‘কাতাম’। (চারটি সহীহ গ্রন্থেই এটি বিদ্যামান)
একইভাবে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থদ্বয়ে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, “তিনি মেহেদী ও কাতাম দ্বারা খেযাব ব্যবহার করতেন।” [প্রাগুক্ত]
সুনানি আবূ দাউদ গ্রন্থে হযরত ইবন আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি অতিক্রম করে গেলেন যিনি মেহেদী দ্বারা খেযাবকৃত ছিলেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “লোকটি কেমন সুন্দর!” তারপর আরেকজন লোক অতিক্রম করে গেলেন যিনি মেহেদী ও কাতাম উভয়টি দ্বারা খেযাব করেছিলেন। একে দেখে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এইলোক ওই ব্যক্তির চেয়েও উত্তম।” আবার তৃতীয় একজন অতিক্রম করে গেলেন যিনি হলুদ রঙ্গের খেযাবকৃত ছিলেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এ লোক সবার চেয়ে উত্তম।”
উক্তসব হাদীসের প্রেক্ষিতে হানাফী বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, “পুরুষদের বেলায় লাল খেযাব ব্যবহার সুন্নাত। আর এটি হচ্ছে মুসলমানদের চিহৃ ও পরিচায়ক।” [আলমগীরী : ফারাহিয়াত অধ্যায়, খ. ৫, পৃ.৩৬৯]
দুররুল মুখতার গ্রন্থে রয়েছে, “পুরুষের পক্ষে মুস্তাহাব হচ্ছে তার চুল ও দাঁড়িতে খেযাব ব্যবহার করা; যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতি না হয়। এটিই হচ্ছে গবেষণাকৃত বিশুদ্ধতম অভিমত। আল্লামা শামী রহ. ও এতে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। [শামী : খ. ৫, পৃ.২৯৫; অধ্যায় : আল হায়র ওয়াল ইবাহা]
এ পর্যন্ত আলোচনা হলো সেই খেযাবের যা নিরেট কালো বা মিশমিশে কালো হবে না।
যে খেযাব কালো হবে তার ক্ষেত্রে তিন রকম গবেষণা অভিমত বিদ্যমান :
১. যে ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। ২. যে ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে না জায়েয। ৩. বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্র। যা অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের মতে না জায়েয এবং কোন কোন ইমামের মতে জায়েয।
(এক) প্রথম অবস্থা বা ক্ষেত্র হচ্ছে, জিহাদকালীন কালো খেযাব কোন মুজাহিদ বা গাজীর পক্ষে ব্যবহার করা। যেন শত্রুদের প্রতি ভয়-ভীতি ও প্রভাব সৃষ্টির কারণ হয়। এটি ইজমা উম্মত ও বিশেষজ্ঞগণের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জায়েয। কেননা আলমগীরীতে রয়েছে,
“আর কালো খেযাব গাজীদের মাঝে যিনি তা ব্যবহার করবেন, এ উদ্দেশ্যে যে, তাতে শত্রুরা তাকে দেখে অধিক ভীত হবে; সেক্ষেত্রে তার জন্য সেটি উত্তম বিবেচিত হবে। এতে ফিকহ বিশেষজ্ঞগণের ঐক্যমত্য রয়েছে।” খ. ৫, পৃ. ৩৬৯; একই অভিমত ‘যখীরা’ সূত্রে শামী গ্রন্থেও স্থান পেয়েছে। [খ. ৫, পৃ. ২৯৫]

(দুই) দ্বিতীয় ক্ষেত্র বা অবস্থা হচ্ছে, কাউকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে কালো খেযাব ব্যবহার করা। যেমন পুরুষ নারীকে বা নারী পুরুষকে ধোকা দেয়ার নিমিত্তে এবং নিজেকে যুবক প্রমাণের জন্য বা দেখানোর জন্য কালো খেযাব ব্যবহার করছে; কিংবা কোন কর্মচারী স্বীয় মালিককে প্রতারিত করার লক্ষ্যে তা ব্যবহার করে। তাহলে এমনটি সকলের ঐক্যমত্যে না জায়েয। কেননা, ধোকা দান মুনাফেকির পরিচায়ক। আর কোন মুসলমানকে ধোকা দিয়ে তার দ্বারা কোন কাজ বা স্বার্থ আদায় করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। একটি সহীহ হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
“যে ব্যক্তি আমাদের (কারও) ধোকা দেয়, সে আমার উম্মতের মধ্যে গন্য নয়। আর ‘ধূর্তামী, প্রবঞ্চনা ও প্রতারণার স্থান জাহান্নামে। এটি আল্লামা তাবারানী ‘কাবীর, ও ‘সাগীর’ গ্রন্থদ্বয়ে উত্তম সনদসূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং আবূ দাউদ তাঁর ‘মারাসীল’ এ হাসান রা. থেকে মুরসাল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। যার সংক্ষেপ, তিনি বলেন, ধূর্তামী, প্রতারণা ও খিয়ানতের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। [আল্লামা মুনযিরী রহ. এর তারগীব ও তারহীব গ্রন্থ দ্রষ্টব্য]
অনুরূপভাবে হাদীস শরীফে এসেছে, “মুমিনগণ পরস্পর একে অন্যের হিতাকাঙ্খী হয়ে থাকে; যদিও তাদের বাড়ীঘর ও দৈহিক অবস্থান দূরে দূরে হোক। আর পাপাচারী লোকজন পরস্পর একে অপরকে প্রতারিত করে থাকে; যদিও তাদের বাড়ীঘর ও দৈহিক অবস্থান কাছাকাছি হলেও। এটি শায়খ ইবনে হাব্বাম তাঁর ‘ভর্ৎসনা’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। [তারগীব]
অনুরূপভাবে সহীহ বুখারীর একটি হাদীসের কিছু বাক্যে এমনটি এসেছে,
“অন্যতম বড় অপবাদ হচ্ছে, কোন ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতার স্থলে অধিষ্ঠিত করে এবং সে তার নিজেকে এমন কিছু প্রমাণ করতে চায়, বাস্তবে যা সে নয় বা তার মধ্যে নেই। অথবা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্কে এমন কিছু বলে, যা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেননি। [বুখারী : খ. ১, পৃ. ৪৯৮]

(তিন) তৃতীয় অবস্থা বা ক্ষেত্র হচ্ছে, কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কালো খেযাব ব্যবহার করা। যেন নিজ স্ত্রীর সন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে গবেষণাকেন্দ্রিক মতভেদ হয়েছে। অধিকাংশ ইমাম ও বিশেষজ্ঞগণ এটাকে মাকরূহ বলে থাকেন। ইমাম আবূ ইউসূফ রহ. ও কোন কোন বিশেষজ্ঞ এটিকে জায়েয বা বৈধ বলে থাকেন। যারা তা মাকরূহ বলেন, তাঁদের দলীল হচ্ছে মুসলিম শরীফের একটি হাদীস যার অংশবিশেষ হচ্ছে,
“চুলের এ শুভ্রতাকে কোন বস্তু দ্বারা পরিবর্তন করে দাও এবং কালো রঙ থেকে বেঁচে থাকো।” [প্রাগুক্ত : যাদুল মা’আদ সূত্রে]
একইভাবে সহীহ সূত্রে হযরত ইবন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “শেষ যুগে এমন একটি সম্প্রদায় হবে যারা কালো খেযাব ব্যবহার করবে এবং তারা বেহেশতের ঘ্রাণ পাবে না। [তারগীব]
আর যারা জায়েয বলেন, তাঁরা কোন কোন সাহাবীর ফাতওয়াকে এবং পরস্পর চলে আসা (তা‘আমুল) বাস্তব আমলকে দলীল হিসাবে পেশ করে থাকেন। আলোচিত নিষেধ সম্পর্কিত হাদীস বিষয়ে এরা বলেন, “নিষেধাজ্ঞা সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে প্রতারণা প্রবঞ্চনা লক্ষ্য হয়ে থাকে। সাহাবীগণের যাঁদের বেলায় কালো খেযাব ব্যবহারের কথা বর্ণিত হয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম হযরত হাসান রা. ও হযরত হুসাইন রা. অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন। এটি ইবনে জারীর রহ. ‘তাহযীবুল আছার’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। [যাদুল মা‘আদ : সূত্রে-জাওয়াহিরুল ফিকহে]
একইভাবে হাদীস শরীফে হযরত উসমান ইবন আফ্ফান রা. আব্দুল্লাহ ইবন জাফর, সা’দ ইবন আবু ওয়াককাস রা. ওকবা ইবন আমের রা. মুগীরা ইবন শো’বা রা. জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রা. আমর ইবনুল আস রা. প্রমুখ সম্পর্কে এমনটিই উদ্ধৃত হয়েছে। আর ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এসব সাহাবী মনীষীগণের পারস্পরিক কৃত আমল সামনে রেখেই সেটিকে বৈধতার দলীল গন্য করে বলে থাকেন,
“যেমনটি আমার কাছে প্রিয় যে, সে (স্ত্রী) আমার মনোরঞ্জনের লক্ষ্যে সাজগোজ করুক; তার কাছেও এটি প্রিয় যে, আমি তার মন তুষ্টির লক্ষ্যে যেন সাজগোজ করি। [শামী : অধ্যায়; কারাহিয়াত, খ. ৫, পৃ. ২৯৫]
আলমগীরীতে রয়েছে, “যে ব্যক্তি তেমনটি (কালো খেযাব ব্যবহার) করবে তার নিজেকে (অন্য) নারীদের প্রতি আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে এবং তাদের প্রেম-প্রীতি বৃদ্ধির জন্য-তাহলে সেটা মাকরূহ। বিশেষজ্ঞগণ সাধারণত এ মত পোষণ করেন। আবার তাঁদের কেউ কেউ এটাকে মাকরূহ ছাড়াই জায়েয বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। ইমাম আবু ইউসূফ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেমনটি স্ত্রী আমার উদ্দেশ্যে সাজগোজ করুক, তা আমার কাছে প্রিয়; তেমনি আমি তার জন্যে সাজগোজ করি, সেটিও তার কাছে প্রিয়।” ‘যখীরা’ গ্রন্থে এমনটি বিদ্যমান। [আলমগীরী : খ. ৫, পৃ. ৩৫৯]
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞগণ মারফূ‘ ‘হাদীসগুলোকে আসল ধরে দলীল হিসাবে পেশ করেছেন এবং উপরে আলোচিত বিশিষ্ট সাহাবীগণের অনুসৃত আমলের জবাবে বলেছেন, এদের কালো খেযাব ব্যবহার শুধু কালো ছিল না বরং লালের সাথে কালো মিশ্রিত কালো ছিল। নতুবা তা কিভাবে হতে পারে যে, হাদীসের নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর ধমক সত্ত্বেও এঁরা তার বিরোধিতা করতে পারেন। এ কারণে ব্যাপক আমল ও ফাতওয়াদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা হচ্ছে এটাই যে, একেবারে কালো খেযাব কেবল গাজী সৈনিকদের ক্ষেত্রেই জায়েয এবং অন্যদের বেলায় তা মাকরূহ। [সূত্র : মুফতী শফী রহ. ১৩৫১ হিজরী]

খেযাব ও ইমামতি : প্রশ্ন-২ : দাঁড়ি বা চুলে কালো খেযাব ব্যবহারকারী হাফেজের পিছনে তারাবীহ পড়ানো জায়েয কিনা?
উত্তর : শরীয়তসম্মত ওযর বা প্রয়োজন ব্যতীত “কালো খেযাব ব্যবহারকারী ব্যক্তি ফাসিক বলে গণ্য। তাই তেমন হাফেযের পিছনে তারাবীহ পড়া মাকরূহে তাহরীমী।” [আহসানুল ফাতাওয়া : খ. ৩, পৃ. ২৯৪]
একই গ্রন্থের ৮ম খ-ে ১৮৩ পৃষ্ঠায় একটি প্রশ্নের জবাবে (বিজ্ঞ গ্রন্থকার) লিখেছেন, “দোষ মুক্তির লক্ষ্যে সাদা চুল উপড়ে ফেলা জায়েয। আর সময় আসার পূর্বে (বৃদ্ধ না হয়েও) চুল সাদা হয়ে যাওয়া দোষণীয় (রোগজনিত)। তাই তেমন ব্যক্তির জন্য তা জায়েয।” দলীল হিসাবে গ্রন্থকার ‘রাদ্দুল মুহতার’ : [খ. ৬, পৃ. ৪০৭] এর এ উদ্ধৃতি।
“আল্লামা হাসকাফী রহ. বলেন, “সাদা চুল বা পাকা চুল উপড়ে ফেলায় কোন বাধা নেই”। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনু আবেদীন শামী রহ. বলেন,“ফাতাওয়া বাযাযিয়া’ গ্রন্থে এটিকে শর্তাধীন করা হয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, তা যেন সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে না হয়” [পৃ. ৪০৭/খ. ৬] পেশ করেছেন।
এখানে প্রশ্ন জাগে, একজন যুবক বা কম বয়স্ক লোক যার জন্য সৌন্দর্য চর্চা একটা স্বাভাবিক, স্বভাবজাত, প্রকৃতিগত, স্ত্রী-পরিবার-সমাজ-স্বজন সকলের প্রত্যাশিত; আবার সে বুড়ো হয়ে বয়সও গোপন করছে না; আবার যে ক্ষেত্রে সে অন্য নারীদের আকর্ষণের নিমিত্তে নয় বরং নিজ দাম্পত্য জীবন সুখী হওয়ার লক্ষ্যে যা কিনা অবশ্যই শরীয়তসম্মত ‘প্রয়োজন’ (জরুরত/হাজত) এর মধ্যে গণ্য, খেযাব ব্যবহার করবে, সে ক্ষেত্রেও মাকরূহ বলা; কিংবা ‘সৌন্দর্য’ লক্ষ্য হতে পারবে না বলা, এ ক্ষেত্রে বিবেচনার দাবী রাখে।
লক্ষণীয় যে, উক্ত গ্রন্থকার মুফতী রশীদ আহমদ লুধিয়ানী রহ. বৈধতার কারণ (ইল্লত) হিসাবে ‘সৌন্দর্য বৃদ্ধি’ এর বিকল্প হিসাবে দোষমুক্তি বা ‘ত্রুটিমুক্তি’ যা অসময়ে রোগজনিত কারণে সাদা হয়ে থাকে সেটিকে কারণ বা ইল্লত স্থির করে বৈধ বলে ফাতওয়া দিয়েছেন। যদিও তা মূল উদ্ধৃতিতে অবর্তমান। অর্থাৎ তিনি এটিকে ‘তাদাবী’ বা চিকিৎসার আওতায় গণ্য করে ত্রুটিমুক্তিস্বরূপ উপড়ে ফেলার কথা বলেছেন। এ থেকে সাধারণ জ্ঞানেও অনুমেয় যে, সাদা চুলগুলো উপড়ে ফেলার তুলনায় তা কালো রঙ দিয়ে ঢেকে দেয়া অধিক সহজ ও যৌক্তিক। কারণ, এতে সংশ্লিষ্ট খেযাবদাতা পরিণত বয়সে উপনীত হননি মর্মে তার আসল রূপ/অবস্থান বহাল থাকে। যা কিনা একজন পরিণত বয়সের বৃদ্ধের ক্ষেত্রে প্রতারণার আওতায় পড়তে পারতো। মোটকথা, অল্প বয়সে চুল-দাঁড়ি সাদা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যতিক্রম হিসাবে তা উপড়ে না ফেলে , কালো খেযাব ব্যবহার করতে পারে।
স্ত্রী/অন্যান্য নারী সমান?
প্রিয় পাঠক ! উক্তরূপ একইরকম বিস্তারিত বর্ণনা, গবেষণা অনুসন্ধান, আহসানুল ফাতাওয়া : খ-৮, ‘ইমদাদুল ফাতাওয়া’র ৪র্থ খ-ে, ‘জাদীদ ফিকহি মাসাইল’, ‘জাওয়াহিরুল ফিকহি’ ও ‘ফাতাওয়া মাহমুদিয়া’র বিভিন্ন খ-, ইত্যাদি গ্রন্থে বিদ্যমান। অবশ্য, সকলের ফাতওয়ার ঐক্যমত্য দেখা যায় কেবল মুজাহিদ/গাজী/সৈনিকদের ক্ষেত্রে কালো খেযাব ব্যবহার বৈধ হওয়া প্রশ্নে। বাকী যুবতী স্ত্রীর মনোরঞ্জন প্রশ্নে বৈধ হলেও ব্যবহার না করা উত্তম তথা ‘মাকরূহ’ বোঝা যাচ্ছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব গবেষণা বা ফতোওয়ার মধ্যে কেউ কেউ নিজ স্ত্রীর মনোরঞ্জন বা দাম্পত্য জীবনের সুখের প্রত্যাশা বা পরস্পরের বৈধ আকর্ষণ বিষয়টি এবং ‘অন্য নারী’ বা ‘ভিন্ন নারী’ কে অবৈধভাবে আকর্ষণ করার বিষয়টিকে একাকার করে ফেলেছেন। অর্থাৎ প্রশ্ন করা হচ্ছে স্ত্রীর আকর্ষণের ক্ষেত্রে বৈধতা নিয়ে; অথচ তার জবাব দেওয়া হচ্ছে ‘ভিন্ন নারীর’ ক্ষেত্রের সূত্র/উদ্ধৃতি দ্বারা। যেমন, “নিজেকে অন্য নারীদের প্রতি আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে এবং তাদের প্রেম-প্রীতি বৃদ্ধির জন্য-তাহলে সেটা মাকরূহ”। ‘নিসা’ মানে স্ত্রী নয়, আর ‘যওজাহ্’ বা ‘আযওয়াজ’ বলতে সাধারণ নারী /মহিলাদের বোঝায় না। সুতরাং ফাতওয়াদানকালে বা এক্ষেত্রে গবেষণা করতে গেলে, এসব পার্থক্য অবশ্যই মনে রাখা আবশ্যক।
আর অল্প বয়সে চুল-দাঁড়ি সাদা হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে ‘কালো খেযাব’ ব্যবহারকে রোগ বা চিকিৎসা বিবেচনায় বৈধতায় কাতারে ফেলা যায়।
অবৈধতার কারণ : অবৈধতার কারণ হিসাবে ‘ইমদাদুল ফাতাওয়া’ ৪র্থ খ-ে বলা হয়েছে,
“কালো খেযাব নিষেধের ক্ষেত্রে শরীয়তের লক্ষ্য হল, বৃদ্ধাবস্থা ও যৌবন অবস্থার ক্ষেত্রে যেন সংশয় সৃষ্টি না হয় এবং বৃদ্ধ ও যুবক পরিচয়ে যেন সংশয়ের জন্ম না হয়” [পৃ.২১৭]
বিধান গবেষণার মূলনীতি : একটি হল আইন, আরেকটি হল, আইন গবেষণার মূলনীতি বা নীতিমালা, যাকে পরিভাষায় উসূল বলা হয়। এ মূলনীতির দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধানটি বোঝা ও বোঝানো সহজ হয়ে যায়। উদাহরণত, উসূল গ্রন্থটি উসূলে শাশী, নূরুল আনোয়ার, উসূলে বাযদূবী ইত্যাদিতে বিধায় চিহিৃত করার লক্ষ্যে এবং স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা করে (‘খাস’ ও ‘আম’) ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য বিধান এবং ব্যতিক্রম, ওযর ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান, অর্থাৎ ‘ব্যাপক-মূল বিধান’ ও ‘ব্যতিক্রমী বা বিশেষ বিধান’Ñ এমনসব শ্রেণি বিন্যাস বা সুবিধা-অসুবিধার বিবেচনা খোদ শরীয়তের মধ্যেই বিদ্যামান। সুতরাং এ আঙ্গিকে বিবেচনা বা গবেষণা করলে, আলোচ্য বিষয়-বিধানটি বোঝা যেমন সহজ হয়ে যায় তেমনি কার ক্ষেত্রে কোনটি প্রয়োগ করা হবে, তাও স্পষ্ট হয়ে উঠে। নতুবা সুবিধা-অসুবিধা, সুস্থ্য-অবস্থা ও রোগাবস্থা এবং কার বেলায় প্রয়োজন রয়েছে ও কার বেলায় প্রয়োজন নেই, তেমন পার্থক্যজ্ঞান এড়িয়ে একটা বিষয়কে কেবল গণহারে বৈধ বলা অথবা একতরফা অবৈধ বলতে গিয়ে দু’পক্ষই যেন অঘোষিত লড়াইযে অবতীর্ণ হয়ে যাচ্ছি এমন অবস্থার জন্ম হয়।

উপসংহার : মোটকথা সারসংক্ষেপ হিসাবে বলা যায় যে : চুল দাঁড়িতে খেযাব ব্যবহার প্রশ্নে যেসব রঙ ব্যবহার করা হয়, তা ‘আসওয়াদে খালিস’ বা মিশমিশে কালো যেমন হতে পারে তেমনি ‘সাধারণ কালো’র কাছাকাছি ‘কাতাম’/ ‘ওসমা’ তথা ব্রাউন কালো বা হাল্কা কালো বা অধিক ও গাঢ় লালের কারণে দেখতে কালোর কাছাকাছি মনে হওয়া; লাল, হলুদ, সবুজ ইত্যাদি যে কোন রঙ হতে পারে।
* হাদীসের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা কেবল ‘মিশমিশে কালো’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অপরাপর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
* হাদীসের নিষেধাজ্ঞা প্রতারণা-প্রবঞ্চনার ক্ষেত্রে এবং যেক্ষেত্রে বৃদ্ধাবস্থা ও যৌবনাবস্থা সংশয়ের দরুন বোঝা মুশকিল হয় সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যদি তেমন সংশয় না হয়, বরং কালো খেযাব ব্যবহারের পরেও বয়সের ছাপ এমনিতেই চেহারা দৃষ্টে বা অন্যান্য অঙ্গ/অবয়ব দৃষ্টে বোঝা যায়; তাহলে সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা লঙ্গিত হয় না। যদিও হাদীসের ব্যাপক অর্থ বিবেচনায় এবং গবেষণা বিতর্ক হতেও বেঁচে থাকার বিবেচনায়, তা ব্যবহার না করাই উত্তম বলে বিবেচিত হবে।
* রোগ-ব্যাধি, দূষিত খাদ্যদ্রব্য পানাহারের দরুন বা দূষিত আবহাওয়া ও পারিপার্শিক পরিস্থিতির দরুন যদি অসময়ে বা অল্প বয়সেই সাদা হয়ে যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে এবং রোগ-ব্যাধির ক্ষেত্রে ‘ব্যতিক্রম বৈধ’ বিবেচনায় কালো খেযাব ব্যবহার অবৈধ বলা হবে না।
* দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি একজন মানুষের অন্যতম বিশেষ প্রয়োজন ও আবশ্যকীয় ব্যাপার। এটিকে হাল্কা করে দেখার অবকাশ নেই। যে কারণে, কোন স্বামী নিজ স্ত্রীর সন্তোষ ও আকর্ষণের নিমিত্তে বা বিশেষ বিবেচনায় কালো খেযাব ব্যবহার করলে, সেটিকে অবৈধ বলা হবে না।
* হাল্কা কালো, বাদামী, ধুসর-কালো বা ব্লাক-ব্রাউন রঙ যা মিশমিশে কালো নয় এবং তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্টকে যুবকরূপে দেখায় না বা বোঝা যায় না; তেমন খেযাব ব্যবহারের অবৈধতা হাদীসে নেই। বরং বিভিন্ন হাদীসের ‘কাতাম’ ও ‘ওসমা’ শব্দ দ্বারা এমন কালো খেযাব ব্যবহারের বৈধতা ও উৎসাহ প্রমাণিত হয়।
* লাল রঙ, মেহেদী রঙ, হাল্কা বা গাঢ় যাই হোক, হলদে রঙ ও সবুজ রঙ ইত্যাদি ব্যবহারের বৈধতা সরাসরি বহু হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়। সুতরাং এসব খেযাব ব্যবহারে কোনো বাধা নেই; বরং উত্তম।
* উল্লেখ্য, খেযাব সংশ্লিষ্ট রঙ বলতে এমন রঙ যা স্বাভাবিক উদ্ভিদজাত যেমন মেহেদী ইত্যাদি কিংবা এমন তৈল জাতীয় রঙ যাতে পানি ভেদ করতে পারে। কিন্তু খেযাব যদি এমন পেইন্ট জাতীয় রঙ দ্বারা হয় যা পানিতে ভেদ করতে পারে না যেমন নেইল পলিশ ইত্যাদি। তাহলে তেমন কোন প্রকার খেযাব ব্যবহার করা আদৌ জায়েয নেই। কেননা, তাতে পানি ভেদ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর উযূ, গোসল ইত্যাদি সহীহ-শুদ্ধ হয় না। এমনকি জানাবাতের গোসলও শুদ্ধ হয় না। মোটকথা, চুল-দাঁড়িতে কালো খেযাব ব্যবহারের মূল ও সাধারণ বিধান মাকরূহ তাহরীমী যেমন সঠিক তেমনি প্রয়োজন ও বৈধতার ব্যতিক্রমী বিধানও শরীয়তসম্মত।
* উল্লেখ্য, উক্ত দীর্ঘ আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আলোচিত ২নং প্রশ্নের জবাবে ‘আহসানুল ফাতাওয়া’ সূত্রে ‘মাকরূহে তাহরীমী’ লেখা বিষয়টিও সঠিক। তবে তা সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা উপরে আলোচিত কোন কারণ বা সমস্যা ছাড়াই ‘কালো খেযাব’ ব্যবহার করেন; অথবা আলোচিত প্রতারণার লক্ষ্যে তা ব্যবহার করেন।
* যে সব ইমাম ও খতীব মহোদয় ইমামত ও খেতাবতের দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত বিস্তারিত আলোচনার নিরীখে, যেক্ষেত্রে তাঁদের কারও আলোচিত বৈধতাজ্ঞাপক কোন কারণ বা সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে আইনত তাঁরাও খেযাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে সাধারণত আমাদের সমাজের মুসুল্লিদের মাঝে উক্তরূপ বৈধ-অবৈধ ক্ষেত্রের পার্থক্যজ্ঞান না থাকায়; তারা সব বিধানকে একাকার করে ফেলে এবং সকলের সমালোচনায় প্রবৃত্ত হয়। তাই, তেমন সমালোচনা হতে বেঁচে থাকার জন্য এবং অধিক তাকওয়া ও নৈতিক দায়িত্ববোধ রক্ষাকল্পে ইমাম ও খতীব মহোদয়দের ‘কালো খেযাব’ ব্যবহার না করাই শ্রেয়ঃ বলে বিবেচিত হবে। তার পাশপিাশি এটাও মনে রাখতে হবে (বিশেষত কমিটি/কর্তৃপক্ষের) যে, আইন-বিধান প্রয়োগধর্মী হয়ে থাকে ও নৈতিকতা বিবেকধর্মী হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোন ইমাম বা খতীব সংশ্লিষ্ট বৈধ কোন প্রয়োজনে যদি ‘কালো খেযাব’ ব্যবহার করেন তা হলে এই অজুহাতে তাঁকে পদচ্যুত করতে পারবেন না।
মহান আল্লাহ সকল ক্ষেত্রে আমাদেরকে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার তাওফীক দিন। আমীন !

লেখক : মুফতী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight