গরীবের ঈদ : মুহাম্মাদ জিহাদ আতিক

সামনে ঈদ। ব্যতিব্যাস্ত নগরী ঢাকা। শহরের বিপণীবিতানগুলি কাপড়ে ভরপুর। সবাই ঈদের কেনাকাটায় ব্যাস্ত। গরীবের ঘরে জন্ম সুমাইয়ার। বয়স কতইবা হবে সাত বা আট। বাবা ছোট বেলাই মারা গেছেন। আর মা অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছেন। উপার্জন করার জন্য শুধু ভাই রফিকই রয়েছে। তারই বা কিসের ব্যবসা, রাস্তায় চা, পান, সিগারেট বিক্রি করে কোনরকম সংসার চালায়। দিনে কতইবা ইনকাম হয়। সামনে ঈদ, তবুও তো বোনকে কিছু দিতে হবে। যখন শহরের বড় বড় মার্কেটের সামনে দিয়ে রফিক যায়, এবং দেখে ধনীলোকেরা তার ছেলে-মেয়েদেরকে সুন্দর সুন্দর দামী পোশাক কিনে দিচ্ছে তখন সেও ভাবতে লাগে আহ! আমিও যদি আমার মা আর বোনকে এরকম দামী পোশাক কিনে দিতে পারতাম তাহলে তারা কতই না খুশি হতো। কিন্তু তাতো আর সম্ভব না, কারণ আমার কাছে তো এতো টাকা নেই। এসব ভাবতে ভাবতে সে চলে যায়। প্রতিদিনের ন্যায় আজও রফিক ব্যবসা করে যা টাকা পেয়েছে তা দিয়ে সামান্য বাজার আর মায়ের জন্য কিছু ঔষধ নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে। সামান্য পাক করে মা আর বোনকে নিয়ে খেতে বসেছে । খেতে বসে ছোট বোন সুমাইয়া রফিককে বললো, ভাই! একটা কথা বলবো? রফিক বললো বল, অতঃপর সুমাইয়া বললো, ভাই দুদিন বাদে ঈদ। আমার সাথীরা সবারই ঈদের মার্কেট করা শেষ। শুধু আমিই বাকী রইলাম। আমাকে কী ঈদের মার্কেট করে দিবে না? রফিক বললো, দিবো না কেন অবশ্যই দিবো। কালই তোর জন্য নতুন জামা-কাপড় এনে দিবো। একথা শুনে সুমাইয়া খুব খুশি হলো। তারপর সবাই শুয়ে পড়লো। শুয়ে শুয়ে রফিক ভাবতে লাগলো, বোনকে তো বলে দিলাম কিন্তু আমি জামা-কাপড় কেনার টাকা কোথায় পাবো? এসব ভাবতে ভাবতে সেও ঘুমিয়ে পড়লো। সকালে উঠে রফিক এ নিয়ত করে বাড়ি থেকে বের হলো যে, যেভাবেই হোক আজ তার বোনের জন্য জামা-কাপড় কেনার টাকা ব্যবস্থা করবেই। সকাল পেড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেড়িয়ে রাত হলো, কিন্তু রফিকের জামা-কাপড় কেনার টাকা হলো না। তাই সে এখন কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। তাই রাস্তার একপাশে বসে বসে সে চিন্তা করতে লাগলো। এমন সময় একজন লোক এসে বললো, ভাই চা আছে? রফিক বললো, জ্বী ভাই আছে। লোকটি বললো, এককাপ চা দিন। অতঃপর রফিক তাকে এককাপ চা দিল। লোকটি চা খেতে খেতে লক্ষ্য করলো রফিক কাঁদছে। অতঃপর লোকটি জিজ্ঞাসা করলো, ভাই আপনি কাঁদছেন কেন? রফিক প্রথমে কিছুই বললো না। লোকটির পিড়াপিড়িতে রফিক বলতে বাধ্য হলো, আজকে সকালে বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় মা আর বোনকে বলে এসেছিলাম যে, আজ তাদের জন্য ঈদের জামা নিয়ে আসবো। কিন্তু রাত হয়ে গেলো এখন পর্যন্ত মার্কেট করার টাকা হলো না। তাই এখন কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। বোনটি হয়তোবা এ আশায় বসে আছে যে, আজ ভাই আমার জন্য নতুন জামা-কাপড় নিয়ে আসবে। কিন্তু সেতো জানে না তার ভাইয়ের কাছে জামা-কাপড় কেনার জন্য টাকা নেই। লোকটি রফিকের কথা শুনে খুব ব্যাথিত হলো। এবং খানিক ভেবে বললো, আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আমার স্যার খুব দানশীল মানুষ। তাকে বললে তিনি কোন ব্যবস্থা করবেন। কিছুক্ষণ পর তার স্যার আসলো। লোকটি স্যারের নিকট তার সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। সবকিছু শুনে তিনি খুব দুঃখিত হলেন এবং বললেন সে এখন কোথায়? অতঃপর লোকটি রফিককে স্যারের নিকট নিয়ে গেলো। তিনি রফিকের সাথে কিছু কথা বার্তা বলে রফিকের হাতে দশ হাজার টাকা তুলে দিয়ে বললেন, যাও এ টাকা দিয়ে তোমার জন্য তোমার বোন আর মায়ের জন্য ঈদের মার্কেট করো। টাকা পেয়ে রফিক খুব খুশি হলো এবং তার কৃতজ্ঞতা আদায় করলো। অতঃপর রফিক তৎক্ষণাত সবার জন্য মার্কেট করে বাড়ি ফিরলো। নতুন জামা-কাপড় পেয়ে তার বোন খুব খুশি হলো এবং মহান রাব্বুল আলামীনের শুকরিয়া আদায় করলো।
ঈদ সবার জন্য সুখের হয় না। কারো জন্য এ ঈদ খুবই আনন্দের আবার কারো জন্য খুবই কষ্টের। সুতরাং আমরা যারা সচ্ছল আছি তারা যদি তাদের সাধ্যনুযায়ী এরকম কিছু গরিব লোকদেরকে কিছু দিতে পারি তাহলে তাদের ঈদও হবে আনন্দের ঈদ। সুতরাং আমরা চেষ্টা করবো যেন সবার ঈদ আনন্দের হয়। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight