খোশ আমদেদ মাহে রমযান!

‘হে  মুমিনগণ, তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ [সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩]
সিয়াম একটি শারীরিক ইবাদত। এই ইবাদতের হক আদায় করে পরিপূর্ণ করা জরুরি। তাছাড়া এমনিতেও যে কোন ধরনের ইবাদত করতে হলে শারীরিক ও আত্মিক সুস্থতা একান্ত প্রয়োজন। কারণ শরীর-মন যদি ভাল থাকে তাহলে ইবাদতে একাগ্রতা সৃষ্টি হয়। আর যদি শরীরে রোগ-ব্যাধি থাকে তাহলে ইবাদতে শান্তি পাওয়া যায় না। তাই রমযান আসার পূর্বেই খাওয়া-দাওয়া-ঘুম এবং পরিমিত কাজ করে শরীরকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করা এবং সুস্থ থাকার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া আমাদের কর্তব্য।
রমযান মাসের আগমন একজন মুমিন বান্দার প্রতি আল্লাহর নিয়ামতগুলোর একটি, কারণ রমযান কল্যাণময় মাস। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এটি হল কুরআনের মাস, আমাদের দীনের গুরুত্বপূর্ণ মাস।
কোন কোন বুযুর্গ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা ৬ মাস ধরে আল্লাহর কাছে  দোয়া করতেন যাতে তিনি তাদের রমযান মাস পাওয়ার তাওফিক দেন, এরপর রমযান শেষে ৫ মাস ধরে এই দোয়া করতেন যেন রমযানের আমলসমূহ তাদের কাছ থেকে কবুল করা হয়। তাই একজন মুসলিম তার রবের কাছে দোয়া করবে যাতে তিনি তাকে রমযান মাস পাবার তাওফিক দেন, তার আনুগত্যে সাহায্য করেন এবং তার আমল ও ইবাদত কবুল করেন। রমযানের জন্য আরেকটি কাজ হলো কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইলম অর্জন করা, যাতে সিয়ামের  বিধি-বিধান এবং রমযান মাসের মর্যাদা সম্পর্কে জানা যায়।
আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে কমলা লেবুর মত, যা সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মত, যার ঘ্রাণ নেই। [মুসলিম]
আবু উমামা আল বাহেলি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর। কেননা কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য কুরআন সুপারিশ করবে । [মুসলিম]
আবু বকর আল বালাখি বলেছেন, রজব বীজ বপনের মাস, শা‘বান ক্ষেতে সেচ প্রদানের মাস এবং রমযান ফসল তোলার মাস। তিনি আরো বলেছেন, রজব মাসের উদাহরণ হল বাতাসের মতো, শা‘বান মাসের উদাহরণ হল মেঘের মতো, রমযান মাসের উদাহরণ হল বৃষ্টির মতো; তাই যে রজব মাসে বীজ বপন করল না, যে শা‘বান মাসে সেচ প্রদান করল না, সে কিভাবে  রমযানের ফসল তুলতে চাইতে পারে।
রমযান মাসকে স্বাগত জানানোর জন্য আরেকটি কাজ আমরা করবো। তা হলো বেশি বেশি তাওবা করা। তাওবা শুধু রমযানের জন্য নয়। এটি সবসময়ের জন্য ওয়াজিব। যেহেতু এক মহান মুবারক মাস আমদের সামনে আগত তাই বিগত দিনে যে সব গুনাহ হয়েছে সেগুলোর জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করবো। ফলে আমরা এই মুবারক মাসে প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে ইবাদতে মশগুল হতে পারবে।
রমযান মাস নিজেকে গঠনের মাস। এ মাসে নিজের চরিত্র গঠনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এ মাসে এমন প্রশিক্ষণ নিতে হবে যার মাধ্যমে বাকী মাসগুলো এভাবেই পরিচালিত হয়। কাজেই এ সময় আমাদেরকে সুন্দর চরিত্র গঠনের অনুশীলন করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সিয়াম পালন করে, সে যেন তখন অশ্লীল কাজ ও ঝগড়াবিবাদ থেকে বিরত থাকে। সিয়াম পালন করা অবস্থায় কেউ যদি তার সঙ্গে ঝগড়া করতে আসে সে যেন বলে, আমি রোযা পালনকারী। [মুসলিম]
রমযান মাস দীনের দাওয়াতের সর্বোত্তম মাস। আর মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকাও উত্তম কাজ। এজন্য এ মাসে অধিক পরিমাণ দীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি ও পকিল্পনা গ্রহণ করা। রমযান মাসে মানুষকে দীনের পথে নিয়ে আসার জন্য আলোচনা করা, কুরআন ও হাদীসের দারস প্রদান, বই বিতরণ, কুরআন বিতরণ ইত্যাদি কাজ বেশি বেশি করা। রমযান মাস আসার পূর্বেই দুনিয়াবি সকল ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণভাবে সিয়াম সাধনার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ফরজ বিধান রোযাব্রত পরিপূর্ণভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমীন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight