ক্ষমা / রাহাত ইবনে মাহবুব

বদর যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে হেরে যাবার পর কাফেরদের মেজাজ বেশ চড়া। বড় বড় নেতারা লাত-উজ্জার নামে নানান শপথ করে বসে আছে, প্রতিশোধের আগুনে তারা জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার। প্রায় সহ¯্র অস্ত্র সজ্জিত কাফের সৈনিক গুড়িয়ে গেছে মাত্র তিনশত তের জন দরিদ্র নিরস্ত্র মুসলমান সৈনিকের কাছে। কি লজ্জার কথা! লজ্জায় কাফেরদের মাথা কাটা যাওয়ার দশা। অন্যদিকে বদর যুদ্ধে মুসলমানদের জয়ের প্রভাব কুরাইশদের অন্তরে ছেয়ে গেছে। আরবরা মুসলমানদেরকে বিশেষ দৃষ্টিতে দেখতে আরম্ভ করেছে। তৃতীয় হিজরীর রবিউল আওয়াল মাসে হঠাৎ বনি যুহারীব গোত্রের দু’ছূর চারশো পঞ্চাশজন কাফের সৈনিক সঙ্গে করে মুসলমানদের উপর হামলা করার ইচ্ছায় রওয়ানা করলো মদীনার দিকে। উদ্দেশ্য ভূপৃষ্ঠ থেকে মুসলমান নিধন। রাসূল সা. যখন এ সংবাদ শুনলেন তখন কাফের বাহিনীর মোকাবেলা করার জন্য সাহাবায়ে কেরামদেরকে সঙ্গে করে যুদ্ধের ময়দানে ছুটে গেলেন। কিন্তু দু‘ছূর বাহিনী আল্লাহর পর সৈনিকদের দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পাহাড়ের চড়ে আত্মগোপন করলো। ঘটনাক্রমে এই সফরে কিছুটা বৃষ্টিপাত হয়। যার ফলে রাসূল সা. এর পরিধানকৃত জামা-কাপড় ভিজে যায়। রাসূল সা. নিজের ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য তা খুলে একটি গাছের ডালে ছড়িয়ে দিলেন। এবং বিশ্রাম করার জন্য গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়লেন। দু‘ছূর পাহাড়ের চূঁড়া থেকে রাসূল সা. এর বিশ্রামের দৃশ্য অবলোকন করে মনে মনে ভাবলো এটাই সুযোগ মুসলমানদের নয়নের মনি মুহাম্মদকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয়ার। সে তৎক্ষাণাত পাহাড়ের চূঁড়া থেকে নেমে রাসূল সা. এর শিয়রে পৌঁছে গেল। তরবারী কোষমুক্ত করে রাসূল সা. কে বললো, বলুন আপনাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? রাসূল সা. একটুও ঘাবড়ালেন না! অত্যন্ত শান্তভাবে উত্তর দিলেন, আমার আল্লাহ। কিন্তু কি আশ্চর্য! আমার আল্লাহ কথাটা শুনেই দু‘ছূর কেঁপে উঠলো। হতভম্ব হয়ে গেল। তার হাত থেকে তরবারী পড়ে গেল।
রাসূল সা. সেটা নিজ হাতে তুলে নিলেন এবং দু‘ছূরকে বললেন, বল এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে। দু’ছূর অসহায়ের ভঙ্গিতে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো। কেননা, তার কাছে এ প্রশ্নের কোন উত্তর ছিলো না। প্রতিমাসমূহের অপারগতা তার সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল। দু’ছূরের এমন অসহায়ত্বের উপর রাসূল সা. এর করুণা হল। তিনি দু’ছূরকে ক্ষমা করে দিলেন। রাসূল সা. এর এই উদারতা তাকে অত্যন্ত প্রভাবীত করলো। সে একত্ববাদের কালিমা পড়ে নিল। তার নামের শেষে যোগ হল, রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight