কিতাব হল বিপদের বন্ধু / নাদিরা বিনিতে ইউনুছ

বিগত ২০১৬ সালের ১৫ই ডিসেম্বর রোজ শনিবার ৯ টার সময় দুটি হাদীসের কিতাব নিয়ে বের হলাম ছাতক থানার চরবাড়া মহিলা মাদ্রাসায় আসার জন্য। কিছুণ হেঁটে পয়েন্টের মধ্য এসে গাড়ির জন্য অপো করছিলাম এবং কিছুণ অপো করার পর গাড়ি পেয়ে আমি ও আমার আব্বু গাড়িতে উঠলাম।
প্রায় দশ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করার পর আরেকটি পয়েন্টে পৌঁছার পূর্বেই দূর থেকে ল করলাম পয়েন্টের মাঝে অনেক মানুষের ভিড়। তখন সে স্থানের পাশ্ববর্তী গ্রামের এক গাড়ির ড্রাইভার আমাদের গাড়ির ড্রাইভারকে বলল, ভাই! তুমি যেদিক হতে গাড়ি নিয়ে এসেছ সেদিকেই ফিরে যাও! তখন আমাদের ড্রাইভার বললেন, কেন ভাই! ওখানে কি হয়েছে? উত্তরে ড্রাইভারটি বলল, ওইখানে দু-গ্রামের লোকেরা গাড়ি নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে এবং এক গ্রামের লোকেরা অন্য গ্রামের লোকেদের সঙ্গে মারামারি করার জন্য অপো করছে। সে জন্য তারা ওই জায়গা দিয়ে গাড়ি যেতে দিচ্ছে না। এসব কথা শুনে আমাদের ড্রাইভার বলল, ভাই দেখা যাক কী হয়! রিকুয়েস্ট করে যেতে পারি কিনা দেখি। এ কথা শুনে ঐ ড্রাইভার আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলল, আমি এলাকার লোক হয়েও রিকুয়েস্ট করার পরও যেতে দেয়নি আর তুমি যাবে কি করে? পয়েন্টে পৌঁছার পর ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে এক গণমান্য ব্যক্তিকে
বললেন, ভাই! আমাকে এদিকে গাড়ি নিয়ে যেতেই হবে আমার খুবই ইমার্জেন্সি আছে। তখন ঐ ব্যক্তি বলল, আচ্ছা তাহলে যাও তুমি, তবে তোমার গাড়ির লোকেরা যেতে পারবে না। সে কথা শুনে গাড়ির ড্রাইভার এসে আমাদের বললেন। সে সময়ও আমরা গাড়িতে ছিলাম। তার কথা শুনে আমি ও আব্বু গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলাম; কিন্ত মানুষের ভিড়ের কারণে হাঁটা সম্ভব হচ্ছিল না। এত পুরুষের মধ্য দিয়ে হাঁটতে আমার লজ্জা ও খুব কষ্ট হচ্ছিল এবং পুরো শরীর খুব করে কাঁপছিল যে মনে হচ্ছিল সে সময় ভূমিকম্প হচ্ছিল!
এক ব্যক্তি আমার হাতে কিতাব ও হাতে-পায়ে মোজা-পরা দেখে বলল, এ তো দেখা যাচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রী। লোকটি তখন বলল, তুমি গাড়িতে উঠে যাও। এই কথা শুনে আমি ও আব্বু তাড়াতাড়ি উঠলাম। আমার আব্বুকে দেখে এক লোক বললেন, এই যে মুরব্বী সাহেব! আপনি গাড়ি থেকে নামুন! তখন সেখানে আমাদের এলাকার এক লোক উপস্থিত ছিলেন। তিনি ঐ ব্যক্তিকে বললেন, এই যে! এই মুরব্বী হলেন এই ছাত্রীর পিতা! এ কথা শুনে ঐ ব্যক্তি বললেন, ও, তাহলে আপনিও যান। সে রাস্তাটুকু অতিক্রম করার পর বাকি রাস্তাটুকু আমি চিন্তা করে করতে করতে এলাম : আজ যদি এই হাদীসের কিতাব দুটি না থাকত তাহলে আজ আর আমার মাদ্রাসায়ই যাওয়া হত না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight