কায়রাওয়ানী দুলহান : ফুসত্বাত্বে, মূল : জুর্জি যীদান

Upnnas

ভাষান্তর : নাজীবুল্লাহ ছিদ্দীকী :

ফুসত্বাত্ব তৎকালীন মিশরের রাজধানী ছিল। প্রখ্যাত সাহাবি আমর ইবনুল আস রা. যখন মিসর বিজয় করেন, তখন তিনি এই শহরটি নির্মাণ করেন। আহমদ ইবনে তুলূন মিসরের শাসনকর্তা হলে তার প্রধান কার্যালয় ‘কাত্বা’- এ স্থানান্তর করেন। এবং তুলূনী হুকুমতের শেষ সময় পর্যন্ত এখানেই ছিল। কিন্তু যখন মুহাম্মাদ আলইখশীদ ক্ষমতা গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তার প্রধান কার্যালয় ‘ফুসত্বাত্বে’ স্থাপন করেন। এবং তার শোভাবর্ধনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। ফলে ‘ফুসত্বাত্ব’ তার অপূর্ব রওনক ও সৌন্দর্য মণ্ডিত হয়। ইমারতের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফুসত্বাত্বে পর্যটক ও মুসাফিরদের আগমন এতো অধিকহারে বেড়ে যায় যে, বসরা-কুফাকে পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। কিছু ঐতিহাসিক লেখেন যে, ঐ সময় ফুসত্বাত্বে ছিল ৩৬হাজার মসজিদ, ৮হাজার প্রশস্ত পাকা রাস্তা এবং ১হাজারেরও অধিক উন্মুক্ত গোসলখানা। তৎকালে ফুসত্বাত্ববাসী ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য, অপব্যয়, বিলাসিতা এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবন-যাপনে সীমালঙ্ঘন করেছিল।
লিময়া যখন দীর্ঘসফর ও ক্লান্তির পর ফুসত্বাত্বের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছল। সর্বপ্রথম আমর ইবনুল আস রা. জামে মসজিদ দেখতে পেল। মসজিদের চমৎকার নির্মাণশিল্প এবং বিশালতা দেখে সে অভিভূত হল। তবে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হল নীলনদের দৃশ্য দেখে। নীলনদের দু’পাড়েই জাহাজগুলো সারিসারি নোঙর করা। সারিগুলোকে অশ্বারোহীদের তাক করা ধনুকের মত মনে হচ্ছিল। লিময়া যখনই কোন সুন্দর জায়গা অতিক্রম করত বা বড় কোন ইমারত দেখত, সুন্দর কোন বাগান দেখত; তখনই সে কাফেলার পথপ্রদর্শককে জিজ্ঞাসা করে তার সম্পর্কে জেনে নিত। এমনি করে…………….
এতদসত্বেও তিনি আশংকা করছিলেন যে, এই কাফূরের মৃত্যুর পর একটা বিপ্লব ঘটবে। ফলে তিনি আগেভাগেই ফাতিমীদের সাথে বন্ধুন্ত করাটা ভালো মনে করলেন। তাদের শক্তি, ক্ষমতা, দাপট ও প্রভাব সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিল। আর এভাবে তিনি দু’রজ্জুকেই শক্তভাবে আগলে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এর পিছনে তার উদ্দেশ্য ছিল, নিজের বিশাল ধন-সম্পদ ও ঐশ্চর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এদিকে কাফুর ইখশীদীর দরবারে তার সবচে’ বড় শত্র“ ও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল উযীর ‘জাফর বিন ফুরাত’। সে কাফুরের কাছে ইয়াকুবের মর্যাদা ও প্রভাবকে দু’চোখে সইতে পারত না। সর্বদা সে ইয়াকুবের পেছনে আঠার মতো লেগে থাকত। যেকোনো উপায়ে ইয়াকুবের মান খাটো করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাত।
লিময়া যখন ইয়াকুব-এর বাড়িতে পৌঁছল। লিময়া একটি নির্জন জায়গায় বসার অনুরোধ করল। ইয়াকুব তাকে নিয়ে বাড়ির পিছনে একটি কামরায় চলে গেল। কামরায় দু’জন মুখোমুখি বসল। লিময়া বলল-
– জনাব! আমি নিজে ওই দুই গাদ্দার ‘আবু হামেদ ও সালেম’ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে চাই। এক্ষেত্রে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ইয়াকুব জবাব দেওয়ার পূর্বেই নওকর দরজার কড়া নাড়ল। অনুমতি নিয়ে ভিতরে এসে বলল, মনিব! ডাক্তার শালূম এসেছেন। তা শুনে ইয়াকুবের চোখ দু’টি জ্বলজ্বল করে উঠল। নওকরকে বললেন, আমি আসা পর্যন্ত তাকে অভ্যর্থনা কক্ষে বসাও।
নওকর চলে গেলে তিনি লিময়াকে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহ তা‘আলাই এমন মোক্ষম সময়ে শালুমকে আমাদের কাছে এনে দিয়েছেন।
লিময়া বলল, তিনি কে? 
ইয়াকুব বললেন, ও হলো আমীরে মিসর কাফূরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক। সে-ই আমাদের অনেক সহযেগিতা করতে পারবে। চলো আমরা তার সাথে দেখা করি।
ইয়াকুব উঠল। লিময়াও তার পাশাপাশি হাটতে লাগল। ইয়াকুব বললেন, বেটি! এ দেশের বর্তমান আমীর-উমারা এবং সৈনিকরা দু’দলে বিভক্ত। একদল আমীরে মিসর কাফূরকে সমর্থন করে। তাদেরকে বলা হয় ‘কাফূরী সৈন্যদল’। আরেকদল ইখশীদী পরিবারকে সমর্থন করে। তারা মনে করে, কাফূর ইখশীদী রাজপরিবার থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে এখন সবচে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কাফূর গুরুতর অসুস্থ। তিনি যদি এ রোগে মারা যান, তাহলে মিসরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সীমাহীন অস্থির হয়ে পড়বে । কারণ, তার মৃত্যুর পর মসনদে বসার মতো একজন ছোট বালক ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বি আর কেউ নেয়। তাই কাফূরের রোগের অবস্থাটাই এখন মুখ্য বিষয়। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক্তার শালূম থেকে জানতে পারবো, কাফূরের স্বাস্থ্যের উন্নতি-অবনতির খবর।
লিময়া ইয়াকুবের মুখ থেকে একথা শুনে তার মিসর সফলতা দেখে তার চোখে-মুখে আনন্দের দ্যুতি খেলে গেল।
দু’জনে অভ্যর্থনা কক্ষের নিকটে পৌছালে দেখতে পেল, শামূল সোফায় বসে গভীর মনোযোগের সাথে একটি বই পড়ছেন । ইয়াকুবকে দেখে তিনি এগিয়ে  এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। দু’জনেই মুখোমুখি চেয়ারে বসলেন। আর এদিকে লিময়া ইয়াকুব ডাকবে পর্যন্ত বাগানেই অপেক্ষা করাকে শ্রেয় মনে করল। ইয়াকুব ডাক্তারকে কাফূরের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন ।
ডাক্তার বললেন, তার অবস্থা আশংকাজনক। তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমি একেবারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছি । আমার সব প্রচেষ্টা বিফলে গেছে। আমার হাতে এই যে কিতাবটি দেখছেন, এটি বিখ্যাত আরবি চিকিৎসক রাযী রহ. এর লিখিত কিতাবের একটি খন্ড। এ খন্ডে আমীর যে রোগে ভুগছেন, সে রোগের কথা এসেছে। কিন্তু আফসোস এখানেও সন্তোষজনক কিছুই পাইনি। তাই আমি তার আরোগ্যের ব্যপারে নিরাশ হয়ে পড়েছি ।
ইয়াকুব একথা শুনে মাতা অবনত করল। তার চেহারায় বিরক্তি ও চিন্তার রেখা দেখা গেল ।
ডাক্তার তা দেখে বলল, নিশ্চয় আপনি ফিকির করছেন, এ লোক মারা গেলে আপনার কী পরিণতি হবে? ইয়াকুব বললেন, বন্ধু শালুম! আপনি সবই জানেন। আসলে আমাদের  সকলের স্বার্থই এক ও অভিন্ন । ইতিপূর্বে আমি আমার মনের কথা সব আপনাকে খুলে বলেছি। আমীরুল মুমিনীন মুঈয নিদীল্লাহ আমার কাছে ওই যে দেখা যাচ্ছে বাগানে ফুল ছিড়ছে তাকে পাঠিয়েছেন। ওই চিঠির উত্তরে তার কথাও আপনাকে বলেছিলাম ।
শালুম বললেন, সত্যি! খলীফা মুঈয তোমাকে কী লিখেছেন? সম্ভবত এতে আমাদের জন্য কোনো খোশখবরী রয়েছে ।
ইয়াকুব বললেন ,  আমিও এতে আশাবাদী । তবে এখন আমাদের সকলে একসাথে মুঈযকে সাহায্য করা কর্তব্য।
ডাক্তার শালুম বললেন, এতো অবশ্যই হে প্রিয় বন্ধু ! আপনি এখন  আমার থেকে কী ধরণের সহযোগিতা চান? ইয়াকুব বললেন, ওই যে যুবকটিকে দেখছেন, মুঈয পাঠিয়েছে মিসরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আমীর-উমারাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। তবে একটি বিষয় আপনাকে এখনও বলা হয়নি। তা হল, এই দূত যুবক নয়, বরং যুবক বেশে একজন যুবতী। আমি চাই, আপনি যখন কাফূরকে দেখতে যাবেন, তখন আপনার ঔষধ পত্র নেওয়ার জন্য যে খাদেম সর্বদা যায়, তার পরিবর্তে একে নিয়ে যাবেন। শালুম বললেন, ঠিক আছে। তাকে ডেকে নিয়ে আসুন এবং আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। এসময় ইয়াকুব লিময়াকে ইশারা করলে সে দৌঁড়ে এলো। ততক্ষণে তার গন্ডদ্বয় রক্তিম বর্ণ হয়ে গেছে এবং তার চেহারায় মেয়েলী লাজুকতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়াকুব তাকে শালুমের কাছে সোপর্দ করে বলেন- তুমি তার প্রতি পুর্ণ আস্থ্া রাখতে পারো। ডাক্তার তোমাকে কাফূরের কাছে নিয়ে যাবে তার নওকরের বেশে। ফলে তোমাকে যে কেউ দেখবে সে তোমাকে তার নওকরই ভাববে। আর আমি তোমাদের আগেই কাফূরের কাছে চলে যাবো।
এরপর ডাক্তার উঠলেন এবং লিময়ার কাছে নওকরের পোষাক ও ঔষধ-পত্র পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলে বিদায় নিলেন। এদিকে ইয়াকুবও কাফূরের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন। একটু পরেই ডাক্তারের জিনিসপত্র এসে গেল। লিময়া ডাক্তারের নওকরের পোষাক পরল। গলায় ঔষধপাতি রাখার একটি চামড়ার থলে ঝুলাল। থলেটিতে ছিল কাঁটাছেড়ার যন্ত্রপাতি এবং কিছু ঔষধ। ইতিমধ্যে ডাক্তার খচ্চরের উপর সাওয়ার হয়ে এলেন। লিময়াকে তার পিছুপিছু আসার জন্য ইশারা দিলেন। অল্প পথ চলতেই তারা ইখশীদীর বাগানে এসে পৌঁছল। বাগানে অনেক তাবু টানানো ছিলো এবং অনেক পতাকাও উড়ানো ছিল।  ডাক্তার বাগানের দরজায় পৌঁছতেই প্রধান প্রহরী হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলল, ‘জনাব! মহামান্য আমীর দীর্ঘক্ষণ ধরে আপনার জন্য অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
ডাক্তার খচ্চর থেকে নেমে লিময়াকে তাঁর অনুসরণ করার জন্য ইঙ্গিত করলেন। লিময়া তাঁর পিছু পিছু চলল। পথিমধ্যে সে আশপাশের সব কিছু গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। এক সময় তারা বর্ণিল সাজে সজ্জিত একটি বড় শামিয়ানার কাছে পৌঁছল। শামিয়ানার মধ্যে নকশী করা অনেক পর্দা টানানো। উপরে পতাকা পতপত করে উড়ছে। ডাক্তার শালূম তাবুতে প্রবেশ করছে এবং তার পিছনে লিময়াও ঢুকে পড়ল। কাফূর তখন হাতির দাঁত ও আবনূস কাঠের পালঙ্কে উটপাখির পালকে তৈরী গদীর উপর কাত হয়ে শোয়া । তার বিশিষ্ট কিছু লোক, তার ছেলেরা এবং প্রিয়ভাজন তাকে বেষ্টন করে আছে। তাদের মধ্যে ইয়াকুব বিন কাল্সও রয়েছেন। ডাক্তার শালূমকে প্রবেশ করতে দেখেই ব্যতিব্যস্ত হয়ে দৌঁড়ে এসে বললেন। তার হাবভাব এমন দেখাচ্ছিল যে, অনেকদিন যাবত ডাক্তারের সাথে তার দেখা নেই। ডাক্তার সাহেব অনেক দেরী করে বললেন।
শালূমও নির্লিপ্তভাবে বললেন, আশা করি আমাদের জাহাপনা সালামতে আছেন। কোন নতুন কিছু ঘটেনি তো তার! ইয়াকুব বললেন, না, তিনি পূর্বের তুলনায় আজ অনেক ভালো। শালূম এগিয়ে কাফুরের হাত ধরে তার নাড়ি পরিক্ষা করে বললেন। জাহাপনা! গতকালকের তুলনায় আজ আপনি অনেক সুস্থ। অপনার কেমন অনুভব হচ্ছে ? কাফূর বললেন, ভীষণ ক্লান্তি অবসাদ। দূর্বলতা ও মাথা ব্যথা তো আছেই ।
ডাক্তার লিময়াকে ইশারা করলে সে এগিয়ে থলে খুলে দিলো।
শালূম থলের ভিতর থেকে একটি ছোট শিশি বের করে তার মূখ খুলে কাফুরের নাকের কাছে এনে ধরলেন। একটু শুকার পরেই কাফূর আরাম অনুভব করলেন এবং ঘুমে ঢলে পড়লেন। ইয়াকুব দন্ডায়মান সকলকে বেরিয়ে যেতে ইশারা করলেন। সবাই বের হয়ে গেল।
বাকী রয়ে গেল শুধু ডাক্তার ইয়াকুব ও লিময়া আর কাফূর গভীর ভাবে ঘুমাতে লাগল। এক ঘণ্টা পর কাফূর একটু নড়ে চড়ে উঠলেন। ডাক্তার তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, জনাব জেগে উঠছেন? কাফূর অস্ফুট স্বরে বললেন- হ্যাঁ, আমাকে পার্শ্ব পরিবর্তনে সহায়তা করো ।
ডাক্তার ও ইয়াকুব ধরে কাফুরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করে দিলেন। এসময়ই প্রহরী প্রধান ঢুকে খাটের সামনে কুর্নিশ করে বলল, জাহাপনা! আবু হামেদ দরজায় অপেক্ষা করছে।
লিময়া আবু হামেদের নামটি শুনেই তার শরীর হীম হয়ে গেল এবং হৃদয়ের তড়পানি বেড়ে গেল। সে তখনই তাবুর একটি খুটির আড়ালে চলে গেল। যেন তার চেহারা প্রকাশ না পায়। কাফূর প্রহরীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তার সঙ্গে কেউ আছে? প্রহরী বলল, তার সঙ্গে তার সফর সঙ্গী জাহাপনা! কাফূর বললেন, তাদেরকে আসতে বল। লিময়ার অনুমান করতে অসুবিধা হলো না যে তার সফর সঙ্গী সালিম ছাড়া আর কেউ না। সে নিজেকে শক্ত করতে চেষ্টা করল। কিছুুক্ষণ পরই আবু হামেদ অস্বাভাবিক পোষাক পড়ে এল।
সালিমও তার পিছুপিছু ঢুকলো। তার চেহারা অবয়ব এবং গঠন আকৃতি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে ।
তারা দুজনেই সালাম দিলে কাফূর তাদেরকে ইশারা দিয়ে বসতে বললেন। তারা বসল। বসেই আবু হামেদ বলল, হুজুর! আমরা আপনার অসুস্থতার খবরে অনেক পেরেশান ছিলাম। আশা করি এখন সুস্থ জাহাপনা।
ডাক্তার শালূমকে বললেন, মহামান্য আমীর ভাল। আজ তিনি পুর্বের তুলনায় সুস্থ। শীঘ্রই তিনি পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন।
সালিম বলল, আলহামদুলিল্লাহ। হ্যাঁ, তাকে শীঘ্রই সুস্থ হওয়া তো জরুরি। ভাগ্যাকাশে তারকা হাসা এবং জ্বলজ্বল করার সময় ঘনিয়ে এসেছে। উপরন্ত মহামান্য আমীরের এই ব্যাধি পুরো জাতিকে রুগ্ন করে তুলবে । বিশেষ করে এমন শুভমুহূর্তে।
ডাক্তার বললেন, জনাব! আপনাদেরকে পরিস্থিতি- পরিবেশ বুঝার অনুরোধ করবো। কারণ আমাদের মহামান্য আমীর এমুহূর্তে কঠিন ও জটিল বিষয়াদি শ্রবণ করা এবং তা নিয়ে ফিকির করার মত শারীরিক সুস্থতা নেয়। তার প্রয়োজন এখন আনন্দদায়ক কোনো কিছু শোনা এবং বিনোদনমূলক কোনো কিছু উপভোগ করা, যার দারা তার মনোবল চাঙ্গা হবে এবং শরীরের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবেন। এবং এর দ্বারা তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন।
আবু হামেদ উত্তর দিল, তা ঠিক। তবে আমরা এখন মহান আমীরের আশাব্যঞ্জক ও আনন্দদায়ক সংবাদ নিয়ে এসেছি। যে সংবাদটি শোনার জন্য মহামান্য আমীর অধীর অপেক্ষায় ছিলেন।
কাফূর আবু হামেদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, তোমাদের কাছে কি আজ নতুন সংবাদ আছে? আবু হামেদ সাথে সাথেই বললেন, অবশ্যই জাহাপনা? নয়তো এ সময় আমরা আপনাকে বিরক্ত করতাম না। কিন্তু ….’। এ বলে সে চুপ হয়ে গেল। এবং ডাক্তার শালূম ও ইয়াকুবের দিকে তাকিয়ে বারবার তাকাচ্ছিল। এভাবে সে বুঝাতে চাইল যে এদের উপস্থিতিতে  কীভাবে এত মূল্যবান(!) তত্ত্ব প্রকাশ করবে।
আমীর কাফূর তা বুঝতে পেরে বললেন, আবু হামেদ তুমি নিশ্চিন্তে কথা বলতে পারো। কারণ এদুজন আমার আস্থাভাজন। তাদের সামনে আমার ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় কোন বিষয়ই গোপন রাখিনা। লিময়া ডাক্তারের গোলামের বেশে তাবুর খুটির আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল। আবু হামেদের মুখে নতুন সংবাদের কথা শুনতেই কান খাড়া করল।
আবু হামেদ বলা শুরু করল। আগের সাক্ষাতে আপনাকে বলেছিলাম যে, মরক্কো রাজ্যে খিলাফাতের মিথ্যা দাবীদারদের হাত থেকে ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য আমরা কী ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আর তাও আমাদের মহামান্য আমীর কাফূরের দিকনির্দেশনাই হয়ে ছিলো। এখন আমরা তারই ফসল ও সুসংবাদ নিয়ে এসেছি। আমাদের মিশনের প্রধান টার্গেট মুঈয লিদীল্লাহর এদুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। এখন মহামান্য আমীর মরক্কোতে পাঠালে বিনা কষ্ট ক্লেশে তা আমাদের আয়েত্বে এসে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight