কা’বাগৃহ নির্মাণ : সংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

Sristi jogot

হযরত ইবরাহীম খলীল আ. এর প্রশংসায় আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আল্লাহ বলেন, স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম কে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পুর্ণ করেছিল। আল্লাহ বলেন আমি তোমাকে মানব জাতির নেতা করছি, সে বলল, আমার বংশধরগণের মধ্যেও ? আল্লাহ বললেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের জন্য নয়। [সুরা বাকারা : ১২৪ ]
আল্লাহ হযরত ইবরাহীম আ. কে যেসব কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলাম, তিনি সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাকে মানব জাতির নেতৃত্ব দান করেন। যাতে তাঁরা তার অনূকরন-অনুস্মরণ করতে পারে। ইবরাহীম আ. এই নিয়ামত তার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে অব্যাহত রাখার জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা শুনেন এবং জানিয়ে দেন যে, তাকে যে নেতৃত্ব দেয়া হল তা জালিমরা লাভ করতে পারবে না, সেটা কেবল তাঁর সন্তানদের মধ্যে আলিম ও সৎকর্মশীলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আল্লাহ বলেন, আমি নূহ এবং ইবরাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম তাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করেছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব। [সুরা হাদিদ:২৬ ]
হযরত ইবরাহীম আ. -এর পরে আসমান থেকে যত কিতাব যত নবীর উপর নাযিল হয়েছে, তাঁরা সকলেই নিশ্চিতভাবে তাঁর বংশধরদের অন্তর্ভূক্ত। এটা এমন একটা সম্মান যার কোন তুলনা হয়না। এমন একটা সুমহান মর্যাদা যার তুল্য আর কিছুই নেই। কারণ, হযরত ইবরাহীম আ. এর ঔরসে দুই মহান পুত্র-সন্তান জন্ম হয়। হাজেরার গর্ভে ইসমাঈল এবং সারাহ এর গর্ভে ইসহাক। ইসহাকের পুত্র ছিল ইয়াকুব তাঁর অপর নাম ছিল ইসরাঈল। পরবর্তী বংশধরগণ এই ইসরাঈলের নামেই বনী ইসরাঈল নাম অভিহিত হয়ে থাকে। এই ইসরাঈলী বংশে এত বিপুল সংখ্যক নবীর আগমন ঘটে, যাদের সঠিক সংখ্যা তাঁদেরকে প্রেরণকারী আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই জানেন না। অব্যাহত ভাবে এই বংশের নবী-রাসূলগণ আসতে থাকেন এবং হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. পর্যন্ত পৌঁছে সে ধারার সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. ইসরাঈল বংশের শেষ নবী। অপর দিকে হযরত ইসমাঈল আ. -এর সন্তানগণ আরবের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে আরব ভূমিতেই বসবাস করতে থাকেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে সর্বশেষ নবী খাতামুল আম্বিয়া, বনী আদমের শ্রেষ্ঠ সন্তান, দুনিয়া ও আখিরাতের গৌরব নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আল কুরাইশ আল-মক্কী ওয়াল মাদানী ব্যতীত অন্য কোন নবীর আগমন ঘটেনি। ইনি হলেন সেই মহা মানব যার দ্বারা গোটা মানবজাতি গৌরবান্বিত। আদী-অন্ত সকল মানুষের ঈর্ষার পাত্র। সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- ‘আমি এমন এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠীত হব যে, আমার কাছে পৌঁছার জন্যে প্রত্যেকেই লালায়িত হবে; এমন কি ইবরাহীম আ.ও।’ এই বাক্যের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকারান্তরে হযরত ইবরাহী আ.-কে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরে অন্য সব মানুষের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে হযরত ইবরাহীম আ.ই শ্রেষ্ঠ মানুষ ও সম্মানিত পুরুষ। ইমাম বুখারী রহ. ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান রা.-কে কোলে নিয়ে বলতেন, আমি তোমাদের দুই ভাইয়ের জন্য সেরূপ আশ্রয় চাই, যেরূপ আশ্রয় ছেয়েছিলেন তোমাদের আদি পিতা ইবরাহীম আ. ইসমাঈল ও ইসহাকের জন্য। আমি আশ্রয় চাই পরিপূর্ণ কালেমাহ দ্বারা প্রত্যেক শয়তান ও বিষাক্ত সরীসৃপ থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চোখের দৃষ্টি থেকে। সুনান হাদীসের গ্রন্থকারকগণও মানসূর রা. সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছে।
আল্লাহর বাণী ঃ হে কিতাবীগণ! ইবরাহীম সম্বন্ধে কেন তোমরা তর্ক কর, অথচ তাওরাত ও ইঞ্জীল তো তার পরেই অবতীর্ণ হয়েছিল? তোমরা কি বুঝনা? দেখ, যে বিষয়ে তোমাদের সামান্য জ্ঞান আছে তোমরাই তো সে বিষয়ে তর্ক করছো। তবে যে বিষয়ে তোমাদের কোনই জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কেন তর্ক করছো? আল্লাহ্ জ্ঞাত অছেন এবং তোমরা জ্ঞাত নও। ইবরাহীম ইহুদীও ছিল না, খৃস্টানও ছিল না; সে ছিল একনিষ্ঠ, আত্মসমর্পনকারী এবং সে মুশরীকদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। যারা ইবরাহীমের অনুস্মরণ করেছিল তারা এবং এই নবী ও যারা ঈমান এনেছে মানুষের মধ্যে, তারা ইবরাহীমের ঘনিষ্ঠতম। আল্লাহ্ মু’মিনদের অভিভাবক। [সুরা আল-ইমরান ৬৫-৬৮]
আল্লাহর নিকট হযরত ইবরাহীম আ. -এর এই প্রশ্ন সম্পর্কে মুফাস্সিরগণ বহু কথা লিখেছেন, আমরা তাফসীর গ্রন্থে সে সবের বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সারকথা এইযে, ইবরাহী আ.-এর দোয়া আল্লাহ্ কবুল করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight