কবিতা ও ছড়া

মিরাজুন্নবী সা.
সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

মিরাজে গেলেন আমাদের নবী আল্লাহর ডাকে
জিব্রীল এসে জাগালেন তাঁরে মধ্যরাত্রির ফাঁকে।
বোরাকে চড়ি জিব্রীল সাথে মসজিদে আক্্সায়,
কদম রাখেন জেরুজালেমে, বায়তুল মুকাদ্দাস যথায়।
দাঁড়িয়ে সেথায় আম্বিয়াকুল আকুল ভক্তি সনে
জানান স্বাগতম মোদের নবীরে উষ্ণ-আলিঙ্গনে।
অতঃপর দিলেন মহাশূন্য পাড়ি সপ্তাকাশে ঊর্ধ্বভ্রমণ
হুর-গিলমান, ফেরেশতা জানায় সালাম আনত নয়ন।
শেষ মঞ্জিলে এসে নবীজী পেলেন আল্লাহর দরবার
ধন্য হলো মানব জাতি, ধন্য ধন্য নবীকুল সর্দার।
চলিল আলাপ দু’জনার মাঝে, পাঞ্জেগানা সালাত
পাপী উম্মত তরে নিয়ে এলেন আসমানী সওগাত।
নামিলেন নবী ধরার ধুলায়, এ যে আল্লাহর কুদরাত
আল্লাহ তুমি নসীব করো মোরে! নবীজীর শাফায়াত।

এই মেয়েটি
আল আজাদ
এই মেয়েটি
আনমনে খুব পাখির মতো, মিষ্টিময়ী ফুলের মতো
ছবির মতো উদাস নীরব, একলা থাকে রাত-বিরাতে
কেউ জানে না, কেউ জানে না।
সঙ্গীহারা স্বপ্নছড়া উদাস মনে, শূন্যেভরা শূন্যঘরে ঝোঁপের মতো
চোখের ভেতর ধূসর বালি, বুকের ভেতর বিষাদগীতি
কেউ দেখে না, কেউ দেখে না।
জমাটবদ্ধ সাগর মতো বৃষ্টিপ্রেমী, মেঘের মতো আকাশপ্রেমী
দীর্ঘশ্বাসে রাত্রিবারি বালিশভেজা গল্পহারা ছন্দ ছাড়া অভাগিনী
কেউ বোঝে না কেউ বোঝে না।
হাঁটুর ওপর থুতনি রেখে ভরদুপুরে একলা বসে, একলা ভাবে
খুব নিশিতে নদীর বাঁকে ঘূর্ণিপাকে বৃষ্টি ঝরে চোখের তীরে
কেউ দেখে না কেউ দেখে না।
ভীষণ কাতর, ক্ষুধায় পাথার, জীবন আঁকে রং তুলিতে কবির মতো
ক্যালেন্ডারের শেষ পাতাতে তগুলো লুকিয়ে আছে কত শত
কেউ জানে না, কেউ জানে না।

ফিরে এলো রমযান
মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ

দয়া ও মার ডাক নিয়ে
সিয়াম পালনের হাঁক দিয়ে
ফিরে এলো মাহে রমযান।
কুরআন আর হাদীসের পথে
অন্যায় অনাচার দূর করতে
ফিরে এলো মাহে রমযান।
সত্য মিথ্যার প্রভেদ করতে
মহান রব কে খুশী করতে
ফিরে এলো মাহে রমযান।
সব মিথ্যার রাজ ভেঙে দিতে
সত্য ও ন্যায় চালু করতে
ফিরে এলো মাহে রমযান।

তোমার নামে শুরু প্রভু
জান্নাত মীম
.
পরম করুনাময় তুমি
তুমি অসীম দয়ালু,
করছি শুরু তোমার নামে
তুমি জাল্লে-জালালু।
তোমার নামে প্রভাত ফোটে.
শুনি পাখির কলতান
ঘাসের ডগা জেগে ওঠে
জপে তোমার গুণগান।
তোমার নামে ফুলকলিরা.
ভোর সকালে হাসে,
তোমার নামের লেখায়
আমার ছন্দকাব্য আসে।

ছড়া
আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

লিখতে হলে ছড়া তোমার
ছন্দ হবে জানতে
অন্ত্যমিল মাত্রা ঠিক রেখে
সব হবে যে জানতে।
ছড়ার বিষয় ঠিক রেখে
লিখতে তোমায় হবে
সাফল্য দেবে ধরা
চেষ্টা করবে যবে।
বেশি করে বই পড়বে
তবেই তুমি পারবে
তাতে তুমি পারবে লিখতে
জ্ঞান যে তোমার বাড়বে ।

বসন্তের চিত্র
মাহমুদুল হক জালীস

শীতের শেষে ঝরছে দেখো
হলদে রঙের পাতা,
সবুজ পাতায় ভরে গেছে
কত গাছের মাথা ।
সাতসকাল সূর্যিমামার
মিলে মিলন রেখা,
কুয়াশা ঝরা শীতসকাল
যায় না এখন দেখা ।
মিষ্টি সুরে কোকিল ডাকে
কুহু কুহু গান,
ফুলবাগানে ফুলকলিদের
উদাস করা ঘ্রাণ ।
কৃষ্ণচূড়ার পাতার ফাঁকে
ফুল ফুটেছে লাল,
সন্ধ্যা হলে আলো ছড়ায়
জোনাকিপোকার পাল ।

শিক্ষার্থী : জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মদপুর, ঢাকা।

আহ্বান
মুহাম্মদ তাফহীমুল ইসলাম

হে তরুণ – তোমাকে ডাকবে যৌবন
যেও না ডাক শুনে অন্ধকারে।
যৌবন তোমাকে নিবে ধ্বংসের পথে
নষ্ট করবে জীবনকে ধীরে – ধীরে।
যৌবন কালই তোমার শ্রেষ্ঠ সময়
সুন্দর করে জীবনকে সাজিয়ে নেয়ার।
গ্রহণ করতে হবে কঠিন শপথ
আনতে হবে আপন জীবনে জোয়ার।
যৌবন কালে আসবে শত বাধা
তা মাড়িয়ে চলতে হবে সম্মুখে।
তাহলে তুমি নিশ্চিত সফল হবে
অসাধ্য ব্যাপার যে তোমাকে রুখে।
হে তরুণ তোমাকে বুঝতে হবে
যৌবন কী, তার সঠিক যথার্থতা।
যৌবন দিয়ে করতে হবে জয়
পাড়ি দিয়ে সব বাধা-ব্যর্থতা।

চেচুরিয়া, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

এসো এক হয়ে যাই
আবু আইয়ুব আনসারী

সুন্দর পৃথিবীটা করছে তারা নষ্ট
দ্বীনের পথে না চলে যে
হচ্ছে কেবল ভ্রষ্ট।
দুর্নীতি আর অত্যাচারে
ভরে গেছে দেশটা
হবে না কো দেখা কভু
এই খেলারই শেষটা।
সুদ, ঘুষ, চোরাচালান
নিত্যদিনের স্বভাব
খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে
সৎলোকের অভাব।
এরা ভাইরে রাখে না খোঁজ
দ্বীন ও ধর্মের
তাই তো এরা লিডার হয়
সব কুকর্মের।
এসো সবাই এক হয়ে যাই
করি তাদের প-
তুমি আমি আপন সবাই
থাকবো না আর খ-।

ালিফ-বা-তা
আরিফ আনোয়ার

দ্বীনের পথে চল খোকা
দ্বীনের পথে চলো
হর হামেশা সবার সাথে
সত্য কথা বলো।
মাতা-পিতা গুরুজন কে
শ্রদ্ধা তুমি করো
হাট্টিমাটিম টিমকে ছেড়ে
আলিফ-বা-তা পড়ো।
আলিফ-বা-তা প্রাণপণে
পড়বে তুমি যখন
কুরআন হাদীস শিা করা
সহজ হবে তখন।

তরুণ পণ
আবদুল্লাহ আল মিসবাহ

আমরা তরুণ পণ করেছি
দ্বীনের পথে চলব,
শক্তি সাহস বুদ্ধি দিয়ে
দেশের তরে লড়ব।
আমরা লিখব হামদে প্রভু
গাইব নাতে রাসূল,
দ্বীন কায়েমের মেহনত
করব সকাল বিকেল।
এই আশাতে বুক বেঁধে আজ
নিলাম দীপ্ত শপথ,
জুলুম-শোষণ এড়িয়ে এবার
এগিয়ে চলব পথ।

শিক্ষার্থী : জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

প্রিয় জান্নাত
রুহুল আমীন খান

আল জান্নাত পড়তে আমার
ভীষণ ভালো লাগে ,
প্রতি মাসে তাই ক্রয় করি
বন্ধু, সবার আগে।
তোমায় ধারণ করলে পর
আঁধার রবে না যে ,
প্রতিমাসে তাই আসো তুমি
চাহনির মত সেজে।
আল জান্নাত যেন আমার
সঙ্গী হয়ে রয় ,
আমার মনের নেক আশাটি
কবুল যেন হয়।

শিক্ষার্থী : জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight