কবিতাগুচ্ছ

সৃজন
সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

এই পৃথিবীতে পাইনি কোন আপনজন
পেয়েছি শুধু একজন যে-জন আমায় করিলেন সৃজন
তাঁকেও যে ভুলে আছি আমি যে অধম
স্বার্থের পৃথিবীতে পড়ে আছি নির্জনে
যাদের জন্য আমি রক্ত-মাংস করিলাম ক্ষয়
তাহারা আমায় ভুলে গিয়ে হয়ে গেল পর
আমি জেনে-শুনে করেছি বিষপান
ক্ষমা করে দিও ওগো হাকিম ও রহমান
আকাশে যতগুলি তারা আছে
গুনে গুনে যদি শুধু তোমায় ডাকি প্রভু
সব তারা শেষ হয়ে যাবে গোনা
তোমার গুণগান গেয়ে তোমাকে ডাকা শেষ হবে না কভু।

০৩/০৪/২০১৬, রোববার

ভূমিকম্প
মোহা. রেজাউল করিম প্লাবন
ভূমিকম্পে কম্পনে কাঁপে এখনো অন্তর
সারা জাহান দুলছে পাপের তাপে বিশ্ব প্রান্তর।
পাপের বোঝা পাহাড়সম রাখিনি মোটেও খেয়াল
পাপের ভারে ফেটে গেছে দেহের ছোট্ট দেয়াল ।
লোভ লালসায় মত্ত হয়ে গেছি তোমায় ভুলে
তোমার রহমের রশ্মি দিয়ে দিও অন্তর খুলে,
জাহেলিয়াতের ঢেকে গেছে আজকের চারিধার
পাপের মাঝে ডুবে আছি হয়ে একাকার ।
ভূমিকম্পে কাঁপে যদি তোমার কঠিন হৃদয়
আল্লাহকে ডাকো তবে হয়ে একটু বিনয়,
তিনি মোদের করবেন ক্ষমা গফুর ও গফ্ফার
তাঁর কাছে করতে হবে সদা ইস্তেগফার।

ভয়ানক গ্রীষ্ম
মাহবুবা মাসুমা অনু
জনজীবন অস্থির গ্রীষ্মের দুপুরে
মাঠ ঘাট চৌচির পানি নেই পুকুরে,
রুক্ষতা ঘিরে রাখে সারাটা দেহমন
বর্ষার ছোঁয়া পেলে জেগে ওঠে শিহরণ ।
রৌদ্রের দাবানলে বেড়ে যায় চেষ্টা
তাজাফল শরবতে কাটে যেন রেশটা ,
ঘাম ঝরে দরদর মাঠে থাকা  কৃষকের
পিপাসায় ছাতি ফাটে কান্ত পথিকের।
মাঝে মাঝে হানা দেয় বৈশাখী ঝড়টা
ধ্বংসের রোশানলে কেড়ে নেয় ঘরটা,
গাছপালা ভেঙ্গেচুরে করে দেয় নিঃস্ব
এভাবেই কেটে যায় ভয়ানক গ্রীষ্ম।

অশ্রু নদী
ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি
স্বর্গীয় স্বপ্নীল-সুখ প্রহরে হৃদয় কার্নিশ বেয়ে
টপটপ ঝরে বিষাদের শিশির
হৃদয়ের ডায়রিতে বেদনার কালিতে লেখা
বিরহলিপি, দুঃগাথা।

কষ্টের ফ্রেমে ঢাকা, সুখ-আনন্দের ছবি
হৃদয় মহর ধ্বংস, পর্যুদস্ত
বেদনার মহাসুনামী প্রলয়ঙ্ককরী তা-বে।

লোচন যেন অশ্রুনদী, বিরহী ঢেউ
বিষাদের স্বরে বয়ে যায়
অনন্তকাল নিরবধি।

অনুতপ্ত
খালেদা আক্তার অনন্যা
রাতের নির্জনতায় লুটিয়ে সেজদায়
ডাকি বলো আর কারে
তোমার বিরহে কাতর হয়ে
কেঁদে ফিরি বারে বারে।

আধারের চাদুয়ায় রাতের আকাশ
মিশে রয় যেমনি
তোমারই মাঝে চাইগো আমি
মিশে যেতে তেমনি।

আপন করে পাই বলো
তুমি ছাড়া আর কারে?
মাঝ রাতে ঘুম যায় যে ভেঙে
ভাবনা জড়িয়ে ধরে।

হঠাত করে আসবে মরন
ভয়ে হৃদয় কান্না করে
আছি ডুবে শত পাপের সাগরে
নাও তুলে মাওলারে।

মনের কথা
আব্দুল হাকিম
বুকের ব্যথা হৃদয় কথা
পাখির সাথে বলি
মেঘের দলে বৃষ্টি জলে
উড়ে উড়ে চলি।
আকাশ নীলে দুখ বিলিয়ে
মনটা হালকা করি
হাওয়ার সাথে শক্ত হাতে
পাঞ্জা দিয়ে লড়ি।
হঠাৎ যদি দুঃখের নদী
বুকের মাঝে জাগে
সুখ জোয়ারে শান্ত করে
ভাসি অনুরাগে।
দু’চোখ বুজে সবুজ খুঁজে
শুভ্রতাকে ডাকি
সাগর ছেকে ঝিনুক থেকে
মুক্ত তুলে রাখি।
যদি লাগে ফুলোবাগে
তাপ ও দাহে মরু
ঝর্ণা হয়ে গেলে বয়ে
জেগে উঠে তরু।
আধাঁর মাঝে চাঁদের ভাঁজে
আলো নিয়ে আসি
দিবাযামী হেরেও আমি
কষ্ট ভালোবাসি।

কাঁঠাল
মো: ইলিয়াছ হক মোকামি

আমাদের দেশে কাঁঠালে ভরা
কাঁঠালের গন্ধে মোরা দিশেহারা।
কাঁঠালের মধ্যে ছোট ছোট গল্লা
গল্লা খেতে মোরা দেই পাল্লা।
উপরে কুরিকুরি মধ্যে ভুড়ি
তাইতো সবাই খায় পেটটা পুরি।
কাঁঠাল এদেশের জাতীয় ফল
কাঁঠাল খেলে বাড়ে দেহে শক্তি ও বল।
মোকামিয়া, বেতাগী, বরগুনা।

সেই ছেলেটি
সোহানুজ্জামান মেহরান

অভিমানী সেই ছেলেটি
কাঁদে রাত ভোর,
ভাবতে ভাবতে দিন ফুরাই
আসে আঁধার ঘোর।
দেয় না ভাত কেউ আজ
সেই ছেলেটির মুখে,
না খেয়ে তাই শুকিয়ে মরে
বেদন পূর্ণ বুকে।
মা গেল বাপও গেল চলে
হারিয়ে গেল সবে,
দিন রজনী হাই হুতাশে
কাঁদে একেলা ভাবে।
খাবার বেলাই ডাকে না কেউ
না খেয়ে সে ছেলেটা,
খাবার শেষে ধুইয়ে দেবে কে
হাত আর প্লেটটা।
শুইবার বেলা বিছানাটি তার
কেউ দেয় না মেলে,
বড় ব্যথায় ডুকরে কাঁদে
অসহায় সেই ছেলে।
বিদায় নিয়ে গেছে সবাই
আসে না কেউ ফিরে,
ব্যাথার পাহাড় বুকে তাহার
সারা দুনিয়া ঘিরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight