কবিতাগুচ্ছ

শীত-বর্ষা
সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর নদীর জলে, টিনের চালে
ছন্দ তুলে হওয়ায় ওড়ে গাছের ডালে
কচুর পাতায় পাতায় মুক্তার জল ঝিলিমিলি করে
কালবৈশাখী ঝড়ে মনের সুখে আম কুড়াতে বাইরে ছোটে
কালো জামের বেগুনি রঙয়ে মুখ রাঙিয়ে খায় সবাই মনের সুখে
লিচু গাছের মিষ্টি লিচু খেতে লাগে মধুর মতো
আয়রে নাতি-নাতনিরা গ্রামের বাড়ি আয়
শহরে ইটের বাড়িতে থেকে হয়ে গয়ে গেছিস ইটের মতো
মাটির মানুষ মাটির বুকে আয়রে আমার নাতি-নাতনিরা আয়
খেয়ে যা-রে পিঠা-পায়েস, গুড়-মুড়ি আর মোয়া
হাড়-কাঁপা শীতে রোদ পোহাতে আচ্ছা লাগে
শীতের পিঠা খেজুর গাছে রসের হাড়ি খেতে মজা ভারি
আয় ছুটে আয় দাদী-নানীর বাড়ি

থক
আল আজাদ

এই যে ছেলে সন্ধ্যা বেলা
যাসনে কেন ঘরে?
দু’চোখ বেয়ে তোমার এতো
অশ্রু কেন ঝরে?
বোনটি আমার মিষ্টি অথি
পড়তে চাই স্কুলে
আমি পথিক পায় যত পায়
খাবার খরচ চলে।
ঐ দিকে মা রোগে ভোগে
চিকিৎসার তরে
বাবা আমার হারিয়েগেছে
তিন বছর ধরে।
এই যে ছেলে হাতটা বাড়াও
তো টাকা’টা নাও
মায়ের ঔষধ বোনের বই’টি
বাড়ি নিয়ে যাও।

একটি গোলাপ
ফাতেমা আক্তার সিক্তু

একটি গোলাপ রোজ প্রভাতে
জানায় তোমায় সুপ্রভাত,
ভালোবেসে পাপড়িতে তার
আলতো করে রেখো হাত ।

চোখ মেলে সে চাইবে যখন
জানতে চেয়ো – কেমন সে?
মিষ্টি হেসে বলবে দেখো
তুমি যেমন – তেমন সে ।

তোমার হাসি তোমার ছোঁয়া
দেখে গোলাপ ধন্য হয় ,
আঙিনাতেই ফোটে তোমার
মোটেই গোলাপ বন্য নয় ।

ইচ্ছে হলে দিতে পারো
পাঁপড়ি চোখে সোহাগ চুম ,
একটু হেলে পড়েই দেখো
দেবে একটা লাজুক ঘুম ।

সারাদিনের ধকল ছেড়ে
চোখ মুদেছে ক্লান্তিতে,
ডাক দিওনা, ডাক দিও না
একটু ঘুমুক শান্তিতে ।

আধুনিকতার কাল
সাদিয়া উম্মে আমাতুল্লাহ্

আধুনিকতার হাওয়া লাগলো গায়ে
প্রেমখেলা আর নষ্টামি ব্যাপক বনে;
সীমা ছাড়িয়ে যায় সবে অতলে
নতুবা গেঁয়ো মূর্খ খেতাব মেলে।

এরাই সব দামাল তরুণ
যুগ চাহিদায় সভ্য দারুন,
জয়জয়কর যার সারাটা বিশ্বে
কপোতীরা তাই যখমে নিঃস্বে।

রেশমের নিচে চাঁদ হাসলে
আনস্মার্ট হুজুরাইন রব উঠে
দুঃখবোধে আর হবে কী?
হারামের মাশুলই তো পেয়েছি।

এসব বাতাস লাগলে গায়ে
বখে যায় যুব করুণভাবে।
না পাওয়ার বেদনাটাই হয় কাল
তার প্রায়শ্চিত্তই সাফ জঞ্জাল।

এখনো রয়েছে বহুত সময়
ফিরে এসো সবাই মিনতি আমার।
মুছে ফেলো অশান্তির যতো চিহ্ন
সুখস্বর্গে ভাসাও সারাটা বিশ্ব।
বৃষ্টি পড়ে
রিয়াদ হাসান

রিম ঝিমঝিম বৃষ্টি পড়ে
গাছের শুকনো ডালে
বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
টিনের উঁচু চালে।
টুপ টুপাটুপ বৃষ্টি পড়ে
সবুজ-শ্যামল বনে
বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
আমার তনু-মনে।
টাপুর-টুপুর বৃষ্টি পড়ে
বিস্তৃত ঐ মাঠে
বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
পল্লী-গাঁয়ের হাটে।
ঝম ঝমঝম বৃষ্টি পড়ে
পাল তোলা ঐ নায়ে
বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
আমার সারা গায়ে।
ঝুপ ঝুপঝুপ বৃষ্টি পড়ে
ভরা পানির খালে
বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
বঁধুর নূপুর তালে।

কুরআন মানে
মোহাম্মদ দিলখোলাশা জাহিদ খান

কুরআন মানে – ভ্রাতৃত্বের র্স্পন্দন
কুরআন মানে –
সকলের তরে ভালোবাসা বিতরণ।
কুরআন মানে –
জীবনের গানে স্বচ্ছ সুরের অনুসরণ।
কুরআন মানে –
সব চক্রান্তের জাল ছিন্ন করা।
কুরআন মানে –
কোটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরা।
কুরআন মানে –
গড্ডলিকা প্রবাহে হারিয়ে যাওয়া।
কুরআন মানে –
নয় নিজ সভ্যতা বিসর্জন দিওয়া।
কুরআন মানে –
সুষম জীবনের একটি প্রশান্ত বৃত্ত।
কুরআন মানে –
মুক্তির সংগ্রামে বিজয়ী জীবন।
কুরআন মানে –
প্রাণে প্রাণে ভ্রাতৃত্বের সর্পন্দন।
কুরআন মানে –
জাহান্নাম থেকে জান্নাতে যাওয়ার পথ।
কুরআন মানে –
অনাহার  মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া।
কুরআন মানে –
সমস্ত অশ্লীল ও গর্হিত কাজ করা থেকে নিযেকে বিরত রাখা ।
কুরআন মানে –
মা-বাবার মনে কষ্ট না দেওয়া ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight