কবিতাগুচ্ছ

পৃথিবী
সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

পৃথিবীতে যত সুখ আছে মনে হয় দয়াময় সবটুকু সুখ দিয়েছেন আমায়
পৃথিবীতে যত কষ্ট আছে মনে হয় দয়াময় সবটুকু কষ্ট দিয়েছেন আমায়
পৃথিবীতে যত অপরূপ সৃষ্টি আছে মনে হয় সবটুকু আমার জন্য করেছেন সৃষ্টি
আকাশ-বাতাস, রবি-শশি যা কিছু আছে মনে হয় আমার জন্য করেছেন সৃষ্টি
এতো কিছু পেয়ে এতো কিছু দেখে মুগ্ধ হয়েছি আমার প্রভুর পানে
ধন্য আমি মহান সর্বশক্তিমান প্রভুর ভালবাসা পেয়ে
লক্ষ-কোটি শুকরিয়া জানাই আমার প্রভুর চরণতলে
রাসূল আমার রবের দেওয়া হাজার নিয়ামত
দরূদ ও সালাম জানাই আমার শ্রেষ্ঠ নবীজীর রওজাপাকে
সুখ-দুঃখ মহান প্রভুর অপূর্ব সৃষ্টি

এ কালের কালিদাস
সাদিয়া উম্মে আমাতুল্লাহ

জেঁকে বসছে শীত তবু চারপাশে বৃষ্টির প্রতাপ
শহীদ কাদরীর কবিতার মতো
বৃষ্টি, বৃষ্টি, বৃষ্টি ঝরছে অবিরত।
আমি জানি এই মুহূর্তে বদ্বীপের
আকারে একটি দেশে
চায়ের দোকানগুলো খোলা রয়েছে
ধোঁয়াশার মতো কুয়াশায় বসে চায়ে চুমুক
দিচ্ছে কেউ আগুনে সেঁকছে রুটি
উজ্জীবিত কিংবা ¤্রয়িমাণ কিছু মুখ
শীতের স্পর্শ গায়ে মেখে
কান্নার দাগগুলো রেখে দিয়ে মাপা
হাসি বুলিয়ে রেখেছে।
সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মাঝখানে দিন স্বল্পতম;
ভুমি ফাঁকা মাঠজুড়ে খড়ের বৈধব্য
গরু যাচ্ছে দল বেঁধে
উড়ছে লাল ধুলো, ঝাঁক হয়ে উড়ে যাচ্ছে টিয়ে।
আর এখানে শীতের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বৃষ্টি
বসে আছি চিত্রবৎ
যেন এ কালের মুগ্ধ কালিদাস

নিশি রাতের বসন্ত
নজরুল ইসলাম নাহিদ

লাল সবুজের বাঙলাজুড়ে চলছে
আলো-আঁধারির লীলাখেলা,
রাজ্যজুড়ে প্রায় মধ্য রজনীর
আনাগোনা বিরাজ করছে
পল্লীগাঁয়ের মানুষেরা এখন সবাই
গভীর ঘুমে অচৈতন্যে বিভোর,
কোথাও কোন কোলাহল নেই, নেই
কোন সাড়া শব্দ,
ধরার গর্ভে যেন চলছে পিনপতন
নীরবতার আন্দোলন,
নির্জন নিরালায় যেন নিঝুম রাত
আকাশ থেকে ডেলে পড়ছে,
আছড়ে পড়ছে অন্ধকারের ঢেউ,
এই আঁধার ভুবনবুকে কাছের
দূর দূরান্তের ঝোপ ঝাড়ে
জোনাকপোকা টিপ টিপ দৃষ্টিনন্দন আলো ছড়াচ্ছে,
ফাল্গুনে ধানের েেতর
ছোপ ছোপ পানিভেজা আইলের
উপরিভাগ থেকে আগত ব্যাঙের
আওয়াজে একটা নিয়মতান্ত্রিক
সুরধ্বনি ভেসে আসছে কুটিরের বাতায়ন চিরে,
রাতপ্রহরী পাখিগুলো কেবল নিরব
নিস্তব্ধ পৃথিবীর চৌকিদারি পালন করছে,
পথের দু’ধারে অসহায়ে অবস্থারত
বৃ লতার মৃত্যুপ্রায় পাতারাগুলো
স্থান করে নিচ্ছে বিদায়ি শীতের
কুয়াশা নিঃসৃত শিশিরবিন্দু।
অপরূপ ধ্বনির গা যেন আজ
আঁধারের বহুমুখী অলংকারে সজ্জিত,
এ যেন ঐস্বর্গীয় বসন্তের আগমনী স্বরূপ প্রকাশে ব্যস্ত
ব্যাকুল প্রকৃতি।
পূবদিগন্তে গাছ পালার গ্রাম
ডিঙ্গিয়ে ভেসে উঠছে ীণ
দ্যুতিময় কৃষ্ণপরে শশী,
মিটিমিটি কিরণ বিলাচ্ছে
প্রকৃতিকে, পুষ্পমালঞ্চের
মোড়ানো পুষ্পকলিরা শিশিরকতার
আদ্রতার ছোঁয়ায় ফুটে উঠার
ঘোষণা দিচ্ছে পৃথিবীকে,
প্রস্ফুটিত ফুলের নানান ঘ্রাণে
ঘ্রাণে মুখরিত ফুলতলা,
ঘ্রাণের সমারোহে খুশিতে ঝিলমিল করছে ফুল বাগিচা।

মধুপুর, টাঙ্গাইল।

তুমি না এলে………
মুস্তাকিম আল মুনতাজ
.
তুমি না এলে সৃষ্টি হত না,
সুন্দর এই ভুবন।
তোমাকে ভালবাসি হে প্রিয় রাসূল,
আমরা সারাটি জীবন।
তোমার জন্য মানুষ পেল,
সঠিক পথের দিশা।
তোমার আগমনে দূর হল,
ছিল যত আমানিশা।
তোমায় পেয়ে ধন্য হল,
আরবের ঐ মাটি।
তুমি ছিলে মা আমিনার খুলে,
সোনার চেয়ে খাঁটি।
রোজ হাশরে কর তুমি,
মোদের জন্য শাফায়ত।
তোমার উসিলায় যেন পাই,
আমরা গোনাহগার নাজাত।

বর্ণ নিয়ে খেলে
আল আজাদ
.
বর্ণ নিয়ে খেলে
খোকা ছন্দ নিয়ে খেলে
বর্ণ ছাড়া সব কিছু আজ
রাখছে খোকা ফেলে।
খোকা বর্ণ নিয়ে খেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight