কবিতাগুচ্ছ

অন্ধকার কারাগার
সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

আমি কোথায় আছি কেমন আছি তোমরা কি জান বন্ধু
যখন আমি ছিলাম দুনিয়াতে ধন-সম্পদ বেশী ছিল বলে
কুমন্ত্রণা আর কুবুদ্ধি দিয়েছিলে ক্ষণে ক্ষণে
এখন আমি অন্ধকার কারাগারে পড়ে আছি একা
কেউ রাখে না আমার খবর কেমন আছি আমি
কোথায় আমার ধন-সম্পদ কোথায় আমার বন্ধু-স্বজন
যারা আমার আপন ছিল তাদেরকে পর করে
দূরে সরিয়ে ছিলাম, পরকে করেছিলাম আপন
সম্পদ আর ক্ষমতার লোভে পড়ে ভুলে গিয়েছিলাম
আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দেওয়া বিধান
এখন আমি অন্ধকার কারাগারে পড়ে আছি একা
কেউ রাখে না আমার খবর কেমন আছি আমি
যৌবনের আর সম্পদের গৌরবে অন্ধ হয়ে
শয়তানেরই ফেরে পড়ে
কতই না বাহাদুরী ছিল আমার মনে
আবার যদি ফিরে আসতে পারতাম দুনিয়াতে
সব ছেড়ে পড়ে থাকতাম আল্লাহর বিধান লয়ে
লুটে পড়ে থাকতাম আমি আমার রবের চরণ তলে

 

তোমায় দিলাম
আল আজাদ

হে প্রিয় !
তোমায় দিলাম প্রভাতের ঝলমলে রোদের ঝিলিক,
মেঘের আড়ালে বাঁকা চাঁদ, মধ্যরাতের রিমঝিম বাতাস !
তোমায় দিলাম শীতের ভোরের শিশির ভেজা দুর্বাঘাস
তোমায় দিলাম শারদ বিকেলের ঢেউ খেলা কাশ।
তোমায় দিলাম রোদেলা দুপুরে অতিপ্রিয় একজোড়া হাসি
তোমায় দিলাম প্রেমিকের সুস্বাদু চুম্বন, নীল রঙের প্রজাপতি

হে প্রিয়!
তোমায় দিলাম আমার পড়ন্ত বিকেল, রক্তিম রঙের ছায়ানীল
সন্ধ্যায় ওড়া একঝাঁক পাখির কলতান, বাগানজোড়া আলো
তোমায় দিলাম চায়ের কাপে আবৃত্তি করা একগুচ্ছ পঙ্ক্তি
তোমায় দিলাম আগামী একুশে ফেব্রুয়ারিতে তোলা একটি ছবি
তোমায় দিলাম অথৈ সমুদ্রের বুক চিরে ঝিনুকের মুক্তো
তোমায় দিলাম আমার নীল চোখের গভীরে একটুকরো অশ্রু

হে প্রিয় !
তোমায় দিলাম ধূধূ মাঠ, কুয়াশার ভেজা একরাশ শরষে ফুল
কাকডাকা পল্লীর মিষ্টি রোদ, আষাঢ়ের গাঢ় নীল নীলাকাশ,
তোমায় দিলাম এক ধূসর পান্ডুলিপি, ছাইরঙা দুষ্টু বাতাস
তোমায় দিলাম শেফালির সুনিবিড় ছায়া শ্যামা পাখির নাচ
তোমায় দিলাম আমার বাল্যকাল, রঙিন কাটা-ঘুড়ির পিছে ছোটা
তোমায় দিলাম প্রেম, ভালোবাসা আমার যা ছিলো সব।

প্রগাঢ় প্রতীক্ষা
সাদিয়া উম্মে আমাতুল্লাহ্

পৃথিবীতে যেন একটিমাত্র রাত্র
মাত্র একটি চাঁদরাত,
সকলের চোখে মুখে সেঁটে দিচ্ছে
নির্ঘুম আনন্দ জোছনা বৃষ্টি,
রৌদ্রের উচ্ছল কলরব।

সারারাত জেগে থাকা আনন্দ ঝর্নার নূপুর নিক্বণ
ভোর-বিহানে কুহক কুহুতান,
পৃথিবীর প্রথম জন্মের পর
যেন এইমাত্র দেখা দিলো সেই প্রার্থিত ঈক্ষণ,
ভালোবাসা-
নিগূঢ় জলধি গুরুগর্জন উচ্ছ্বাস,
একটিমাত্র চাঁদরাত-
অনিন্দ্য আনন্দক্ষণ পরম পাওয়ার
অপূর্ব মুহূর্ত মধুরা মধুর পূত নির্র্ঝরণ।

অধীর চিত্তের প্রগাঢ় প্রতীক্ষা শেষে
যেন এইমাত্র চাঁদ চুচুক সিঞ্চনে
সুবিশাল ঊর্ধ্বাকাশ থেকে
এসেছে পরম প্রেমে চাতক তৃষিত পৃথিবীর পর।

পরম পাওয়া স্নেহ শ্রাবণে ভরিয়ে দেবে যেন
নিঃসঙ্গ পৃথিবী –
বিরহ জর্জর এক সাধিকা পবিত্র রমণীর
নির্জল সরসী-ঘর।

অন্তর্দৃষ্টি
ফাতেমাতুন নূর

শেষবেলাতে তোমার
দেখা যেন পাই
ওহে দয়াল রাব্বানা মোর
মিনতি যে তাই।
পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে
হাবুডুবু খাই
হাতটি ধরে তুলে নাওগো
রহম আমি চাই।

জান্নাত চাইনা ওহে দয়াল
কেন তুমি জানো ?
তোমার দয়া করুণাতে
সবই পূরণ মানো।

অন্ধ আমি চোখে কিছু
দেখি নাতো অন্য
অন্তর্দৃষ্টি দিও দয়াল
তোমায় দেখার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight