কবিতাগুচ্ছ

 
মায়ের দোয়া
সৈয়দা সুফিয়া খাতুন
 
মা যে আমার রাজকন্যা সাত রাজার ধন
হিরা-মণির খনি সুখে-দুখের সাথী
মা গো, তুমি না থাকলে কে করিবে আমায় দোয়া
তোমার দোয়া সঙ্গে নিয়ে
চলছি আমি মহাসাগর পাড়ি দিয়ে
ভয় নাই আমার বুকে তোমার দোয়া আছে বলে
আদর-সোহাগ দিয়ে বড় করেছো আমায়
তুমি চলে গেলে কেমনে থাকবো আমি এই ধরণীর বুকে
আল্লাহ তুমি দয়া করো, রহম করো
আমার মায়ের রুহে আমার মা’কে
জান্নাতী বান্দা করে নাও তোমার দয়া দিয়ে
ছোটকালে ছিলাম যখন অসহায় তখন মা বিনে
ছিল না আমার কোন সহায়
যত কষ্ট দিয়েছি হাসি মুখে কোলে তুলে নিয়েছে আমায়
তোমার তুলনা হয় না মা’গো কারো সাথে
তুমি মা’গো আমার রবের দেওয়া সেরা উপহার।
 
একান্ত স্বজন আমার
এইচ. এম. আবূ সালেহ
 
শতাব্দীর পর শতাব্দী কেটে গেছে হে রাসূল,
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
হয়েছে অন্তর্ধান তোমার,
দেখতে পায়নি আমার দুচোখ
তোমার সর্বসুন্দর অবয়ব।
প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের হয়নি সৌভাগ্য আমার
সুদীর্ঘকালের ব্যবধানে।
পৃথিবীর অন্তিমকালে এসে হে রাসূল!
আমি যখন জানতে পারলাম তোমার পরিচয়,
চিরজীবন্ত উসওয়া তোমার
তুলে ধরলো আমার সম্মুখে
তোমার আনিন্দ্য সুন্দর প্রতিকৃতি।
তোমার অনুপম চরিত্র মাধুরীর সজীবতা
জানালো আমায় তোমার সঠিক পরিচিতি।
জানলাম আমি – তুমি সর্বসুন্দর শ্রেষ্ঠতর মহামানব।
মধুর বচনে তোমার, থেমেছে মযলূমানের
করুণ রোদন।
তোমার বুকভরা অকৃত্রিম ভালোবাসা
শুকায়েছে অশ্রুভেজা গন্ডদেশ নির্যাতিতের।
চরম নিপীড়ন মুহূর্তেও ফুটেছে তোমার মুখে
দারাজ আশীষ।
এরপর আমি যখন দৃষ্টি প্রশস্ত করলাম
দেখলাম, যুগ-যুগান্তরে অসুন্দরের পথ থেকে
তোমার খুলকে আজীম – শতদল
ভ্রষ্ট জালিমদের এনেছে টেনে
সুন্দরের পথে।
এখনও দেখি, চতুর্দিক থেকে যখন
আমায় ঘিরে ধরে কুৎসিত অন্ধকার,
মানবতার শ্লোগানধারী হায়েনারা যখন
টুঁটি চেপে ধরে অসহায় বনী আদমের,
ইরাকে, ফিলিস্তিনে, সিরিয়ায়, আরাকানে
পশুদের অত্যাচারে মানবতা ডুকরে কাঁদে, নারীরা
সম্ভ্রম হারায়, হত্যা, লুণ্ঠন, চরম পাশবিকতা চলে
দেশে দেশে মুসলিমদের প্রতি
সহসা তোমার আদর্শের জ্যোতি,
তোমার মহান উদার চরিত্রালোক
আমাকে সাহসী পথ দেখায়
গহীন অন্ধকারে করে আলো বিকিরণ। আমি হই
সংগ্রামী বীর পুরুষ, আলোকিত মানবতার উদাহরণ।
তোমার তুলনা তুমিই হে রাসূল!
তুমি আমার একান্ত স্বজন।
পৃথিবীর শীত
মোস্তফা আল হোসাইন আকিল
 
আমাদের জমিনে স্নিগ্ধ হেমন্ত ছিলো
ছিলো স্বচ্ছ নীলিমা আর ফুলে ফলে সমারোহ।
হঠাৎ নিষ্ঠুর, নির্দয়, রুক্ষ শীত নেমে এলো
সোনালি সময়গুলো টুপটাপ ঝরে গেলো,
কুয়াশার গাঢ় চাদরে ঢাকা পড়লো মূল্যবোধ
নির্মল অনুভূতি উড়িয়ে নিলো হিম পবনের ক্রোধ,
শিশিরকতার মতো চিকচিক করা সূর্যকিরণে
মানুষগুলোও নেই কোথাও আর জমিনে,
পদতলে শুকনো পাতার বিষণ্ন মর্মরের মতো
হিল্লোলে শুনি মজলুমানের আহাজারি নিয়ত।
না জানি এ অবিনাশী শীত কবে ফুরাবে
কোন এক বসন্ত কি আর এসে দূর করবে
এ বেদনার বহর, আর্তনাদের প্রহর?
ভুলাবে কি বিষণ্নতার বীণ?
লুটাবে অত্যচারীর সংগীন?
নির্মল, নিষ্পাপ, নির্ভয় হাসি
ফিরিয়ে দেবে কি কভু
পৃথিবীর সুদীর্ঘ শীত সর্বনাশী?
[শিক্ষার্থী : আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight