ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.এর বীরত্ব, রিযিকদাতা

ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.এর বীরত্ব : খাদিজা বিনতে আঃ কাদির
হযরত আলী ইবনে আবি তালেব রা. বলেন, আমার জানা মতে প্রত্যেকেই গোপনে হিজরত করেছেন। একমাত্র ওমর ইবনে খাত্তাব রা. এমন ব্যক্তি যিনি প্রকাশ্যে হিজরত করেছেন। তিনি যখন হিজরত করার ইচ্ছা করলেন নিজের তলোয়ার গলায় বাঁধলেন এবং ধনুক কাঁধে ঝুলিয়ে নিলেন এবং কয়েকটি তীর হাতে নিয়ে বায়তুল্লাহর নিকট আসলেন। কুরাইশদের কতিপয় সর্দার সেখানে বসেছিলেন। হযরত ওমর রা. বায়তুল্লাহর সাত চক্কর তাওয়াফ করে মাকামে ইবরাহিমের নিকট এসে দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। তারপর মুশরেকদের এক একটি মজলিসের নিকট গিয়ে বললেন, এই সমস্ত চেহারা অপদস্থ হউক! যে ব্যক্তি চায় যে, তার মা পুত্র হারা হউক, তার সন্তানগণ এতিম হউক আর তার স্ত্রি বিধবা হউক সে যেন এই ময়দানের অপর পার্শ্বে এসে আমার সাথে সাক্ষাত করে। (তারপর তিনি সেখান হতে হিজরতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন) তাদের একজনও তার পিছু নিতে সাহস পাই নাই। আজ আমাদের হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রা. এর বীরত্ব কে ভূলে যাওয়ার কারনে ইসলামের দুশমনেরা মাথাচাড়া দয়ে উঠছে। আমাদের কে সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। যদি করতে পারি তাহলেই ইনশা-আল্লাহ, ইসলামের বিজয় আসবেই আসবেই।

 

 

 

রিযিকদাতা : সাইফুল ইসলাম আবু হানিফ:
একটি বৃক্ষের নিচে  কয়েকজন ডাকাত বসে আছে। বিভিন্ন কথা-বার্তা এবং গল্পের মধ্যে দিয়ে তাদের সময় কাটছে। কতা-বার্তার এক পর্যায়ে ডাকাত দলের যে সর্দার সে বললো , আমরা সবাই তো জানি যে, ডাকাতি করা খুব খারাপ কাজ, তা হলে আমরা কেন জেনে বুঝে এ কাজ করছি ? পাশের জন সর্দারের কথায় সায় দিল। অন্য একজন ডাকাত বললো আমরা ডাকাতি ছেড়ে দিলে কি করে খাব? আর আমাদের পরিবারই বা কি করে চলবে! সবাই তো না খেয়ে মারা যাবো। এরই মধ্যে তারা যে বৃক্ষের নিচে বসে আছে সে বৃক্ষে একটি কাক উড়ে এসে বসলো। কাকটির ঠোঁটে কিছু খাদ্য ছিল, কাকটির খাদ্য গাছের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে কিছুক্ষণ খুব আওয়াজ করে ডাকল। অতঃপর কাকটি চলে গেলো। এই কাকের কান্ডটি ডাকাত সর্দার দেখতে পেলো। কিছুক্ষণ পর কাকটি আবার খাদ্য নিয়ে ফিরে আসল। ডাকাত সর্দার সকলকে কাকটির র্কমকান্ডের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। সকলেই সমনোযোগ দিয়ে কাকটি কি করে তা দেখলো। কাকটি খাদ্য রেখ পূর্বের ন্যায় আওয়াজ করলো এবং কোথায় যেন উড়ে গেলো। খাদ্য নিয়ে কাকটি পুনরায় আসলো এবং খাদ্য রেখে চলে গেলো। এ ভাবে কয়েকবার হলো, ডাকাতদের কৌতুহল আরো বেড়ে গেলো। কাকটি বার বার খাদ্য নিয়ে আসছে আবার বারবার চলে যাচ্ছে এর কারণ কি? ডাকাত সর্দার একজনকে আদেশ দিলেন গাছে উঠার জন্য এবং কাকটি কেন বারবার খাদ্য রেখে চলে যায় তা দেখার জন্য। সর্দারের আদেশ অনুযায় একজন গাছের উপর উঠল এবং তা দেখতে পেল, যে স্থানে কাকটি বার বার খাদ্য রেখে যেত সেই স্থানে একটি অন্ধ সাপ বসে আসে। এবং কাকের রেখে যাওয়া সেই খাদ্য গুলো খাচ্ছে। সেই ডাকাত গাছ থেকে নেমে আসল। এবং  যা দেখে আসছে সব খুলে বলল, তার কথা শুনে সকলেই আশ্চর্য হলো। তারপর  দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার জন্য একে একে সকলেই সেই গাছের ডালে উঠে তা দেখে আসলো। অতঃপর সর্দার সবাইকে হতবাক করে দিয়ে বললো, আল্লাহ একটি অন্ধ সাপকে কাকের মাধ্যমে খাদ্য যোগান দিতে পারেন, তিনি ইচ্ছা করলে আমরা যদি ডাকাতি না করি তাহলে আমাদের কেও খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবেন। সর্দারের এই কথাটি সকলের অন্তরে রেখাপাত হয়ে গেল। অতঃপর সর্দার সহ সকলেই তওবা করলো এবং ডাকাতি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ ওয়ালায় পরিনত হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight