এক সাহাবীর মেহমানদারী -সানজিদা উম্মে সুমাইয়া

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। এদেশে বসবাসরত ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমন। প্রতিদিন সুবহে সাদিকের সময় লক্ষাধিক মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। আজানের ধ্বনি শুনে মুসলমানদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সমবেত হয় মসজিদে, এক সাথে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ইসলামের এ সুমহান আদর্শ দেখে বিজাতীরা ১৪শত বছর পূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। মুসলমানদের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্রের পথ তারা বেছে নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রায় দেড় হাজার বছর পর আজও এ ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে কালের বিবর্তনে তাদের ষড়যন্ত্রের কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান যুগকে আধুনিকতার শীর্ষ যুগ বলা হয়। মিডিয়াসহ নানারকম কৌশলের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমানকে ধংস করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের এ কৌশল অনেকটা সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে ঈমানের নূরকে বিদূরিত করে নাস্তিক্যবাদ ঢুকিয়ে দিয়েছে। একজন মুসলিম সন্তানের কলম থেকে ইসলামের পক্ষে, বাতিলের বিরুদ্ধে লেখা আসবে। কিন্তু আফসোস! আজ তারই কলম বাতিলের পক্ষে এবংহকের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সেসব নাস্তিকদের লেখা পড়ে সরলমনা মুসলমানদের ঈমানের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। দিন দিন বাংলার বুকে নাস্তিকদের আবাস বেড়েই চলছে। একদল নামধারী লেখকদের কু-রুচিপূর্ণ লেখা এবং মিডিয়ায় অশ্লীল ছবির ছড়াছড়িতে আজ যুব সমাজ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, ঘর থেকে বের হলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। পার্ক, উদ্যানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিবেকবান মানুষের প্রবেশ অনেকটা দুর্লভ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানের পরিবেশ স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বাসকেও হার মানায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাংলার বুকে অশ্লীল, বেহায়াপনা কাজের নিন্দা জানানোর কোন লোক খুজে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের এ চরম সংকটময় মুহুর্তে একদল সাহসী ওলামায়ে কেরাম ও একনিষ্ট ধার্মিক মানুষ কলমের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। অনেক বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলার বুকে বেশ কয়েকটি ইসলামী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্রিকাগুলোতে বর্তমান পেক্ষাপটে কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়। যাতে করে বাংলার প্রতিটি মুসলমান খুজে পায় সরল পথের দিশা। ইসলামী পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পত্রিকা মাসিক “আল-জান্নাত”। গত এক বছর যাবত আমি পত্রিকাটি পড়ছি। পত্রিকার প্রচ্ছদ এবং তথ্যবহুল লেখা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি এমন একটি পত্রিকা প্রতিটি মুসলমানের পঠন অপরিহার্য। কারণ, মিথ্যা, অশ্লীল কথা ও ছবির ছড়াছড়িতে বাজার যখন গরম, তখন ইসলামী পত্রিকাই একজন মুসলমানের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়ার একমাত্র সম্বল। ইসলামী পত্রিকার মাধ্যমে একজন মানুষ খুঁজে পেতে পারে তার জীবনে চলার পথের পাথেয় এবং সোনালি ভবিষ্যৎ। সত্য, ন্যায়ের মশালবাহী ওলামায়ে কেরাম ও ধর্ম পিপাসু লোকের মেহনত আল্লাহ যেন কবুল করে বাংলার যমীন থেকে নাস্তিক্যবাদকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেন। সদা এই কামনাই করি। পাঠিয়েছে : রুম্মান বিন আল মামুন, আল জামিআ ইসলামিয়া মদীনাতুল উলুম, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা।

এক সাহাবী নিজের একটি উট বিক্রি করার জন্য ছেলেকে বাজারে পাঠালেন। কিন্তু যাবার সময় ছেলেকে নসিহত করলেন যে, উটটি বিক্রি করার সময় উটের মধ্যে যে খুত/ খারাবী আছে তা অবশ্যই ক্রেতাকে জানিয়ে দিবে। তাতে কোন ক্রেতা উট কিনলে কিনবে, না হয় উটটিকে বাড়িতে ফেরত নিয়ে আসবে।
ছেলেটিও বাজারে উটটি বিক্রি করে বাবাকে টাকা দেওয়ার পর ছেলেকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি বিক্রির সময় ক্রেতাকে উটের ত্রুটির কথাগুলো বলেছিলে? কিন্তু ছেলে উট বিক্রির সময় সে কথা ভুলে যাবার কথা বললো- আর তাতে বাবা বললো, তাহলে তো তুমি বড় অন্যায় করে ফেলেছো। অতপর উক্ত সাহাবী তার ছেলেকে সাথে নিয়ে ক্রেতাকে খুঁজতে বের হলেন এবং খুঁজতে খুঁজতে ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। ক্রেতাও একজন সাহাবী ছিলেন তাই তিনি মেহমানদের সম্মানার্থে গোস্ত দিয়ে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করলেন। খাবার পর বিক্রেতা সাহাবী বললেন, ভাই! আমার ছেলে তো ভূল করে আপনার কাছে উটের ত্রুটিসমূহ প্রকাশ না করেই উটটি বিক্রি করে অনেক বেশি অন্যায় করে ফেলেছে। তাই এখন আমি আপনার কাছে উক্ত উটটির ত্রুটি সমূহ প্রকাশ করছি। তাতে যদি আপনি এখন উক্ত উটটি নিজের কাছে রাখতে চান তা পারেন অথবা যদি আপনি আপনার টাকা ফেরত নিতে চান তাও আমি খুশি খুশি ফেরত দিবো বলে উক্ত টাকাগুলো বের করে তার হাতে দিতে চাইলেন। কিন্তু ক্রেতা সাহাবী বললেন, তা আর দরকার নাই। কারন আমি উটের সব ত্রুটি জানার পরও তা উক্ত দামে কিনতে রাজি আছি। আর তাছাড়া উক্ত উটটি এখন আর আপনাকে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ আপনারা যখন মেহমান হয়ে আমার ঘরে আসেন তখন আপনাদের মেহমানদারি করার মতো আমার ঘরে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমি আপনার কাছ হতে ক্রয়কৃত উটটিই জবাহ করি এবং আপনাদের আপ্যায়ন করি।
সত্যি, এটাই হলো সত্যিকারের ইসলামী জীবনব্যবস্থা। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে আজ মুসলমান দোকানদারও নিজেরদের দোকানে নোটিশ টাঙ্গিয়ে রাখে- “বিক্রিত মাল ফেরতযোগ্য নয়।” অথচ হাদীস শরীফে বিক্রিত মাল ফেরত নেওয়ার মধ্যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই সমস্ত সোনালি মানুষদের অনুসরণ করার তোফিক দান করুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight