একজন সংগ্রামী যোদ্ধার কথা : অনুলিখিকা- কন্যা নূরে ইয়াসমিন ফাতেমা

Upnnas

মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম –
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম,
আজ আমি কিছু লিখবো, তা হলো আমার পিতা নূরুল ইসলাম সাহেবের মুখে শুনা কিছু ওয়াজ। তিনি প্রায় সময়ই সময় পেলে হাদীস কুরআন মোতাবেক আমাদের কিছু শুনান এবং উৎসাহ দেন যেন বেশি বেশি আল্লাহর হুকুম মেনে চলি আর রাসূর সা. এর সুন্নাহকে সম্মান করি।
আল্লাহ তাআলা দান করাকে সম্মানী ও রবকতময় করেছেন তেমনই কৃপণতাকে হীন করেছেন। কিন্তু অপচয় হচ্ছে জঘন্যতম একটি পাপ। যেমন কুরআনে বলেছেন, অপচয়কারী শয়তানের ভাই-ব্রাদার। [সূরা ইসরা : ২৭]
আজকের বিষয়বস্তু নিয়ে আমার পিতাজীর এটাই ছিল মূল বক্তব্য বা ওয়াজ। তিনি বলেন, একবার হযরত সা. এর কাছে এক অসহায় ব্যক্তি বললেন, হে আমার আল্লাহর রাসূল সা.! আমাকে কিছু দান করুন, আমি নিতান্ত অসহায় এবং গরীব। আমাকে কিছু দান করুন। তখন নবী সা. বললেন, ওহে! তুমি উসমান রা. এর কাছে যাও। ঐ দরিদ্র ব্যক্তি উসমান রা. এর বাসায় যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। তিনি তার পাশে বসলেন, তখন দরিদ্র ব্যক্তি দেখলেন চেরাগের কিছু তেল মাটিতে পড়ে গেল, তখনই উসমান রা. তা নিংড়িয়ে উঠাতে লাগলেন। এ দেখে দরিদ্র ব্যক্তি চলে গেলেন এবং নবী সা. কে বললেন, তিনি তো আমার চেয়ে গরীব। নবী সা. আবারও বললেন, তুমি উসমান রা. এর কাছে যাও। এই ভাবে তৃতীয়বারও ফেরত আসলেন এবং নবী করীম সা. একই কথা বললেন, পরে শেষের বার গরীব লোকটি উসমান রা. কে বললেন, আমাকে আল্লাহর নবী পাঠিয়েছেন আপনার কাছে, আমাকে কিছু দান করার জন্য। তখন উসমান রা. বললেন, ভাই! তুমি আমার সিন্ধুক এর চাবি নিয়ে সিন্ধুক খুলে তোমার প্রয়োজনমতো যা লাগে তা নিয়ে একটিউটের পিঠে করে চলে যাও। দরিদ্র লোকটি তাই করলেন।
মাশাআল্লাহ এখানে আমাদের শিখার বিষয় হলো, আমাদের যা আছে তা অকাতরে দান করতে হবে। কারণ দানে আছে বরকত। আর এটা হচ্ছে আল্লাহ তাআলার গুণ। আর ঠিক একইভাবে ধন দৌলত থাকলেই অপচয় করা যাবে না। আমাদের জীবনের সর্বদিক দিয়ে সময় ও অপচয় রোধ করে মানুষ ও অসহায়দের আর্তনাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের যা না করলেই নয় ততটুক খরচ করে বাকী টাকা আল্লাহর রাস্তায় অনাথ, এতিম, মুসাফির, গরীব আত্মীয়, দুঃস্থ অনাত্মীয়ের মাঝে বিলাতে হবে। না হয় কেয়ামতের ময়দানে যে হিসাব হবে তা হবে ভয়ংকর। তখন কোন কিছুরই মূল্যায়ন হবে না। শুধু মাত্র দান দক্ষিণার আমলই বেঁচে থাকবে। অযথা গাড়ি চালিয়ে, পেট্টোল পুড়িয়ে বাসার মধ্যে অযথা খরমযঃ/ ঋধহ চালিয়ে রাখা একটা বিরাট হারাম কাজ। মানুষের হাজতের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে আমাদের যার যেমন আছে তা নিয়ে। আমার অপচয় না করার  কারণে যদি একজন এতিম/দুঃস্থ উপকারিত হয় তার চেয়ে আনন্দের বিষয় কী হতে পারে?
তিনি আরো বললেন, মানুষকে ধৈর্যশীল হতে হবে এবং সে জয়ী হবেই ইনশাআল্লাহ। তার মতে দুনিয়াতে সম্পদশালী হওয়ার চেয়ে সম্পদ দানকারী অতন্ত উৎকৃষ্ট। তিনি আমাদের ওসিয়ত করলেন, ইনকাম এর ৯০% যেন আল্লাহর রাস্তায় দান করি। আল হামদুলিল্লাহ। মানুষের মৃত্যুর পর তিনটি জিনিস জীবিত থাকে: (১) সাদ্কায়ে জারিয়া। (২)  দীনের (উপকারী) এলেম। (৩) সু-সন্তানের দোয়া। [বুখারী : হা.১৬৩১]
তাই তিনি আমাদের উপদেশ দিলেন যে, সম্পদ সম্পদ না করে যেন সম্পদকে আল্লাহর রাস্তায়, দীনের রাস্তায় খরচ করি। আর ক্ষমাশীল হতে পারা এটা একটা মহৎগুণ। এটায় আল্লাহর গুণ। কেউ যদি কারো ক্ষতি করে তবে সে যেন পারতপক্ষে ক্ষমা করে দেয়, যদি সে ক্ষমার যোগ্য হয়। আর যদি সে ক্ষমা না চায় তবে সু-সংবাদ এই যে, কেয়ামতের দিন ঐ মুসলিম ব্যক্তির যদি কোন নেক আমল থাকে তবে ঐ নেক আমল তাকে দিয়ে দিতে হবে সে যার ক্ষতি করেছিল দুনিয়াতে আর্থিকভাবে, শারীরিকভাবে এবং মানবিকভাবে। আর যদি তার তেমন নেক আমল না থাকে তবে, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির বদ আমলগুলো তাকে নিতে হবে এবং জাহান্নামে জ্বলতে হবে। আর যদি কোন হিন্দু ব্যক্তি কোন মুসলিমের ক্ষতি করে তবে কেয়ামতের দিন যেহেতু ঐ হিন্দু ব্যক্তির কোন আমলই থাকবে না, তাই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির বদ আমল হিন্দু ব্যক্তিকে দান করা হবে এবং সে ঐভাবে আরো বেশি আগুনে জ্বলবে, এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি জান্নাত লাভ করবে দ্রুত।
এই কথা শুনারপর আমার মনটা অটোমেটিক ভাল হয়ে গেল। কারণ এই পৃথিবীর বুকে আমাকে আত্মীয়/অনাত্মীয় বহু লোক ঠকিয়েছে। কষ্ট দিয়েছে। তাই আমি মনে করি দুনিয়াতে এসবের ফল না পেলেও আখেরাতে পাবো ইনশাআল্লা…।
আমার প্রাণ প্রিয় পিতাজী আরো বললেন, দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো, ধৈয্য ধারণ করা। কারণ নবী সা. এর সাথে যখন সাহাবিগণ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার সময় অনেক আহত হয়ে ময়দানে পড়ে থাকতো, তখন কেউ পানি পান করাতে আসলে, আহত সাহাবিগণ বলতেন আমাকে নয়, আমার পাশের ভাইকে দাও আগে। তার কাছে গেলে আর সেও বলতো ভাই আগে আমাকে নয় পাশের জনকে দাও। এইভাবে একজন আর একজনের প্রতি সদয় দেখাতে দেখাতে সকলই শহীদ হয়ে যেতেন।
আহ্ একটু চিন্তা করলে আমার ভাই ও বোনেরা, মৃত্যের মুখামুখি হয়েও সাহাবিগণ কতই না ধৈর্যশীল হয়ে পড়তেন এবং দয়াসদয় প্রদর্শনে প্রতিযোগিতা করতেন।
আর আমরা আজ এক ভাই অন্য ভায়ের সম্পদের আত্মসাতের প্লান করি।  নিজে গীবত করে অন্যজনকে গীবতকারী বলি। কে কাকে অর্থের লোভে ঠকাবো সেই চিন্তা নিয়েই থাকি মশগুল।    চলবে…..।


4 মন্তব্য রয়েছেঃ একজন সংগ্রামী যোদ্ধার কথা : অনুলিখিকা- কন্যা নূরে ইয়াসমিন ফাতেমা

  1. তানজিম আহমেদ says:

    সম্পূর্ণ লেখাটিই অনেক ভাললেগেছে। লেখায় উদৃত ‍”দুনিয়াতে সম্পদশালী হওয়ার চেয়ে সম্পদ দানকারী অত্যন্ত উৎকৃষ্ট।” বিশেষ করে এই লেখাটি পড়ে বুঝা যায় তাদের দানশীলতার বৃহত হাতের পরিধি অবশ্যই অপরিশিম। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীর সকল মানুষের দানকে কবুল করুন। আমীন।

  2. মো. তৌকির সিদ্দিক says:

    খুব ভালোলাগল।

  3. KAZI SHIFAT HASAN says:

    Mon theke Ontor atta theke a bishoye bishshas thakte hobe. ALLAH is the Creator of all.

  4. ইশতিয়াক আহমেদ says:

    আল্লাহু রাব্বুল আল আমিন চেয়ারম্যান স্যার কে সুস্থ রাখুন ও অনেক অনেক হায়াত হায়াত দারাজ করুন, অামি স্যার কে খুব কাছ থেকে দেখেছি উনার মত বড় আত্মার মানুষ পৃথিবীতে খুব কম অাছে……………….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight