ঈদুল ফিতরে আমাদের করণীয়

ঈদ আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার ও বিশেষ নেয়ামত। এ দিনে অনেক কাজ আছে যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হতে পারি এবং ঈদ উদযাপনও একটি ইবাদতে পরিণত হতে পারে। ঈদুল ফিতরে আমাদের কী করণীয় সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
ফজরের নামায জামাতে আদায় করা : আমাদের দেশের অনেকেই ফজরের নামায আদায় করে না। ঈদের জামাতের জন্য ফজরের নামায জামাতে পড়ার গুরুত্বও দেয় না। অথচ ঈদের নামাযের চেয়ে ফজরের নামাযের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ঈদের সালাত আদায় করা : ঈদের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঈদের সালাত আদায় করা। প্রকৃতপে একজন ঈমানদার বান্দা নামায আদায়ের মাধ্যমে বেশি আনন্দিত হয়ে থাকে। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা. ঈদুল-ফিতরের দিনে বের হয়ে দু’রাকাত ঈদের নামায আদায় করেছেন। এর পূর্বে ও পরে অন্য কোনো নামায আদায় করেন নি। [সহিহ বুখারি : ৯৮৯]
ঈদের দিন গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা : ঈদের দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। কেননা এ দিনে সকল মানুষ সালাত আদায়ের জন্য মিলিত হয়। ইবনে উমর রা. থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত যে তিনি ঈদুল-ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। [সুনান বায়হাকী : ৫৯২০]
পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া : ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নত। আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : সুন্নত হল ইদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া। [তিরমিযি : ৫৩৩]
যে পথে যাবে সে পথে না ফিরে অন্য পথে ফিরে আসা :  জাবের রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করিম সা. ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন [সহিহ বুখারী: ৯৮৬] অর্থাৎ যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে আসতেন। [যাদুল-মাআদ]
ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে তাকবীর পাঠ করা : তাকবীর পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব  প্রকাশ করা হয়। তাকবীর হলো ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ বাক্যটি উচ্চৈঃস্বরে পড়া।
নতুন ও সাধ্যমত পোশাক পরিধান করা : ঈদে উত্তম জামা-কাপড় পরিধান করে ঈদ উদযাপন করা। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত যে তিনি দুই ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। [বায়হাকি]
ঈদের খুতবা শ্রবণ করা : ঈদের খুতবা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। এতে মুসলিমদের সামাজিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে।
দোয়া ও ইস্তেগফার করা : ঈদের দিনে আল্লাহ তাআলা অনেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। মুআরিরক আল-ইজলী রহ. বর্ণনা করেন, ঈদের এই দিনে আল্লাহ তাআলা একদল লোককে এভাবে ক্ষমা করে দেবেন, যেমনি তাদের মা তাদের নিষ্পাপ জন্ম দিয়েছিল। [লাতা-ইফুল মাআরিফ]।
গরিব ও অসহায় মানুষের সাহায্য করা  : ঈদের আনন্দ ধনী-গরিব সকলের মধ্যে ভাগ করে নেয়া। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী তাদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করা। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সা. অপরের কষ্ট দূর করা ও অপরকে সাহায্য করার প্রতি উৎসাহিত করে বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের কষ্ট দূর করে দেবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতে তার কষ্ট দূর করে দেবেন [সহীহ মুসলিম ৭০২৮]।
ফিতরা দেয়া : রমজান মাসের সিয়ামের ত্রুটি- বিচ্যুতির পূরণার্থে এবং অভাবগ্রস্তদের খাবার প্রদানের উদ্দেশ্যে ঈদের সালাতের পূর্বে নির্ধারিত পরিমাণের যে খাদ্যসামগ্রী দান করা হয়ে থাকে- শরীয়াতের পরিভাষায় তাকেই যাকাতুল ফিত্র বা ফিতরা বলা হয়। এ সম্পর্কে ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. ফিতরা নির্ধারণ করলেন এক সাআ’ খেজুর বা এক সাআ’ জব। তিনি স্বাধীন, দাস, নারী-পুরুষ সবার উপর ফেতরা ওয়াজিব করলেন এবং ঈদের সালাতে যাওয়ার পূর্বে তা আদায় করার আদেশ দিলেন। [সহীহ বুখারী : ১৫০৩]
আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া :  ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে আখেরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে।’ [সহীহ বুখারী : ৬১৩৮]
প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নেয়া :  ঈদের সময় প্রতিবেশীর হক আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকট আত্মীয়Ñপ্রতিবেশী, অনাত্মীয়Ñপ্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সঙ্গী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী। [সূরা নিসা : ৩৬]
মনোমানিল্য দূর করা :  জীবনচলার পথে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। ঈদের সময় পারস্পরিক মনোমানিল্য দূর করা ও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উত্তম সময়। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। যে আল্লাহর সাথে শিরক করে তাকে ব্যতীত সে দিন সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়; কিন্তু ঐ দু’ভাইকে ক্ষমা করা হয় না যাদের মাঝে হিংসা ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। [সহীহ মুসলিম : ৬৭০৯]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight