ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব / তানভীর রহমান

জাহেলিয়াতের বর্বরতা দ্বারা উত্তপ্ত আরবের ঊষর ভূমিতে ন্যায়ের ফুল ফোটাতে, মূর্খতার ব্যধিতে আক্রান্ত মানুষের কলুষিত অন্তরকে ঈমানী আলোতে আলোকিত করতে, আধার বিশ্বে হেদায়েতের সূর্যোদয়ের মাধ্যমে সত্যের আলো ছড়াতে আল্লাহপাক দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সর্দারে আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। অতঃপর কাক্সিক্ষত শুভলগ্ন যখন সমাসন্ন তখন ৪০ বছর বয়সে হেরার নির্জন গুহায় ধ্যানমগ্ন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবুয়ত দান করলেন। তাঁর দায়িত্ব একটাই, অন্যায় ও অবিচারের স্তূপে ইসলামের বিজয় নিশান গৌরবের সাথে উড়ানো। আল্লাহর আদেশ পালনার্থে তিনি স্বীয় কাজে লেগে গেলেন। আরবের প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিলেন ইসলামের সুবাস। সেই সুবাসে বিমোহিত হয়ে আরবকন্যা খাদীজা ঢেলে দিলেন তাঁর সমুদয় সম্পদ। বন্ধু আবু বকরও দেরি করলেন না। তিনিও সাক্ষ্য দিলেন সেই সুবাস সত্য হওয়ার প্রতি। কিশোর আলীও মুগ্ধ হয়ে আসলেন ইসলামের সুবাস পেতে। শত শত সৈনিকের দাম্ভিকতার শির কর্তনকারী উমরও অংশগ্রহণ করলেন সেই ছোট্ট কাফেলায়। আস্তে আস্তে অনেকেই গ্রহণ করলেন সেই শাশ্বত বাণীকে। কিন্তু কাফেররা সেই শান্তির বাণীকে সহ্য করতে পারল না। ষড়যন্ত্র শুরু করে দিল। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরবের রাজত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করল, অঢেল ধন-সম্পদ উপঢৌকনস্বরূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করল। কিন্তু শর্ত একটাই, ইসলামের প্রচার-প্রসার করা যাবে না। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদের লোভে পড়লেন না। বরং স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিলেন যে, তিনি তাঁর স্থান থেকে সরতে পারবেন না। এরপর কাফেররা তাঁর উপর এবং সাহাবীদের উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে দিল। তবুও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে অনড়। কারণ, তিনি জানতেন, এটা কোনো কবির বানানো কাব্য নয়, নয় গণকের তৈরি কোনো মন্ত্র। বরং এটি তো খোদপ্রদত্ত জীবন বিধান। দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের শান্তির পাথেয়। সেই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করার পরও তিনি ধৈর্যের সাথে দাওয়াতের কাজ করে গেলেন। ধীরে ধীরে আল্লাহ তাআলা ইসলামের বাণীকে সমুন্নত করলেন। শরাবের পাত্রে বিভোর হয়ে থাকা আরব জাতি হয়ে গেল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। ইসলামের সেই শ্রেষ্ঠত্ব অবিকৃত অবস্থায় স্বগৌরবে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। এখনও বহু মানুষ ইসলামের সৌরভে ব্যাকুল হয়ে গ্রহণ করছে সেই শান্তিময় বাণীকে। কেননা, ইসলামের মত উদার ও মহৎনীতির নজির অন্য কোন ধর্ম দেখাতে পারবে না। ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা পরস্পরের মাঝে কোনো ভেদাভেদ সৃষ্টি করেনি। উদাহরণ স্বরূপ নারীদের বিষয়টা বিবেচনা করা যাক। ইহুদীদের মতে, নারীর গুনের চেয়ে পুরুষের দোষও ভাল। খ্রিষ্ট ধর্মে বলা হয়েছে, নারী হল নরকের দ্বার। হিন্দুদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের কোন উত্তরাধিকার নেই। বৌদ্ধরা বলে, নারী সকল পাপের মূল। কারো কারো মত হল, নারীরা শয়তানের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু ইসলাম বলে, মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত। নারীদের রিযিক অন্বেষণ করতে হবে না। পুরুষই তাদের যিম্মাদার, তারাও পাবে উত্তরাধিকার। এভাবে সমাজের প্রতিটি শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে ইসলাম সাম্যের বিধান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এজন্যই তো বিধর্মীরাও আজ ইসলামের বিধানকে গ্রহণ করেছে। আমাদের সকলেরই উচিত, ইসলামের শান্তিময় বিধানকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আনয়ন করা। ইনশাআল্লাহ, তাহলে সমাজ শান্তিতে ভরে উঠবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিকভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight