আহ্ যুবকরা যদি এমন হতো : ইউসুফ আহমেদ

একদিন এক যুবক জীবিকার উদ্দেশ্যে, মক্কার নগরীর অলি গলি দিয়ে হাঁটছিলো। হঠাৎ চোখে পড়লো, রাস্তার মাঝে একটা হার পড়ে আছে। আশেপাশে আর কেউ নেই, দেখে হারটা উঠিয়ে নিলো। মালিকের খোঁজে হেরেম শরীফে এলো। এমন সময় একটা ঘোষণা কানে এসে ধাক্কা দিলো: আমার একটা হার হারিয়ে গেছে। যদি কোনো দয়ালু ব্যক্তি পেয়ে থাকেন আল্লাহর ওয়াস্তে দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন। সঙ্গে সঙ্গে যুবকটা এগিয়ে গেল আর বলল- আমি একটি হার পেয়েছি, আপনার হারটা কেমন, বর্ণনা দিন তো ? বর্ণনা মিলে গেলে হারটা আমি হস্তান্তর করব। হারের বর্ণনা মিলে গেল আর যুবকটি হারটাও ফিরিয়ে দিল।
আশ্চযের্র বিষয় হল লোকটা হারখানা নিয়ে টু-শব্দটিও করলো না। সোজা গটগট করে হেঁটে চলে গেলো। সামান্য ধন্যবাদটুকুও দিল না। যুবকটি আল্লাহর কাছে দোআ করল- ইয়া আল্লাহ! আমি এই সামান্য কাজটুকু যদি আপনাকে সন্তুষ্ট করার জন্যই করে থাকি, তাহলে আপনি আমার জন্য এর চেয়েও ভালো কিছু প্রতিদান জমা করে রাখুন। আমীন ।
এরপর যুবকটি রুযী-রোযগারের উদ্দেশ্যে একটি জাহাজে চড়ে বসল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, জাহাজ পড়লো ঝড়ের কবলে। পুরো জাহাজ ভেঙে ল-ভ- হয় গেলো। হাতের কাছে যে যা পেলো ওটা ধরেই ভেসে রইলো। যুবকটি জাহাজের একটি ভাঙ্গা তক্তায় চড়ে বসলো এবং ভাসতে ভাসতে একটা দ্বীপে গিয়ে উঠল। দ্বীপে উঠে কিছু দুর হাঁটতেই চোখ পড়ল একটা মসজিদের প্রতি। মন খুশি হয়ে উঠলো তার। মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করল। নামায আদায়ের পর বসে বসে ভাবতে লাগলো, আমার তো যাওয়ার আপাতত কোনও জায়গা নেই। আনমনা হয়ে আর কোথায় ঘুরব! মসজিদে এদিক ওদিক তাকাতেই একটা কুরআন শরীফ দেখতে পেল। শুধু শুধু বসে না থেকে ওটাই তিলাওয়াত করতে শুরু করল। কুরআন খানা পড়তে দেখে উপস্থিত মুসাল্লীরা সবাই তার চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো। অবাক হয়ে সবাই প্রশ্ন করলো- আপনি কুরআন পড়তে পারেন!
যুবকটি বলল- জ্বী, পারি।
তারা বললো, আমাদের কাছে এই কুরআনে কারীম অনেক দিন ধরে পড়ে আছে। আমরা এটা পড়তে পারি না। আমরা এটাকে পরম যতেœ রেখে দিয়েছি। এক নাবিকের কাছ থেকেই আমরা এটা কিনেছিলাম। আমাদের এই দ্বীপে আগে একজন ছিলেন, তিনি এই কুরআন পড়তে পারতেন। ঠিকঠাক করা ছিলো, তিনিই সবাইকে কুরআন শিক্ষা দিবেন। এরপর তিনি হজে গেলেন। তো আর ফিরে আসেননি। এখন আপনি আমাদেরকে আমাদের সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষা দিন। যুবকটি দ্বীপের বাচ্চাদেরকে কুরআন কারীম শিক্ষা দিতে লাগল। তাদেরকে অন্যান্য লেখাপড়াও শেখাতে থাকল। কিছুদিন পর এলাকার মুরুব্বিরা বললেন- আমাদের এলাকায় একজন ইয়াতীম মেয়ে আছে। তার টানা টানা চোখ, চাঁদের ন্যায় গোলাকার চেহারা, লতার ন্যায় কুন্তল রাশি সুদন্তী, সুভাষীনী সোহাগীনী, এক কথায় সে যেন ডানাকাটা পরী। আপনি কি তাকে বিয়ে করবেন?
যুবকটি: মেয়েকে না দেখেই বলল আমার কোনও আপত্তি নেই। এরপর একটা দিন ধার্য্য করে তাদের বিয়ে হয়ে গেলো। বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে দৃষ্টি বিনিময় করতেই অবাক! যুবকটি তাকে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। কারণ এ যেন মানব কন্যা নয়, স্বর্গ থেকে পালিয় আসা স্বর্গপরী। তার থেকে চোখ ফিরাতে মন চায়না। যাহোক, যুবকটি দেখল তার গলায় মক্কায় কুড়িয়ে পাওয়া সেই হার ঝুলছে। জানতে চাইল- এই হার তোমার কাছে কিভাবে এলো? নববধূ লাজুক মুখে গোলাপী ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসির রেখা টেনে উত্তর দিলো- এটা আমার আব্বু হজে গিয়ে আমার জন্য খরিদ করে এনেছিলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে এই হারটি আব্বু হারিয়ে ফেলেছিলেন! কিন্তু এক মহত ব্যক্তির বদান্যতায় হারটা ফিরে পেয়েছিলেন। তারপর থেকে আব্বু সব সময় তার জন্য দু’আ করতেন, আর বলতেন “ইয়া আল্লাহ্! আমার মেয়ের জন্য, মক্কার ঐ মহত ব্যক্তির মতো এমন একজন স্বামী মিলিয়ে দিন। তারপর যুবকটি যারপর নাই খুশী হল এবং মনের অজান্তেই বলে ফেলল- ‘সুবহানাল্লাহ্।’ যুবকটি ঘটনার ইতিবৃত্তি টানল তার নববধুর কাছে। নববধুও ঘটনা শোনে যারপর নাই খুশিতে আটখান।
শিক্ষা : এভাবেই আল্লাহ তাআলা পূণ্যবানদের পুণ্যের প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তন্মধ্যে কিছু কিছু কখনো বা দুনিয়াতে দিয়ে অন্যের জন্য শিক্ষার নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আর আখেরাতে তো সফলতার স্বর্ণশিখর তাদের জন্য রয়েছেই।
পাঠিয়েছে : শিক্ষার্থী, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight