আহলান সাহলান মাহে রমজান

Sampadokia-150x150

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাদের হেদায়েতের জন্য আসমানী কিতাব পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা. এর উপর এবং তার পরিবার পরিজনের উপর।
মহাকালের একটা অজানা অথচ নির্দিষ্ট অংশকেই আমরা জীবন বলি। জীবনসমূহের এ সম্মিলিত রূপকে সময় নাম দিয়ে আমরা গুনে যাচ্ছি সেকে-, মিনিট, ঘন্টা, প্রহর, দিন, সপ্তাহ, পক্ষ, মাস, বছর, যুগ ও শতাব্দীরমত কিছু শব্দ দিয়ে। আমাদের নিকট অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যত হিসেবে চলছে গতিময় সময়, অথচ সময়ের স্রষ্টার নিকট সবটুকুই বর্তমান। তবুও আমাদের এ গতিময় সময়ের নানা অংশে বিশ্বস্রষ্টা ঢেলে রেখেছেন অশেষ দয়া, দান ও ক্ষমা। সময়ের তেমনি একটি অংশ বাৎসরিক রমজান মাস।
মুসলমানদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। এ মাসে মুসলমানগণ বিশ্বস্রষ্টার অনুগ্রহ, দান ও ক্ষমা অন্য সকল সময়ের চেয়ে বেশী লাভ করে থাকে বলে কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য। তাই মুসলমানগণ এ মাসে সিয়াম সাধনা, ইফতার, সেহরী, তারাবীহ্, তিলাওয়াতসহ নানাবিধ ইবাদাতে মশগুল থাকেন।
রমজানের সিয়াম সাধনার গুরুত্ব ও ফযীলত অনেক আয়াত ও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, হে মোমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছ, যেমনি ফরজ করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর-যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। [সূরা বাকারা : ১৮৩]
রমজান মাস দোআ কবুলের মাস। বিশ্বনবী সা. এরশাদ করেছেন, কেউ যখন রমজানের প্রথম রোযাটি করে ফেলে তখন আল্লাহ পাক তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন। [বুখারি শরীফ]
নবী করীম সা. এরশাদ করেছেন, রমজান মাসে মানুষের আমলের সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয় ।
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সা. বলেছেন, কেউ যদি মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যাচার পরিত্যাগ না করে, শুধু খাদ্য ও পানীয় পরিত্যাগ করে, পরনিন্দা করে পরচর্চা করে, আল্লাহর সে রোযার কোনো প্রয়োজন নেই। [বুখারি শরীফ] মহানবী সা. আরো বলেন, এমন অনেক রোযাদার আছে তাদের রোযা দ্বারা শুধু পিপাসাই লাভ হয়। [দারেমি]
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা যখন রোযা রাখবে, তখন অশ্লীল বাক্যালাপ করবে না। চেঁচামেচি করবে না। যদি কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে বা তোমাকে গালি-গালাজ করে, তবে বলে দেবে, আমি রোযাদার। (ঝগড়া-ফ্যাসাদ আমার পক্ষে সাজে না।) [বোখারি, মুসলিম]
রমজান হল কুরআন নাযিলের মাস।  মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। [সূরা আল বাক্বারাহ – ১৮৫]
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের মাহাত্ম বুঝার এবং সেই অনুযায়ী আমাল করার তাওফিক দান করুন। সাথে সাথে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ আহলান সাহলান মাহে রমজান

  1. জসিম says:

    সুন্দর একটি সম্পাদকীয় লেখেছেন। অল্প কথায় অনেক কিছু ঢুকে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight