আসহাবুল আরাফ : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

আরাফের পরিচয় : জান্নাতবাসী এবং জাহান্নামবাসীদের মাঝখানে একটি দেয়াল থাকবে তার নাম আরাফ। সেখানে কিছু মুসলমাকে অস্থায়ীভাবে রাখা হবে, যাদের নেকি বদি সমান সমান হবে। তারা আরাফের উপর থেকে জান্নাত জাহান্নাম দেখতে পাবে, তারা জান্নাতি এবং জাহান্নামিদের দেখে চিনবে এবং তাদের সাথে কথা বলবে। যার বিবরণ কুরআন শরীফের সূরা আরাফে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, উভয়ের(জান্নাতি-জাহান্নামিদের) মাঝখানে একটি প্রাচীর হবে এবং আরাফের উপর অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে নিজ নিজ চিহ্ন দ্বারা চিনে নিবে। জান্নাতিদের ডেকে বলবে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কিন্ত প্রবেশের আগ্রহী হবে।
তারা জান্নাতি বা জাহান্নামিদের সবাইকে চেহারা দেখে চিনে নিবে এবং আরাফবাসীরা জান্নাতিদের ডেকে বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আরাফবাসীরা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তবে প্রবেশের জন্য খুবই আগ্রহী হয়ে থাকবে। (অবশেষে তাদের আশা পূর্ণও হবে)
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামিদের উপর পড়বে তখন বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা আমাদের জালেমদের সঙ্গী করবেন না। অতপর আরাফবাসীরা জাহান্নামিদের তিরস্কার সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে,‘আরাফবাসী জাহান্নামিদের অনেককে তাদের চিহ্ন দেখে চিনবে। তাদের ডেকে বলবে, তোমাদের দলবল এবং অহংকার কোন কাজে আসেনি। এরা কি তারাই যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম খেয়ে বলতে, আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না, অথচ তাদের রহম করে বলা হয়েছে, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই। আর তোমরা দুঃখিতও হবেনা। [বয়ানুল কুরআন]
আরাফবাসী অবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাত জাহান্নাম উভয় স্থানকেই আল্লাহ পাক বিনিময়ের স্থান নির্ধারণ করেছেন। জান্নাত পাওয়া প্রকৃত সফলতা, আর জাহান্নামে যাওয়া হচ্ছে সীমাহীন ব্যর্থতা। জাহান্নামি হওয়াই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এর চেয়ে বেশি আর কোন ক্ষতি নেই। এ দুনিয়াতে মানুষ সফলতার পিছনেই ছুটতে থাকে। শত বিপদ আপদ মাড়িয়েও সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছাঁতে চেষ্টা করে। সফলতার জন্য দঃখ মুসীবত হাসি মুখে মেনে নেয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদেরকে কিতাব, রাসূল এবং আম্বিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে হাশর-নশর হিসাব-কিতাব মিযান পুলসিরাত এবং জান্নাত জাহান্নামের অবস্থা, চূরান্ত কামিয়াবি ও চূড়ান্ত ব্যর্থতার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আমলে সালেহ করার জন্য জোর তাগিদ দিয়ে উৎসাহিত করেছেন। আর বদ আমল থেকে ফিরানোর জন্য জোর তাগিদ দিয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন।
দুনিয়াতে যারা আসে তারা অবশ্যই কষ্ট ক্লেশ মেহনত সাধনা করে। তারা নেকও করে বদও করে এবং জান মাল ও সময় ব্যয় করে। বড় হতভাগা সে , যে লোকদের সর্বোত্তম পুঁিজ জীবন ও সম্পদ জাহান্নামের কাজে ব্যয় করে নিতান্ত নিন্মমানের বস্তু কিনেছে। মৃত্যু তো সবারই হবে, তবে তার মৃত্যুই উত্তম যে জান্নাতের জন্য  বেঁেচ থাকে এবং মৃত্যুবরণ করে। যারা জান্নাতের জন্য বেঁেচ থাকে মৃত্যুবরণ করে প্রকৃতপক্ষে তারাই সফল। সূরা আল ইমরানে এরশাদ হয়েছে।
প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর তোমরা কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বিনিময় প্রাপ্ত হবে, তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তারা কামিয়াবি হবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার সম্পদ ছাড়া আর কিছুই নহে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন হযরত আদম আ. কে দুনিয়াতে পাঠান তখন তাকে বলেছিলেন যে, যে আমার হেদায়াতের অনুসরণ করবে তার চিন্তাও নেই শংকাও নেই। আর যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবেনা, কুফরী করবে এবং আমার আহকামকে মিথ্যা বলবে, সে জাহান্নামি হবে এবং সেখানে অনন্তকাল থাকবে। সূরা ত্বহা এবং সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এ ঘোষনা শুনেছে এবং আল্লাহর হেদায়াত মেনেছে, নিঃসন্দেহে সে গোমরাহ হবেনা এবং আখরাতেও বিফল হবে না। আর যে দুনিয়াতে আল্লাহর হেদায়াতের প্রতি পৃষ্টপ্রদর্শন করবে। আল্লাহর আহকামকে মিথ্যা বলবে, সে হবে জাহান্নামি এবং সেখানেই চিরকাল থাকবে।
আল্লাহ পাক আমাদের জান্নাত নসীব করুন, জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

সমাপ্ত

2 মন্তব্য রয়েছেঃ আসহাবুল আরাফ : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

  1. লুতফুর রহমান says:

    ভাল লেখা। অনেক ভাল লাগল। লেখিকাকে ধন্যবাদ।

  2. লেখাটি অসাধারণ হয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের জান্নাত নসীব করুন, জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
    লেখিকাকে আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight