আল্লাহর বড়ত্ব ও সৃষ্টি নৈপূণ্য : জোবায়েরুল ইসলাম

Zikra

পূর্ব প্রকাশিতের পর…
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলী তার যাতের সাথে সম্পৃক্ত এবং তাঁর জন্য শোভনীয়। তিনি সকল সৃষ্টির কল্পনার ঊর্ধ্বে, খেয়ালাতের (কল্পনার) ঘোড়া দৌড়াতে দৌড়াতে স্তব্ধ হয়ে যাবে, স্তব্ধ হয়ে অবস হয়ে যাবে কিন্তু আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। অন্তর তাকে চেনে তাঁর সদৃশ্য তৈরী করতে পারে না। তিনি তাঁর আরশে সমাসীন আছেন, তিনি আরশ থেকে অবতরণ করেন, আবার তাতে উড্ডিন হন। প্রতিটি সৃষ্টি তাঁর কাছে প্রতিটি সেকেন্ডে পৃথিবীর আনাচে কানাচে প্রার্থনা করছে। তিনি কাউকে দিচ্ছেন, কাউকে সুস্থ করছেন, অপরাধের শাস্তি অনুযায়ী কাউকে জ্বর, ঠান্ডা, ক্বাশ, পেট ব্যাথা, মাথা ব্যাথা ইত্যাদিসহ যত অসস্তিকর পরিস্থিতি আছে সেগুলি দিয়ে পরীক্ষায় ফেলেন। আবার এইডস্, ক্যান্সার, ডায়াবেডিক্স ও যক্ষ্মারমতো বড় বড় রোগ দিয়ে পরীক্ষায় ফেলছেন। কাউকে সুস্থ করছেন, কাউকে ক্ষমতা দিচ্ছেন, কারো থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিচ্ছেন, কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নিত করছেন, আবার কাউকে অধঃপতনে পতিত করছেন। কোন ভিখারীকে রাজা বানাচ্ছেন। কোন রাজাকে ভিখারী বানাচ্ছেন, কাউকে সম্মানিত করছেন, কাউকে লাঞ্চিত করছেন। কারো উপকার, কারো (তার ভুলের কারণে) ক্ষতি করছেন। কাউকে গরিব, কাউকে ধনী, কাউকে শিক্ষিত, আবার কাউকে অশিক্ষিত রেখেছেন। দিন-রাতের আবর্তন-বিবর্তন-পরিবর্তন-পরিবর্ধন সব তার ইচ্ছায় ও নির্দেশনায় পরিচালিত। তিনি কাউকে মৃত্যু দিচ্ছেন, কাউকে জীবন দিচ্ছেন, কারো বা আকৃতি দান করছেন; তাঁর কৌশল ও ইচ্ছায় কারো হস্তক্ষেপ চলে না।
ফেরেশতারা আল্লাহর দিক-নির্দেশনা নিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় কেউ আকাশ থেকে নামছে, আবার কেউ দুনিয়ার হিসাব-নিকাশ নিয়ে আকাশে উঠছে। পৃথিবীর বনে-জঙ্গলে হাজারো জীব-জন্তু-জানোয়ার কে কি খাবে, কে কাকে খাবে, কে দৌড়ে পালাবে, আবার কে আল্লাহর ফায়সালায় বেঁচে যাবে, আবার কাউকে খেয়ে ফেলবে, কোন প্রাণী কার সাথে মিলন হবে, কার পেটে কতটুকু বাচ্চা তৈরী হচ্ছে সবকিছুই তিনি ঠিক করে রেখেছেন। কেউ ভুলে ডিম পেরেও বসবে না, আবার যেসব প্রাণী ডিম পাড়ে সেগুলি ভুলে ডিম ছাড়া বাচ্চা জন্ম দিবে না। আবার হাঁসের ডিম থেকে মুরগী, মুরগীর ডিম থেকে সাপ, সাপের ডিম থেকে অন্য কোন বিচ্ছু জন্ম নিবেনা। আমার অফিসে চার পাঁচটা ক্যাস জমা হয়ে গেলে এক ফাইলের পেপার অন্য ফাইলে ডুকে যায়, উলট-পালট হয়ে মাথা গরম হয়ে রেস্টের প্রয়োজন হয়, মাথা ঠান্ডা করতে হয়; কিন্তু আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাকে তন্দ্রাও সম্পর্শ করতে পারেনা নিদ্রাও নয়। আকাশ ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবকিছু তার। আকাশ ও যমীন রক্ষণাবেক্ষণে তাঁর কোন কষ্ট হয় না”। [সূরা বাকারা : ২৫৫]
কখনো পথহারা মানুষকে পথ দেখান, অত্যাচারিতকে সাহায্য করেন, মনের গহীন হতে ভয়-ভীতি দূরীভুত করেন। ক্ষুধার্তকে অন্য দান করেন, হতাশাগ্রস্তে’র হতাশা দুরিভূত করেন। প্রতিটি সৃষ্টি তাঁর কাছে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় যাচনা করে অর্থাৎ মুসলমান হউক কিংবা কাফের মুশরিক প্রত্যেকের কোন কিছুর প্রয়োজন হলে অটোমেটিক মন আল্লাহর দিকে ঝুঁকে, তখন কাফের হলেও আল্লাহর মায়া লেগে যায়, তাই তিনি তাদের সেই আশা পূরণ করে দেন। তখন তারা মনে মনে ভাবে আমার ইশ্বর বা ভগবান আমাকে তা দিয়েছে, নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ বলেন, “আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে, সবাই তাঁর নিকট প্রার্থনা করে তিনি প্রত্যহ প্রতিটি কর্ম সম্পাদনে রত আছেন।” [সূরা রাহমান ২৯] একজনের অভিযোগ শুনতে অন্যজন থেকে গাফেল হন না, চাওয়া পাওয়ার আধিক্যে তিনি বিস্মৃত হন না। পৃথিবীতে হাজার হাজার ভাষা, রকমারি সংস্কৃতি সবই তাঁর আয়ত্বে। কারো ফিসফিসানি, লুকুচুরি কথা, ইশারা-ইঙ্গিত, মনের কল্পনা কিংবা ভবিষ্যতে কি কল্পনা করবে তিনি সবই জানেন। দৃশ্য-অদৃশ্য প্রতিটি জিনিসকে তাঁর চক্ষু পরিবেষ্টন করে আছে, তাঁর দৃষ্টির মাঝে কোন কিছুই অন্তরায় হতে পারে না। পৃথিবী ও মহাশূন্যের প্রতিটি নড়াচড়া, আওয়াজ, ক্ষীণ শব্দ তাঁর কান পরিবেষ্টন করে রেখেছে। কোন সম্প্রদায়কে উঠিয়ে দেন, কাউকে নামিয়ে দেন। প্রত্যেকটা সৃষ্টির লাগাম তারই হাতে; প্রতিটি ঘটনা প্রবাহের গতি তারই কন্ট্রোলে। তিনি ঘুমান না, ঘুম কিংবা তন্দ্রা তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তিনি বলেন, আমি সম্রাট, আমিই এই পৃথিবীকে বানিয়েছি। ইতিপূর্বে তা কিছুই ছিল না, পরক্ষণে আমিই তা ধ্বংস করে দিব, আবার তা পুনরুত্থিত করব। যেকোন পাপ মোচন করতে বিচলিত হননা। বান্দা যা চায় তা দিতে তাঁর কাছে কঠিন মনে হয় না। যদি আকাশের সকল সৃষ্টি, যমীনের সকল সৃষ্টি, শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত যত আছে, মানুষ জ্বিন ফেরেশতা সবাই একসাথে তাঁর অবাধ্য হয়, তাতে তাঁর রাজত্বের ঘাটতি হবে না।
আবার সবাই যদি আনুগত্যের বন্যা বইয়ে দেয়, তাতে তাঁর রাজত্ব বাড়বে না। সবাই একসাথে হয়ে যদি এত চায় আল্লাহর কাছে এবং তিনি একেক জনকে এত দেন প্রত্যেকে যা চায়, তাতে তাঁর কাছে যা আছে সেখান থেকে ঐ পরিমান কমবে না সমুদ্র থেকে এক ফোটা পানি উঠালে যা কমবে। যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে আল্লাহ আমরা যা চাই তা দেন না কেন? দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা, কাকে দিলে ভাল, কাকে না দিলে তার জন্য কল্যাণকর তিনিই ভাল জানেন। কারণ তিনি বর্তমান, ভবিষ্যৎ ও অতীত সব একসাথে পর্যবেক্ষণ করেন, যা আমরা জানি না। আইসক্রিম এত মিষ্টি মজাদার কিন্তু মা সন্তানকে আইসক্রিম খেতে দেন না কেন? প্রতিটি মুহূর্তে বান্দাদের যাবতীয় কার্য সম্পাদনায় তিনি ক্লান্তিবোধ করেন না। কোন কিছু করতে তাকে হিসাব মেলাতে হয় না। আগে পড়ে যোগ-বিয়োগ করে ভেবে চিন্তে কোন কাজ করতে হয় না। কারণ সব তাঁর, তিনি আগের পরের সব দেখেন, বুঝেন ও শুনেন।
যে তাকে স্মরণ করে, কিংবা তার ইবাদত করে, কিংবা প্রশংসা করে, কিংবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তারও বহুগুণ ঊর্ধ্বে। তাঁর ফয়সালা তাঁর জ্ঞানের পরিসীমার ভিতর, তাঁর মার্জনা তাঁর প্রতিশোধ নেওয়ার সক্ষমতার ভিতর। কাউকে কিছু দেয়া না দেয়া তাঁর প্রজ্ঞার আয়ত্বে, কারো অভিভাবকত্ব গ্রহণ তাঁর স্বদাচরণ ও মমতার আয়ত্বে। তিনি এমন বাদশাহ যার কোন অংশীদার নেই, এমন একক যার কোন সমকক্ষ নেই, এমন অনন্য যার কোন বাপ-দাদা, সন্তান, স্ত্রী, পুত্র, পাড়া-পড়শি, আত্মীয়-স্বজন, পরামর্শ সভা, মন্ত্রী পরিষদ, পার্লামেন্ট মেম্বার, সহযোগী-সহচর, মজলিশে শুরা কিছুই নেই। খানা-পিনা, বিশ্রাম-ক্লান্তি, অসহায়ত্ব-একাকিত্ব, ইশারা-ইঙ্গিত সব কিছুর ঊর্ধ্বে তিনি। সকল রাজত্ব শেষ হয়ে যাবে তাঁর রাজত্ব ছাড়া, সকল অনুগ্রহ শেষ হয়ে যাবে তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া, সকল ছায়া শেষ হয়ে যাবে তাঁর ছায়া ছাড়া। প্রত্যেকটা নেয়ামত তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, প্রতিটা শাস্তি তাঁর পক্ষ থেকে ন্যায়পরায়ণতা। তিনি কাছে থেকে অবলোকনকারীর চেয়েও আরো কাছে, সকল রক্ষণাবেক্ষণকারীর থেকেও আরো নিকটে। প্রতিটি জীবের আত্মা তাঁর দুই আঙুলের মাঝখানে। প্রতিটি অন্তর তাঁর আয়ত্বে, প্রতিটি ঘটনা প্রবাহ লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ, প্রতিটি কল্পনা তাঁর কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট, প্রত্যেকটা অদৃশ্য বিষয় তাঁর কাছে দৃশ্যমান। তিনি কোন কিছু দিতে চাইলে আদেশ করেন, না দিতে চাইলে বারণ করেন। তিনি যখন কোন কিছু করতে চান তখন তাকে বলে দেন ‘কুন’ বলেন সাথে সাথে তা হয়ে যায়। [সূরা ইয়াসিন ৮২]
তিনি সৃষ্টি করছেন কেউ সুন্দর, কেউ কালো, কেউ বিশ্রী, কেউ কুশ্রী, কেউ সুশ্রী, কেউ বেমানান, কেউ অন্ধ, কেউ প্রতিবন্দি, কেউ বিকলাঙ্গ, কেউবা দারুন সুন্দর-সুন্দরীসহ বিভিন্ন সৃষ্টির নানা পর্যায় অতিক্রম করছে, সেগুলোর রিমোট তাঁরই হাতে। এগুলোর জন্য কেউ তার কাছে দরখাস্ত করেনি, তিনি তাঁর ইচ্ছায় সবকিছু করেছেন ও করছেন পরীক্ষা করার জন্যে। ধনীরা গরীবের সাথে, চক্ষুষ্মান অন্ধের সাথে কিরুপ ব্যবহার করে দেখার জন্য। কিয়ামতের দিন কিছু লোক অন্ধ হয়ে হাশরের ময়দানে উঠবে, তখন তারা বলবে, “হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলে? অথচ আমি (দুনিয়াতে) চক্ষুষ্মান ছিলাম।” আল্লাহ বলবেন, “আমার নিদর্শনাবলী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে, আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে।” [সূরা ত্বহা :১২৫-১২৬] প্রতিটি মুহূর্তে ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশনা নিয়ে আকাশ থেকে অবতরণ করছেন, কেউ দুনিয়ার হিসাব-নিকাশ নিয়ে আকাশে উড্ডিন হচ্ছেন। তারা আল্লাহর ইচ্ছা প্রতিটি জিনিসের মধ্যে যেমন যখন যতটুকু আল্লাহ চান তাই কার্যকর করছেন। একচুল পরিমান ওলট-পালট করার ক্ষমতা কারো নেই; তিনি যা চান তাই হবে। অন্যের চাওয়া তিনি চাইলেই হবে, নতুবা না। পৃথিবী আকাশ-বাতাশ, সমুদ্র তরঙমালা সর্বক্ষণে সর্বত্র তার ইচ্ছা ও চাওয়া পরিবেষ্টন করে আছে। আকাশের ফেরেশতারা সর্বত্র প্রতিটি মুহুর্ত চৌকশ-চোকান্না অবস্থায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আছে, কখন কাকে কি নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে! তাঁর দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি ও জ্ঞান তাঁর রহমত ও প্রজ্ঞার সাথে সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। মহাশূন্যের একশত ভাগের তিন ভাগের মধ্যে ১০০ কোটি গ্যালাক্সি, প্রতিটি গ্যালাক্সিতে ২০ হাজার কোটি, ত্রিশ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে, প্রতিটি নক্ষত্রে ১০-১২ টা করে গ্রহ আছে, প্রতিটি গ্রহে একটি দুইটি এমনকি ১৭টি উপগ্রহ (চাঁদ) আছে, সব যার যার কক্ষপথে ছুটা-ছুটি করছে, পরিভ্রমণ করছে। একচুল পরিমান হের-ফের করার ক্ষমতা কারো নেই। সূর্যের গতি ঘন্টায় ছয় লক্ষ মাইল। এত দ্রুতগতি সম্পন্ন বিশাল সূর্য যা পৃথিবী থেকে তের লক্ষ গুণ বড়, কে তাকে কন্ট্রল করে? সারে তিন হাত মানুষের টাকার গরম, সার্টিফিকেটের গরম, ক্ষমতার গরমের উষ্ণতায় কেউ পাশ দিয়ে হাঁটতে পারে না। আল্লাহ কিয়ামতের দিন প্রশ্ন করবেন, “তিনি বলবেন, তোমরা দুনিয়াতে কত দিন অবস্থান করেছিলে? (মানুষ) তারা বলবে, একদিন কিংবা তার কিছু অংশ।” [সূরা মুমিন ১১২-১১৩] সুতরাং একদিনের ক্ষমতায় দিশেহারা মানুষ জান্নাতের চিরন্তন ক্ষমতা ভুলে গিছে।
আল্লাহ বলেন, “আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রনে। চন্দ্রের জন্য আমি বিভিন্ন কক্ষ নির্দিষ্ট করেছি। সূর্যের পক্ষে চন্দ্রের নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়, রাতও দিবসকে অতিক্রম করতে পারে না এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ করছে।” [সূরা ইয়াছিন ৩৮-৪০] লক্ষ-কোটি পাখপাখালি, কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু জন্ম নিচ্ছে, ডিম ফুটাচ্ছে। কারো গর্ভে বীর্য স্থীর হচ্ছে, কারো বীর্য জমাট রক্ত হচ্ছে, কারো জমাট রক্ত গোশতে পরিণত হয়ে হাড্ডি হয়ে কাঠামো তৈরী হচ্ছে, এরপর তাতে কারো রুহ আসছে। মহাশূন্যের মধ্যে অগণিত গ্যালাক্সি ব্রাষ্ট হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে সামান্য বিন্দু পরিমান যদি দুনিয়াতে ভূলেও এসে যায় তাহলে মুহুর্তের মধ্যে পৃথিবী ধ্বংস হতে বাধ্য। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীকে (মধ্যকর্ষণ শক্তির মাধ্যমে) স্থীর রাখেন যাতে ওরা কক্ষচ্যুত না হয়। যদি কক্ষচ্যুত হয়ে পড়ে, তাহলে কে আছে, যে এগুলিকে স্থীর রাখতে পারে? (এত বিশাল ক্ষমতার পরেও বান্দার এত অবাধ্যতার পরেও) তিনি সহনশীল ক্ষমাপরায়ণ।” [সূরা ফাতির ৪১] অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “তারা কি তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছে করলে (অপরাধীদেরসহ) যমীন ধ্বসিয়ে দিব, অথবা আকাশ থেকে ওদের উপর কোন প্রস্তর খন্ড নিক্ষেপ করব।” [সূরা সাবা ৯]
বর্তমান বিজ্ঞান বলে, ধূমকেতু ও পাথর দিয়ে মহাশূন্য পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আমাদের পৃথিবীর চতুর্দিকে বেল্টের মতো হাজারো পাথর যা ১ সে. মি. থেকে ১০০০ কিলোমিটার ব্যাস পর্যন্ত অসংখ্য পাথর সবই মানুষের স্বাভাবিক দৃষ্টির বাহিরে, এদের একটির আঘাত পৃথিবী ধ্বংসের জন্য যতেষ্ট। আল্লাহ বলেন, “অথবা তোমরা কি নিশ্চিত হয়ে গেছ, যে, আকাশে যিনি আছেন, (অর্থাৎ আল্লাহ) তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝড় প্রেরণ করবেন না?” [সূরা মূলক ১৭] ‘‘ঙঢ়রশ ঙড়ৎঃ ঈষড়ঁফ’ নামে পরিচিত সৌর জগতের চতুর্দিকে ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন মাইলব্যাপী ঝুলন্ত পাথর খন্ড বিস্তৃত হয়ে আছে, যার একটি পাথর পৃথিবী ধ্বংসের জন্য যতেষ্ট। ১৯০৮ সালের ৩০ শে জুন ১২ মেগাটন টিএসটি ক্ষমতা সম্পন্ন ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি বিশালাকার জ্বলন্ত পাথর (মিটিওরাইট) রাশিয়ার সাইবেরিয়ার জঙ্গলে পতিত হয়ে ৪০ মাইল ব্যাস সম্পন্ন ধ্বংসগোলক সৃষ্টি করেছিল। আগুণের লেলিহান শিখায় লক্ষ লক্ষ গাছপালা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়ে ছিল। প্রকাশ থাকে যে, দশ লক্ষ টনে এক মেগাটন। সুতরাং এগুলো থেকে কে রক্ষা করেন আমাদের?
“(আল্লাহ) তিনিই মানুষকে জ্ঞাত করেছেন, ইতিপূর্বে মানুষ যা জানত না।” [সূরা আলাক্ব ৫] অন্যত্র বলেন, “বল, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এমন কোন কিছু সম্পর্কে সংবাদ দিতে চাও, যা তিনি অবগত নন? নিশ্চই তিনি অজ্ঞানতা হতে অতিপবিত্র।” [সূরা ইউনুস ১৮] আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।” [সূরা ইসরা ৮৫] এই সামান্য জ্ঞানে বর্তমান বিজ্ঞান কোথায় পৌছেঁছে? তাহলে আল্লাহর জ্ঞান কত বড়? চিন্তা করেছেন! কোথায় আছি আমরা। ‘আলবার্ট আইনস্টাইন’ তার গোটা জীবন বিজ্ঞানের কাজে উৎসর্গ করে মৃত্যুর আগে বলেছিলেন, মহাবিশ্বের জ্ঞান সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে দু’একটি বালু কণা মাত্র নাড়াচাড়া করে গেলাম’। সেই দু’একটি বালু কণার বিদ্যা কারো পেটে থাকলে উষ্ণতায় কেউ পাশ দিয়ে হাটতে পারে না।
গত ১৬.০২.২০১৩ পৃথিবীর পাশ দিয়ে এমন একটি পাথর গিয়েছে বিজ্ঞানিকেরা স্যাটেলাইটে তা দেখতে পেয়েছে। সেটা পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিতে পারত। তারই কিছু দিন আগে রাশিয়াতে হঠাৎ একটি পাথর খন্ড যমীনে পড়ে ৫০ ফুট গর্ত তৈরী হয়েছে এবং বড় বড় অট্টালিকার গ্লাস ভেঙে চুরমার হয়েছে এবং কিছু লোক আহত হয়েছে। আল্লাহ তাঁর কুদরাত ক্ষমতা মাঝে-মধ্যে দেখান, যাতে মানুষ ভয় করার নীতি অবলম্বন করে। এরপরও মানুষ যদি না বুঝে তাহলে জাহান্নামই তার আশ্রয়স্থল।
হযরত মূসা আ. আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হায় আল্লাহ! তুমি যখন আকাশকে বললা যে, “তোমরা উভয়ে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আমার অনুগত হয়ে যাও, তখন তারা (আকাশ ও যমীন) বলল, আমরা স্ব-ইচ্ছায় অনুগত হয়ে গেলাম।” [সূরা ফুসসিলাত ১১] তখন যদি আকাশ ও যমীন তোমার অনুগত না হত, তাহলে তুমি কি করতে? আল্লাহ বলেন, আমার কাছে এমন একটি জানোয়ার আছে, যাকে আমি তাদের উপর ছেড়ে দিতাম। সেই জানোয়ার তাদের পিষে নিঃশেষ করে দিত। কি বিশাল মহাশূন্য! যার একটি গ্যালাক্সী থেকে আরেকটি গ্যালাক্সী পর্যন্ত আলোর গতি সমপরিমান কোন যান দিয়ে ভ্রমন করলে এক লক্ষ বছর সময় লাগবে, এ জাতীয় একশত কোটি গ্যালাক্সী আছে ১০০ ভাগের তিন ভাগের মধ্যে। বাকী শাতান্নব্বই ভাগে কি আছে, কেউ জানে না আল্লাহ ছাড়া। আমরা যে ‘মিল্কিওয়ে’ নামক গ্যালাক্সীতে বাস করি তাতেই আমাদের সূর্যের চাইতে বড়, বিশ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে। তার নিকটবর্তী গ্যালাক্সী এন্ড্রোমিডা, তাতে আছে ত্রিশ হাজার কোটি নক্ষত্র। এমনি প্রত্যেকটি গ্যালাক্সীতে রয়েছে সূর্যের মত হাজার হাজার গ্রহ। আমাদের সূর্যটি পৃথিবী থেকে তের লক্ষ গুণ বড় এবং তার গতি ঘন্টায় ছয় লক্ষ মাইল। পৃথিবীতে দশ লক্ষ এটম বোমা ফোটালে যে অগ্নিকুন্ডলী তৈরী হবে প্রতি সেকেন্ডে সূর্য ঐ পরিমান আলো তৈরী করছে। তার একেকটি অঙ্গার তিন লক্ষ মাইল লম্বা। একেকটি অঙ্গারে যে এনার্জি আছে তা পুরো দুনিয়াকে দশ কোটি বৎসর আলো দিতে পারবে। সুতরাং কেমন বড় জানোয়ার ছাড়লে সে তাকে পিষে মাড়াই করে নিঃশেষ করে দিতে পারে? মূসা আ. আশ্চর্য হয়ে বললেন, হায় আল্লাহ! কোথায় তোমার এত বড় জানোয়ার? আল্লাহ বলেন, আমার মরুভূমির মধ্যে বিচরণ করে। তাহলে এত বড় জানোয়ার যেই মরু ভূমির মধ্যে বিচরণ করে, সেই মরুভূমি কত বড়? তখন আল্লাহ বলেন, “আমি তোমাদেরকে সামান্যতম জ্ঞান দিয়েছি।” [সূরা ইসরা : ৮৫] আমাদের মহাশূন্যের বাহিরে আল্লাহ আরো কতকিছু সৃষ্টি করে রেখেছেন, কেউ জানে না, আল্লাহ ছাড়া। সেগুলোকে আল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার পর টিবি, ডিস ও ইন্টারনেটের মতো করে দেখাবেন। দুনিয়ার মানুষ কম্পিউটারের দুই চারটা প্রোগ্রাম জানলে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের হুজুর দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়। ‘কয় মোল্লা ডিস্টার্ব করতে আসছে কেন’?
ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, ‘হায় আফসোস দুনিয়ার মানুষের উপর! তারা দুনিয়ার সামান্ন সময় হেঁসে-খেলে পার করে দিচ্ছে, কিন্তু এখানে আরো যে কত নেয়ামত আছে তা ভোগ করতে পারেনি। প্রশ্ন করা হলো আরো কি নেয়ামত আছে? তিনি বললেন, আল্লাহর বড়ত্ব ও তার সৃষ্টিনৈপুণ্য’। সুতরাং আমরা কিসের পিছনে সময় নষ্ট করছি। বৃষ্টির দিন প্রত্যেকটা বৃষ্টির ফোটার সাথে একজন ফেরেশতা আসে। কোন ফোটাটা কোথায় পড়বে তা আল্লাহ নির্ধারণ করে দেন। আল্লাহ বলেন, “তারই নিকট অদৃশ্যের চাবি রয়েছে, তিনি ব্যতীত (সেই সব অদৃশ্যের জ্ঞান) অন্য কেউ জানে না। জলে স্থলে যা কিছু আছে তা সম্পর্কে তিনিই অবগত, তার অজ্ঞাতসারে বৃক্ষের একটি পাতাও পড়ে না, মাটির অন্ধকারে এমন কোন শষ্যকণা নেই (যা অংকুড়িত হয় তার নির্দেশে), কোন শুষ্ক কিংবা ভেজা সবই সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ আছে)” [সূরা আনআম ৫৯] আল্লাহর রাসূল মি’রাজের রাত্রিতে যখন ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ তে পৌছলেন, তখন তার সৌন্দর্য দেখে ব্যাখ্যা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেললেন, ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ হলো যার অবস্থান সর্বোচ্চ জান্নাতের উপরে, যেখানে ফেরেশতাদের ইলমও শেষ, তাদের লাস্ট বর্ডার, এর উপরে যাওয়ার ক্ষমতা জিবরাঈল আ. এরও নেই, কিন্তু আমাদের নবী সা. সেটাও পারি দিয়ে সরাসরি আল্লাহর কাছে চলে গেলেন। কতবড় নবীর উম্মত আমরা, চিন্তা করলে চিন্তা শক্তি হ্যাং হয়ে যাবে। ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ আল্লাহর এক সৃষ্টি; কিন্তু কোন নিকটতম ফেরেশতাও সেই বর্ডার ক্রস করতে পারে না, করলে জ্বলে-পুরে ছাই হয়ে যাবে। হুজুর সা. বলেন, ‘অতঃপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে যখন ‘সিদরাতুল মুনতাহাতে’ পৌঁছল, আমি বলতে পারব না, কী অনন্য অপরুপ সৌন্দর্য সেখানকার।’ [মুসলিম] আমার একা একা ভয় লাগছিল। অন্য হাদীসে আছে ‘সিদরাতুল মুনতাহাতে’ যাওয়ার পর সেখানকার জ্যোতি যখন আমাকে পরিবেষ্টন করল, তখন আমি হয়রাণ হয়ে গেলাম, আল্লাহর কোন সৃষ্টি তার ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম নয়।’ [মুসলিম] যদি সিদরাতুল মুনতাহার জ্যোতি, সৌন্দর্য, শাহেনশাহী ঝিকঝিকি, ঝিকিমিকি এমন হয় (অথচ সেটাও আল্লাহর এক সৃষ্টি) তাহলে আল্লাহর সৌন্দর্য কেমন হবে? আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাঁর সৌন্দর্য অবলোকন করার তওফীক দিন।
কিয়ামতের দিন চন্দ্র গ্রহণের মাধ্যমে তার আলো ছিনিয়ে নেয়া হবে, সূর্যকে লেপটিয়ে নি®প্রভ করা হবে, আকাশকে গুটিয়ে ভাঁজ করা হবে, নক্ষত্র রাজি বিক্ষিপ্ত হয়ে ঝড়ে পড়বে, সমস্ত আলো নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন কোন আলো থাকবে না, তখন আল্লাহর আলোতে পৃথিবী নতুন করে আলোকিত হবে, তখন আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফায়সালার জন্য আসবেন, আল্লাহ বলেন, “বিশ্ব-প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা উপস্থিত করা হবে, নবীগণ ও সাক্ষীদের আনয়ন করা হবে, এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। করো প্রতি অবিচার করা হবে না” [সূরা যুমার ৬৯] অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, স্মরণ কর “যখন তোমার প্রতিপালক আগমন করবেন, এবং সারিবদ্ধভাবে ফিরিস্তাগণও সমুপস্থিত হবে।” [সূরা ফাজর ২২] ‘জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে চলে যাওয়ার পর, আল্লাহ জান্নাতিদের কাছে এসে বলবেন, তোমরা আমার কাছে কিছু প্রার্থনা কর আমি বৃদ্ধি করে দিব, তখন তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা আলোকিত করেননি? আপনি কি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান নি? তখন আল্লাহ তার সামনে থেকে সত্তর হাজার নূরের পর্দা সরিয়ে দিবেন,  সমস্ত মানুষ তখন আল্লাহ তাআলার সৌন্দর্য অবলোকন করবে।’ [মুসলিম] অন্য হাদীসে আছে, আল্লাহর সৌন্দর্য মানুষ উপভোগ করার পর মানুষ জান্নাতের সৌন্দর্যের কথা ভূলে যাবে, তাদের নিজেদের সৌন্দর্য আরো বেড়ে যাবে, আবার বলবে, হায় আল্লাহ! আমাদের জান্নাতের সৌন্দর্যের প্রয়োজন নেই, তুমিই শুধু আমাদের দিকে তাকিয়ে থাক আল্লাহ বলবেন, আজকে চলে যাও, আবার আগামি কাল এস। এই পৃথিবীতে যে যত বেশি আল্লাহর ইবাদত করবে, সে তত বেশি আল্লাহর দর্শন লাভ করবে, কেউ মাসে একবার, কেউ সপ্তাহে একবার, কেউ দিনে একবার, কেউ বৎসরে একবার, কেউ একযোগে একবার, কেউ সকাল বিকাল, কেউ সবসময় দেখতেই থাকবে। যেমন আবুবকর রা, আয়েশা রা, থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, ‘আল্লাহ সমস্ত মানুষের সাথে একসাথে দেখা করবেন, আর আবুবকর রা, এর সাথে বিশেষভাবে দেখা করবেন’ [হাদীস লা বা’সা বিহি]
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! আল্লাহ পাকের একটি সিফাতি নাম হলো নূর, জ্যোতি। নূর দুই প্রকার: এক. নূর বিয্াত (অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহর নূর) দুই. নূর আল-খালক। (অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টি নূর) আল্লাহর সৃষ্টি নূর আবার দুই প্রকার এক. সূর্য, চাঁদ, বাঁতির আলো দুই. হেদায়াতের আলো। সুতরাং কুরআন, হাদীস, হেদায়াত, ওহী, ফেরেশতা, জান্নাত, সব নূর বা জ্যোতি। আল্লাহ যখন নিজেকে জ্যোতি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন, সুতরাং তাঁর পক্ষ থেকে যে হেদায়াতের বাণী প্রেরণ করেছেন, সেটা ও জ্যোতি। যেমন তিনি বলেন, “আমি যে তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো।” [সূরা মা’য়েদা ৪৪] অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “এবং আমি তোমাদের প্রতি স্পষ্ট জ্যোতি অবতীর্ণ করেছি।” [সূরা নিসা ১৭৪] সুতরাং যে তার অন্তরটাকে সেই নূরের জন্য একনিষ্ট করবে কুরআন ও ঈমানের নূর দিয়ে সে জান্নাতে আল্লাহর নূর আবলোকন করতে পারবে। আল্লাহর রাসূল বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে অন্ধকার দিয়ে তৈরী করেছেন, এরপর তাতে তাঁর আলো থেকে একটু আলো নিক্ষেপ করেছেন, যে সেই আলোর সন্ধান পাবে সেই পথপ্রাপ্ত হবে, পক্ষান্তরে যে সেই আলো পেতে ভুল করবে সেই পথভ্রষ্ট হবে।’ [তিরমিযি]
এটা সেই নূর যা আল্লাহ বান্দার মধ্যে প্রক্ষেপ করে তাকে জীবিত করেছেন, যার মাধ্যমে সে অন্ধকার দুনিয়াতে হেদায়াতের পথে পথ চলে এবং তা অন্তরে ঝকঝক করে জ্বলতে থাকে। প্রকারান্তরে তা বৃদ্ধি পেতে পেতে চেহারা শরীর অঙ্গপ্রতঙ্গে প্রকাশ পায়। কিয়ামতের দিন তা তার সামনে প্রকাশ পাবে আরো তীব্র আকারে। তার মাধ্যমেই সে হাশরের সমস্ত ঘাঁটিগুলি এমনকি পুলসিরাত পারি দিবে। মুনাফেক যারা দুনিয়াতে বাহ্যিক কিছু আমলের কারণে, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বিশ্বাস না করার কারণে, কিয়ামতের দিন তারা সামান্য নূরের সম্মুখিন হবে, কিন্তু হঠাৎ সেই নূর চলে যাবে। তখন তারা মুমিনদেরকে বলবে, আল্লাহ বলেন, “সেদিন মুনাফিক নারী-পুরুষ ঈমানদারদের বলবে, তোমরা একটু থাম, আমরা তোমাদের কাছ থেকে একটু আলো গ্রহণ করব, বলা হবে, তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও (দুনিয়াতে) ও আলোর সন্ধান কর। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “আমরা কি দুনিয়াতে তোমাদের সাথে ছিলাম না? মুমিনরা বলবে অবশ্যই কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদগ্রস্ত করেছ।” [সূরা হাদীদ ১৩.১৪] অর্থাৎ দুনিয়াতে মুমিন মুনাফেক এক সাথে নামায পড়ে ; কিন্তু অন্তরে কপটতা গুপ্ত থাকে বিদায় সেই পরিণতি হবে। উপরের কথাগুলি যখন মানুষ অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে উপলব্ধি করে কল্পনায় ভাসাবে তাতে ঈমান, তাকওয়া, তাওয়াক্কুল, ইখলাস বৃদ্ধি পাবে, এর মাধ্যমে আমল সুন্দর হবে ইসলামে পথ চলা সহজ হবে ইনশালাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন, আমিন

2 মন্তব্য রয়েছেঃ আল্লাহর বড়ত্ব ও সৃষ্টি নৈপূণ্য : জোবায়েরুল ইসলাম

  1. লুতফুর রহমান says:

    আল্লাহ আমাদেরকে খাটি ঈমানদার বানাও। এই লেখার বিষয়বস্তু অনেক সুন্দর। আল্লাহ আমার ঈমানকে লেখায় বর্ণিত সকল বিষয়ের উপর পাকাপুক্ত করে দাও।

  2. মোঃ মামুন says:

    আমি এ লিখাটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight