আল্লাহর অপরূপ সৃষ্টি

Zikra

গতিময় এই সৃষ্টি জগত আল্লাহ তাআলার অবদান। বিশ্ব জাহান তিনিই সৃষ্টি করেছেন। আমি মানুষ, আপনিও মানুষ। আর এই যে আমাদের শক্তি সাহস বুদ্ধি ইত্যাদি এগুলো অর্জন করতে আমাদের কি কোন কিছু ব্যয় করতে হয়েছে? আমরা সকলেই একত্রিত হয়ে কি আল্লাহর কাছে দরখাস্ত দিয়েছিলাম? আল্লাহ আমাদের কে মানুষ হিসাবে সৃষ্টি করেন? নাকি কোন আন্দোলনের ফলে আমাদের এই জীবনকে আমরা পেয়েছি? আসলে আমরা কোন কিছু করেই নারী পূরুষ সকলে এই জগতে আমরা আসতে পারি নাই, কেবল আমার আপনার মালিক (আল্লাহ) আমাদেরকে এ ভাবেই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এই যে ময়লা আবর্জনার ড্রেন রয়েছে, সেই ড্রেন দিয়ে হাজার হাজার পোকা মাকড় সাতাঁর কাটছে। আমি তো তার একটি পোকাও হতে পারতাম। অন্যান্য হাজারও প্রাণী রয়েছে তাদের মধ্যেও কিন্তু করতে পারতেন আমাদের মালিক। আবার আল্লাহ চাইলে এক মুহুর্তের মধ্যে সব কিছু ধ্বংসও করে দিতে পারেন। আর তাঁর তো সকল প্রকার ক্ষমতা রয়েছে। আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেন -তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে পারি যা তোমরা জান না। [ওয়াকিয়া:৬১]
এই আয়াতে মূলত আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সাবধান করেছেন। বলে দিয়েছেন, চাইলে তোমাদেরকে এমন আকৃতিতে বদলে দিতে পারি যা তোমরা কল্পনাও করতে পার না। তাফসীর বিশারদগণ এই বিষয়ে লিখেছেন যে, এর অর্থ হলো, আমি (আল্লাহ) চাইলে তোমাদের রুপ বিকৃত করে বানর কুকুর সাপ বিচ্ছুতেও পরিণত করতে পারি। তিনি যা খুশি তাই করতে পারেন। সমস্ত কিছুর মালিক তিনি। এই জগতে তিনি এমন একটি গাছের পাতা সৃষ্টি করেছেন যার সুবাসে পুরো ঘর সুবাসিত হয়ে যায়। আবার এমন একটি বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন যার পাশ দিয়ে যাওয়ার ফলে শরীর থেকে রক্ত ঝরে। আবার এমন বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন যার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ফলে ঝুড়ি পূর্ণ হয়ে উঠে। বাবলা বৃক্ষকে কাঁটা দিয়ে, গোলাপকে সুন্দর রঙ ও খুশবো দিয়ে, চামেলিকে শুভ্র রঙের প্রস্ফুটিত পাপড়ি দিয়ে, আঙুর গাছকে থোকা থোকা ফল দিয়ে  তৈরি করেছেন, পাহাড়কে বরফের চাদর দিয়ে, মাটিকে সবুজ গাছের কার্পেট দিয়ে তিনিই তো সাজিয়েছেন। তাঁর সে ক্ষমতা সৃষ্টি অবদানকে কি শুমার করা যায় ? আল্লাহ পাক বলেন, তিনি প্রতিদিনই গুরত্বপূর্ণ কাজে রত।” [র্আরহমান:২৯] তার শানই বিস্ময়কর। যখন তাঁর সৃষ্টি ক্ষমতার দিকে আমরা তাকাই তখন বিস্মিত না হয়ে পারি না। কত রঙ কত ফুল কত রুপ! তিনি তার বিপুল শক্তির বিকাশে তা ঘটিয়েছেন। আর আমরা এখানে এসেছি মাত্র চার দিনের জন্য (এ বিষয়ে এক কবি তার কবিতায় বলেন, -‘এহি হাম সব মুসাফির হায় ওহি আখের ঠিকানা/কোয়ি আগে রওয়ানা হায় কোয়ি পিছে রওয়ানা’ যেন মুসাফিরের যাত্রা পথে একটি স্টেশন মাত্র। স্টেশনে বিরতি ঘটলে কেহ এ দিকে আবার কেহ অন্য দিকে বসে থাকে বা চলা ফেরা করতে থাকে যখন ট্রেন চলে আসে সকলেই যার যার গন্তব্যস্থলে চলে যায়। আর তিনিই তো চলার এই পথকে দু’দিনের পান্থশালাকে এই অস্থায়ি স্টেশনকে সৃষ্টি করেছেন। সমুদ্রে দিয়েছেন স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। সৃর্য যখন সমুদ্র বক্ষে অস্তমিত হয় তখন তার সে কি অপরুপ রুপ। আবার পাহাড়ের শৃঙ্গ বেয়ে সকালে যখন সৃর্য তার মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় সে রুপ আরো ভিন্ন। মরু সাহারায় যখন সৃর্য উদিত হয় তখন তারও রুপ আলাদা। মাঠে অবুঝ জানোয়ার গুলো যে চড়ে বেড়ায় তার সৌন্দর্য আলাদা। সন্ধ্যায় দল বেঁধে বন বিহঙ্গরা যে আপন আলয়ে ছুটে যায় আবার নিজ নিজ বাসায় কিচির-মিচির রব তুলে সারিবদ্বভাবে যে বেরিয়ে পরে তার সৌন্দর্যও সম্পূর্ণ আলাদা। কোকিলের মধুর কন্ঠ, বুলবুলের অকৃত্রিম সুর, ময়ুরের চির সুন্দর পেকম করে সকল সৌন্দর্য আলাদা। বনে নাচন তুলে যে হরিণের দল ছুটে চলে সেই দৃশ্যও কম সুন্দর নয়। বাঘের ভয়ানক পাঞ্জা, তার মজবুত দাঁত এবং ভয়ংকর চিৎকার, সাপদের ফণা তুলে তেজস্বী উত্থান কি কম সুন্দর! মানুষ প্রকৃতির এ সকল সৌন্দর্য দেখে বিস্মিত হয়ে যায়, বিমুগ্ধ হয়। গাভীর স্তন থেকে নির্গত হয় সাদা দুধ, মাঠে সবুজের ঢেউ খেলা দৃশ্য কার চোখ না জুড়ায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করি, যদ্ধারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদগত হয়।” [ইউনুস: ২৪]
আর আল্লাহর সকল প্রকার নিয়ামতরাজি বান্দার জন্য সৃষ্টি করেছেন যাতে করে বান্দা আল্লাহর কোন নিয়ামতরাজির পরিচয়ের অভাবে সে আল্লাহকে চিনতে কষ্ট না হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে তার নিয়ামতের যথাযত শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন আমিন।

পাঠিয়েছে মোঃ সোহেল রানা, চরমোনাই আলিয়া মাদ্রাসা,বরিশাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight