আমাদের মেসওয়াক ও আধুনিক বিজ্ঞান : নাবিলা যোবাইর

আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহ কে ভালবাসতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন ও তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন, আর আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। [সূরা আল ইমরান : ৩১] অপর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের নিকট রাসূল সা, যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর। এবং যে সমস্ত বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। [সূরা হাশর : ৭] রাসূল সা. বলেন মেসওয়াক হল মুখের পবিত্রতার মাধ্যম এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির কারণ। [বুখারী]  হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা, বলেছেন যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্টের আশংকা না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে ইশার নামায বিলম্বে পড়তে এবং প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মেসওয়াক করতে আদেশ করতাম। [বুখারী, মুসলিম] শুরাইহ ইবনে হানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেসা করলাম, রাসূল সা. যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন সর্বপ্রথম কি করতেন? উত্তরে তিনি বলে, ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথমে তিনি মিসওয়াক করতেন [মুসলিম]
রাসূল সা. মেসওয়াকের মাধ্যমে দাঁত পরিষ্কার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন, এতে দাঁতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং দাঁতের সৌন্দর্য বজায় থাকে। যারা শুধুমাত্র ব্রাশ ব্যবহারে অভ্যস্ত তাদের উচিত মেসওয়াক ব্যবহার করা। বিজ্ঞান গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ব্রাশের ভিতর যে জীবানু জমা হয় পানি দ্বারা পরিষ্কার করার পরও জীবানু দূর হয় না। জীবানু বিষেশজ্ঞগণ দীর্ঘদিন গবেষণার পর এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছে যে, কোন ব্রাশ একবার ব্যবহারের পর পুনরায় ব্যবহার করা স্বাস্থের জন্য ও সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর। পশ্চাত্যের বিশেষজ্ঞরা মেসওয়াকের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনায় পিলুর মেসওয়াক উত্তম বলে আখ্যায়িত করেছেন। উন্নত দেশ সমূহের শিশুরা অধিক চিনি খায়, কিন্তু নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারের কারণে তাদের দাঁত নষ্ট হয়না। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মেসওয়াকের জন্য ব্যবহার করা বৃক্ষের শাখা প্রশাখা জীবানু রোধ করে। মেসওয়াক ব্যবহারের ফলে দাঁতের মাড়ির রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে, দাঁতের গোড়া শক্ত হয়। দাঁত পরিষ্কার থাকে, সেই সাথে মুখের দূর্গন্ধ দূর হয়। পিলুর মেসওয়াক নরম। সহজে চিবানো যায়। চিকিৎসকদের মতে ইউরোপের ওষুধ প্রস্তুতকারকগণ পিলু বৃক্ষের প্রতি মনোযোগী। কারণ পিলুর শাখায় কোমেথর পিউটিকের অংশ থাকে যা মুখের গাঢ় লাল নিঃশেষ করে। আফ্রিকান চিকিৎসকদের মতে পিলু ব্যবহার করলে মুখে জীবানু ও ব্যকটেরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়। হামদর্দ কোম্পানী পিলুর জওহর থেকে পিলু টুথপেষ্ট তৈরি করার গৌরব লাভ করেছেন। আমেরিকায় এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মেসওয়াক দাঁত ছাড়াও পেটের পিড়ার জন্য প্রতিষেধক।
মেসওয়াক ও আধুনিক চিকিৎসা গবেষণা
পেটের সকল রোগ মুখ দিয়ে প্রবেশ করা জীবানুর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। একথা প্রমাণিত হওয়ার পর মুখের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় মেসওয়াকের চেয়ে উত্তম কোন ব্যবস্থা নেই। একারনে এখানে মেসওয়াক সম্পর্কে কয়েকটি জরুরি কথা বর্ণনা করা হল।
১। শুয়ে শুয়ে মেসওয়াক করা যাবে না কারন এতে লিভার বেড়ে যায়।
২। মুঠো বন্ধ করে মেসওয়াক করা যাবেনা কারন এতে ফোড়া ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
৩। মেসওয়াক শেষ করে তা নিচে ফেলে রাখা যাবেনা। এতে পাগলামী রোগ দেখা দেয়।
৪। শামী গ্রন্থে রয়েছে মূত্য রোগ ব্যতীত অন্য সকল রোগ মেসওয়াক ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো হয়।
৫। নিয়মিত মেসওয়াক করলে মৃত্যুর সময় কালেমায়ে শাহাদাত নসীব হয়।
৬। মেসওয়াক ’ছাফরা’ রোগ প্রতিরোধ করে।
৭। মেসওয়াক চুষলে অন্ধত্ব সৃষ্টি হয়।
৮। সুগন্ধি বা ফলবান লাকড়ি দিয়ে তৈরি মেসওয়াক অন্ত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যা দ্বারা রোগ বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যু হতে পারে।
৯। মেসওয়াকের মাধ্যমে নির্গত প্রথম বারের লালা গিলে ফেললে কোন অসুখ হয় না। এর পর গিললে নানা রকম পেটের পীড়া দেখা দেয়।
১০। নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করলে বার্ধক্য দেরীতে আসে কালো চুল দেরীতে সাদা হয়।
১১। মেসওয়াকের মাধ্যমে দৃষ্টি শক্তি প্রখর হয়।
১২। নিয়মিত মেসওয়াকের ফলে মুখের ও বগলের দূর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
১৩। মেসওয়াক ব্যবহার দাঁতের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়। দাঁতের মাড়ি মজবুত হয় আর দাঁেতর ব্যথা দূর হয়।
১৪। মেসওয়াকে মাধ্যমে আহার্য তাড়াতাড়ি হজম হয়।
১৫। মেসওয়াক কফ, কাশি থেকে নিরাপত্তা দেয়।
১৬। মেসওয়াকের অভ্যাস গড়ে তুললে মুখের ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষা হয়।
১৭। মেসওয়াকের মাধ্যমে মাথার শিরা উপশিরা শান্ত থাকে।
১৮। মেসওয়াকের দ্বারা বহু অজ্ঞাত রোগের প্রতিকার পাওয়া যায়। এর রসায়নিক প্রক্রিয়ায় অনেক গুরুতর রোগের অবসান ঘটে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎকদের মতে দাঁতের ক্ষতি মেসওয়াক না করার কারনে হয়ে থাকে। মেসওয়াকের সুন্নত ত্যাগ করার কারনে সাধারণত মানুষ পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়। কারন দাঁতের ময়লা খাদ্যের সাথে আমাদের লালার সাথে মিশে পেটে প্রবেশ করে। এর ফলে খাদ্য দ্রব্যের বিষক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া বাস্তব সত্য। নানা ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে পশ্চাত্যের উন্নত সমাজ হয়তো এই সুন্নতের অনুসরণ করবে। মানুষ সুন্নত থেকে যতই দূরে সরে গেছে ততোই সমাজে রোগ ব্যধির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেখক: প্রাবন্ধিক, শিক্ষার্থী: ডুয়েট গাজীপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight