অহীর প্রারম্ভিক কিছু পূর্বাভাস

কুরআন নাযিলের ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহ তায়ালা মোহাম্মদ সা. কে স্বপ্নের মাধ্যমে এ মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন। ইতিহাসের প্রমাণ অনুযায়ী প্রথম ওহী এসেছিল রমযান মাসের ২১ তারিখ সোমবার রাত্রে। মোহাম্মদ সা. এর বয়স ছিল তখন ৪০ বছর ৬ মাস ১২ দিন।
হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী সা.এর উপর ওহী নাযিলের সূচনা হয়েছিল স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি স্বপ্নে দেখতেন তা দিনের আলোর মতো তাঁর জীবণে প্রতিভাত হতো। হযরত জীবরাঈল আ. এর মাধ্যমে ওহী প্রাপ্তির আগে আস্তে আস্তে তিনি নির্জনতাপ্রিয় হয়ে ওঠেন। হেরা গুহায় নিভৃতে আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে তিনি মশগুল হয়ে পড়েন এবং বিশাল সৃষ্টি ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন। এভাবেই হেরা গুহার তাঁর দিন ও রাত কাটে। খাবার পানি শেষ হয়ে গেলে সেসব নেয়ার জন্যেই তিনি শুধু বাড়ি যেতেন। মাঝে মাঝে তাঁর প্রিয় স্ত্রী হযরত বিবি খাদিজা রা. তাঁকে হেরা গুহায় খাবার দিয়ে আসতেন। এমনি করে একদিন জীবরাঈল আ. মহানবীর কাছে এসে গভীর কণ্ঠে তাঁকে বলেন ‘ইকরা’ পড়ুন। মোহাম্মদ সা. বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। উদ্বেলিত কণ্ঠে তাঁকে বলেন ‘আমি তো পড়তে জানি না’। ফেরেশতা মহানবী সা. কে বুক চেপে ধরে আবার বলেন, পড়ুন। তৃতীয় বার যখন ফেরেশতা তাঁকে বুকে আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিয়ে বলেন, পড়ুন তখন এবার মোহাম্মদ সা. ওহীর প্রথম পাঁচটি আয়াত পড়লেন। তারপর সাথে সাথে হযরত জীবরাঈল আ. সেখান থেকে চলে গেলেন। ফেরেশতা চলে যাবার পর মহানবী সা. ঘরে ফিরলেন তারপর তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীকে বললেন- আমাকে চাদর দিয়ে শক্ত করে ঢেকে দাও। আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। হযরত খাদীজা রা. প্রিয় নবীকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে আপনার? আপনি এত কাঁপছেন কেন? রাসূল সা. বললেন, একজন অভিনব ব্যক্তি আমার কাছে এসে আমাকে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম আমি তো পড়তে জানি না। তারপর তিনি আমাকে  তিন বার আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর তাঁর সাথে আমি পড়তে শুরু করলাম। তাঁর কথা শুনে খাদিজা রা. বললেন, আপনার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। কেননা আপনি মানুষের উপকার করেন, মানবতার সেবা করেন, এতীমদের আশ্রয় দেন।
খাদিজা রা. প্রিয় নবীকে তাঁর চাচাত ভাই ওরাকা ইবনে ন ফেলের কাছে নিয়ে গেলেন। ওরাকা ইবনে নওফেল ছিলেন ঈসায়ী ধর্মের আলেম এবং হিব্রু ভাষার পন্ডিত ব্যক্তি। সে সময় তিনি বয়সের বারে ক্লান্ত এবং দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। হযরত খাদীজা রা. বললেন- ভাইজান, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। রাসূল সা. তাকে হেরা গুহার সব ঘটনার কথা বর্ণনা করলেন। শুনে ওরাকা বললেন, তিনি সেই দূত জীবরাঈল আ. যিনি হযরত মুসা আ. এর কাছে ওহী নিয়ে আসতেন। হায় আমি যদি সেই সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতাম, যখন তোমার কওমের লোকেরা তোমাকে জন্মভূমি থেকে বের করে দিবে! রাসূল সা. আশ্চর্য হয়ে বললেন, কেন আমাকে তারা মাতৃভূমি থেকে বের করে দিবে? ওরাকা বললেন, তুমি যে ওহী লাভ করেছ, এ ধরণের ওহী যখনই কোন নবী পেয়েছেন তাঁর সাথে এভাবেই স্বজাতির পক্ষ থেকে শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি সেদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকি তাহলে অবশ্যই আমি তোমার সাহায্যে এগিয়ে আসব।
পাঠিয়েছে : আব্দুল্লাহ আল জাবের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight