অহংকারের দুনিয়াবী কুফল : এইচ,এম আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

Jahannam

অহংকার অর্থ হল, উত্তম গুনাবলীর ব্যাপারে নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় মনে করা এবং অন্যদেরকে ছোট ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। হাদীস শরীফে অহংকারের সংজ্ঞা এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘‘অহংকার হচ্ছে হক অস্বীকার করা এবং মানুষদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা”।
অহংকারে দুনিয়াবী কুফল
আখেরাতের ব্যাপারে আমাদের উদাসীনতা ও অবিশ্বাস আর দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্কতা ও গুরত্ব দ্বারা বাহ্যিক ভাবে এটাই বুঝা যায় যে, আখেরাতের জন্য আমরা ভিন্ন প্রভু আর দুনিয়ার জন্য ভিন্ন প্রভু স্থির করে রেখেছি। পরকালের স্বার্থে আমরা গোনাহ থেকে বিরত থাকি না, নেক কাজে সচেষ্ট হইনা, বরং মিথ্যা তাওয়াক্কুল, ক্ষমার আশা এবং আল্লাহ পাক অতি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান হওয়াকে যথেষ্ট মনে করি। কিন্তু দুনিয়াবী বিষয়ে তাওক্কুলের পাশাপাশি চেষ্টাও করতে থাকি। চেষ্টা বিনে সফলতার আশা করাকে আহাম্মকী মনে করি। অথচ পরকালের ব্যাপারে সেটা মনে করি না।
হালাল উপার্জনকে ফরজ বলে থাকি; কিন্তু সে ব্যাপারে সতর্ক থাকিনা। ক্ষতিকর জিনিসকে ব্যবহার করে আল্লাহ পাককে ক্ষমাশীল ও দয়ালু মনে করে ক্ষতির ব্যাপারে নির্ভিক হয়ে বসে থাকি। এমন সব লোকদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে মাওলানা রুমি রহ. বলেন, ‘আরে! তুমি নিজের উপার্জন হালাল হওয়ার বুলি আওড়াচ্ছ, এসব দাবি তুমি পরিহার কর। তুমি তো এমন পাপি যে, তোমাকে খুন করাও হালাল। তুমি শিরিক এবং উদাসীনতায় লিপ্ত, অথচ স্রষ্টা মাত্র একজন। আল্লাহ পাকের নিকট অহংকার যদি অপছন্দনীয় হয় এবং অহংকারীকে তিনি জান্নাত থেকে মাহরুম করে দেন, তবে মনে রেখ, পৃথিবীতেও তাকে তিনি ইজ্জত দিবেন না। পৃথিবীর ইজ্জত সম্মান আল্লাহ পাকের দানের ওসিলাই লাভ হয়। তাই অহংকারীকে আল্লাহ পাক দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত করেন।’ হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মানশে বিনয়-নম্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ পাক তাকে সম্মানী বানান, তাকে শুধু পরকালে সম্মানী বানাবেন এই অর্থ নয়, বরং উভয় জগতে সম্মানী বানাবেন। বিনয়ের মাঝে রয়েছে সম্মান, আর অহংকার হচ্ছে বিনয় পরিপন্থী জিনিস। তাই অহংকারের মধ্যে রয়েছে- ইহকাল-পরকাল উভয় কালের লাঞ্ছনা। অহংকারীকে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে। দিল দ্বারা তাকে কেও শ্রদ্বা করে না। সে বিপদগ্রস্থ হলে তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে লোকজন আনন্দিত হয়। অহংকারের কারণে সমাজে দ্বন্ধ-কলহ, অনৈক্য সৃষ্টি হয়।
তদুপরি হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ ও সম্পদের লিপসা এ থেকেই সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্রুতিতে শত শত দুনিয়াবী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিনয়ের ফলাফল সু নিশ্চিত। কেও যদি দুনিয়াবী স্বার্থেও বিনয় অবলম্বন করে, তবে এর ফলে তার দুনিয়াবী জীবন সুখময় হয়ে যায়। আর আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ও আখেরাতের স্বার্থে বিনয়ী হলে তো সোনায় সোহাগা, উভয় জগতেই তার সুখময় হয়। একটি বড় আশ্চার্যের কথা যে, দুনিয়াবী মান সম্মানের জন্য মানুষ এমন সব কাজ করে যা অহংকারের কারণে হয়ে থাকে, কিন্তু ঐসব কাজের মধ্যে যে অহংকারের মতো নিকৃষ্ট চরিত্রের মিশ্রণ থাকে তা সে অনুভবও করতে পারে না। অথচ অন্যান্যরা তার সাথে সাথে বুঝে ফেলে। তাই তাদের দৃষ্টিতে সে তুচ্ছ হয়ে যায়। অবশ্য তুচ্ছ হওয়ার মূল রহস্য হচ্ছে, তার এসব চরিত্রের কারণে আল্লাহ পাক যেহেতু তার উপর নারাজ হয়ে যান আর মানুষের দিল আল্লাহ পাকের নিয়ন্ত্রনে, তাই মানুষকে তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন। ফলে সবাই তাকে ঘৃণা করতে থাকি।

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ অহংকারের দুনিয়াবী কুফল : এইচ,এম আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

  1. Sulaiman Ahmad says:

    very fine article. Thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight