অফুরান রহমত ও বরকতের বেহেশতি সওগাত তারাবীহ্ নামায / ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

মাহে রমযানের একটি বিশেষ আকর্ষণ নামাযে তারাবীহ্। বলা যায়, এটি এ মাসের আধ্যাত্মিক অলংকার ও সৌন্দর্য। রমযানের চাঁদ দেখা যাওয়ার পরই শুরু হয় এ নামায। মুসল্লীদের ঢল নামে মসজিদে মসজিদে। যারা অবহেলায় এতদিন ঠিকমত নামায আদায় করেনি, তারাও সারীবদ্ধ হয় নামাযের কাতারে। এশার নামাযেই উপচে পড়ে মসজিদ। এশার পর শুরু হয় তারাবীহ্। দু’রাকাত করে দীর্ঘ ২০ রাকাত। দু’রাকাতে এক নিয়ত এবং চার রাকাত পর একটু বিশ্রাম ও বিরতি। এই ফাঁকে ইমাম সাহেব ও মুসল্লীরা তারাবীহ্র বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহ্র দরবারে আর্তি জানায় তার মহিমা-গুণগান প্রকাশের মাধ্যমে, বেহেশতের সৌভাগ্য আর দোযখ হতে মুক্তি লাভের জন্য।
বছরের অন্য সময় নামায আদায় করা হয় কয়েকটি আয়াত বা নাতিদীর্ঘ সূরা পাঠের মাধ্যমে। তাও অনেক সময় মনে হয় কান্তিকর। কিন্তু রমযানে তারাবীহ্ নামাযে পাঠ করা হয় পুরো কুরআন শরীফ। হাফেয সাহেব প্রতিদিন দেড় পারা বা এক পারা করে পড়েন কিংবা দু’পারা করে খতম করেন ২০ রাকাতে। এভাবে ১৫, ২০, ২৫ কিংবা ২৭ দিনে এক খতম কুরআন পাঠ শেষ হয়ে যায় ‘বা-ওযু’ আল্লাহ্র সামনে দাঁড়ানো অবস্থায়। মসজিদ ভর্তি মুসল্লীরা হৃদয়মন নিবিষ্ট করে শোনেন এই তেলাওয়াত।
এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে কান্তি আসার কথা। অথবা রাতের বেলা ঘুমের কোলে ঢলে পড়ার আশংকা। কিন্তু না। শ্রান্তি, কান্তি নেই। এক অনাবিল পবিত্র আনন্দ যেন সবার অন্তরে ছোঁয়া দিয়ে যায়। ফলে ইফতারের পরপর তারাবীহ্র শুরুতে একটু কান্তি মনে হলেও নামাযের শেষভাগে শরীর মনে হয় একেবারে হালকা। কান্তি অবসাদের চিহ্ন নেই কারো চেহারায়। মনে হয় ঘুমে নয়, বিনিদ্রার মধ্যেই আনন্দ। এভাবে সারারাত বিনিদ্রায় কাটাতে পারলেই যেন ভালো লাগবে।
সারাদিন পরিশ্রম, তারপর উপোস ও ুধা-তেষ্টায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। সন্ধ্যায় ইফতার করার পর শরীর যেন ভেঙে পড়ে, বিছানার একটুখানি পরশ চায়। কিন্তু ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই ডাক পড়ে তারাবীর। মসজিদের মিনারে ধ্বনিত হয় এশার আযান। ুধা-তেষ্টায় শ্রম-কান্ত রোযাদার সে ডাকে যেন এক অব্যক্ত শক্তির সন্ধান পায়। এক অনুপম আধ্যাত্মিক আকর্ষণ তাকে তাড়া করে নিয়ে যায় মসজিদে। এই আকর্ষণের স্বরূপ কি? রমযানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায়ে যুবক, বৃদ্ধ, ছেলেমেয়েরা অনাবিল শক্তি ও আনন্দ পায় কোত্থেকে? হাদীসের ভাষ্য, মাহে রমযান আল্লাহ্র রহমতের মাস। রমযান এলে রহমতের দুয়ার খুলে দেয়া হয়। দোযখের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। আল্লাহ্র আরশ হতে বেহেশত অভিমুখে রহমতের সমীরণ প্রবাহিত হয়। তার দোল এসে রোযাদারের অন্তর স্পর্শ করে যায় পৃথিবীতে।
কই, সে রহমত তো আমরা দেখি না!
রহমত মানে দয়া, অনুগ্রহ, প্রশান্তি। এগুলো বস্তু নয়, অপার্থিব জিনিস। চর্মচে দর্শন করা সম্ভব নয়। তাহলে কীভাবে বুঝব এ রহমতের আগমন? বর্ষায় বৃষ্টি নামে। তাতে বুঝি প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে আল্লাহ্র দয়ার বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর শুকনো মাটি। গাছপালা প্রাণবন্ত হয়েছে সে বৃষ্টিতে অবগাহন করে। এ বর্ষা চোখে দেখা যায়। কিন্তু রমযানের রহমত এভাবে দর্শনীয় নয়। এ রহমতকে দেখতে পারি ভিন্ন আঙ্গিকে।
রমযানে নিশ্চয়ই অঝোর ধারায় বর্ষিত হয় আল্লাহ্র রহমত। তাই ঈমানদারের মনে, জীবনে ও সমাজে জাগরণ, শিহরণ আসে। মসজিদ সমূহ সম্পূর্ণ আবাদ। উপচে পড়া মুসল্লীদের দোয়া, তেলাওয়াত, নামায ও ইবাদত-বন্দেগীতে ব্যস্ততা। রমযানের চাঁদ দেখা দেয়ার পর মসজিদে মানুষ যোগাড়ের জন্য তো প্রচারের হট্টগোল নেই। বড় দলের মিটিং জমাতে হলে কত প্রচার, কত অর্থ ও জনবল নিয়োগ করতে হয়। এরপরও লোক জমায়েত কতখানি হয় তার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। যতটুকু হয় তাও দিনের নির্দিষ্ট সময় কিংবা কয়েক ঘণ্টার জন্য, একবার মাত্র। কিন্তু রমযানে মসজিদের পে কই এত প্রচার কোথায়? এরপরও কেন নামাযীর সমাগমে উপচে পড়ে মসজিদ চত্বর। নতুন বর্ষায় পুকুরের মাছ পরম আনন্দে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে খালে, বিলে, চতুর্দিকে। প্রথম বর্ষা মানে মাছের জীবনে উৎসব। অনুরূপ রমযানে যখন আল্লাহ্র রহমতের বর্ষা নামে তখন ঈমানদার আকর্ষিত হয় মসজিদে। তার ভেতরের মানব সত্তাই লাব্বায়েক বলে আসমানে আল্লাহ্র গায়েবী ফেরেশতাদের আহ্বানে। যারা অবিরাম ডাক দিয়ে যায়-‘ইয়া বাগিয়াল খাইরে আক্ববিল, ওয়া ইয়া বাগিয়াশ শাররে আকসীর।’ “হে কল্যাণের প্রত্যাশী! আগোয়ান হও, হে অকল্যাণের প্রত্যাশী! পেছনে হটে যাও।”
বস্তুত রমযানে ইবাদতের জাগরণ, মসজিদে উৎসবমুখর তারাবীহ্র জামাত আর রোযাদারের কান্তিহীন আরাধনার মধ্যে আমরা প্রচ্ছন্নভাবে সাাত পাই আল্লাহ্র রহমতের। এ রহমত খাস রমযানের। তারাবীহ্র সাথে যেন এ রহমত অঝোর ধারায় নেমে আসে আমাদের সামগ্রিক জীবনে। তাই বুঝি, রোযা রেখে তারাবীহ্ না পড়লে এত খারাপ লাগে। তারাবীহ্ বড়জোর সুন্নত। ফরয ওয়াজিব নয়। তবুও ফরযের মত স্বাদ মিশে আছে তারাবীহ্ নামাযে। তাই রোযাদারের মন তারাবীহ্র জামাতে হাজির হওয়ার জন্য অস্থির, উদগ্রীব থাকে।
তারাবীহ্র আধ্যাত্মিক অলংকারের রূপ ও সৌন্দর্য আরো ব্যাপক, আরো গভীর। পবিত্র কুরআনের স্মারণি এ তারাবীহ্। পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে মাহে রমযানে। তাই এ রমযানের এত ফযিলত ও মর্যাদা। কুরআন নাযিলের এই মহতি উপলকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়াই যুক্তির দাবি। যাতে কুরআন নাযিলের বার্ষিকী উদযাপিত হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়। তবে, এ বার্ষিকী পালনের কর্মসূচি কী হবে? কীভাবে এ মহতি অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্ভব?
হাদীস শরীফে বর্ণিত, প্রতি রমযানে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) নবীজিকে পুরো কুরআন পাঠ করে শুনিয়ে যেতেন। এটি কুরআন নাযিলের বার্ষিকী পালনের কোনো আসমানী ব্যবস্থাপনা কিনা জানিনা। কিন্তু চিন্তা করলে আমরা একটি সত্যে উপনীত হতে পারি। তাহলো, কুরআন নাযিলের বার্ষিকী উদযাপন ও পবিত্র কুরআনকে বরণ করার সুন্দর ব্যবস্থাপনা নিহিত তারাবীহ্র মাঝে। প্রত্যেক মসজিদে কুরআন মজিদ বিশুদ্ধ পাঠে খতম করা হয়, তাও নামাযে। মুসল্লীরা নামাযে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে পাঠ শোনেন আর সমান সওয়াবের ভাগী হন। আপন ধর্মগ্রন্থকে শিশু-কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ মিলে সার্বজনীনভাবে পড়া ও শোনার এরূপ সুন্দর নিয়ম ও আয়োজন অন্য কোন ধর্মে নিশ্চয়ই নেই। হিন্দু ধর্মে তো নিচু বর্ণের মানুষের পে ধর্মগ্রন্থ পড়া ও শোনা মহাপাপ। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের তো নির্ভেজাল অবিকৃত ধর্মগ্রন্থ বর্তমান নেই। ওসব ধর্মের অনুসারীরাও তার দাবি করে না। বাইবেলের বিভিন্ন সংস্করণের বৈপরিত্য ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অভাব সর্বজন বিদিত। এসব ধর্মগ্রন্থ নির্ভেজাল নয়, তাই ওসব ধর্মগ্রন্থের হাফেযও নেই। তার মানে পুরো ধর্মগ্রন্থ কেউ বিশুদ্ধভাবে মুখস্থ করে না, মুখস্থ রাখেও না।
একজন বিজ্ঞ আলেম দাবি করে বলেছেন, কুরআন মজিদ ছাড়া অন্য কোন ধর্মগ্রন্থের হাফেয বা মুখস্থকারী পৃথিবীর বুকে নেই। কুরআন ও ইসলামের সৌন্দর্যের আরেকটি দিক এ সত্য তথ্যটি। আপন জাতি বা সম্প্রদায়ের সব লোকের পে এভাবে নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ পড়া ও শোনার সৌভাগ্য একমাত্র মুসলমানদেরই আছে। এই অনুপম সৌভাগ্যের বাহন নামাযে তারাবীহ্ তাই কুরআনের স্মারণি ও বর্ষ উদ্যাপনী হিসাবে স্বতন্ত্র মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
তারাবীহ্র এ বৈশিষ্ট্যকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করলে আরো গভীর তাৎপর্যের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। তখন দাবি করে বলা যাবে, তারাবীহ্ কুরআন হেফাযতের উৎকৃষ্ট মাধ্যম। আল্লাহ্ পাক কুরআন মজীদে ওয়াদা করেছেন: “আমি কুরআন নাযিল করেছি আর আমিই তার হেফাযত-সংরণ করব।”
আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য, দীর্ঘ ১৪শ’ বছর এই মহাগ্রন্থের সংরণ তিনি করেছেন। বিন্দু বিসর্গ রদবদল বা হেরফের হয়নি কুরআন মজীদের কোন শব্দ, অর বা যতি চিহ্নের। তবে এই হেফাযতের প্রক্রিয়া ল্য করুন। যদি কেবল কাগজে লিখে সংরণ করা হত কালের বিবর্তনে, শত্রুর আক্রমনে ধুলিস্যাৎ হওয়ার আশংকা ছিল। তিনি হেফাযত করেছেন হাফেযদের সীনার মাধ্যমে। কুরআনের হাফেযগণ বিশুদ্ধ তেলাওয়াতসহ পুরো কুরআন হেফয করে এ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ হাফেযের সংখ্যা অগুণতি। সারা বিশ্বে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছেন তারা। পরিসংখ্যানের আওতার বাইরে তাদের অবস্থান। তাই শত্রুপ চাইলেও সকল হাফেযকে খুঁজে বের করতে পারবে না কোনদিন। ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় পারেনি। এই হাফেযদের লালন-পরিচর্যার ভূমিকা কোন সরকার বা সংস্থা করেনি।
একটু গভীরে গিয়ে চিন্তা করুন। দেখবেন, নামাযে তারাবীহ হাফেয এবং তার হেফযকে সংরণ করে চলেছে বিস্ময়করভাবে। কুরআন মজিদ হেফয করার পর প্রতি বছর রমযানে হাফেযকে পুরো কুরআন মুখস্থ তেলাওয়াত করতে হয় তারাবীহ্ নামাযে। সে জন্য সারা বছর সযতœ পরিচর্যা করতে হয় হেফযের। খোদা না করুন যদি ভুলে যায় বা পড়ায় ভুল হয় পেছনের হাফেয লোকমা দেবেন। মসজিদে আল্লাহ্র সামনে ও সমাজের সামনে দাঁড়াতে পারবেন না। হাফেয নামের কলঙ্ক হবে। সমাজ প্রত্যাখ্যান করবে। এ ভয় ও আতঙ্ক তাকে তাড়িত করে কুরআন মজিদকে মুখস্থ রাখার প্রেরণায়।
অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যে হাফেয দু’এক বছর তারাবীহ্ নামাযে খতম পড়েন নি, তিনি গোল্লায় গেছেন। কুরআনের স্বর্গীয় পাখি উড়ে গেছে তার বরে পিঞ্জর ছিঁড়ে। কুরআন মুখস্থ করার পর ভুলে যাওয়ার কবিরা গোনাহ্ তার অন্তরকে দংশন করে চলেছে। এ দংশন সারা জীবনব্যাপী। আর যারা যতেœর সাথে রমযানে খতমে তারাবীহ্ পড়েন তাদের হেফয মুছতে পারেনি কলবের আয়না থেকে। আরো দেখা যায়, মুসলিম সমাজের যে অংশে বা সম্প্রদায়ে তারাবীহ্র রেওয়াজ নেই, তাদের মাঝে হাফেযে কুরআনের সংখ্যা নিতান্ত কম। তার মানে, খতমে তারাবীহ্ কুরআন হেফযের চাহিদা বাড়ায়। হেফযের পরিচর্যা করে। হাফেযদের সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি উপহার দেয়। তাদেরকে সমাজ ও আল্লাহ্র সামনে দাঁড় করিয়ে প্রতি বছর পরীা নেয় আল্লাহ্র আমানতের সঠিকভাবে হেফাযত করা হচ্ছে কি-না।
তারাবীহ্ গোটা মুসলিম সমাজকে সমগ্র কুরআনের সামনে দন্ডায়মান করায়। সমাজের প্রতিটি মানুষ মেধা, যোগ্যতা ও প্রস্তুতি অনুসারে কুরআন মজিদ থেকে শিা ও অনুপ্রেরণা নেয়। হয়তো সবাই তারাবীহ্তে কুরআন পড়ে বা শুনে অর্থ বুঝে না। তবুও লাভ অপার। প্রতি রাতে দীর্ঘ দেড় দুই ঘন্টা কুরআন মজীদের তেলাওয়াত শোনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা, তাও ওযুসহ পবিত্র অবস্থায় আল্লাহ্র দরবারে হাজির হয়ে, চাট্টিখানি কথা নয়। না বুঝলেও এর প্রভাব, আবহ্ ও আমেজ আমাদের জীবন ও সমাজকে কুরআনের রঙে রঙিন হতে অনুপ্রেরণা যোগায়।
দীর্ঘণ আল্লাহ্র সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র কালাম শোনা মানে মনের আলাপনিতে স্বয়ং আল্লাহ্র সাথে কথা বলা। গানের অর্থ ও আবেদন সব সময় সব শ্রোতা বুঝতে সম নয়। এরপরও ভাবের আবহ্, ছন্দের ঝংকার আর সুরের মূর্ছনা শ্রোতার মনে নতুন ভাবের প্রেরণা আনে। গানের যদি এই অবস্থা হয় মহামহিম আল্লাহ্র বাণীর আবেদন, সুর, ঝংকার আর তারতিলের আকর্ষণ প্রাণে প্রাণে নিশ্চয়ই শিহরণ আনে। নচেৎ শত, হাজার, লাখো মানুষ রাতের অন্ধকারে ুধার্ত, শ্রমকান্ত শরীর নিয়ে দীর্ঘণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত কেন শোনে? নিশ্চয়ই স্বাদ আছে, প্রেমের আমেজ আছে। যে স্বাদ ও আমেজ ভুক্তভোগী ছাড়া অনুভব করতে পারে না অন্য কেউ। হাদীস শরীফে এ সত্য তথ্যটিরই স্বীকৃতি দিয়ে বলা হয়েছে।
“যে ব্যক্তি রমযান মাসে আত্ম-উপলব্ধিসহ সওয়াবের নিয়তে রাত জাগে (ভাষ্যকারদের মতে, রাত জাগে মানে তারাবীহ্র নামায পড়ে) তার অতীতের গোনাহ্ মাফ করে দেয়া হয়।”Ñ(মিশকাত)
এ হাদীসের ভাষ্য অনুসারে তারাবীহ্ নামাযের মাধ্যমে অতীত জীবনের সকল সগীরা (ছোটখাট) গোনাহ্ মাফ হয়ে যায়। আর যদি আত্ম-উপলব্ধির মাঝে কবিরা গোনাহ্ চিরতরে ত্যাগ করার সংকল্প ও আল্লাহ্র দরবারে পাপের মার আকুতি-তওবা থাকে তাহলে কবিরা গোনাহ্ও মাফ হয়ে যাবে। তারাবীহ্র মাঝে নিহিত এই সৌভাগ্য প্রকারান্তরে রমযান মাগফিরাতের মাস হওয়ার সত্যকেও সপ্রমাণিত করে। অপর এক হাদীসে এই মাগফিরাতের দৃশ্যপট অংকন করা হয়েছে এভাবে:
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর হতে বর্ণিত : হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, রোযা এবং কুরআন (কেয়ামতে) আল্লাহ্র নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, আয় পরওয়ারদেগার! আমি তাকে দিনের বেলা পানাহার ও যৌনাচার থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন এবং কুরআন বলবে, আমি তাকে রাত্রে নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতপর উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। -বাযহাকীর বরাতে মিশকাত কিতাবুস সওম।
রাব্বুল আলামীন! আমাদের মনে, জীবনে ও সমাজে তারাবীহ্, কুরআন ও রমযানের অফুরন্ত রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের সওগাত দিয়ে আমাদেরকে পাপ, সন্ত্রাস, অপসংস্কৃতি, অবিচারের অভিশাপ আর দোযখের আযাব হতে নাজাত দাও। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight